০২:৩৫ পি.এম
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যৌন অপরাধে দণ্ডিত কয়েক হাজার পুরুষ বন্দির অনিয়ন্ত্রিত যৌন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ওষুধ দেওয়ার উপর একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এই কর্মসূচিটি পুরোদমে চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেলিন্ডা উইন্ডার কারাগারে যৌন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ব্যবহারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি চারজন যৌন অপরাধীর মধ্যে প্রায় একজনকে এই চিকিৎসার আওতায় আনা হতে পারে। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা বিবেচনায়, এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন।
সরকারি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, কারাগারে তীব্র স্থানসংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের প্রশাসন স্বেচ্ছায় যৌন প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ওষুধের ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী। যদিও শিশু যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক রাসায়নিক খোজাকরণের যে প্রতিশ্রুতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ দিয়েছিলেন, তা নিয়ে মন্ত্রীরা নতুন করে ভাবছেন।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের বিরোধীরা গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন জানালেন
বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ১৫ হাজার কয়েদি যৌন অপরাধের দায়ে সাজা ভোগ করছেন। এছাড়া অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনের সন্দেহে প্রতি মাসে ৮৫০ জনের বেশি পুরুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
মেডিকেশন টু ম্যানেজ প্রবলেমেটিক সেক্সুয়াল অ্যারাউজাল বা এমএমপিএসএ শীর্ষক এই পাইলট কর্মসূচিটি আগামী নভেম্বরে ১০টি থেকে বাড়িয়ে মোট ২০টি কারাগারে সম্প্রসারণ করা হবে।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো, যেসব অপরাধী অনাকাঙ্ক্ষিত, অবিরত ও তীব্র যৌন চিন্তা, কামোত্তেজনা এবং অস্বাস্থ্যকর যৌন আচরণে ভোগেন, তাঁদের জন্য চিকিৎসাসেবা প্রদান করা।
এ কর্মসূচিতে সারট্রালিনের মতো সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিউপটেক ইনহিবিটরস বা এসএসআরআই জাতীয় ওষুধ দেওয়া হতে পারে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন জাতীয় ওষুধও দেওয়া হতে পারে, যা টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে যৌন প্রবণতা কমায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি টেস্টোস্টেরনের মাত্রাকে বয়ঃসন্ধিপূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে পারে।
আরও পড়ুন: শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা করতে ব্যর্থ হলে সরকারকেই দায় নিতে হবে: মঞ্জু
বেলিন্ডা উইন্ডার জানান, পাইলট প্রকল্পটি ইতিবাচকভাবে এগোতে থাকলে আগামী ২৮ মাসের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সব কারাগার ও প্রবেশন সেবায় এই ওষুধ প্রয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত হতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘মধ্যবর্তী ফলাফল যদি কার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই আইন মন্ত্রণালয় কর্মসূচিটি সার্বিকভাবে চালুর জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।’
উইন্ডার আরও বলেন, যারা এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন, ওষুধ সেবন ও পুনরায় অপরাধ না করার প্রতিশ্রুতি দিলেই তাঁদের যথাযথ চিকিৎসাগত সহায়তা দিতে হবে।
গত বছর, তৎকালীন আইনমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্ট সদস্যদের জানিয়েছিলেন যে, তিনি যৌন অপরাধীদের জন্য স্বেচ্ছায় রাসায়নিক খোজাকরণ কর্মসূচি জাতীয়ভাবে চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিনি বলেছিলেন, এটি বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, সেটিও যাচাই-বাছাই করছেন।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, তবে রয়েছে সংশয়
তবে দুজন বিশেষজ্ঞ গার্ডিয়ানকে বলেন, এই পরিকল্পনা কাজে আসবে না। যৌন অপরাধীদের ওপর প্রোজ্যাক নামক ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অন্যতম প্রধান গবেষক উইন্ডারও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বাধ্যতামূলক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে গেলে বিশালসংখ্যক কারাবন্দির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে, যাতে বোঝা যায় কাদের এই চিকিৎসা প্রয়োজন। সেই সংখ্যাটা কিন্তু বেশ ছোট। অথচ এর জন্য যে বিপুল চিকিৎসা অবকাঠামো ও সম্পদের প্রয়োজন হবে, তার প্রভাব হবে ব্যাপক।’
উইন্ডার আরও জানান, এটি বাধ্যতামূলক করা হলে অপরাধীদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে এবং এর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
এই ওষুধগুলোকে তিনি ‘রাসায়নিক খোজাকরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এ কথা বলে কারণ, যারা যৌন অপরাধ করে তাদের খোজা করে দেওয়ার ধারণাটা অনেকেরই বেশ পছন্দ। কিন্তু খোজাকরণের মতো এই ওষুধের প্রভাব স্থায়ী নয়। এটি কার্যকর রাখতে হলে ধারাবাহিকভাবে সেবন করতে হবে।’
আরও পড়ুন: ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মাঠে নামছেন ৭ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ
বর্তমান মাসের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ঘোষণা দেন, ধর্ষণ, গ্রুমিং এবং শিশুদের ওপর গুরুতর যৌন নির্যাতনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের আগাম মুক্তির কর্মসূচির বাইরে রাখা হবে। তবে চার বছরের কম সাজা ভোগ করা অন্যান্য যৌন অপরাধীরা এখনও আগাম কারামুক্তির সুযোগ পাবেন।
অন্যান্য অপরাধীদের তুলনায় যৌন অপরাধীদের মধ্যে পুনরায় অপরাধ করার হার তুলনামূলকভাবে কম। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ যৌন অপরাধী ফের অপরাধে জড়িয়েছেন। আর চুরির মতো অপরাধে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
কারাবন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা অধিকারকর্মীরা জাতীয়ভাবে এই কর্মসূচি চালুর আগে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। সমালোচকরা এর আগে বলেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে টেস্টোস্টেরন হরমোন দমন করার ফলে অস্টিওপরোসিস ও হৃদ্রোগ দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে দৈবচয়নভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা তেমন একটা না হওয়ায় পর্যাপ্ত তথ্যেরও ঘাটতি রয়েছে।
সূত্র: গার্ডিয়ান
আরও পড়ুন: ওয়াশিংটনে পুলিশের অভিযানে গোলাগুলিতে নিহত ৪, একজন পুলিশ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন