শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৪৮ পি.এম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হওয়া কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন কক্সবাজারের আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় করা এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সদর থানাকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন।
কক্সবাজার সদর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে আইনজীবী রাশেদ নিশ্চিত করেন যে রাজু তাজমিনকে ফুসলিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়েছিল এবং সেখানে ধর্ষণ করেছে। তাজমিনের বয়সের বিষয়টি জানানোর পর আদালত ধর্ষণ মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়। এর পর একজন আইনজীবী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
আইনজীবী রাশেদ বলেন, "তাজমিনকে যদি রাজু কক্সবাজারে না আনতো, তাহলে কুমিল্লা যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটতো না।" তিনি আরও জানান, কিশোরীকে মিথ্যে তথ্য দিয়ে ভালোবাসার অভিনয় করে কক্সবাজারে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই বিষয়টি তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে এবং বিবেকের তাড়নায় তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন।
আদালতের এই নির্দেশের ফলে অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হওয়ায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার পথ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে তাজমিন হত্যাকাণ্ড ঘিরে একের পর এক ঘটনায় নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, তারা সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা এবং সিজেপির অভিজিৎ দীপকের পাশে বসে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “হ্যাঁ, আমরা সরকার পরিবর্তন চাই।”
প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পর বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। শুক্রবার সকালে লখনৌয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের উদ্দেশ্য দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
রাজনাথ সিং বলেন, “তারা (বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীগুলো) বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে দেশের তরুণদের হাতের পুতুলে পরিণত করতে চেয়েছে। বাংলাদেশে যা ঘটেছিল, সেই আদলে তারা ভারতে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।”
তিনি আরো বলেন, বিক্ষোভকারীদের একজন সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। আরেকজন নির্দ্বিধায় সরকার পতনের ডাক দিয়েছেন। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকেও সতর্ক করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী ও তার সহযোগীদের বুঝতে হবে, গণতন্ত্র বিশৃঙ্খলা ছড়ানো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা কিংবা ভারতের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করার কোনো ছাড়পত্র নয়।”
প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের পর বিজেপিও বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। দলটির অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া সামনে রেখে আসলে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী ও তার অনুসারীরা।
সূত্র: এনডিটিভি
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, "আমি ভোটে জিতেছি, তার মধ্যে বেশির ভাগই ভোট ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। আমি আগে যেসব কেন্দ্রে জিততে পারিনি, সেখানে হিন্দুদের ভোটেই জিতেছি। আপনাদের ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের।"
বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুরের আল মাহমুদ অ্যাভিনিউয়ে নিজ বাসভবনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা গত সাত মাসে আপনাদের জন্য যা করেছি, ১৫ বছরেও তারা তা করতে পারেনি। আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করব, একজন সরকারপ্রধান পূজাম-পে ঘুরে বেড়াবেন। বাংলাদেশে বিএনপির বিজয়ের পেছনে হিন্দুদের বড় অবদান আছে। এটা আমি বিশ্বাস করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন। বিএনপির সবাই বিশ্বাস করে।"
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, "শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কেউ যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকার সতর্ক রয়েছে।"
এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সহসভাপতি ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু সহ সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মর্যাদাপূর্ণ ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার পর উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে করতালি দিয়ে তাকে সম্মান জানান।
এ বছর ড. ইউনূসসহ মোট চারজনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্য তিন বিজয়ী হলেন, ভারতের ‘সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন’ (সেবা)-এর পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ‘টোরি বার্চ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্দানের ‘মাইক্রোফান্ড ফর উইমেন’-এর বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করে হিলারি ক্লিনটন মন্তব্য করেন, ‘আমি নিজে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেছি। নারীরা কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। এটা অভূতপূর্ব। শুধু বাংলাদেশের নারীরা নয়, ড. ইউনূস তার কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’
পুরস্কার গ্রহণের পর বক্তৃতায় ড. ইউনূস তার কাজের ৫০ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। আপনারা যে আয়োজন করেছেন, তা বাংলাদেশে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে।
দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছি। আমরা নারীদের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। তারা যেন নিজেদের শক্তি কাজে লাগাতে, নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আজ সেই পরিবারগুলো অনেক বদলে গেছে। এখন আর লাজুক, চুপ করে বসে থাকা দরিদ্র নারী দেখা যায় না, বরং দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী নারী, যারা নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। এসব নারী নিজেদের ব্যাংক নিজেরাই পরিচালনা করেন, আর তারাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক।
ঋণগ্রহীতাদের সন্তানেরাও এখন চাকরি খুঁজছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, আমরা তাদের বলেছি, এ কথাটি বারবার বলো- ‘আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।’ কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় সামাজিক ব্যবসার ধারণার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত মুনাফা নয়, বরং সমস্যার সমাধান করা। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক ব্যবসার তহবিল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তুলতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ পুনরায় স্বাস্থ্যসেবাতেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভুলভাবে সাজানো হয়েছে। কারণ, এটি তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সৃজনশীল ও উদ্যোগী করে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার কাজ হওয়া উচিত উদ্যোক্তা তৈরি করা।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ চালুর আশা প্রকাশ করেন ড. ইউনূস।
তিনি বলেন, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার পথে নেতৃত্ব দিতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করবে, শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠো। ব্যবসা শুরুর জন্য অর্থায়নসহ যা যা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় তা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে এটি তাদের প্রচেষ্টার একটি নতুন সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে একই পরিবারের আটজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ম্যাথিউ স্টোন, যিনি পরিবারের প্রধান, নিজের বাড়িতে স্ত্রী, সন্তানসহ আটজনকে গুলি করে হত্যা করার পর আত্মহত্যা করেন। ওই বাড়ির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা। শৌচাগার ও বেসিন সঠিকভাবে কাজ করছিল না। পুরো বাড়িতে প্রস্রাবভর্তি দুই লিটারের বোতল ছড়িয়ে ছিল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, তদন্তকারীরা বাড়িটিকে অত্যন্ত নোংরা অবস্থায় আবিষ্কার করেছেন। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পেরি স্ট্রিটের ওই বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাথিউ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত তিনিই নিতেন। কখন তারা বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন বা আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন, সেটিও তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন।
পুলিশপ্রধান জানান, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ম্যাথিউয়ের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ বহু বছর ধরে চলছিল। স্ত্রী মিশেল স্টোন প্রথম সন্তানের মা হতে যাওয়ার পর থেকে তার আচরণ আরও কঠোর হয়ে ওঠে। সময়ের সাথে পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। মিশেলও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
পুলিশের কাছে ওই বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার পূর্বের একটি ঘটনার নথি ছিল। ২০১৯ সালে ৪০ ক্যালিবারের একটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ম্যাথিউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু তার স্ত্রী মিশেল অভিযোগের পক্ষে সহযোগিতা না করায় মামলাটি আর এগোয়নি।
পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ওই ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটিই শুক্রবারের (৯ অক্টোবর) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। প্রাথমিক শুনানিতে মিশেল তার পূর্বের বক্তব্য পরিবর্তন করায় অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৯ সালের ওই ঘটনা ছাড়া ম্যাথিউয়ের বিরুদ্ধে আর কোনো অপরাধের ইতিহাস ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগও তাদের কাছে জমা পড়েনি। আইন অনুযায়ী, তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অনুমতিও ছিল।
এরি শহরের পুলিশপ্রধান ও মেয়র ডারিয়া ডেভলিন জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের আগে ম্যাথিউয়ের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন সংস্থার যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পরিবারের সংকটের বিষয়টি আগে শনাক্ত করে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারতেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হবে।
মেয়র বলেন, পরিবারটি যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তা বোঝার কোনো সুযোগ ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলো ভিন্নভাবে সাড়া দিতে পারত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যেন সংকটে থাকা পরিবারগুলো সহায়তার বাইরে থেকে না যায়, সে বিষয়েও কাজ করার কথা জানান তিনি।
এই হত্যাকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ম্যাথিউয়ের ৪৪ বছর বয়সী স্ত্রী মিশেল স্টোন, ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে অ্যাঞ্জেলিনা কে. স্টোন, ২১ বছর বয়সী ছেলে ম্যাথিউ স্টোন জুনিয়র এবং ১৯ বছর বয়সী ছেলে জোনাথন স্টোন।
এছাড়া ম্যাথিউয়ের শ্যালিকা ৩৭ বছর বয়সী লোরা লি রবার্টস এবং তার বন্ধু ৫১ বছর বয়সী টুইলা এ. ট্যানার নিহত হয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও দুই শিশুও প্রাণ হারিয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে এবং প্রায় দুই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
অ্যাঞ্জেলিনার সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ছিল সোমবার (১৯ অক্টোবর)। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে তিনি লোরা ও টুইলাকে বাড়িতে আসতে বলেছিলেন। তাদের বাড়িতে আসার পরই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশপ্রধান জানান, অ্যাঞ্জেলিনা আগেই বার্তায় জানিয়েছিলেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তিনি পরিবারের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চান। হত্যাকাণ্ডের পর তার শোবার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা ব্যাগ ও বাক্সে ভরা অনেক জিনিসপত্র পান। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।
বাবার সঙ্গে সম্পর্ক থেকে নিজেকে আলাদা করতেও অ্যাঞ্জেলিনা নিজের পদবি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। ওই আবেদনের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় তিনি বাবার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি চিকিৎসাক্ষেত্রে পেশা গড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে বলেন, বাবার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব পড়ুক, তা চান না।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের (৯ অক্টোবর) হত্যাকাণ্ডের পর ম্যাথিউ নিজের গুলিতে মারা যান। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ