বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৩ পি.এম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন অটোমেশন পদ্ধতিতে করা হবে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পক্ষপাতিত্ব কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অটোমেশন পদ্ধতিতে ৮৭ জন চিকিৎসককে তাঁদের পছন্দ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন করা হচ্ছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক বিবেচনা কিংবা অন্য কোনো প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই।
তিনি জানান, অটোমেশন পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন করা হলেও অতীতে, বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে, এ ক্ষেত্রে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছিল। অতীতে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র সংবাদমাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশিদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আট বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আকিদুল শেখ (২৫) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্কুলে যাওয়ার পথে কাদাপানি পার করে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে বাঁশবাগানে নিয়ে এ অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সেলিম শেখের ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ জুন সকাল ১০টার দিকে নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছিল। আগের দিনের বৃষ্টিতে স্কুলে যাওয়ার রাস্তার পাশে পানি জমে থাকায় শিশুটিকে পার করে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে আকিদুল। পরে রাস্তার পাশের একটি বাঁশবাগানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকেরা তার শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শিশুটির কাছ থেকে ঘটনার কথা জেনে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন তাঁরা। এরপর তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন, ২১ জুন, শিশুটির বাবা শংকর কুমার মণ্ডল বাদী হয়ে আকিদুল শেখের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচার চলাকালে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এদিকে রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসারের রুমে মধ্যনগর উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে ধারাবাহিক ভাবে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার তৌফিক আহমেদ, উপজেলা বি এন পির যুগ্ন আহবায়ক আবুল বাশার তালুকদার, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ, সোহেল আহমদ, ইউনিয়ন সমাজ কর্মী,সুজানুর রহমান ইউনিয়ন সমাজ কর্মী মাহমুদুল হাসান ইউনিয়ন সমাজ কর্মীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায় মধ্যনগর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের জন্য ৩০ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৩জন সুপার ভাইজারের দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সমাজসেবা অফিসারসহ কমিটির সদস্যরা তাকবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তথ্য সংগ্রহকারীরা স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখার পাশাপাশি কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্ধারিত তথ্য সংগ্রহ করবেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি ইউক্রেনের পক্ষে হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে এক সুইডিশ নাগরিককে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানায়, রাশিয়ায় প্রবেশ করা ওই ব্যক্তি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের হয়ে হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগ রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আটক ব্যক্তির বয়স ৩৫ বছর। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এফএসবি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। সংস্থাটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ওই ব্যক্তিকে স্বীকারোক্তি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি নিজের নাম স্টকহোমের ফ্রেডি লিন্ডহোম বলে পরিচয় দেন। তিনি জানান, প্রথম ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ ও নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে তিনি রাশিয়ায় এসেছেন।
সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ওই ব্যক্তিকে আটকের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত। তবে তারা এ ঘটনার সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত নয়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ইউক্রেনের তেরনোপিল শহরে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর আইদার ব্যাটালিয়নের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন। পরে নজরদারির কাজে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার স্বাক্ষরিত বলে দাবি করা একটি চুক্তির অনুলিপি দেখানো হয়েছে। এফএসবি জানায়, রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় পসকভ এলাকায় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যা লাতভিয়া ও বেলারুশের কাছাকাছি অবস্থিত।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়ার অজুহাতে তিনি সামরিক স্থাপনাগুলোতে নাশকতা ও সন্ত্রাসী হামলা চালাতে রাশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।’ বিবৃতিতে আরো অভিযোগ করা হয়, ওই ব্যক্তি ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চুক্তির ভিত্তিতে ইউক্রেনের একটি বাহিনীতে ড্রোন কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন। এফএসবি ওই বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদেশি গুপ্তচর ও নাশকতাকারীদের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দায়িত্ব পেয়েছে এফএসবি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংস্থাটিকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চলে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে এক জাপানি সাংবাদিককে আটকের কথা জানায় এফএসবি। বৃহস্পতিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অস্বীকার করেন যে, টোকিও রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, "বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোনো সমাজকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায় না।" সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, এই তথ্যটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, "কিন্তু আমরা যদি বিভক্ত হয়ে পড়ি এবং দেশের ভেতরেই বিভাজন তৈরি হয়, তাহলে শত্রু তার লক্ষ্য অর্জন করবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "জাতীয় সংহতি ও ঐক্য জোরদার করার পথ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। সামনে যেসব কঠিন পরিস্থিতি আসবে, সেগুলোর মোকাবেলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ