০২:২৩ পি.এম
আফ্রিকা মহাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং তরুণ প্রজন্মের মনস্তাত্ত্বিক সমর্থনে একটি অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ফরাসি ঔপনিবেশিক প্রভাব এবং পশ্চিমা আধিপত্যের দুর্গ গুঁড়িয়ে দিয়ে, আফ্রিকার তরুণদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রাশিয়া এবার ফ্রান্সকে অতিক্রম করেছে। তবে, আফ্রিকান যুবসমাজের কাছে সামগ্রিক জনপ্রিয়তায় এখনও শীর্ষে রয়েছে চীন।
সম্প্রতি আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে তরুণদের ওপর পরিচালিত একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক জরিপে এই চাঞ্চল্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, আফ্রিকার ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের একটি বৃহৎ অংশ এখন পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় চীন ও রাশিয়ার বৈশ্বিক নীতি, সমরাস্ত্র এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রতি অনেক বেশি আস্থা প্রকাশ করছে।
জরিপের মূল ফলাফল ও পরিসংখ্যান :
আরও পড়ুন: সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে চলছে নীরব কূটনীতি
রাশিয়ার উত্থান : আফ্রিকার তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করে যে, মহাদেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে রাশিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। মালির ওয়াগাদুগু থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক পর্যন্ত দেশগুলোতে পুতিন সরকারের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে, যা ফ্রান্সের জনপ্রিয়তাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
ফ্রান্সের পতন : এক সময়ের ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের প্রতি আফ্রিকার যুবসমাজের ক্ষোভ ও অনাস্থা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকা (সাহেল অঞ্চল) থেকে ফরাসি সেনা বহিষ্কার এবং তরুণদের প্রবল ফরাসি-বিরোধী বিক্ষোভের কারণে মহাদেশটিতে প্যারিসের আবেদন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
শীর্ষে চীনের আধিপত্য : রাশিয়া ফ্রান্সকে অতিক্রম করলেও আফ্রিকার তরুণদের কাছে সবচেয়ে বড় বন্ধু ও আদর্শ দেশ হিসেবে চীন এখনও এক নম্বরে রয়েছে। মহাদেশটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সড়ক, সেতু নির্মাণ এবং বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেইজিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ নীতি আফ্রিকান তরুণদের গভীরভাবে আকর্ষণ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার নতুন প্রজন্ম পশ্চিমাদের শর্তযুক্ত ঋণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ পছন্দ করছে না। তারা চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিদের সাথে এমন অংশীদারিত্ব চায় যেখানে কোনো ‘হুকুমদারি’ থাকবে না। ফলে, বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ভূ-রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে পশ্চিমাদের যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা এখন চীন ও রাশিয়ার নতুন সমীকরণের মুখে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়া উচিত : র্যাচেল রিভস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন