ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা রেটিংয়ে উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তৃতীয় স্তরে অবস্থান


অস্ট্রেলিয়ার ভিসা রেটিংয়ে উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তৃতীয় স্তরে অবস্থান

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার নতুন ঝুঁকি রেটিংয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় স্তরে, যা সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। একই সময়ে, দেশটির বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানও পিছিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংখ্যা, যা দ্বিতীয় বা মাঝারি ঝুঁকির স্তরে ছিল, ১৩ থেকে বেড়ে ২২টিতে পৌঁছেছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে দেশের ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি রেটিং হালনাগাদ করেছে। নতুন মূল্যায়নে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের ভিসা ফলাফলের তথ্যকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রধান ১০ উৎস দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশ বর্তমানে উচ্চঝুঁকির শ্রেণিতে রয়েছে। এই পাঁচটি দেশ হলো ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও কলম্বিয়া।

আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে বাংলাদেশি স্ত্রী সোনিয়া খাতুনকে হত্যা: স্বামী রঞ্জিত গ্রেপ্তার

ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা মাঝারি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, এবং এই ১০ দেশের মধ্যে শুধুমাত্র চীন নিম্ন ঝুঁকির স্তরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের তৃতীয় স্তরের এই অবস্থান নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে অবস্থানের উন্নতি না হওয়ায় বাংলাদেশ উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেটিংয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। দ্বিতীয় স্তরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩ থেকে বেড়ে ২২টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক এলাকার। নতুন মূল্যায়নে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেছে।

বর্তমানে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্তরে এবং ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে। তৃতীয় স্তরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। গত বছর প্রথম স্তরে উন্নীত হওয়া ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টির অবস্থান এবার আর নেই। তবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন স্তরে রয়েছে, তার পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে না।

দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হয়, তাহলে নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অসৎ আবেদনকারীদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব পড়তে পারে। এই ঝুঁকি রেটিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের কোনো মূল্যায়ন নয়। এটি সংশ্লিষ্ট দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ভিসার ফলাফল ও অভিবাসন ঝুঁকির কয়েকটি সূচক হিসাব করে নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অব্যাহতি

জালিয়াতির কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারকে সবচেয়ে বেশি ৪০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভিসা বাতিলের হারকে ২৫ শতাংশ, ২৮ দিনের বেশি অবৈধভাবে অবস্থানকে ১৫ শতাংশ, জালিয়াতি ছাড়া অন্যান্য কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানকে ১০ শতাংশ এবং স্টুডেন্ট ভিসার পর সুরক্ষা ভিসার আবেদনের হারকে ১০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই রেটিং একসঙ্গে বিবেচনা করে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সময় আর্থিক সক্ষমতা ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ কীভাবে দিতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। ফলে বাংলাদেশের তৃতীয় স্তরের অবস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিংও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার ভিসা আবেদনে বড় পতনের তথ্য সামনে এসেছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে টাইমস হায়ার এডুকেশন জানিয়েছে, আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষার ভিসার জন্য আবেদন করা বাংলাদেশিদের মাত্র ২৪ শতাংশের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন কমেছে ৮৩ শতাংশ। আর মঞ্জুর করা ভিসার সংখ্যা কমেছে ৯৩ শতাংশ।

তবে তৃতীয় স্তরে থাকা মানে এই নয় যে, কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে। ঝুঁকি রেটিং মূলত আবেদনের সঙ্গে কী ধরনের আর্থিক ও ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে, তা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেক আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। সবশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেটিংয়ে পরিবর্তন এবার বেশি দৃশ্যমান। ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিজের দেশের রেটিংয়ের পাশাপাশি পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থানও ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: কর্ণফুলী টানেলের আর্থিক লোকসান তদন্তে সংসদীয় কমিটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুভেন্দুর দাবি, নন্দীগ্রামে মমতার পায়ের চোটের ঘটনা ‘ভুয়া’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


শুভেন্দুর দাবি, নন্দীগ্রামে মমতার পায়ের চোটের ঘটনা ‘ভুয়া’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছেন ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনাটি নিয়ে। তিনি বলেছেন, "নির্বাচনী প্রচারে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে যে চোট লেগেছিল, তা ‘ভুয়া’"।

শুক্রবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারের সময় শুভেন্দু এ মন্তব্য করেন। বিরুলিয়া বাজারের সভায় তিনি জানান, যদি তাকে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা হয়, তাহলে তিনি প্রমাণগুলো প্রকাশ্যে আনবেন। তবে, শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি, কারণ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

তিনি দাবি করেছেন, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা সাজানো ছিল। এ দাবির সমর্থনে তিনি বঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের একটি চিকিৎসা প্রতিবেদন দেখান। তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদনে পায়ে হাড় ভাঙা বা হাড় সরে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নতুন করে তদন্ত শুরু করার কথাও জানান তিনি।

২০২১ সালের ১০ মার্চ নির্বাচনী প্রচারের সময় নন্দীগ্রামের রায়াপাড়া এলাকায় মমতার বাম পা ও কোমরে চোট লাগে। তখন মমতা জানিয়েছিলেন, প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন তাকে ধাক্কা দিলে তার গাড়ির দরজা সজোরে বাম পায়ে আঘাত করে। এতে তিনি আহত হন। পরে হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে অনেক মানুষ তার গাড়ির ওপর উঠে পড়েন, যার ফলে তার পা থেঁতলে গিয়ে তিনি আহত হন।

চিকিৎসকেরা তার বাম গোড়ালি ও পায়ের হাড় এবং লিগামেন্টে গুরুতর চোট শনাক্ত করেন। এ ছাড়া ডান কাঁধ, বাহু, ঘাড় ও কোমরেও ব্যথা ও কালশিটে ছিল। পরে তাকে কলকাতার সরকারি এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১২ মার্চ তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তখন তার বাম পায়ে প্লাস্টার ছিল। এরপর তিনি হুইলচেয়ারে বসেই নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৬টি আসনে জয় পায়, যেখানে বিজেপি পায় ৭৭টি আসন।

শুভেন্দু বলেন, এই অভিযোগের কারণে নন্দীগ্রামের মানুষকে অপমান করা হয়েছে। তিনি ৯ অক্টোবরের পর মমতার চোট নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন বলেও দাবি করেন। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর।

শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে এক জনসভায় মমতার পুরোনো চোট নিয়ে এই দাবি করেন। ২০২১ সালে মমতা যেখানে আহত হয়েছিলেন, সেটি ওই এলাকাতেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: বাকৃবি উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: বাকৃবি উপাচার্য
 
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্মার্ট কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
 
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের অ্যাগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের স্ট্যাটিস্টিক্যাল, জিআইএস অ্যান্ড ক্রপ মডেলিং ল্যাবে আয়োজিত উন্নত পর্যায়ের জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
 
উপাচার্য বলেন, ‘জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং বিষয়ে এ ধরনের উন্নত প্রশিক্ষণ আমাদের শিক্ষক ও গবেষকদের আধুনিক গবেষণায় আরও দক্ষ করে তুলবে। এর সুফল শেষ পর্যন্ত বিশ্বমানের কৃষি গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
 
উচ্চশিক্ষা ত্বরান্বিতকরণ ও রূপান্তর (HEAT) প্রকল্পের আওতায় ‘Training on Advance Level of GIS & Remote Sensing’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হয়। আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণটি চলবে।
 
‘Transformation of Agricultural Education for Enhancing Quality of Agriculture Graduates’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য আধুনিক কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় জিআইএস এবং রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা ও গুণগত মান বাড়ানো।
 
প্রকল্পের এসপিএম অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দিন ভূঞা।
 
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও বাকৃবির কৃষি অনুষদের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে জিআইএস ও রিমোট সেন্সিংয়ের উন্নত ব্যবহার, কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং দক্ষ কৃষি গ্র্যাজুয়েট তৈরির বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ২০ জন শিক্ষক এতে অংশ নিচ্ছেন।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে ‘অপ-সাংবাদিকতা’ বন্ধে ব্যবস্থা চেয়ে ভূমিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাজশাহী প্রতিনিধি

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


রাজশাহীতে ‘অপ-সাংবাদিকতা’ বন্ধে ব্যবস্থা চেয়ে ভূমিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
রাজশাহীতে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা ও পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াসহ পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর-২ আসনের সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিকদের একটি পক্ষ।
আবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকতার পরিচয় ও মর্যাদা ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সুবিধা আদায় এবং ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ধরনের ব্যক্তিদের পার্থক্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থারও দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে রাজশাহী প্রেসক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও বিতর্ক রয়েছে। গোলাম মোস্তফা মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বিভিন্ন মামলায় আসামি থাকা এবং অতীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাজশাহীতে নির্দিষ্ট কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেল শোডাউন, চিৎকার-চেঁচামেচি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন ও সংঘাত তৈরির আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
আবেদনকারীরা বলেন, কোনো ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার দায় পেশাদার সাংবাদিক সমাজের ওপর বর্তায় না। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
আবেদনে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে অপরাধ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি বা প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের সাংবাদিক কি না, তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও স্বীকৃত সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রেস কার্ড, পরিচয়পত্র কিংবা গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে অনৈতিক বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রকৃত সাংবাদিকরা যাতে হয়রানি, ভয়ভীতি বা বাধার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং অপ-সাংবাদিকতার অভিযোগ মোকাবিলায় একটি সুস্পষ্ট সমন্বয়ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বা সাংবাদিক সংগঠনের ওপর না চাপিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীরা মনে করেন, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ করা গেলে রাজশাহীতে গণমাধ্যমকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
আবেদনের অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, আরএমপি কমিশনার এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।#
 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যায় বিপর্যস্ত থাইল্যান্ড, প্রতিটি জেলায় জারি সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


বন্যায় বিপর্যস্ত থাইল্যান্ড, প্রতিটি জেলায় জারি সতর্কবার্তা

বর্ষাকালে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির কারণে ব্যাংককের রাস্তায় পানি জমা হওয়া নতুন কিছু নয়। থাইল্যান্ডের রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার অনেক উঁচু ভবন ঘেরা স্থানগুলোতে কখনও কখনও রাস্তাগুলো নদীর মতো হয়ে যায়। তবে এবার বৃষ্টির তীব্রতা স্বাভাবিক মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে শহরের কিছু এলাকায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি লন্ডনের গড় ছয় মাসের বৃষ্টিপাতের প্রায় সমান। ফলে ব্যাংককের অনেক এলাকা রাস্তাঘাট নয়, বরং বিশাল স্থির পানির জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান শনিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার কারণে বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পানিতে ডুবে এবং কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। শহরের ২৩০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

৭৩ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা সুলিমাস কুরাংকুল জানিয়েছেন, তার বাসার নিচতলার সিঁড়ি এখনও পানির নিচে রয়েছে। তিনি বলেন, "গত সপ্তাহান্তের বৃষ্টি স্বাভাবিক সন্ধ্যার ঝড়ের মতো ছিল না বরং সারাদিন-সারারাত অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে।"

উত্তর-পূর্ব ব্যাংককের ১৯৭০-এর দশকে নির্মিত খালং চান আবাসিক এলাকা এখন দুর্যোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, বাদামি পানির মধ্যে ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে। পার্ক করা গাড়ির ছাদও পানির ওপর সামান্য দেখা যাচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির সবচেয়ে খারাপ অংশের পানি অনেকটা সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

চাও ফ্রায়া নদীর বিশাল বন্যাপ্রবণ সমভূমির ওপর গড়ে ওঠা ব্যাংকক শহরের পানি নিষ্কাশনে খাল, পাম্প ও বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শহরের খাল ব্যবস্থার বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি সামাল দিতে শহরটি হিমশিম খাচ্ছে।

ব্যাংককের ৫০টি জেলার সবকটিতেই বন্যা দুর্যোগ ঘোষণা করেছে সরকার। কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক দৃশ্য তৈরি হয়েছে। কেউ ফোলানো প্লাস্টিকের পুলে চড়ে বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কোথাও ভাসমান ফ্রিজকেও নৌকার মতো ব্যবহার করতে দেখা গেছে। প্রধান সড়কে জেটস্কি চালানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বন্যার কারণে ব্যাংককের প্রধান সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। একপর্যায়ে থাই এয়ারওয়েজের প্রায় অর্ধেক কর্মী কাজে যেতে না পারায় হাজারো লাগেজ জমে যায় এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। অনেক স্কুল বন্ধ রয়েছে। রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষও ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উত্তরের দিক থেকে আসা বন্যার পানির কারণে ব্যাংককের মহানগর এলাকা এখনও ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একটি জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষও গঠন করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা আগামী সপ্তাহে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চরম বন্যার প্রবণতা ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ায় ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। উষ্ণ সমুদ্র থেকে বেশি পানি বাষ্পীভূত হয় এবং উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে ভারী বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাংককের বন্যা সহনশীলতা নিয়ে গবেষণায় যুক্ত পরামর্শক নাইম লায়েনি বলেছেন, কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টির তীব্রতা কর্তৃপক্ষ সম্ভবত অবমূল্যায়ন করেছিল। ব্যাংককের পানি নিষ্কাশন খালগুলো সাধারণত ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি সামলাতে পারে। উন্নত কিছু অংশে এই সক্ষমতা ৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়েছে এবং পরপর বৃষ্টির কারণে পানি সরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%