০৭:২৭ এম
সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় বর্তমানে ওভারনাইট ওটস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি আগের রাতে দুধ বা চিনি ছাড়া দইয়ের সঙ্গে রোলড ওটস ভিজিয়ে রেখে প্রস্তুত করা হয়, এবং সকালে এতে ফল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ মিশিয়ে খাওয়া হয়। সহজেই তৈরি করা যায় বলে ব্যস্ত জীবনযাপনের মধ্যে এটি অনেকের পছন্দের খাবার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুষ্টিবিদ ও গ্যাস্ট্রো বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক উপায়ে তৈরি করা ওভারনাইট ওটস যদি টানা এক মাস খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ওটসে উপস্থিত দ্রবণীয় ফাইবার বিটা-গ্লুকান হজমের গতি ধীর করে দেয়, ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে তোলে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে, রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত বাড়তে দেয় না, ফলে পুরো সকাল জুড়ে শক্তি বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ওটসে প্রচুর ফাইবার রয়েছে, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এই কারণে হজমশক্তি উন্নত হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। তবে যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত ফাইবার পেটের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: ৩০ সেকেন্ডের অভ্যাসে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব
ভিজিয়ে রাখা ওটস এবং রান্না করা ওটস—দুটির পুষ্টিগুণ প্রায় একই রকম হয়ে থাকে। তবে ওভারনাইট ওটস নরম হওয়ার কারণে অনেকের জন্য এটি সহজে হজম হয়। তার পাশাপাশি, ভিজিয়ে রাখলে ফাইটিক অ্যাসিড কিছুটা কমে যায়, ফলে শরীরে কিছু খনিজের শোষণ হতে সুবিধা হয়।
স্বাস্থ্যকর ওভারনাইট ওটস তৈরিতে রোলড ওটস, দুধ বা চিনি ছাড়া দই, তাজা ফল, বাদাম, চিয়া বা ফ্ল্যাক্স সিড এবং সামান্য দারচিনি ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত মধু, ফ্লেভারড সিরাপ, মিষ্টি দই বা চকোলেট স্প্রেড এড়িয়ে চলাই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, শুধু ওটসের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আরও পড়ুন: খালি পেটে গরম পানির সঙ্গে মধু খেলে কী উপকারিতা হয়?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন