ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

কেরানীগঞ্জে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মবিরতি


কেরানীগঞ্জে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মবিরতি

বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ চুরি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন ‘সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস’-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যালয়ে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন কয়েক শতাধিক শ্রমিক।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ গত মে মাস থেকে টানা ৫ মাস ধরে তাদের বেতন বন্ধ রেখেছে। বকেয়া বেতনের বিষয়ে কথা বললে বারবার আশ্বাস দিলেও এখন তারা টালবাহানা করছেন। উল্টো বেতন পরিশোধ না করে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং গত ৪ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মিথ্যা চুরি মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।

কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের লেবার ইনচার্জ আফজাল হোসেন বলেন, ‘বিগত তিন মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছি না। মা খুব অসুস্থ, জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করানো দরকার। মালিকপক্ষের কাছে কাকুতি-মিনতি করেও টাকা পাইনি। কেবল আমরা তিন ইনচার্জই কম্পানির কাছে পাওনা ২৪ লাখ টাকা। বেতন না পাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটে দিন কাটছে।’

আরও পড়ুন: কৃষিজমির কাজ ও গবাদিপশুর চারণভূমি রক্ষায় মানববন্ধন

অডিট প্রধান আব্দুল গাফফার জানান, তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছেন না। পারিবারিক সমস্যার কারণে একদিন কাজে আসতে না পারায় তাকে শোকজ করা হয়েছে। হিসাব বুঝিয়ে দিতে বললেও তা না দিয়ে উল্টো তাদের ওপর মামলা ও হামলা হচ্ছে।

গাড়ি চালক মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কারো তিন-চার মাস, আবার কারো পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া। দিনরাত গাড়ি চালিয়ে কোম্পানির সেবা করলেও বিপদের দিনে তাদের পাশে পাচ্ছি না। এখন বকেয়া বেতন চাইলে মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে জমি বন্ধক রেখে সংসার চালাতে হচ্ছে। বাসা ভাড়া দিতে না পেরে পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছি; পাওনাদারের ভয়ে নিজের বাসায় চোরের মতো রাত কাটাতে হয়।’

কর্মচারীরা হুশিয়ারি দিয়ে জানান, দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতনের সুনির্দিষ্ট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

সদাগর এক্সপ্রেসের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘কম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের সময় নতুন মালিক সকল কর্মচারীর বকেয়া পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন বেতন দেবেন না এবং নতুন লোক নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় বখাটে ও কিশোর গ্যাং দিয়ে আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ন্যায্য পাওনা চাওয়ায় শ্রমিকদের ওপর একটি ভিত্তিহীন চুরি মামলা দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন: কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ জনই না ফেরার দেশে

তিনি জানান, এসব অন্যায় আচরণ ও নিরাপত্তার অভাবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে থানায় একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এবিষয়ে সদাগর এক্সপ্রেস কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সিএনএন বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কিন্তু বিশ্বজুড়ে অপ্রতিরোধ্য ট্রাম্পবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কিন্তু বিশ্বজুড়ে অপ্রতিরোধ্য ট্রাম্পবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকলেও, তার রক্ষণশীল পপুলিস্ট জাতীয়তাবাদের প্রভাব বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপ থেকে লাতিন আমেরিকা, বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এই প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রথম দফার নির্বাচনে চমকপ্রদ সাফল্য এই প্রবণতার সর্বশেষ উদাহরণ। গত রোববারের ভোটে তার এই উত্থান পশ্চিম গোলার্ধে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রতিশ্রুত পরিবর্তন বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী শক্তি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

জার্মানিতে অভিবাসনবিরোধী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি জাতীয় পর্যায়ে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। ফ্রান্সে ডানপন্থি নেতা মেরিন ল্য পেন আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।

এসব দল সরাসরি ট্রাম্পের অনুকরণে গড়ে ওঠেনি। অনেক দলের উত্থান ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনেরও আগে। তবে ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসা এবং দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা তাদের অনুপ্রাণিত করছে। ট্রাম্প প্রশাসনও ইউরোপের বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছে।

ব্রাজিলে বলসোনারোর চমক

ফ্লাভিও বলসোনারো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বড় ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে জইর বলসোনারো কারাগারে রয়েছেন।

এখন লুলার সামনে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মাত্র তিন সপ্তাহ সময় রয়েছে। তিনি জয়ী হতে না পারলে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল গণতন্ত্র আরও ডানদিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।

ব্রাজিলের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রভাবও স্পষ্ট। মার্কিন সিনেটর জিন শাহিন, টিম কেইন ও পিটার ওয়েলচ গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে ব্যবহার করে ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে।

এদিকে রোববারের নির্বাচনের পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি ব্রাজিলে ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ভোট দেওয়ার পর একই দিনে ফল প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরে মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থার সমালোচনা করেন।

লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোতেও ডানপন্থি শক্তির উত্থান ঘটছে। কলম্বিয়ায় ডানপন্থি নেতা আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা এ বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। কোস্টারিকায় পপুলিস্ট নেতা লরা ফার্নান্দেজ দেলগাদোর জয়ের পর দেশটিতেও ট্রাম্পঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এল সালভাদর, চিলি ও হন্ডুরাসেও রক্ষণশীল সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্প আর্জেন্টিনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের মুদ্রা বিনিময় চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা দেশটির আইনসভা নির্বাচনে মিলেইর দলের পক্ষে ভোট দেওয়ার সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে যুক্ত ছিল।

ইউরোপেও ডানপন্থার ঢেউ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে মেরিন ল্য পেনের উত্থান আগামী বছর ইউরোপের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যর্থ হলেও এবার তিনি আগের তুলনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

ফ্রান্সের দুই দফার নির্বাচনী ব্যবস্থায় অতীতে মধ্যপন্থি দলগুলো ল্য পেনকে ঠেকাতে একজোট হয়েছে। কিন্তু মধ্য-ডান ও মধ্য-বাম রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ল্য পেন তার ন্যাশনাল র্যালি দলকে আগের তুলনায় মধ্যপন্থি করার চেষ্টা করলেও জাতীয়তাবাদ, অভিবাসনবিরোধিতা, সুরক্ষাবাদী অর্থনীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি বিরোধিতার অবস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হলে আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।

জার্মানির এএফডি নিয়ে ইউরোপের মধ্যপন্থি নেতাদের উদ্বেগ আরও বেশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসিবাদের ইতিহাসের কারণে জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থার উত্থান বিশেষভাবে সংবেদনশীল বিষয়।

এএফডি ল্য পেনের দল এবং ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের চেয়েও ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত। দলটির বিরুদ্ধে ইতিহাস অস্বীকার, ইহুদিবিদ্বেষ ও জাতিগত জাতীয়তাবাদের অভিযোগ রয়েছে। তবু এটি এখন জার্মানির পার্লামেন্টে একক দল হিসেবে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি।

গত বছর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিউনিখে এএফডি নেতা অ্যালিস ভাইডেলের সঙ্গে বৈঠক করে ইউরোপে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। গত মাসে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে এএফডির বড় জয়ের পর ট্রাম্পও দলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের সব রাজনৈতিক মিত্র সফল হননি। ট্রাম্পের সমর্থন সত্ত্বেও হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের ডানপন্থি নেতা ভিক্টর অরবান এ বছর ক্ষমতা হারিয়েছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গেও ট্রাম্পের সম্পর্ক ইরান যুদ্ধ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করে শীতল হয়েছে।

পাল্টা জনতুষ্টিবাদের উত্থান

ট্রাম্পধারার পপুলিজমের বিরুদ্ধে পাল্টা রাজনৈতিক আন্দোলনও গড়ে উঠছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পের কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা গণতন্ত্রগুলোর অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।

কার্নি বলেছিলেন, বিশ্বে যখন জনতুষ্টিবাদ ও জাতিগত জাতীয়তাবাদ বাড়ছে, তখন কানাডা দেখাতে পারে যে বৈচিত্র্য দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি মোকাবিলার চেষ্টা করছেন। লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি শিল্পোৎপাদন কমে যাওয়া, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ ও বেসরকারীকরণের মতো নীতিকে দায়ী করেন।

তবে বার্নহ্যাম ব্যর্থ হলে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ও রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্পবাদের বিরুদ্ধে বামপন্থি জনতুষ্টিবাদের উত্থানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের সাফল্য সেই প্রবণতাকে সামনে এনেছে।

স্থায়ী রাজনৈতিক বাস্তবতা হয়ে উঠছে?

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে বৈশ্বিক জনতুষ্টিবাদী আন্দোলনের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। ২০১৬ সালে ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ভোটকেও তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্থানের পূর্বাভাস হিসেবে দেখিয়েছিলেন।

তবে বিশ্বের ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদ এখন আর শুধু ট্রাম্পের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন দেশের স্থানীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট এ আন্দোলনের নিজস্ব ভিত্তি তৈরি করেছে।

ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা কমলেও তার ধাঁচের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যে সহজে হারিয়ে যাবে, এমন কোনো লক্ষণ নেই। বরং বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদের পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে বাম ও মধ্যপন্থি পাল্টা আন্দোলনও শক্তিশালী হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চলতি মাসের শেষের দিকে টোকিওর উদ্দেশ্যে চার দিনের সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলি গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই সফরের সময় মেট্রোরেল প্রকল্প এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সহযোগিতা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের সরকার প্রধান প্রথমবারের মতো জাপান সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।

এর আগে, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণপত্রটি পৌঁছে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রিটেনে সাগরের তলদেশে নিখোঁজ মধ্যযুগীয় ‘অ্যাটলান্টিস’-এর ২৫টি কাঠামোর সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


ব্রিটেনে সাগরের তলদেশে নিখোঁজ মধ্যযুগীয় ‘অ্যাটলান্টিস’-এর ২৫টি কাঠামোর সন্ধান

ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের সাগরের গভীরে শত শত বছর ধরে তলিয়ে থাকা একটি মধ্যযুগীয় গ্রামের রহস্য উদ্ঘাটনে ডুবুরিরা বড় অগ্রগতি অর্জন করেছেন। তারা উত্তর সাগরের (North Sea) তলদেশে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক গ্রাম ‘শিপডেন’ (Shipden)-এর ২৫টি কৃত্রিম বা মানবসৃষ্ট কাঠামোর ম্যাপ বা মানচিত্র তৈরি করেছেন। এই স্থানটিকে দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনের নিজস্ব ‘অ্যাটলান্টিস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারটি ইংল্যান্ডের নরফোকের ক্রুমার (Cromer) উপকূলের কাছে ঘটেছে। ১০৮৬ সালের ঐতিহাসিক ‘ডুমসডে বুক’-এ শিপডেন গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে ওই সময়ে ১১৭ জন অধিবাসী, একটি বন্দর, রাজপ্রাসাদ এবং দুটি গীর্জার উপস্থিতি ছিল। তবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমুদ্রের ভাঙন, জোয়ারের জল বৃদ্ধি ও তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে পুরো গ্রামটি সাগরে বিলীন হয়ে যায়।

‘অ্যালফ্রেড স্যাভিন প্রজেক্ট’-এর অধীনে ক্রোমার মিউজিয়ামের গবেষক ও ডুবুরিদের একটি দল সমুদ্রের তলদেশে বিশেষ অনুসন্ধান পরিচালনা করেন। তারা সাগরের তলদেশে পাথর দিয়ে তৈরি একটি প্রাচীরের সন্ধান পেয়েছেন, যা সম্ভবত মধ্যযুগে সমুদ্রের ঢেউ থেকে গ্রামকে রক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল।

এই নতুন আবিষ্কারটি স্থানীয়ভাবে ৭০০ বছর ধরে প্রচলিত একটি লোককথা ও বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জেলেরা বিশ্বাস করতেন, সমুদ্রের তলদেশে থাকা ‘চার্চ রক’ (Church Rock) নামক শিলাখণ্ডটি আসলে তাদের হারিয়ে যাওয়া ‘সেন্ট পিটার্স চার্চ’-এর চূড়া বা মিনার। এমনকি সাগরের নিচ থেকে গির্জার ঘণ্টার শব্দ শোনা যায় বলেও একটি রূপকথা প্রচলিত ছিল।

তবে সাম্প্রতিক সার্ভে ও নতুন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক সেন্ট পিটার্স চার্চটির অবস্থান চার্চ রকের আরও উত্তর-পশ্চিমে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে চার্চ রক বলে যা চেনা হতো, তা সম্ভবত গির্জার কোনো অংশ নয়।

গবেষণা দলের পরিচালক ও ক্রোমার মিউজিয়াম ফ্রেন্ডস গ্রুপের চেয়ারম্যান পিটার স্টিবনস জানান, “প্রচলিত রূপকথার বাইরে এসে নতুন এই তথ্যগুলো আমাদের শত বছরের পুরনো বিশ্বাসের বিষয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে।” তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাগরের তলদেশ থেকে সংগৃহীত নিদর্শন ও মানচিত্র বর্তমানে ক্রোমার মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সেন্ট পিটার্স চার্চের সঠিক স্থান চিহ্নিত করার পাশাপাশি কীভাবে সময়ের সাথে সাথে উপকূলীয় পরিবেশ বদলে গিয়েছিল, তা জানাই এখন গবেষকদের প্রধান লক্ষ্য। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সেকশন কর্মকর্তার পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সেকশন কর্মকর্তার পদত্যাগ

রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক পদত্যাগ করেছেন। তিনি মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইনও চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

উপাচার্যের পদত্যাগপত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই কারণে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, অর্থ বিভাগের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, তিনি ২০১৮ সাল থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে তার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে ছাত্রজনতার একটি দল মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জাওয়াদুল হক এবং সেকশন কর্মকর্তা নাজমুল হোসেনের দপ্তরে যান। এ সময় তারা দুজনকেই অবরুদ্ধ করে পদত্যাগের দাবি জানান। তাদের চাপের মুখে দুজনেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এর আগে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে ভিসি জাওয়াদুল হক এবং সেকশন কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইনের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ছাত্র-জনতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%