০২:০৬ পি.এম
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ এই আধ্যাত্মিক বাণীকে সামনে রেখে একতারা, দোতারা এবং ঢোল বাশির সুরে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে লালন ফকিরের ভবের হাট।
জাতপাতের ভেদাভেদ ভুলে লালন ভক্তরা নিজেদের এবং অজানাকে জানার চেষ্টা করছেন। মহাগুরু ফকির লালনের রীতি অনুযায়ী সাধু সঙ্গে দীক্ষা গ্রহণ করেছেন তারা। লালন ফকিরের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে তিন দিনের লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে পুণ্য সেবার মাধ্যমে সাধুসঙ্গ সম্পন্ন হয়েছে। লালন স্মরণোৎসব আগামীকাল (১৯ অক্টোবর) শেষ হবে।
আধ্যাত্মিক জগতের অন্যতম প্রভাবশালী সাধক ফকির লালন তার জীবদ্দশায় দৌল পূর্ণিমার তীথিতে ভক্তদের নিয়ে সাধু সঙ্গ করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার দেহত্যাগের পর অনুসারীরা তার স্মরণে তার রীতি অনুসরণ করে সাধু সঙ্গ শুরু করেন। পরবর্তীতে লালন একাডেমি এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে। ১৩৬ বছর ধরে চলমান এই সাধুসঙ্গের উৎসব এখন বিশাল লালন স্মরণোৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারের উৎসবে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দেশ-বিদেশি ভক্তরা ভবের হাটে সমবেত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রাসিক প্রশাসক রিটন
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে সাধু সঙ্গে বাল্য, রাখাল এবং পুণ্য সেবার মাধ্যমে মনের হিংসা ও রাগ দূর করতে মহাগুরু লালনের কাছে আসছেন তারা। এভাবে তারা নিজেদেরকে খাঁটি করে তুলছেন। তারা বলছেন, লালন ফকিরই সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে একত্রিত করার প্রেরণা দিয়েছেন।
প্রতিনিয়ত আখড়াবাড়ির ভেতরে খণ্ড খণ্ড সাধু আস্তানায় গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার চলছে। রাতে আখড়াবাড়ির বাইরে মূল মঞ্চে লালন দর্শনের আলোচনা এবং গান গানে বাণী প্রচার করা হচ্ছে। লালন অ্যাকাডেমির মাঠে চলছে বাউল মেলা। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এক মহা সম্মিলনে সবাই মেতে উঠেছেন।
লালন বিশ্লেষক হৃদয় শাহা ফকির মন্তব্য করেন, "নিজেকে জানতে ও যখনই প্রয়োজন হয় মানুষ এভাবে ভবের হাটে জড়ো হয়।"
ভক্তরা বলছেন, লালনের বাণী ছড়িয়ে দিতে পারলেই এই উৎসব সার্থক হবে।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন