০৩:১৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশী মক্কেলদের পক্ষে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত একটি অভিবাসন আইনজীবী মোটা অঙ্কের জরিমানার হুমকি মুখে পড়েছেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট তার বিরুদ্ধে ৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার (৪ কোটি রুপি) দেওয়ানি জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ২৮ জুলাই জরিমানার আবেদন করা হয়েছে, এবং বৃহস্পতিবার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
সুরজ রাজ সিং নামের এই আইনজীবী পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মক্কেলদের হয়ে অভিবাসন মামলা পরিচালনা করেন। তিনি ভারতের নাগরিকদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলা লড়েন। অভিযোগ উঠেছে, সুরজ রাজ সিং ৫৪টি রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলায় ১১৮টি জালিয়াতিপূর্ণ নথিপত্র তৈরি ও জমা দিয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেকটি আবেদনে একই ভাষা, বিবরণ এবং তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিভিন্ন ব্যক্তির করা আবেদনের নিপীড়নের বিবরণগুলোও হুবহু কপি-পেস্ট করা বলে মনে হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৪ ডলার জরিমানা দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল বলেন, এই ধরনের জালিয়াতিপূর্ণ আশ্রয়ের দাবি মার্কিন জনগণের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, অভিবাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে এবং বিপজ্জনক অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের দেশছাড়া করতে বিলম্ব ঘটায়।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যে প্রশাসন এই ধরনের মামলায় জড়িত ব্যক্তি ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
সুরজ রাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে জরিমানার আবেদন শঙ্কিত করেছে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসন প্রত্যাশীদের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সুরজ সিং যে ৫৪টি আবেদন করেছিলেন, সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে, আবেদনকারীদের কালো তালিকাভুক্ত করে ভারতে ফেরত পাঠানো হতে পারে, যাতে তারা ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না পারেন।
এলাকাভিত্তিক আইনজীবীর এ ঘটনার পর ভারত বা দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের তৈরি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনগুলো এখন মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দ্বারা অত্যন্ত কড়া নজরদারির মধ্যে আসবে। জমা দেওয়া নথিপত্রের খুঁটিনাটি যাচাই করা হবে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি: ট্রাম্পের বিপরীত অবস্থানে জেডি ভ্যান্স
এতে আবেদন নিষ্পত্তি হতে সময় বেশি লাগবে। আশ্রয়ের অনুমতি পাওয়ার হারও অনেক কমে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সাথে এই ঘটনা ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসন প্রত্যাশীরের পথচলা আরো অনেক কঠিন করে তুলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন