ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যা জানাল সিআইডি


রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যা জানাল সিআইডি

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে যে, নিহতদের সবাইকে মুখ ‘বীভৎস’ অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে তাদের মুখের কাছ থেকে একটি তরল পদার্থও উদ্ধার করা হয়েছে, যা পুলিশ তদন্ত করছে, এটি কোনো ধরনের রাসায়নিক কি না। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানিয়েছেন যে, “নিহতদের মুখ প্রাথমিকভাবে বীভৎস ছিল।” মুখের আশপাশে কিছু তরল পদার্থ পড়ে থাকার কারণে “রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না,” সেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য যে চিকিৎসক হবেন, তাকে বলা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখতে চান, নিহতদের শরীরে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে সাড়ে ১টার দিকে পুলিশ রংপুরের জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৬) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রাসিক প্রশাসক রিটন

এ ঘটনায় রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা তার মোবাইল ফোন থেকে ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরের দিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে গতকাল রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে যে কোনো সময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা তার বড় বোন প্রীতিলতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু তখন পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ হলে তিনি স্বামী বিপুল আচার্যকে নিয়ে রাতের বেলা বোনের বাড়িতে যান। তারা গিয়ে বাড়িটি অন্ধকার দেখতে পান এবং ভেতর থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে পূজা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। জানালার তালা ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভিতরে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধও বের হচ্ছিল।

এজাহারে বলা হয়, বাড়ির আলমারি, শোকেস, আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এতে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনার বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বা অন্যভাবে উপস্থাপন করতে জিনিসপত্র এলোমেলো করা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

এবং এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজন তরুণকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। মুগ্ধ রংপুর নগরের সিটি বাজারে একটি মাছের দোকানে কাজ করেন এবং সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলারির দোকানে সোনার কারিগর হিসেবে কর্মরত।

রোববার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে পাশের একটি ভবনের উপর দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ছাদে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে তাদের বাধা দেন। এ সময় তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, গণপতির চিৎকার শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন: টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

পুলিশ দাবি করেছে, গণপতি ও তার পরিবারের সদস্যরা আসামিদের চিনতেন। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে রোববার ভোরে আটক করা হয়। পরে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান। মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় কোটি টাকার চুল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ এম


চুয়াডাঙ্গায় কোটি টাকার চুল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

চুয়াডাঙ্গা-দামুড়হুদা আঞ্চলিক মহাসড়কে কোষাঘাটা নামক স্থানে একটি চুলবোঝাই কাভার্ডভ্যান গতিরোধের পর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৩৩০ কেজি ছিনতাই হওয়া চুল উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কাভার্ডভ্যানের চালক ও ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ছিনতাইয়ের মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. শহিদুল ইসলাম (৪৭), যিনি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং সানোয়ার হোসেন সান্টু (৩৯), যিনি কানাইডাঙ্গা গ্রামের অধিবাসী।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় কয়েকজন চুল ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে ২৩ বস্তায় মোট প্রায় ৩৩০ কেজি চুল কিনে তা প্রক্রিয়াকরণের জন্য চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে, সমিতির নিজস্ব কাভার্ডভ্যানে করে চুলের বস্তাগুলো দামুড়হুদা থানাধীন কার্পাসডাঙ্গা এলাকার একটি প্রসেসিং কারখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টার সময় কাভার্ডভ্যানটি দামুড়হুদার কোষাঘাটা এলাকায় পৌঁছালে ৭-৮ জন ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা চালক এবং সংশ্লিষ্টদের জিম্মি করে কাভার্ডভ্যানে থাকা ২৩ বস্তা চুল নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে তদন্ত করতে থাকে। তদন্তের একপর্যায়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের চালক এবং ম্যানেজারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পুলিশ নজরে আনে।

পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোরে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস এলাকা থেকে ছিনতাই হয়ে যাওয়া ২৩ বস্তা চুল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এই ঘটনার লিখিত এজাহার আমরা পেয়েছি। দুজনকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা এখন প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গিনিতে ময়লার ভাগাড় ধসে প্রাণ গেল ৩০ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ এম


গিনিতে ময়লার ভাগাড় ধসে প্রাণ গেল ৩০ জনের

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে ভারী বৃষ্টির পর ময়লার ভাগাড়ের বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) গভীর রাতে বর্জ্যের স্তূপ ধসে আশপাশের তাঁবু ও ঝুপড়িঘর চাপা পড়লে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

দেশটির সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে কোনাক্রির গবেসিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৩০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন, তবে তাদের অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করেন কর্মীরা। খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ধসে পড়া বর্জ্যের স্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধসের পর বর্জ্যের স্তূপ এতটাই বিশাল আকার নেয় যে একটি বহুতল ভবনও এর নিচে চাপা পড়তে পারত।

ঘটনাস্থলে সাইরে দিয়ালো নামে এক নারী সাংবাদিকদের জানান, এই দুর্ঘটনায় তার পাঁচ সন্তানই মারা গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি। এখন সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই।’

দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই ভাগাড়টি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল গিনি সরকার। দেশটির আঞ্চলিক প্রশাসনমন্ত্রী জেনাব তোরে গত বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ভাগাড়টি বন্ধ করে কোনাক্রির বাইরে বর্জ্য সরিয়ে নেওয়া হবে।

বর্ষাকালে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ ও অনুন্নত শহরে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা প্রায়ই প্রাণহানি ঘটায়। ভারী বৃষ্টির কারণে এবারও সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো কোনাক্রিতে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ। তিনি ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার পাশাপাশি উদ্ধারকাজ তদারক করেন। এ সময় সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং উদ্ধারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও গিনিতে দারিদ্র্য ও অবকাঠামোগত সংকট প্রকট। দেশে বিশ্বের অন্যতম বড় বক্সাইটের মজুত রয়েছে। সিমানদু অঞ্চলে রয়েছে বিপুল লৌহ আকরিকের মজুত। তবে বিশ্বব্যাংকের এপ্রিলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ১ কোটি ৫১ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ প্রতিদিন ৪ দশমিক ২০ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করেন।

ময়লার ভাগাড়টি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা গিনি সরকারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের খসড়ায় অনুমোদন ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ এম


হরমুজে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের খসড়ায় অনুমোদন ইরানের

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশন একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে বিভিন্ন সেবার জন্য ফি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, এই খসড়া আইনটি ‘হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৌশলগত পদক্ষেপ’ পরিকল্পনার তৃতীয় ধারা হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে।

এই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, যে দেশগুলোর জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমোদন পেয়েছে, তাদের কাছ থেকে ইরানের দেওয়া বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অর্থ নেওয়ার লক্ষ্যে ফি আরোপ করা হবে।

কমিশনের মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, সামুদ্রিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বীমা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য ধরনের সেবার জন্য ফি আদায় করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী ও পার্সি উপসাগরের নিজস্ব নিয়ম এবং পরিস্থিতি রয়েছে। তিনি ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি প্রণালীর তীরে অবস্থিত দেশের অধিকারকেও বিবেচনায় নিয়েছে।

কাশকাভি আরও জানান, যেসব দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, তাদের কাছ থেকেই ফি নেওয়া হবে। অর্থটি ইরানি রিয়াল অথবা তেহরান কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন মুদ্রায় পরিশোধ করা যাবে।

তবে এটি এখনো খসড়া আইন পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্তভাবে কার্যকর করার জন্য পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
২ বছর পর প্রতিশোধ

সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে ইতালি যান শাহাদাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ এম


সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে ইতালি যান শাহাদাত

বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে, ২২ বছর পরে প্রতিশোধ নিতে অবৈধভাবে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নোয়াখালীর শাহাদাত হোসেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সাবেক প্রেমিকা, তার স্বামী এবং তাদের এক কন্যাসন্তানকে ইতালির রাজধানী রোমে ২৬ জুন রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।

ইতালীয় পত্রিকার প্রতিবেদন, পুলিশ সূত্র এবং নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ঘাতক শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে আরজু আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব আরজুর পরিবার প্রত্যাখ্যান করে। তারা ইতালিপ্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন।

বিয়ের পর কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী আরজুকে নিয়ে ইতালি চলে যান। সেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তানের জন্ম দেন। তবে প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক শাহাদাত এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। দুই দশক ধরে তিনি আরজুর পরিবারের খোঁজখবর রাখতে থাকেন এবং প্রতিশোধ নিতে সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন।

শাহাদাত হোসেন ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর ইংল্যান্ডে যান। সেখান থেকে কিছুদিন আগে অবৈধভাবে ইতালির রোমে পৌঁছে সুকৌশলে আরজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তিনি নিজেকে আরজুর ‘দূর সম্পর্কের আত্মীয়’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন। নিহত আরজুও সরল বিশ্বাসে তার পুরনো পরিচিত শাহাদাতকে তার বাড়িতে যেতে দিয়েছিলেন।

জুন ২৬ রাত্রে সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারীদের ধারণা, শাহাদাত ওইদিন ওই বাসায় গিয়ে প্রথমে আরজু ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে আরিশাকে দেখেন। প্রথমে আরজুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে শিশু আরিশাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরও শাহাদাত পালিয়ে যাননি। বরং তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে ঘরের মেঝের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন এবং লাশগুলো লুকিয়ে রাখেন। তিনি জানতেন, একে একে পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাসায় ফিরবেন। তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন বাকিদের হত্যার জন্য। কিছু ক্ষণ পর আরজুর স্বামী বাবুল কাজ থেকে বাসায় ফিরলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

সবশেষে বাসায় ফেরেন বড় ছেলে আয়ান (২০)। আয়ান তদন্তকারীদের জানান, তিনি ঘরে ঢুকে শাহাদাতকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখেন। শাহাদাত তাকে বলেন যে তার মা-বাবা ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু আয়ান যখন তার মা-বাবার কক্ষের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ খাটের নিচ থেকে তার ছোট বোন আরিশার একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তেই আয়ান বুঝতে পারেন যে ভয়াবহ কিছু ঘটেছে। ঠিক তখনই শাহাদাত তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

আয়ান প্রাণ নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। তার সেই চিৎকারে শাহাদাত ভয় পেয়ে পালিয়ে যান।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শাহাদাত হোসেন লাপাত্তা। ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘ইল মেসাজ্জেরো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি হয়তো ইতালির সীমানা পেরিয়ে ইংল্যান্ডে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কারণ সেখানে তার স্ত্রী ও কন্যা বসবাস করেন। আবার এমনও হতে পারে যে, তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

এই চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের পর রোমের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অস্বস্তি বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নির্মম হত্যাকাণ্ডটি তদন্তের জন্য ইতালি পুলিশ বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এই ঘটনা বিদেশের মাটিতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘ফ্যানপোস্ট’ লিখেছে, তদন্তকারীরা শাহাদাতের আত্মহত্যার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। কারণ হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তার ফেসবুকে কিশোর কুমারের ‘মেরা জীবন কোরা কাগজ’ গানটি শেয়ার করে একটি রহস্যময় স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকে মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারো জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%