০৭:৪৪ এম
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে যে, নিহতদের সবাইকে মুখ ‘বীভৎস’ অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে তাদের মুখের কাছ থেকে একটি তরল পদার্থও উদ্ধার করা হয়েছে, যা পুলিশ তদন্ত করছে, এটি কোনো ধরনের রাসায়নিক কি না। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানিয়েছেন যে, “নিহতদের মুখ প্রাথমিকভাবে বীভৎস ছিল।” মুখের আশপাশে কিছু তরল পদার্থ পড়ে থাকার কারণে “রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না,” সেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য যে চিকিৎসক হবেন, তাকে বলা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখতে চান, নিহতদের শরীরে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে সাড়ে ১টার দিকে পুলিশ রংপুরের জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৬) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রাসিক প্রশাসক রিটন
এ ঘটনায় রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা তার মোবাইল ফোন থেকে ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরের দিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে গতকাল রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে যে কোনো সময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা তার বড় বোন প্রীতিলতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু তখন পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ হলে তিনি স্বামী বিপুল আচার্যকে নিয়ে রাতের বেলা বোনের বাড়িতে যান। তারা গিয়ে বাড়িটি অন্ধকার দেখতে পান এবং ভেতর থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে পূজা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। জানালার তালা ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভিতরে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধও বের হচ্ছিল।
এজাহারে বলা হয়, বাড়ির আলমারি, শোকেস, আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এতে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনার বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বা অন্যভাবে উপস্থাপন করতে জিনিসপত্র এলোমেলো করা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা
এবং এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজন তরুণকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। মুগ্ধ রংপুর নগরের সিটি বাজারে একটি মাছের দোকানে কাজ করেন এবং সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলারির দোকানে সোনার কারিগর হিসেবে কর্মরত।
রোববার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে পাশের একটি ভবনের উপর দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ছাদে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে তাদের বাধা দেন। এ সময় তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, গণপতির চিৎকার শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকেও হত্যা করা হয়।
আরও পড়ুন: টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
পুলিশ দাবি করেছে, গণপতি ও তার পরিবারের সদস্যরা আসামিদের চিনতেন। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে রোববার ভোরে আটক করা হয়। পরে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান। মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন