ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

'হলি ওয়াটার' কেলেঙ্কারি- ব্রাজিলের খেলোয়াড়কে ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিল আর্জেন্টাইন ফিজিও!


দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ মানেই সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় বাড়তি উন্মাদনা।

আর সেখানে যদি কোনো বিতর্কিত ঘটনার সম্মিলন থাকে, তবে সেটি তো কথাই নেই; সমর্থকদের তর্ক এবং আলোচনায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় ওই বিষয়গুলোই।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ম্যাচে সবচেয়ে বড় বিতর্কিত ঘটনাটি ১৯৯০ বিশ্বকাপে ঘটেছিল।

আরও পড়ুন: তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

সে বিশ্বকাপে একটি অভিযোগ উঠেছিল আর্জেন্টাইন ফিজিও'র বিরুদ্ধে, যে ব্রাজিলের খেলোয়াড়কে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি খাইয়ে দেয়া হয়েছিল।

তবে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো দলিল বা প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি মূলত ১৯৯০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর খেলায় ঘটে।

১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালিতে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব সিক্সটিনে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিলের।

আরও পড়ুন: ভিনিসিয়াস ছাড়া সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল মাদ্রিদ

সেই ম্যাচকে ঘিরেই মূলত 'ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি' খাওয়ানোর অভিযোগটি ওঠে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে, যা ঐতিহাসিকভাবে 'হলি ওয়াটার' স্ক্যান্ডাল নামে পরিচিত।

এখন যেমন, তখনও আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ছিল তুমুল উন্মাদনা।

ফলে দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের তীব্র মানসিকতা ছিল।

১৯৯০ বিশ্বকাপের আগে এই দুই দল বিশ্বকাপে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

এর মধ্যে ১৯৭৪ ও ১৯৮২ বিশ্বকাপে জিতেছিল ব্রাজিল এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত দুই দলের মধ্যকার ম্যাচটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়েছিল।

এদিকে, বিশ্বকাপের এই মঞ্চে প্রথমবারের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছিল আর্জেন্টিনা।

তবে আর্জেন্টিনার অবস্থাও তখন তেমন ভালো ছিল না।

ম্যারাডোনার নৈপূণ্য দিয়ে আগের বিশ্বকাপটি জিতলেও, ওই বিশ্বকাপের অনেক তারকা ইনজুরি এবং খারাপ ফর্মের কারণে ১৯৯০ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন না।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

এছাড়া, বিশ্বকাপের শুরুটাও ছিল আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।

নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ক্যামেরুনের কাছে তারা ১-০ গোলে হারিয়ে বসে!

গ্রুপপর্বের পরের ম্যাচে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারালেও রোমানিয়ার সাথে ম্যাচটি ১-১ গোল ড্র করে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে কোনোমতে রাউন্ড অফ সিক্সটিন নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে, ব্রাজিল ছিলেন ওই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল।

আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের

সেবাস্তিও ল্যাজারনির নেতৃত্বে একটি গোছানো দল নিয়ে সেলেসাওরা ঐ বিশ্বকাপে এসেছিল।

গ্রুপপর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই রাউন্ড অফ সিক্সটিন নিশ্চিত করে তারা।

এ কারণে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণে ব্রাজিলই ফেভারিট ছিল।

১০ জুন তুরিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অনুমেয়ভাবেই ব্রাজিল শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে।

আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা বুলু, দোয়া চাইলেন পরিবার

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই ফর্মের অভাবে ছিল ব্যাকফুটে।

মিডফিল্ডে দুই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের দুঙ্গা ও অ্যালেমাওর দাপটে বলই পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা।

কিন্তু জালের দেখা মিলছিল না কোনোমতেই।

ব্রাজিলের টানা আক্রমণে দিশেহারা আর্জেন্টিনার পরিকল্পনার সবটা জুড়েই ছিলেন ম্যারাডোনা।

দলে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল আদায় করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল তারা।

কিন্তু সেদিন শুরু থেকেই ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররা ম্যারাডোনাকে কড়া পাহারায় রাখায় তার সুবিধা করতে পারেননি।

বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান লেফটব্যাক ব্রাংকো সেদিন অসাধারণ খেলছিলেন।

তিনি বেশ কয়েকবার ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলেও ম্যারাডোনা সেটা কিছুতেই করতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পেদ্রো ত্রগলিও আহত হয়ে পড়ায় কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ ছিল।

কিন্তু পরে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্রাংকোকে আগের মতন চনমনে লাগছিল না, এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, কিছু হয়েছে।

ব্রাংকোর হুট করে এই পরিবর্তনের সুযোগটাই নিলেন ম্যারাডোনা। ৮১ মিনিটে ব্রাংকোকে অনায়াসেই ফাঁকি দিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গেলেন ম্যারাডোনা।

হঠাৎ করেই ব্রাংকো এভাবে খেই হারানোয় পুরো ম্যাচে অসাধারণ ডিফেন্স করা ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ সেটআপ ভেঙে গেলো।

ম্যারাডোনাকে আটকাতে গিয়ে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডাররা তাকে ঘিরে ধরার সময় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ক্ল Claudio Kanižia হয়ে যান আনমার্কড।

ম্যারাডোনাও তাই বল বাড়িয়ে দিলেন ক্যানিজিয়ার দিকে।

ব্রাজিলের গোলকিপার তাফারেলকে একা পেয়ে ক্যানিজিয়া বল জালে জড়াতে ভুল করলেন না।

পুরো ম্যাচে আক্রমণে দাপট দেখালেও প্রথম গোলটা পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

তবে গোলের পর থেকেই ব্রাংকোকে অজানা কারণে উত্তেজিত দেখাচ্ছিল যেন তিনি সতীর্থদের কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন।

এদিকে, মেজাজ হারিয়ে খেলার ৮৫ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলের অধিনায়ক রিকার্ডো গোমেজ।

এভাবে ম্যাচটিতে ব্রাজিল ১-০ গোলে হেরে যায়।

এই হারের ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায়।

বিতর্কটি মূলত ম্যাচ শেষের পর শুরু হয়।

ম্যাচ শেষে ব্রাংকো দাবি করেন, দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো ত্রগলিওর ইনজুরি কারণে খেলা যখন বন্ধ ছিল, তখন নাকি আর্জেন্টিনার ফিজিও মিগুয়েল ডি লরেঞ্জোর কাছ থেকে একটা বোতল পানি নিয়ে পান করেছিলেন।

আর সেই পানি পান করেই ব্রাংকোর মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করে এবং অসুস্থতা তিনি অনুভব করেন।

ব্রাংকো যে আর্জেন্টিনার ফিজিওর আনা পানি খেয়েছিলেন সেটার প্রমাণও ছিল।

কিন্তু পানিতে কিছু মেশানোর অভিযোগ প্রমাণের কোনো সুযোগ ছিল না।

তাছাড়া, ব্রাংকোর বক্তব্যের পর আর্জেন্টিনার প্রেস ব্রাংকোর অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

এ কারণে অভিযোগটি নিয়ে তখন খুব একটা চর্চা হয়নি।

১৫ বছর পর ২০০৫ সালে এই ঘটনা নিয়ে সবচেয়ে বড় বোমাটা ফাটান ম্যারাডোনা নিজেই।

আর্জেন্টিনার এক টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন যে, সেদিন ব্রাংকোকে দেয়া পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন!

আর এই বক্তব্যের পরেই পুরনো সেই আগুন আবার জ্বলে ওঠে।

সেসময়কার সিবিএফ সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্টোনিও টেক্সেইরা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে চান।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট রিকার্ডো টেক্সেইরা অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন।

এতে বিষয়টি বেশিদূর এগোয়নি।

ওই ম্যাচের সময়ে আর্জেন্টিনার কোচ কার্লোস বিলার্দোও এ অভিযোগটি অস্বীকার করেন এবং ম্যারাডোনাকে বাস্তবে ফেরার পরামর্শ দেন।

এদিকে, যে ফিজিওকে নিয়ে এত গণ্ডগোল সেই ফিজিও নিজেও পুরো ঘটনা অস্বীকার করেন।

তবে ফিজিওর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন ১৯৯০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড বেবেতো।

তিনি বলেন, 'লরেঞ্জো যদি এ ঘটনা অস্বীকার করে থাকেন তবে তিনি মিথ্যা বলেছেন, লরেঞ্জো পরে আমার কাছে পুরো ঘটনাটি স্বীকার করেছিলেন।'

তখনকার ব্রাজিল কোচ এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, 'এটা কিছুতেই স্পোর্টসসম্যানশিপের অংশ হতে পারে না, এটা সম্পূর্ণ নোংরা একটা খেলা।

ঘটনা ১৪ বছর আগে অথবা ১৪ দিন, ফিফার উচিত এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের কঠিন শাস্তির আওতায় এনে একটি উদাহরণ স্থাপন করা।

কে নিশ্চয়তা দিতে পারে আর্জেন্টিনা অন্য কোনো দলের বিপক্ষে এমন কোনো নোংরা খেলতে বাধ্য হয়নি?'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশরে ৪৫ হাজার ডলারসহ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অপহরণ, কৌশলে পালিয়ে দূতাবাসে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২০ পি.এম


মিশরে ৪৫ হাজার ডলারসহ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী অপহরণ, কৌশলে পালিয়ে দূতাবাসে অভিযোগ

মিশরের রাজধানী কায়রো বিমানবন্দরের বাইরে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর- A09799701), পিতা—মো. আয়নাল হক, গ্রাম—বড়াপাড়া, ডাকঘর—আমলা সদরপুর, উপজেলা—মিরপুর, জেলা—কুষ্টিয়া। তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। পরে সে কৌশলে পালিয়ে মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে 'ওকে-টু-বোর্ড' ভিসা নিয়ে কায়রো পৌঁছান শরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর মিশরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

শরিফুল ইসলাম আরটিভি প্রতিনিধিকে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকার কাস্টমস অফিসে মিশর প্রবাসী নাসিমা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই নারী বলেছিলেন, মিশর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দূতাবাস থেকে ভিসার প্রয়োজন নেই জানিয়ে শ্রীলঙ্কা হয়ে 'ওকে-টু-বোর্ড' ভিসায় কায়রো আসার পরামর্শ দেন এবং সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন।

শরিফুল জানান, নাসিমা আক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি প্রথমে শ্রীলঙ্কায় যান এবং কিছুদিন অবস্থানের পর ১৮ জুন কায়রো পৌঁছান। কায়রো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে আসা অন্যান্য বাংলাদেশিদের প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাকে কিছু সময় আটকে রাখা হয়। পরে নাসিমা আক্তারের লোকজন ইমিগ্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে বিমানবন্দর থেকে বের করে নিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ পাঁচ বাংলাদেশি তাকে একটি গাড়িতে তুলে একটি কপি শপে নিয়ে যান। ওই স্থানে কিছু সময় অবস্থানের পর কায়রো শহর ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রবেশের পরই তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং মারধরের একপর্যায়ে তার লাগেজে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

শরিফুলের দাবি, পরদিন রাতে আরও দুই বাংলাদেশি এসে তাকে খাবার ও পানি দেন। কিছুক্ষণ পর তাকে অন্য একটি গাড়িতে করে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আবারও মারধর করা হয় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করা হয়।

তিনি জানান, দেশে তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে রাত প্রায় তিনটার দিকে কক্ষের জানালা দিয়ে বের হয়ে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে আসেন এবং দীর্ঘ চেষ্টার পর কৌশলে বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে আশ্রয় নেন।

বর্তমানে মো. শরিফুল ইসলাম মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুস্থ সমাজ গঠনে যোগব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: প্রিন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২১ পি.এম


সুস্থ সমাজ গঠনে যোগব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: প্রিন্স

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতীয় হাইকমিশন, সিলেট এবং লাইফ প্লাস ইয়োগা সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে ময়মনসিংহে আলোচনা সভা ও যোগব্যায়াম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই আলোচনা সভা ও যোগব্যায়াম প্রদর্শনী রোববার (২১ জুন) বিকেলে নগরীর মফিজ উদ্দিন ইন্ডেক্স প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস, ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম, ভারতীয় হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (কালচার অ্যান্ড স্পোর্টস) রাজেশ ভাটিয়া, লাইফ প্লাস ইয়োগা সেন্টারের পরিচালক জুলফিকার হায়দার এবং ময়মনসিংহ ক্রীড়া অফিসার আল আমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে জীবনযাপন করছে। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা ও কর্মব্যস্ততার কারণে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত যোগচর্চা শরীরকে সুস্থ, মনকে প্রশান্ত এবং জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পরবর্তীতে তিনি বলেন, যোগব্যায়াম একমাত্র শরীরচর্চার প্রক্রিয়া নয়, এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মসচেতনতা ও ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম। সুস্থ সমাজ গঠনের লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত করতে হবে।

প্রিন্স আরও জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সংস্কৃতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও মানবকল্যাণমূলক এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির সকল ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সুস্থ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের প্রধান শক্তি।

ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেন, যোগব্যায়াম কেবল একটি শরীরচর্চার পদ্ধতি নয়, এটি সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার একটি জীবনদর্শন। জাতি, ধর্ম ও ভৌগোলিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে যোগব্যায়াম আজ বিশ্বব্যাপী মানুষের সুস্থ জীবনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল লক্ষ্য মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে উৎসাহ প্রদান করা। বাংলাদেশে এ ধরনের আয়োজনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই যুগেও সড়ক সংস্কার মেলেনি, কাদা-গর্তে বন্ধ যানচলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২১ পি.এম


দুই যুগেও সড়ক সংস্কার মেলেনি, কাদা-গর্তে বন্ধ যানচলাচল

খুলনার পাইকগাছায় দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। চলাচলের জন্য প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ যে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, তা জন্য এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে ভোগান্তি অবিরাম।

রোববার (২১ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৬ নং লস্কর ইউনিয়নের বাইনতলা খেয়াঘাট থেকে খড়িয়া খালপাড় অভিমুখে পাইকগাছা জিসি–বাইনতলা বাজার –বগুড়ারচক –গিলাবাড়ি জিসি সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙাচোরা ও উঁচুনিচু অংশে যাতায়াত মুশকিল হয়ে গিয়েছে। কোথাও কোথাও মাটি সরে যাওয়ার কারণে যান চলাচল হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এইসব গর্তে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি এবং কাদা।

৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সড়ক স্থানীয়দের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও মৎস্যচাষিসহ হাজারো মানুষের চলাচলে এই পথ ব্যবহার হয়ে থাকে। কৃষিপণ্য এবং রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল বলেছেন, "দীর্ঘ প্রায় দুইযুগ ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।"

মাছ ব্যবসায়ী অভিজিৎ মণ্ডল জানিয়েছেন, "আমাদের এলাকা চিংড়ি ঘের অধ্যুষিত এলাকা। প্রচুর চিংড়ি এবং অন্যান্য মাছ উৎপাদন হয়। কিন্তু যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি অনুপযোগী হওয়ায় মৎস্য আড়তে পৌঁছাতে দেরি হয়, ফলে মাছের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হই।"

সড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখন পর্যন্ত মেলেনি দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ।

লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম সানা বলেন, "সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশা করছি।"

উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব জানিয়েছেন, "খুলনা বিভাগীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের ডিপিপিতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকায় এটি ২ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজটি শুরু হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রথমার্ধ শেষে ৩ গোলে এগিয়ে স্পেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২১ পি.এম


প্রথমার্ধ শেষে ৩ গোলে এগিয়ে স্পেন

জর্জিয়ার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলতে নেমে শুরু করেছে স্পেন অবিশ্বাস্য খেলা। মাঠে একক আধিপত্য দেখিয়ে পার করেছে তারা প্রথমার্ধ, যেখানে ফলাফল ৩-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে স্পেন।

বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হয়েছে ‘এইচ’ গ্রুপের এই ম্যাচ। খেলাটি শুরুতেই দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে। এক সময় ১০ মিনিটের মাথায় সৌদির জালে বল পাঠায় স্পেন। লামিন ইয়ামালের পাস থেকে পেশির চোট কাটিয়ে দলে ফিরে প্রথম গোলের দেখা পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, ইয়ামাল দলে থাকবে কিনা, সেই বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। কিন্তু সব অনিশ্চয়তা দূর করে সে শেষ পর্যন্ত শুরুর একাদশে জায়গা পান। গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন তার ওপর রাখা আস্থার প্রতিদান।

এদিকে, সৌদি আরব পাল্টা গোল দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে সৌদি গোল করতে পারে না, আর স্পেন আবারও সফলতার মুখ দেখে। ২১ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবাল সৌদি রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দেন। এতে স্পেন ২-০ গোলে এগিয়ে যায়।

এর পরের মিনিটে স্পেন আবারও সৌদি জালে বল পাঠায়। এবারও গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। মাঠের এক প্রান্ত থেকে একটি কোণাকুণি ক্রস দারুণ দক্ষতায় বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন মার্ক কুকুরেয়া। এরপর দানি ওলমো মাথা দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন সামনে। আর বল পেয়েই নিখুঁত শটে জালে জড়াতে ভুল করেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল।

অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি হলো ওইয়ারসাবালের দ্বিতীয় গোল। সৌদি আরব কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্কোরলাইন ৩-০ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে স্পেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের খোঁজে মুখোমুখি হয়েছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বর দল স্পেন এবং ৫৯ নম্বর অবস্থানে থাকা সৌদি আরব। দুই দল এই আসরে এখন পর্যন্ত জয়হীন। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে স্পেন, অন্যদিকে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে সৌদি আরব।

স্পেন ও সৌদি আরব এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে, যার সবকটিতেই জয় পেয়েছে স্পেন। এই তিন ম্যাচে স্পেন ৯ গোল করেছে এবং হজম করেছে মাত্র ২ গোল। এর মধ্যে বিশ্বকাপ মঞ্চে ২০০৬ সালের গ্রুপ পর্বে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল স্প্যানিশরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%