বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৩৪ পি.এম
একসময় মাছ কেনাবেচার জন্য পরিচিত ছিল ঘাটটি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মেঘনার সেই ঘাট এখন দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নদীর শীতল বাতাস, নৌকার চলাচল, সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য এবং নদীপাড়ের মনোরম পরিবেশে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিড় করছেন। সম্ভাবনাময় এই স্থানের নাম সাজু মোল্লার ঘাট। এটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত এবং ধীরে ধীরে স্থানীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাট, বিকেল গড়াতে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য উপভোগ করেন। মেঘনার বুকে মাছ ধরার নৌকার চলাচল, জোয়ার-ভাটার দৃশ্য এবং দিগন্তজোড়া জলরাশি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। নদীপাড়ের রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, খাবারের স্টল ও বসার স্থানও ঘাটটির আকর্ষণ বৃদ্ধি করেছে।
ঘাটের চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এবং খোলা পরিবেশ নগরজীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পাওয়ার জন্য মানুষের জন্য একটি ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। ছুটির দিনে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন।
দর্শনার্থীদের কাছে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই ঘাটটির প্রধান আকর্ষণ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেওয়া কিংবা নদীর পাড়ে বসে ছবি তোলার জন্য অনেকেই এই স্থানটি বেছে নিচ্ছেন।
রায়পুর থেকে আসা দর্শনার্থী ওসমান গনি বলেন, ‘মেঘনার পাড়ের পরিবেশটা বেশ সুন্দর। নদীর বাতাস এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ভালো লাগে। পরিবার নিয়ে কিছু সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয়। আগে বসার জায়গা ছিল না, এখন উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ করা হয়েছে, এখন ভালো লাগে।’
অন্য এক দর্শনার্থী হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বিকেলে নদীর পাড়ে এলে মনটা ভালো হয়ে যায়। নৌকার চলাচল এবং নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখতে ভালো লাগে। জায়গাটিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাজানো হয়েছে। রায়পুরের বাইরের মানুষও এখানে ঘুরতে আসেন।’
স্থানীয় তরুণ দর্শনার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে অবসর কাটানোর জন্য জায়গাটি ভালো। তবে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান, পর্যাপ্ত আলো এবং নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীদের জন্য আরও সুবিধা হবে।’
দর্শনার্থীদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন খাবারের দোকান, চায়ের স্টল এবং ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে দর্শনার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও আসছেন। ফলে ঘাটটি বিনোদনের স্থান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
ঘাটসংলগ্ন এক খাবারের দোকানের মালিক আজিম বলেন, ‘এখানে মানুষ ঘুরতে এলে খাবার এবং চা-নাশতার প্রয়োজন হয়। দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়া থাকায় আমাদের ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জায়গাটি প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করা হয়েছে। মানুষের আগমন বাড়ছে, এতে ব্যবসাও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
আরেক স্থানীয় ব্যবসায়ী আক্কাস পাটোয়ারী বলেন, ‘ঘাট ঘিরে ছোট ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ব্যবসার পরিবেশ ভালো রাখতে পরিচ্ছন্নতা, নির্দিষ্ট দোকানের ব্যবস্থা এবং যানবাহন চলাচলের সুবিধা দরকার। পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।’
ঘাটের ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটকদের জন্য মানসম্মত খাবার, নির্ধারিত মূল্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ভালো সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ঘাটটির প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও উপকৃত হতে পারেন।
পর্যটন সম্ভাবনাময় এই স্থানের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে রায়পুর উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে মেঘনার পাড়ে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ নামে একটি স্থানের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ঘাটের পরিবেশ সুন্দর রাখা এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।
তবে শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, ঘাটটির আকর্ষণ ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দর্শনার্থীদের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং প্লাস্টিকের বর্জ্য নদীপাড়ের পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই ঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং দর্শনার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সাজু মোল্লার ঘাট লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, মানসম্মত বসার স্থান, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান এবং নদীপাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশু ও বয়স্ক দর্শনার্থীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া দরকার।
মেঘনাকেন্দ্রিক পর্যটন বিকশিত হলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, খাবারের দোকান, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যান্য সেবাদাতার আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে উন্নয়নের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একসময় মাছ কেনাবেচার ব্যস্ততায় মুখর থাকা সাজু মোল্লার ঘাট এখন নতুন পরিচয়ের পথে। মেঘনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রশাসনের পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ এবং স্থানীয় মানুষের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে স্থানটিকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা গেলে এটি রায়পুরের পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারে। সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এখন প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিচর্যা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়ার আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করার দাবি করেছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে তার আইন পেশার লাইসেন্স থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি, এমনটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে, বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে একটি জনজবাবদিহি বিষয়ক অলাভজনক সংগঠন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।
সংগঠনটির অভিযোগ হলো, জাকারিয়া নিয়মিতভাবে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিজের পেশাগত সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। তবে তার এই পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠন ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটির প্রধান মিশেল কুপারস্মিথ এক বিবৃতিতে বলেন, "টেলিভিশনে আইনবিষয়ক ভাষ্যকার হিসেবে এবং এখন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হিসেবে নিজের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে মিস জাকারিয়া বারবার নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অথচ মনে হচ্ছে, সবটাই ছিল মিথ্যা।"
সংগঠনটি ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীদের লাইসেন্স প্রদান ও পেশাগত কার্যক্রম তদারককারী সংস্থার কাছে অভিযোগটি জমা দিয়েছে। কুপারস্মিথ বলেন, "ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্স ছাড়া নিজেকে আইনজীবী বলা নিছক বাড়িয়ে বলা নয়; এটি অপরাধ।" তিনি তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জাকারিয়া ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সে নিয়মিত আইনবিষয়ক ভাষ্য প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার থেকে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের দিন সংবাদ ব্রিফিংয়ে তাকে কিছুটা অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখা যায়। কথা বলার সময় তিনি কয়েকবার থেমে যান এবং কখনো কখনো একই কথা পুনরায় বলতে হয়। ব্রিফিংটি ১৫ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়। এ সময়ের বেশির ভাগ অংশে তিনি ট্রাম্পকে এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।
জাকারিয়া বলেন, "আমি অনেক দিন ধরেই তার (ট্রাম্পের) জন্য কাজ করতে চেয়েছি।"
পরে হোয়াইট হাউসের বাইরে ট্রাম্পের সঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে আসেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, তিনি কোথায় আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা দিয়েছেন। জবাবে জাকারিয়া বলেন, "আমি যখন চীনে গিয়েছিলাম।"
তার এই বক্তব্য বেইজিংয়ে একটি আইন প্রতিষ্ঠানে তিন বছর কাজ করার দাবির প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পপন্থি নারীদের সংগঠন ট্রাম্পেটস ইউএসএ ইনকরপোরেটেডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জাকারিয়ার জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, বেইজিংয়ে অবস্থানকালে তিনি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার বহিরাগত আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
অন্যদিকে, জাকারিয়ার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ২০১১ সালে পেপারডাইন কারুসো স্কুল অব ল থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। একই প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বেইজিংয়ের ঝং লুন আইন প্রতিষ্ঠানে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। পরে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি ভোটাধিকারবিষয়ক সংগঠন ফিক্স ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান আইন কর্মকর্তা ছিলেন। সংগঠনটি ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠা করেন।
জাকারিয়ার ইনস্টাগ্রাম পরিচিতিতেও নিজেকে ‘স্ত্রী, মা ও আইনজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে চীনে আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা দেওয়ার দাবি নিয়ে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে। চীনে এ পরীক্ষার সমতুল্য হিসেবে পরিচিত জাতীয় সমন্বিত আইন পেশাগত যোগ্যতা পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন। এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ কেবল চীনা নাগরিকদের রয়েছে।
বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে চীন বিদেশিদেরও আইন পেশায় কাজের অনুমতি দিয়েছে। তবে এ জন্য নিজ দেশে কয়েক বছর কাজের অভিজ্ঞতা সহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। জাকারিয়ার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে না।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যেই তাকে আইনজীবী হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হিসেবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাকারিয়া বলেন, "আমি আন্তর্জাতিক লেনদেনবিষয়ক আইন চর্চা করি এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা ও সনদ আমার রয়েছে।"
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর জাকারিয়া কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগে যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। জুন থেকে তিনি ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের মালিক।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হোয়াইট হাউস প্রেস সচিব বা মুখপাত্র কেটি জাকারিয়ার আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অনুমোদন পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি তিনি বা হোয়াইট হাউস। এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তার যোগ্যতা তদন্তের দাবিও উঠেছে।
কেটি দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সের মতো রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমে রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে কাজ করার সময়ও তিনি এই পরিচয় ব্যবহার করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে কিংবা চীনে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব বা মুখপাত্র হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন কেটি। তার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার পর সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, কেটি কোথায় আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষা দিয়েছেন। এ সময় ট্রাম্প তাকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দেন।
কেটি জবাবে বলেন, ‘আমি যখন চীনে যাই…।’ তবে এরপর তিনি কী বলতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট হয়নি। চীনের জাতীয় আইন পেশাগত যোগ্যতা পরীক্ষা কেবল দেশটির নাগরিকেরাই দিতে পারেন।
কেটির শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তার একটি লিখিত বক্তব্য দেয়। এতে বলা হয়, তিনি ২০০৭ সালে পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ২০১১ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
বক্তব্যে কেটি বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত আইন নিয়ে কাজ করেছেন এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার রয়েছে। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিয়াংও তার পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি কেটিকে যোগ্য ও অত্যন্ত মেধাবী উল্লেখ করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কাজ সম্পর্কে মার্কিন জনগণকে জানাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
কেটির পেশাগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার কর্মজীবনের তথ্য ঘিরেও। তার পেশাগত জীবনের বিবরণ অনুযায়ী, গত জুন থেকে তিনি ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপে জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে দুই মাস যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরে জনসংযোগবিষয়ক উপসহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি চীনের বেইজিংয়ে ঝং লুন আইন প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন বলে তার পেশাগত পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে। একই সময়ে তিনি অভিবাসী শ্রমিকদের শিশুদের সহায়তাকারী সংস্থা কমপ্যাশন ফর মাইগ্র্যান্ট চিলড্রেনে তহবিল সংগ্রহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও ছিলেন।
পরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা রিচার্ড গ্রেনেলের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ফিক্স ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন বলে তার পরিচিতিতে বলা হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে তার কর্মজীবন ও যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামেও কেটি নিজের পরিচয়ে আইনজীবী শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া গ্লোব সংবাদমাধ্যমে তার লেখক পরিচিতিতে ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সের নিয়মিত ভাষ্যকার হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক করপোরেট আইন এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া নোভা রেড মাইনিং নামের একটি খনি প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা পর্ষদে তার নিয়োগের বিষয়ে ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতেও আন্তর্জাতিক আইন ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়। সেখানে বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজের উল্লেখ ছিল।
ট্রাম্পও কেটিকে নিয়োগ দেওয়ার সময় তাকে আইনজীবী, পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সের নিয়মিত ভাষ্যকার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় নেই আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধনের তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনজীবীদের সরকারি তথ্যভান্ডারে কেটি জাকারিয়ার নাম পাওয়া যায়নি। অঙ্গরাজ্যটির আইনজীবীদের নিবন্ধন ও অনুমোদন তদারককারী সংস্থার মুখপাত্র রিক কোকা জানান, কেটি জাকারিয়া কিংবা তার বিবাহপূর্ব নাম কেট শ্যারন ব্ল্যাকসহ নামের বিভিন্ন রূপে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম পপুলার ইনফরমেশন জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে খোঁজ নিয়েও তার আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধনের তথ্য পায়নি।
এরপর বুধবার (১৪ অক্টোবর) ক্যাম্পেইন ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি নামের একটি নজরদারি সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ করে। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলে তা ক্যালিফোর্নিয়ার আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মিশেল কুপারস্মিথ বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুমোদন ছাড়া নিজেকে আইনজীবী বলা নিছক বাড়িয়ে বলা নয়, বরং তা অপরাধ হতে পারে। তাই কেটি জনসাধারণকে তার যোগ্যতা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছেন কি না, তা তদন্ত করা উচিত।
তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তারা অভিযোগটি পেয়েছে কি না কিংবা এ বিষয়ে তদন্ত চলছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারবে না। গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইনের কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: এপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৫ অক্টোবর, ২০২৬/৩০আশ্বিন ১৪৩
স্থান: মৌশাকাঠালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেলদুয়ার, টাংগাইল
অনুষ্ঠান সুচি ১১.ঘটিকায় উদ্বোধনি পর্ব৷ সঞ্চালনা: ফাহিমা খাতুন লিজা, উবিনীগ, টাঙ্গাইল প্রথমে র্যালী করে কৃষকের গান নয়াকৃষির কৃষক আক্কাস আলী ও আরফান আলী, টাংগাইল
উবিনীগ বিশ্ব গ্রামীন নারী দিবস এর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা: জাহাঙ্গীর আলম জনি, পরিচালক
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য:
১১. সুফিয়া খাতুন, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার, দেলদুয়ার
২২. মোনতাহিনা খাতুন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, দেলদুয়ার
৩. পারুল আক্তার, উপজেলা সমবায় অফিসার, দেলদুয়ার
১৪. শারমিন তৃণা, তথ্য আপা
৫.তৈয়বা আক্তার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, দেলদুয়ার
৬. এস.এম.ফেরদৌস আহমেদ, চেয়ারম্যান (সাবেক) উপজেলা পরিষদ, দেলদুয়ার
সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল।
৭. ডা. বিদ্যুৎ কুমার সাহা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, দেলদুয়ার
৮. খন্দকার মাহবুবুর রহমান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, দেলদুয়ার
জন. বদরুল আলম, সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষক ফেপারেশন
খাদিজা আব্বার, একাডেমিক সুপারভাইষার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস
১২.০০- ১.৩০: অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শ্রেণীপেশাজীবীদের বক্তব্য:
কৃষক: ছালমা বেগম, দুল্যা, দেলদুয়ার
সভাপতি
বদরুল আলম, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন
বাহিরন বেগম, ইউপি সদস্য, আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ
কৃষক: রুপসী বেগম, মৌশাকাঠালিয়া, আটিয়া, দেলদুয়ার
দাই: জায়েদা বেগম, মৌশাকাঠালিয়া, আটিয়া, দেলদুয়ার
কুমার: কল্পনা পাল, গোমজানী, আটিয়া, দেলদুয়ার
গবাদী পশু পালকারী: সুফিয়া বেগম, নাল্লাপাড়া, আটিয়া, দেলদুয়ার
প্রধান অতিথি: রহিমা বেগম, নয়াকৃষির কৃষক, মৌশাকাঠালিয়া, আটিয়া, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল
সভাপতি: দেওয়ান খায়রুন নাহার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির সাবেক উপমন্ত্রী এবং পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় এই দুঃখ প্রকাশ করেন।
শোকবার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব উল্লেখ করেন, মরহুম আবদুল হাই ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত ছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শের প্রতি গভীর আস্থা ছিল এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন আবদুল হাই। তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একজন আপোসহীন যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রিজভী আরও বলেন, জনসেবার মহান লক্ষ্য সামনে রেখে রাজনীতি করার কারণে সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজ এলাকা এবং সারাদেশের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন প্রাজ্ঞ, জনঘনিষ্ঠ এবং সজ্জন ব্যক্তি, যাঁর সর্বমহলে অকৃত্রিম গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
শোকবার্তায় আবদুল হাইয়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান রুহুল কবির রিজভী।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আবদুল হাই মুন্সিগঞ্জ থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ