ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান-সৌদি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিল ইরাক


ইরান-সৌদি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিল ইরাক

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে আস্থার সংকট কাটানোর জন্য আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরাক।

দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী রবিবার এই প্রস্তাব প্রকাশিত হয়।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি জানিয়েছেন, বাগদাদ ইতোমধ্যে তেহরান এবং রিয়াদের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেছে। তবে, প্রস্তাবিত পরিষদের কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রদান করেননি। ইরান বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও প্রস্তাবটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে হামলা ও বিস্ফোরণের সরাসরি সম্প্রচারে নতুন বিধিনিষেধ

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ইরাকিয়া টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-আরাজি মন্তব্য করেন, “দুই দেশের মধ্যে সমস্যা মূলত আস্থার সংকট।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই আস্থার ঘাটতির মোকাবিলা করার জন্য নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি কাঠামো গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরাকের এই উদ্যোগ মাথায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, সৌদি আরব ও তাদের সহযোগীদের মধ্যে বিভিন্ন নিরাপত্তা এবং সামরিক ইস্যু নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা বেড়ে গেছে।

এদিকে, ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আঞ্চলিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বেনাপোলে মুরগিভর্তি ভ্যানে উদ্ধার হলো পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি

ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘকালীন আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীদের নিয়ে অবিশ্বাস এখনও পুরোপুরি বিবেচিত হয়নি।

বাগদাদের নতুন প্রস্তাবের পিছনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও একটি প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৭ জুলাই সৌদি আরব জানিয়েছিল, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপিত বেশ কিছু ড্রোন তারা শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। রিয়াদ দাবি করে, এসব ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রাজধানী রিয়াদে তেল স্থাপনার দিকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এ হামলাগুলোর জন্য ‘ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া’ গোষ্ঠীদের দায়ী করে এবং প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করার কথাও জানায়।

আরও পড়ুন: বন্ধুকে হত্যার পর নদীতে লাশ গুম, পাঁচ মাস পর ৭৭টি হাড় উদ্ধার

অন্যদিকে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি একই দিনে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সৌদি আরবের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল কি না, তা নিরীক্ষণের জন্য বলা হয়েছে।

ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনায় কাসিম আল-আরাজি বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, দেশের সব অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণভাবে নিয়ে আসা ‘সম্পূর্ণভাবে ইরাকের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত’।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার ইরাকি রাষ্ট্রের।

বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি দীর্ঘকাল ধরে দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনীতির একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এসব গোষ্ঠীর কিছু অংশ হলো পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) কাঠামোর মধ্যে, কিন্তু অন্যান্য কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই কাঠামোর বাইরে সক্রিয়।

আরও পড়ুন: ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মমিনুল ইসলাম মন্ডল গ্রেপ্তার

গত ৩ জুন ইরাকি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের। দীর্ঘসময়ের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য কমিটিকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হবে।

ইরাকের মধ্যস্থতার নতুন উদ্যোগও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে এই দেশটি ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মধ্যস্থতা করেছে। এবার এই দুই দেশের জন্য যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ওই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

বাগদাদের প্রস্তাব বাস্তবে রূপ গ্রহণ করলে তেহরান এবং রিয়াদের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কিত সরাসরি যোগাযোগের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে।

তবে, ইরান বা সৌদি আরব প্রস্তাবটি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, সেই কারণে উদ্যোগটি কতদূর এগোবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আরও পড়ুন: শান্তি মুচলেকায় জামিনে মুক্ত সিজেপি প্রধান অভিজিৎ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন বিএমইউর ৭ চিকিৎসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন বিএমইউর ৭ চিকিৎসক

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতি এবং কারিগরি বিভিন্ন বিষয়সহ উন্নততর চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাত সদস্যের চিকিৎসক প্রতিনিধিদল চীন যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনস্থ কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি এবং বাংলাদেশের জন্য চীন পরিচালিত ‘২০২৬ ট্রেনিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ফর মেডিকেল প্রফেশনালস ফ্রম বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএমইউর চিকিৎসক প্রতিনিধিদলটি এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।

প্রতিনিধি দলটি আগামী ৩০ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবে। এই সময়ে তারা কার্ডিওলজি (হৃদরোগ), ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (ক্যানসার), শিশু, জেনারেল সার্জারি, কোলোরেক্টাল সার্জারি, কার্ডিয়াক সার্জারি ও ইউরোলজিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নতুন জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন করবেন।

এ উপলক্ষে প্রতিনিধি দলটি আজ সোমবার বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎকালে উপাচার্য চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ব্যবহার করে বিএমইউ এবং দেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রাখার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন- কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু সিদ্দিক আব্দুল্লাহ, শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোর্শেদ, জেনারেল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সায়েম আল মনসুর ফয়েজি, ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামসুন নাহার, কোলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুল ইসলাম, কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আলাউদ্দিন এবং ইউরোলজি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুল ইসলাম খন্দকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালপুরে পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৬ পি.এম


লালপুরে পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ৪

 

নাটোরের লালপুর উপজেলার পৃথক অভিযানে প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং একটি মোটরসাইকেল।

রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সোহেল রানা (১৯), রাজিব আলী (২৭), নাদিম মোস্তফা (৩১) ও নাহিদুল ইসলাম (৩১)।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দূরদুরিয়া ইউনিয়নের যোতগৌরি (পশ্চিমপাড়া) এলাকা থেকে প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই দিনে মোমিনপুর এলাকা থেকে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১২ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির জন্য নগদ ৭ হাজার ১৩০ টাকা, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং মাদক ব্যবসার যোগাযোগ রক্ষায় ব্যবহৃত ছয়টি মোবাইল ফোন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য মতে, গ্রেপ্তারদল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসা ও অনলাইন প্রতারণার কার্যক্রমিয়ে জড়িত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় আলাদা মামলার দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা এবং মাদক ব্যবসা—দুটিই বর্তমানে বড় ধরনের সামাজিক সমস্যা। এসব অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮ মাসে চাকরি হারিয়েছেন ৬২ হাজার মানুষ: সিপিডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ পি.এম


৮ মাসে চাকরি হারিয়েছেন ৬২ হাজার মানুষ: সিপিডি

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের তিন প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মসংস্থান হারিয়েছে।

সিপিডির পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেখা গেছে, নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রবণতা বেশি হচ্ছে। অনুসারে, চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

সোমবার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংলাপে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কাঠামোগত সমস্যায় ছিল এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনুকূলে ছিল না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমন্বিত দলিল না তৈরি করার কারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের কাছে দুটি বড় প্রত্যাশা ছিল- অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রত্যাশা থাকলেও সেখানে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

সংলাপে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে কিছু কাঠামোগত সমস্যা পেয়েছে। সদ্য দায়িত্ব নেওয়ার সময় বৈশ্বিক পরিস্থিতি খুব ইতিবাচক ছিল না, ফলে অর্থনীতির উত্তরণের ধারা দুর্বল ছিল।

কিন্তু সরকারের একটি বড় দুর্বলতা হলো দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমন্বিত দলিল তৈরি না করা।

নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ মূল্যায়ন করতে সিপিডি করছে প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের তালিকা। এগুলোকে নয়টি ভাগে বিভক্ত করে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর আওতায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

সুশাসনের ক্ষেত্রে ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগের বিষয়টি উদ্বেগজনক মনে করছে সিপিডি। সরকারি প্রতিশ্রুতি মেনে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন ড. দেবপ্রিয়।

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে আনুমানিক ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী, রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে বলে সিপিডি আশঙ্কা করছে। এটি সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৯-২০ শতাংশ।

এছাড়া এনবিআরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। মোট কর রাজস্বের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার নির্ভরতা ৪৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নিট বৈদেশিক সহায়তাও ৭৭১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৭৩৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে এসেছে।

এ বিষয়ে শিল্প খাতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে সিপিডি জানিয়েছে। জানুয়ারি-আগস্ট ২০২৬ সময়ে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে সরাসরি ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মসংস্থান হারিয়ে ফেলেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে শূন্যে নেমে এসেছে। উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধিও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে শূন্যে নেমেছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। নিট বিদেশি বিনিয়োগ ৬৬২ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৫৯৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ঋণাত্মক ১৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

এই পরিস্থিতির ফলে টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেলবোর্ড ও সিরামিকসহ গ্যাসনির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিল্পে গ্যাসের ব্যবহার ১ হাজার ১৮৬ এমএমসি থেকে কমে ১ হাজার ১৪৮ এমএমসিতে নেমে গেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন সূচকের প্রবৃদ্ধিও ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১ শতাংশ হয়ে গেছে।

সিপিডির মূল্যায়নে সরকারের কিছু পদক্ষেপ ইতিবাচক হিসেবে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, অপ্রকাশিত অর্থ বৈধ করার প্রস্তাব প্রত্যাহার, ই-রিটার্ন ও ডিজিটাল আয়কর ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আরএমজির বাইরে রফতানিমুখী শিল্পে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ।

এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ স্বাক্ষর, বিডা-বেজা-পিপিপিএ একীকরণ করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ চালু, স্টার্টআপ ফান্ড গঠন, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মেট্রো ও ট্রেন ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়, কৃষিঋণের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ও সুদ মওকুফ এবং নারী পরিচালিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুকেও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিপিডি সরকারকে অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদের একটি ‘কোর বাজেট’ তৈরির সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি, ব্যাংক, এনবিআর, রাজস্ব-ব্যয়, এডিপি, লজিস্টিকস, ডিজিটালাইজেশন ও বেতন কমিশনসহ একটি সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশীয় অনুসন্ধান, কৌশলগত মজুত ও উৎস বহুমুখীকরণের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সংসদে বেতন কাঠামো, ব্যাংকিং খাত, বিদ্যুৎ খাত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনেরও পরামর্শ দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বলছে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওজনের ৬ ডিপো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বলছে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওজনের ৬ ডিপো

ইউক্রেনের অব্যাহত ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ অনলাইন খুচরা প্ল্যাটফর্ম ওজোন জ্বলছে। 

কয়েকদিন ধরেই ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা এই দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার অর্থনীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কিয়েভ দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান পরিচালনা করছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওজোন জানিয়েছে, রাতভর ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার, দাগেস্তান, স্তাভরোপল এবং আদিগেয়ায় ডিপোগুলোতে আগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পর্যন্ত ওজোনের মোট ৬টি লজিস্টিকস সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে, ইউক্রেন দেশটির সবচেয়ে বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের ডিপোগুলোতে হামলা চালিয়েছিল। এই হামলাকে বৈধ হিসেবে বর্ণনা করেছে কিয়েভ, কারণ প্রতিষ্ঠানটি রুশ সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ করতে অভিযোগ রয়েছে। তবে, মস্কো এই অভিযোগকে অস্বীকার করে আসছে।

ড্রোন হামলার সতর্কতায় স্তাভরোপল এবং আদিগেয়া অঞ্চলের দুটি বড় ডিপো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কোম্পানিটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%