০৭:৩৩ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্রীড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরার) বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এরইমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিস্ট দপ্তরে বেশকয়েকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। প্রশাসন জানাচ্ছে, ক্ষমতা স্বল্পতা থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত কার্যত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) শাখায় শিক্ষকদের একাধিক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে নতুন করে সতের জন নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই সতেরজন শিক্ষক-কর্মচারির কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্যিকরণ, সময়মত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দেয়া, প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারের দেয়া বেশকিছু লেপটপ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, সরকারের দেয়া বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পোরশায় রিং জাল বসানো নিয়ে সংঘর্ষ, মাথায় আঘাতে যুবকের মৃত্যু।
শুধু তাই নয়, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশনা এবং সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মানছেন না। একই সাথে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমত প্রতিষ্ঠানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। একের পর এক অভিযোগ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা পরলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃস্টির পাশাপাশি মারমুখি আচরণে লিপ্ত হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগকারিদের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের বেশকয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) একজন মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী। সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এলাকায় জেলা শহরে অবস্থিত এই প্রতিবন্ধী স্কুলে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে কেক কাটেন এমন অভিযোগ সদর থানা পুলিশ অভিযান চালায়। স্কুলটিতে তার ভাই, ভাবিসহ পরিবারের ৯ জনকে নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন। আর এজন্যই তিনি নিজের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন। তার অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলতে গিয়ে অন্যান্য শিক্ষকরা নানাভাবে নির্যাতিত হন। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে বাঁধা প্রদান করছেন তিনি। উপায় না পেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এরপরেও প্রধান শিক্ষক বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কার্যত পদক্ষেপ না নিলে প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবড়ে পড়ার আশংকা থাকার পাশাপাশি শিক্ষক কর্মচারিরা পথে বসবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা মাসহুরা বেগম (হুরা) সকল অনিয়মের কথা অস্বীকার করে তিনি জানান, মন্ত্রনালয় ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে ঠিক করেনি। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা যদি পারেন তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) দায়িত্বে থাকা সরদার মোস্তফা শাহিন জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি কোনো কথায় কর্নপাত করছেন না। ক্ষমতা স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় লাগছে। প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে, লিখিত জবাব প্রেরণে দ্রুতেই সময়ের মধ্যে না দিলে তার বিরুদ্ধে কার্যত পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রনালয়ে পত্র পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: নড়াইলে গা ঘেষে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান, সম্প্রীতির বন্ধনে প্রায় ৪৫ বছর ধরে চলছে দুর্গোৎসব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন