০৮:৫১ পি.এম
যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সেটা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কুইক রেসপন্স টিম গঠনের পাশাপাশি, বেপরোয়া গতির বিষয়ে প্রতিটি গণপরিবহনের ভেতরে-বাইরে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা স্থাপন এবং একতলা বাসকে ডাবল ডেকারে রূপান্তর ঠেকাতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এটিও জানতে চেয়েছে আদালত।
আজ রবিবার, এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে নির্মিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় সেন্ট মার্টিন পরিবহনের সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান এই রিটটি দায়ের করেন। হাইকোর্ট রুলে আইনজীবী বাহাউদ্দিন আল ইমরানকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সেটিও জানতে চেয়েছে।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ৬ লাখ ৪৩ হাজার মিটার জাল জব্দ, ৪ জনের কারাদণ্ড
অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে করা তার আবেদন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে, গত মে মাসে দুর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে উল্লিখিত দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘আরামের আড়ালে মারণফাঁদ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ সংযুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ এক তলা বাসের চেসিসের ওপরেই তৈরি হচ্ছে দ্বিতল স্লিপার বাস। এর মধ্যে কোনো কোনো বাসের নিচ তলায় বিজনেস ক্লাস সিট এবং ওপরে স্লিপার সিট থাকে; আবার কিছু বাসে নিচে ও ওপরে দুই তলাতেই স্লিপার সিট থাকে। এই বাসগুলো সাধারণ এক তলা বাসের তুলনায় অধিক উচ্চতার তৈরি করা হয়। অনুমোদনহীন এই রূপান্তরের বিষয়ে বিআরটিএর কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ নীরব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা জানান, টাইপ অনুমোদন না থাকার কারণে স্লিপার বাসের অনুমোদনের সুযোগ বিআরটিএর নেই। তবে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। দ্বিতল স্লিপার বাসের চেসিসের ধরন, বডির ডিজাইন এবং সিটের ধরন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকবে সেই নীতিমালায়।
আরও পড়ুন: সরকার চাইলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি
বর্তমানে কিভাবে স্লিপার বাস চলছে, এই প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রথমে সাধারণ বাসের অনুমোদন নিয়ে পরবর্তী সময়ে সেসব বাসকে রূপান্তর করে স্লিপার বাসে পরিণত করা হয়। কিন্তু বছর ঘুরে ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য আসলে, এসব বাস কিভাবে ফিটনেস সনদ পায়, সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন