ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চরফ্যাশনে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার


চরফ্যাশনে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

চরফ্যাশনে পুলিশের শশীভূষণ থানার কর্তৃপক্ষ একটি পরিচয়হীন নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে। শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে চরহাছিনা এলাকার নদীর পাশ্ববর্তী একটি চর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রবিবার ময়না তদন্তের জন্য ওই লাশটি ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে শশীভূষণ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শশীভূষণ থানার ওসি মো.ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর তারা চরহাছিনা থেকে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত ওই নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নারীর পড়নে একটি পেন্টি ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। পুলিশের মতে, নারীর মৃত্যু ৭/৮ দিন আগে ঘটেছে। নদীর জোয়ারের পানিতে ভেসে আসার পর মরদেহটি চরে এসে আটকে যায়। এই কর্মকর্তা বলেন, মুখের মাংস খসে যাওয়ায় নারীর মুখমন্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত ওই নারীর পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। যদি পরিচয় সনাক্ত না হয়, তাহলে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হবে।

আরও পড়ুন: কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনহার মিয়া জনগণের সেবা ও এলাকার উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবির নিয়োগ বিতর্কে তদন্তের ‘সীমাবদ্ধতা’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


ইবির নিয়োগ বিতর্কে তদন্তের ‘সীমাবদ্ধতা’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগ নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য যাচাই-বাছাই করার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। তবে, সমাধানের লক্ষ্যে এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যপরিধির সীমাবদ্ধতা নিয়েই সংশ্লিষ্টরা এবার নতুন প্রশ্ন তুলছেন।

কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোকসানা বেগম মিলি জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রার্থীর শুধু ফলাফলের হেরফের কিনা যাচাই করার নির্দেশনা পাওয়া গেছে।

এতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে উঠা অভিযোগগুলোকে অধিকাংশই প্রশাসন কৌশলে তদন্তের বাইরে রেখেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। একাধিক প্রার্থী জানান, “আমরা এখনও তদন্ত কমিটির ওপর আস্থা রাখছি। শুধু ফলাফল যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনা মূলত হাত পা বেঁধে দেওয়ার মতো।”

এর আগে, আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনের নিয়োগকে ঘিরে গণমাধ্যমে একের পর এক অভিযোগ এসেছে গত কয়েক সপ্তাহে। বিভাগীয় কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়া, নিয়োগ বোর্ডের ঠিক আগের দিন প্রার্থীর স্বামীর বোর্ড-বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী ফারহানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, এবং পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকাকালীন একাডেমিক অনিয়মের মাধ্যমে স্ত্রীর ফল বাড়িয়ে দেওয়া – ইত্যাদি অসংগতি সামনে আসে। তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভাগীয় সভাপতির গড়িমসি, এক সাংবাদিককে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং কটাক্ষের অভিযোগও উঠে আসে গণমাধ্যমে।

ভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বর্ষে অকৃতকার্য হওয়া ফিরোজা নাজনীন রিটেক পরীক্ষা দিয়ে ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে ৩.৩৮ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শুরু করেন। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে তাঁর স্বামী ড. জাহিদুল বসার পরই ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তৃতীয় বর্ষে একটি মানোন্নয়নসহ সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৬৪-এ, চতুর্থ বর্ষে তা বেড়ে হয় ৩.৮৪, আর মাস্টার্সেও তিনি পান ৩.৬৪। একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া তুলনামূলক ভালো ফলধারী কয়েকজন প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় ফিরোজা নাজনীনের নিয়োগের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছিল। এরপর গণমাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসলে ব্যাপক সমালোচনার স্বীকার হয়ে নিয়োগপত্র স্থগিত করে প্রশাসন। সিন্ডিকেট সভায় সদস্যদের আপত্তির মুখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগের মুখে গত ২১ জুলাই তিন সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলিকে, সদস্যসচিব একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, আর সদস্য পদে রাখা হয় থিওলজি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলীকে।

তবে কমিটি গঠনের অফিস আদেশ ঘেঁটে দেখা যায়, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের স্বাক্ষরিত সেই আদেশে শুধু ফিরোজা নাজনীনের বিএসসি ও এমএসসির একাডেমিক ফলাফল যাচাইয়ের নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডের আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থেকে ফল বৃদ্ধির মতো স্পর্শকাতর অভিযোগগুলো তদন্তের পরিধিতেই রাখা হয়নি। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে ক্যাম্পাসে।

বিষয়টি নিয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, “আমাকে যে চিঠি ইস্যু করেছে ওখানে শুধু প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসন নির্দিষ্ট একটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ রাখতে বলেছে। তাই চাইলেও অন্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার সুযোগ নেই আমার হাতে। দ্রুত রিপোর্ট জমা দিব।”

এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত মূল অভিযোগগুলোই যদি তদন্তের বাইরে থেকে যায়, তাহলে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে কি না–সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেলিযোগাযোগ খাতে কর কমানোসহ ৫ অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


টেলিযোগাযোগ খাতে কর কমানোসহ ৫ অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন উপদেষ্টা

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : টেলিযোগাযোগ খাতে করের বোঝা কমানো, মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার মান উন্নয়ন, বিশেষত শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলা, এআই-ভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন সম্প্রসারণ, এগুলি সরকারের пятьটি অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের পথে অগ্রযাত্রা : উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও আইসিটি-নির্ভর প্রবৃদ্ধির নীতিগত অগ্রাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিষয়ে মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গড় ২২ থেকে ২৭ শতাংশের তুলনায় বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে কার্যকর করের বোঝা ৫১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এই খাতে পাঁচ বছর মেয়াদি কর কাঠামোর আওতায় ধারাবাহিক ও ভবিষ্যৎমুখী নীতি প্রণয়নের প্রয়োজন আছে। পাশাপাশি তিনি সিম কর প্রত্যাহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রাহকসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে থাকলেও মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার মানের ক্ষেত্রে দেশটি এখনো পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থার উন্নয়নে সেবার মান ও সক্ষমতা নিশ্চয়ই বাড়াতে হবে।

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার_plan সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানান। এ ক্ষেত্রে এস্তোনিয়ার এক্স-রোড প্ল্যাটফর্ম অনুসরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রতিটি নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয় ব্যাংক হিসাব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বের হন। তাদের এসব ক্ষেত্রে দক্ষ করার পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমেও বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইলেকট্রনিকস উৎপাদন খাত সম্প্রসারণে পোশাকশিল্পের মতো প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি ভিয়েতনামের উদাহরণ দেন। তিনি আরও জানান, এক দশকে দেশটির কনজিউমার ইলেকট্রনিকস রপ্তানি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২১৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) এক গবেষণার বিষয় উল্লেখ করে রেহান আসিফ আসাদ জানান, ব্রডব্যান্ডের বিস্তার ১০ শতাংশ বাড়লে জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে অ্যামচেমের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন অনুমোদনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের কর অব্যাহতি এবং কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস ও সেমিকন্ডাক্টর-সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর শুল্ক সুবিধাকে স্বাগত জানান।

তিনি প্রযুক্তি কোম্পানি ও স্টার্টআপের বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করা, আইএসপি খাতের টার্নওভার কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

অ্যামচেমের আইসিটি সাবকমিটির চেয়ার ও ওরাকল বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলার সঞ্চালনায় সংলাপে ডিজিটাল অর্থনীতি, ডিজিটাল অবকাঠামো, এআই, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকার-শিল্পখাতের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় মেট্রো ও টোল ব্যবস্থায় ওপেন-লুপ টিকিটিং, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের জন্য বাংলা কিউআর চালু, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ, স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স, পাবলিক ক্লাউড ব্যবহারের সুযোগ, জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গঠন, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও ইলেকট্রনিক চুক্তি এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তাব উঠে আসে।

এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, আরএফআইডি-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থপ্রবাহের জন্য বাংলা কিউআর উন্মুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মত হয়েছে। ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ প্ল্যাটফর্ম দেশি ও বিদেশি উভয় পেমেন্ট নেটওয়ার্কের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্টার্টআপ স্যান্ডবক্সের বিধানগুলো স্টার্টআপ কমিউনিটির সঙ্গে পরামর্শ করে পরিমার্জন করা হবে।

জাতীয় সাইবো নিরাপত্তাকে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে সরকার, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সমন্বয়ে একটি যৌথ দলের মাধ্যমে জাতীয় এআই নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।

সাবমেরিন কেবল সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবল সক্ষমতা ৬ টেরাবাইটের বিপরীতে সর্বোচ্চ জাতীয় চাহিদা ১২ টেরাবাইটে পৌঁছেছে এবং প্রতি দুই বছরে ডেটা ট্রাফিক দ্বিগুণ হচ্ছে। নতুন সাবমেরিন কেবল স্থাপনে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে উল্লেখ করে তিনি ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সিটিব্যাংক এনএ, সিসকো, এইচএসবিসি, মাস্টারকার্ড, মেটলাইফ, পাঠাও, পিডব্লিউসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, শপআপ ও ভিসাসহ অ্যামচেমের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অ্যামচেমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমেদ, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিলি স্থলবন্দরে চার লেন সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ পি.এম


হিলি স্থলবন্দরে চার লেন সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

দিনাজপুর, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে বহুল প্রতীক্ষিত চার লেন সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আজ (রোববার) সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) তত্ত্বাবধানে এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেছেন, ‘হিলিবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়কটির কাজ আজ আমরা ফের উদ্বোধন করলাম। হিলির মানুষকে আমি কথা দিয়েছিলাম, ক্ষমতায় এলে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করব। এটি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরই অংশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘হিলির মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই চার লেন সড়ক। কিছু কারণে এর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও এখন তা পুনরায় শুরু হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’

হিলি স্থলবন্দরকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলোর একটি উল্লেখ করে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, এই বন্দরের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। বন্দরের কার্যক্রম বাড়ার সাথে সাথেই সড়কে যানবাহনের চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বন্দরের সক্ষমতার সাথে সঙ্গতি রেখে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

চার লেন সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে পণ্য পরিবহনে সময় ও ভোগান্তি কমবে, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্ত্রী এ ছাড়া বলেন, হিলি স্থলবন্দরকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা যত উন্নত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য তত সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জেলার হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। বন্দরের কেন্দ্রিক পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি স্থানীয় ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করায় জিরো পয়েন্ট থেকে চারমাথা ও মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যানজট লেগেই থাকত।’

নির্মাণকাজ শেষ হলে যানজট অনেকটাই কমে যাবে, এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এতে বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরো সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। উপকৃত হবেন ব্যবসায়ীরা, পরিবহনসংক্রান্ত ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ।

দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, হিলি স্থলবন্দরে চার লেন সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। তবে কিছু জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। ডা. জাহিদ হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজ পুনরায় কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, হিলি বন্দর এলাকার মহিলা কলেজ থেকে জিরো পয়েন্ট এবং হিলি চারমাথা মোড় থেকে পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের গেট পর্যন্ত ২ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে নির্মাণ করা হবে। এ জন্য মহিলা কলেজ থেকে চারমাথা হয়ে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

সওজ-এর এই কর্মকর্তা জানালেন, গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে চার লেন সড়ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জমির মালিকদের ৭ ধারার নোটিশ দেওয়া হয়। জমি অধিগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অধিগ্রহণ করা জমি সড়ক নির্মাণকাজের জন্য সওজের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মহিলা কলেজ থেকে চারমাথা হয়ে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত চার লেন সড়কের কাজ শুরু করার জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, হিলি চারমাথা মোড় থেকে হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের গেট পর্যন্ত জমি সওজ-এর হওয়ার কারণে প্রায় ১০০ কিলোমিটার চার লেন সড়কের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

হিলি বন্দর এলাকায় ২ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার সড়কটি ৫০ ফুট প্রশস্ত হবে। একই সাথে মজবুত ও টেকসই পদ্ধতিতে সড়কটি নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালকিনিতে পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে জামাইকে দা দিয়ে কোপ, গুরুতর জখম পুরুষাঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


কালকিনিতে পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে জামাইকে দা দিয়ে কোপ, গুরুতর জখম পুরুষাঙ্গে

মাদারীপুরের কালকিনি এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে মো. সিদ্দীক হাওলাদার (৬৮) নামে একজন ব্যক্তি দা দিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, হামলায় তাঁর পুরুষাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। এই ঘটনায় সিদ্দীক হাওলাদার, তাঁর ছেলে আজিজুল হাওলাদার এবং আরও একজন, মোট তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কালকিনি পৌর এলাকার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ঘরামী বাড়ির ব্রিজের ওপর এই হামটার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌর এলাকার পাতাবালি গ্রামের কৃষক সিদ্দীক হাওলাদার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের হাছেন ঘরামীর মেয়ে রেহেনাকে বিয়ে করেছেন। সম্প্রতি তাঁর দুই শ্যালকের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর দুলাভাই সিদ্দীক হাওলাদার বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু বিরোধ মেটাতে গিয়ে সিদ্দীক একজন পক্ষের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে।

এই নিন্দার পর ফলশ্রুতিতে রোববার দুপুরে পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ঘরামী বাড়ির ব্রিজের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সিদ্দীক হাওলাদারের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় তাঁকে দা দিয়ে কোপানোর ঘটনা ঘটে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সিদ্দীক হাওলাদারের ছেলে আজিজুল হাওলাদার এবং আরও দুজন আহত হন।

আহতদের স্বজনদের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, হামলায় সিদ্দীক হাওলাদারের পুরুষাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা জানাবেন তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি। এ ঘটনায় সিদ্দীক হাওলাদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আহত সিদ্দীক হাওলাদারের পুত্রবধূ রজিনা বেগম বলেন, “আমার শ্বশুর ও আমার স্বামীসহ তিনজনকে সাজ্জাদ ঘরামী কুপিয়ে আহত করেছেন। আমার শ্বশুরের পুরুষাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এ ঘটনায় আমরা মামলা করব।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাজ্জাদ ঘরামীর মা আয়সা বেগম বলেন, “তার জামাই ও ছেলের সঙ্গে মারামারি হয়েছে। আমার ছেলেরও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম এই বিষয়ে বলেন, “হামলার ঘটনায় যদি অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, আহত সিদ্দীক হাওলাদারের অস্ত্রোপচারের পর তাঁর আঘাতের প্রকৃত অবস্থা ও পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে এই ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%