ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাটহাজারীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালির উদ্বোধন


হাটহাজারীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালির উদ্বোধন

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে একটি নিরাপদ সমাজ গড়তে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সকলের সক্রিয় ভূমিকা থাকা আবশ্যক।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। বর্তমানে সকলের প্রচেষ্টার ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের প্রতি আস্থা রাখেন, কারণ তারা দেশের ভবিষ্যৎ। তরুণ প্রজন্ম সমাজের আলো, এবং সেই আলোর মাধ্যমে আমরা দেশ ও পৃথিবীতে আলো ছড়াতে পারবো।

শনিবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং হাটহাজারী পৌরসভার বাস্তবায়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলার ১৫টি হটস্পটে এই পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: উখিয়ার অগ্নিকাণ্ডে নাহিদ ও তার পরিবারের খোঁজ নেই, হতাহতদের তালিকা নেই

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরিফ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব অহিদুল আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তুকিবুল হাসান চৌধুরী তকি, পৌরসভার প্রকৌশলী সালমা আকতার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ ও আবদুল মান্নান দৌলত প্রমুখ।

র‍্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক পৌর সদরের ফটিকা এলাকায় দুর্গাপূজা মন্ডপের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে আ.লীগ নেতার গুদামে ৫ হাজার বস্তা সরকারি গম উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


চট্টগ্রামে আ.লীগ নেতার গুদামে ৫ হাজার বস্তা সরকারি গম উদ্ধার

চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার শেরশাহ এলাকায় বনফুল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিশোয়ানের একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি গম উদ্ধার করা হয়েছে। গুদামটি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও বনফুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মোতালেবের বলে জানা গেছে। গম আনলোড করার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা গুদামটি ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গম সংরক্ষণাগার (সাইলো) থেকে খাগড়াছড়ি সদর এলএসডির উদ্দেশে শুক্রবার গভীর রাতে গমবোঝাই দুটি ট্রাক বের হয়। পরিবহন ঠিকাদার মোহাম্মদ ইছার তত্ত্বাবধানে ট্রাক দুটি রওনা হলেও নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে শনিবার সকাল থেকে শেরশাহ এলাকায় কিশোয়ানের একটি গুদামে গম আনলোড করতে শুরু করে।

এ সময় স্থানীয়রা গম আনলোডে বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একটি ট্রাক পালিয়ে যায়। অন্য ট্রাকটি আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুদামে প্রবেশ করে। সেখানে ‘খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য’ লেখা অন্তত ৫ হাজার বস্তা গমের মজুদ দেখতে পায়।

এ ঘটনায় গমের উৎস, পরিবহন ও নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বায়েজিদ থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, অবৈধভাবে গম মজুদ রাখার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তবে খাদ্য অধিদপ্তর কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি।

ওসি জানান, কিশোয়ান গ্রুপের কর্মকর্তারা বিভিন্ন নিলাম থেকে গমগুলো কেনা হয়েছে বলে দাবি করে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করেছেন। তবে সেগুলোর সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি। এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বনফুল গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব একসময় সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জুলাই বিপ্লবের পর থেকে তিনি পলাতক অবস্থায় থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তার গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি গম উদ্ধারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

পতেঙ্গা সাইলোর তত্ত্বাবধায়ক রাকিবুল হাসান বলেন, যে গুদামের উদ্দেশে গম পাঠানো হয়, সেই গুদাম ছাড়া অন্য কোথাও গম নামানোর সুযোগ নেই।

তিনি জানান, পতেঙ্গা সাইলো থেকে ট্রাক বের হওয়ার সময় ঠিকাদারের প্রতিনিধির কাছে একটি চালান দেওয়া হয়। গন্তব্যের গুদামের ব্যবস্থাপক চালানটি গ্রহণ করে আবার সাইলোতে পাঠিয়ে দেন।

রাকিবুল হাসান বলেন, মাঝপথে গম নামিয়ে নেওয়ার পরও যদি গুদামের ব্যবস্থাপকের হাতে চালান বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে সাইলো কর্তৃপক্ষের পক্ষে বিষয়টি শনাক্ত করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, গমগুলো কালোবাজারে বিক্রি হয়ে থাকলে তা পরিবহন ঠিকাদার ও খাগড়াছড়ির গুদাম ব্যবস্থাপকের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া সম্ভব নয়।

তবে গমগুলো কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে চট্টগ্রামের শেরশাহ এলাকার গুদামে পৌঁছাল, উপস্থাপিত কাগজপত্রের সত্যতা কী এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয় এখনো যাচাই করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : সারাদেশে হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। ১৫ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও হাম উপসর্গে মৃত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৫ জন।

আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৫৫ জন এবং ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা ২ লাখ ৩ হাজার ৮৪৮ জন।

এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩১ জন এবং ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা ২২ হাজার ৩২৮ জন।

১৫ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ১ হাজার ৫১ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে কারো মৃত্যু হয়নি। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাব্যয় বহন করবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাব্যয় বহন করবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সরকার শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি, শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের লেখাপড়ার সমস্ত খরচ বহনেও সরকার সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

শনিবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৩৪তম পরিচালনা বোর্ড সভায় অনুমোদিত অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত-নিহত শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শ্রমিকদের চিকিৎসা, তাদের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ সহায়তা শ্রমিকদের দুর্দিনে তাদের পাশে থাকার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতীক বলে জানান তিনি। রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার শ্রমিকেরা কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করে এ সহায়তা পেতে পারেন। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মাধ্যমে আবেদন করলে যাচাইপ্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন হবে।

আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন মাঝপথে বন্ধ না হয়, সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের পরীক্ষার ফলাফল ও যোগ্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ দেশের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সুবিধাভোগী শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে পাঁচ স্থাপনা এখনও অপরিবর্তিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে পাঁচ স্থাপনা এখনও অপরিবর্তিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ছয় মাসেও কার্যকর হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি ডাকসুর প্রস্তাবনা প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

ডাকসুর প্রস্তাব সিন্ডিকেটে অনুমোদনের পর বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়। তবে ২৯ জুনের সিনেট অধিবেশনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে আবার সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানো হয়। ফলে বিষয়টি এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তহীনতার প্রতিবাদে গত সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য। সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভাতেও বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে স্থান পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যেও এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেই। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আদৌ উত্থাপিত হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করছে, সিন্ডিকেট শুধু নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করবে, আর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সিনেট। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি যে, পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উঠবে কি না। ফলে শিক্ষার্থীদের দাবির পর প্রক্রিয়া শুরু হলেও সিদ্ধান্তের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নাম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাবিত শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।

জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ এসব নামকে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক আধিপত্য ও তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। ডাকসুর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ বা ‘কাজী নজরুল ইসলাম হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে কোন নাম চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিনেটে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট থেকে কিছু নাম সুপারিশও করা হয়। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়।

সিনেটে মতভেদ

গত ২৯ জুন সিনেট অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্য বিষয়টি উত্থাপন করেন। দীর্ঘ আলোচনায় সিনেট সদস্যদের মধ্যে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভিন্নমত দেখা দেয়। সিনেট সদস্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান বিষয়টি যথাযথ বিধি অনুসরণ করে পুনরায় সিন্ডিকেটে উপস্থাপনের দাবি জানান।

অন্যদিকে সিনেট সদস্য অধ্যাপক সামিনা লুৎফা শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানান। এ সময় সিনেট সদস্য ফজলুল হক মিলন শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেন।

এদিকে ডাকসুর সিনেট প্রতিনিধিরা নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি দেন। তাদের দাবি, শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামসম্বলিত ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি পুরোনো নাম থাকার কারণে হলের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন স্পন্সর পেতেও সমস্যার মুখে পড়ছে।

চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে উপাচার্য বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পরপরই প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য।

জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগ

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরযুক্ত নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব হল প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রস্তাবটি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমে অনুমোদন পেয়ে সিন্ডিকেটে ওঠে। সিন্ডিকেটের অনুমোদনের পর সেটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে পাঠানো হয়।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, সব আনুষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরও নানা জটিলতা সৃষ্টি করে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

সাদিক কায়েম বলেন, সিনেট অধিবেশনে বিএনপিপন্থি প্রশাসন এই প্রস্তাবটি পাস করার পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করে পুনরায় রিভিউ করার জন্য সিন্ডিকেটে পাঠিয়েছে।

তার দাবি, জুলাই বিপ্লবের পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিতর্কিত নামগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নামে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।

ডাকসুর এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগের প্রশাসনের সময় সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা না রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আবার সিন্ডিকেটে পাঠিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সবাই একমত। কোন নামে পরিবর্তন হবে, কীভাবে পরিবর্তন হবে, সেটি আলোচনার বিষয়। কিন্তু নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা বলছে

এদিকে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামফলক ও নাম মুছে ফেলার ঘটনাকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইস্রাফিল রতন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কিছু মতানৈক্য তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত গেটে রং করতে গিয়ে নামটি অনিচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।

তবে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান দাবি করেন, সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভার সময়ই হলের শিক্ষার্থীদের লেখা নাম মুছে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত।

মহিউদ্দিন বলেন, সিন্ডিকেট যখন চলছিল, তখনই হলের শিক্ষার্থীরা যে নামটি লিখেছিল সেটি মুছে দেওয়া হয়। আমরা যখন জিজ্ঞেস করেছি, কে মুছে দিচ্ছে। তখন তারা কেউ মুখ খোলেননি। প্রশাসন বলছিল তারা কিছু জানে না।

নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কেন বারবার বিলম্ব হচ্ছে জানতে চাইলে উপাচার্য ও সিন্ডিকেট-সিনেট অধিবেশনের সভাপতি অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ফাইলটি প্রথমে সিন্ডিকেটে ছিল। পরে সিন্ডিকেট থেকে সিনেটে যায়। সিনেটে যাওয়ার পর ফাইলটি সিনেট থেকে আবার সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সিন্ডিকেট থেকে কিছু নাম সুপারিশ করা হবে এবং আবার সেটি সিনেটে পাঠানো হবে। এরপর সিনেট চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেবে। সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না। বরং সিন্ডিকেট কিছু মতামত দিয়ে সুপারিশ করবে। সেটি সিনেটে চূড়ান্ত হবে।

তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এতদিন ধরে সিদ্ধান্ত আটকে থাকার কারণ জানতে চাইলে উপাচার্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ফাইল কিছুটা পেছনে পড়ে যাওয়ায় গত সিন্ডিকেট সভায় তা উত্থাপিত হয়নি।

পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উঠবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরবর্তী সিন্ডিকেটে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তাহলে বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, অনেকে এ ধরনের মনগড়া কথা বলছে। বাস্তবতা না জেনে অনেকে অনেক কিছু বলে ফেলছে। ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%