ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মৃত্যুকূপে পরিণত সড়ক-মহাসড়ক


মৃত্যুকূপে পরিণত সড়ক-মহাসড়ক

দেশের সড়ক-মহাসড়ক যেন মৃত্যুর শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য সড়ক-মহাসড়ক পূর্বে নিরাপদ ছিলো না, এবং বর্তমানে তার পরিস্থিতি এখনও নিরাপদ নয়। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটছে অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনা। দেশের সড়ক-মহাসড়কে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ দুর্ঘটনাই সাধারণ মানুষের নজরে আসে না। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন শিশুরা, শিক্ষার্থীরা, কর্মজীবী মানুষজন, কৃষকরা, শ্রমিকরা, শিক্ষকরা, চিকিৎসকরাও—এমন নানা শ্রেণির মানুষ। আহত হচ্ছেন অনেকে। কোনো কেউ ভেবেচিন্তে প্রায় চিরতরে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন, আবার কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন সারাজীবনের জন্য।

গতকাল দেশের দুই মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন। সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে প্রাণ হারালেন ৯ জন। অন্যদিকে, বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাস চালকদের অসাবধানতার কারণ হয়ে উঠেছিল। ওই বাসটি সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠিয়ে দিয়ে ৭ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস যখন এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছায়, তখন চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে বাসটি সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দিয়ে সেখানে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়। অন্তত ১৫ জন আহত হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা থেকে সিলেটগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেট থেকে ঢাকাগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৯ জন প্রাণ হারান। আহত হন আরো অনেকে। আহতদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: আলোচিত তিন হত্যা মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ : অ্যাটর্নি জেনারেল

দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকলেও সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের কোনো মাথাব্যথা নেই। দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। অব্যবস্থাপনা, ধীরগতির নির্মাণকাজ, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং সমন্বয়হীনতায় দেশের বহু সড়ক ও মহাসড়ক এখন ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও খানাখন্দে ভরা সড়ক, কোথাও বছরের পর বছর ধরে চলমান নির্মাণকাজ, আবার কোথাও সংস্কারের নামে খুঁড়ে ফেলা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ফলে সাধারণ মানুষ, যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সময় এবং অর্থ ব্যয়ের সাথে সম্পর্কিত দুর্ঘটনার ঝুঁকিও ক্রমবর্ধমান।

বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। যানবাহন চলাচল হয়ে পড়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কার্যকর উদ্যোগ কিংবা দৃশ্যমান তদারকির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। অনেক সড়ক-মহাসড়কে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প চলছে, তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হচ্ছে এবং ব্যয়ও বাড়ানো হচ্ছে কয়েকগুণ। কিন্তু কাক্সিক্ষত কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব, দুর্বল তদারকি, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে তৈরি হচ্ছে জনভোগান্তি।

এছাড়া গণপরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে নানা ধরনের অনিয়ম ও অরাজকতা। যাত্রীসেবার পরিবর্তে অধিক মুনাফাকে অগ্রাধিকারের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন মালিক এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। সড়কে চলাচলকারী অনেক যাত্রীবাহী বাসে নকশাগত পরিবর্তন, নিম্নমানের বডি নির্মাণ, অতিরিক্ত আসন সংযোজন, নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং অনুমোদনবিহীন কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে দুর্ঘটনার বিপজ্জনক ঝুঁকি বাড়ছে। একই সাথে কিছু পরিবহনে ডাবল ডেক বা অতিরিক্ত তলা অথবা উচ্চতা বৃদ্ধি করে বেশি যাত্রী পরিবহনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সড়কের ভেঙে যাওয়া, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানজট, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল, আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবের কারণে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সময় পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। ফলে নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল সুনিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: গোদাগাড়ীতে শতবছরের সম্প্রীতি, একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির

রাজধানীর সড়ক থেকে গ্রামীণ সড়কেও খানাখন্দে ভরা, কোথাও নির্মাণকাজের জন্য দীর্ঘ যানজট, আবার কোথাও অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত দখলের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়া মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। ৩০ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগছে ৩ ঘণ্টা। এতে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে, তেমনি আর্থিক ক্ষতিও তৈরি হচ্ছে। অনেক সড়কে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ সময়মতো করা হয় না। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। সড়কে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান।

এদিকে সড়ক ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। পরিকল্পনাহীনভাবে এসব অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যথাযথ নিয়ন্ত্রণের অভাবে রাজধানীর যানজট, সড়ক বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই অনেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে রাজধানীর বিষফোঁড়া বলে অভিহিত করেছেন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এগুলোর অধিকাংশই নিবন্ধনবিহীন এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয় না। তারা ট্রাফিক আইন অমান্য করে, হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে কিংবা উল্টো পথে গাড়ি চালায়। এতে শুধু যানজটই বাড়ে না, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে এরূপ বিশৃঙ্খলা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতি তুলনামূলক কম হওয়ায় দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে একই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং বিদ্যুৎ অপচয়ের কারণ হয়।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখন দেশের অন্যতম বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জাতীয় এবং আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা সড়ক—প্রায় সর্বত্রই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘ ছুটির সময় এই সমস্যা আরো প্রকট হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকদের দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কখনো বাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, কখনো মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, আবার কখনো পথচারীকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় দ্রুতগতির যানবাহন। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান যাত্রীরা। কেউ হাসপাতালে নেয়ার পথে, কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সিলেটগামী যাত্রী কবির হোসেন মন্তব্য করেন, আসলে গণপরিবহনে আমরা কখনও নিরাপদ নই। নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে চলাচল করতে হয় তবে প্রতিদিনের দুর্ঘটনার খবর শোনার পর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। অফিসে সময় কিংবা ছুটির দিনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হয়। সেবার মান না বাড়িয়ে সম্পূর্ণ আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই সবাই কাজ করে। অসাধনের ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেক বাসের জরুরি নির্গমন পথ কার্যকর নয়, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নেই এবং দরজা সঠিকভাবে বন্ধ হয় না। আমরা ভাড়া দিই নিরাপদে চলাচলের জন্য। কিন্তু বাসে উঠলেই মনে হয় জীবন ঝুঁকির মুখে ভ্রমণ করছি।

আরও পড়ুন: গুয়াতেমালায় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দুর্নীতিবিরোধী সাবেক কৌঁসুলিকে হত্যা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. হাদিউজ্জামান ইনকিলাবকে জানান, অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করে যানবাহন চালান। সময় বাঁচানোর উদ্দেশ্যে বা অধিক ট্রিপ দেয়ার প্রতিযোগিতায় যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেন। অনেক চালকের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতার অভাব বিরাজ করছে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া অথবা অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই যানবাহন চালাচ্ছেন। সড়কের অব্যবস্থাপনাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। কোথাও গর্ত, কোথাও ভাঙা সড়ক এবং কোথাও আবার সতর্কীকরণ চিহ্নের অভাব রয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী ও প্রায়শই অতিরিক্ত মালামাল বহনের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীবাহী বাসের নকশা, ওজনের ভারসাম্য, উচ্চতা, ব্রেকিং সিস্টেম এবং কাঠামোগত নির্দিষ্ট প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু অনুমোদন ছাড়া এসব বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনা হলে বাসের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু পরিবহন মালিক নতুন চেসিস ক্রয় করে স্থানীয় কারখানায় কম খরচে বডি নির্মাণ করান। যাত্রী ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত আসন বসানো হয়। আবার কিছু বাসে উচ্চতা বা কাঠামো পরিবর্তন করে বেশি যাত্রী বহনের ব্যবস্থা করে। এমন পরিবর্তনগুলো নিরাপত্তা পরীক্ষার বাইরেই করা হয়, ফলে দুর্ঘটনার সময় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে, রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। যাকে রাজধানীর বিষফোঁড়া বলে অভিহিত করা হয়। নগরীর এমন কোনো সড়ক নেই যেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা পাওয়া যায় না। এখন মতিঝিল থেকে উত্তরাও যাওয়া যায় ব্যাটারিচালিত রিকশায়। রাজধানীর প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম রোড থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উল্টো দিকে চলাচল করছে শত শত অটোরিকশা। ইতোমধ্যে মহাসড়কের সার্ভিস রোডের কয়েকটি স্থানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে সেখান দিয়ে লোকাল বাস চলতে পারছে না। ফলে মহাসড়ক ও সার্ভিস রোডের মাঝখানের দেয়াল বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাত্রী পারাপারের জন্য অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে লোকাল বাসগুলো মহাসড়কের ওপরে অবাধে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের মতে, স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর শিথিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে প্রায় ৮ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইক রাজধানীতে ঢুকে পড়ে। ঢাকার বাইরে থেকে এখনও ধারাবাহিকভাবে ঢাকায় ঢুকছে। তবে দিনের শুরুতে কিছু রিকশা শহরে ঢুকতে না পারলেও বিকালে বা সন্ধ্যার পর ঢুকতে গিয়ে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হচ্ছে না। এতে করে সন্ধ্যার পর ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট ক্রমাগত বাড়ছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে বাধা না থাকলেও এ বিপত্তি বাড়ানোর দিকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার। বর্তমানে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রকৃত সংখ্যা কী—তা জানেন না কেউ। কেউ বলছেন কমপক্ষে ২০ লাখ আবার কারো মতে ২০ লাখ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দিন দিন ঢাকায় লোডশেডিং বেড়ে চলেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেছেন, ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে আসা কিছু সংখ্যা ব্যাটারিচালিত রিকশা কমলেও এখনও রাজধানীতে চলাচল করছে কমপক্ষে ২০ লাখ রিকশা। দিনের বেলা ট্রাফিক পুলিশ এগুলো কিছুটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবে বিকালের পর পুলিশ আর তেমন কিছু বলে না। সেই সুযোগে এগুলো প্রধান সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানাচ্ছে, রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে বসানো অটো সিগনালিং ক্যামেরা বসানো হলেও রিকশাগুলো কোনো সিগনাল মানছে না। যেহেতু রিকশাগুলোতে ডিজিটাল নামফলক নেই, সেহেতু সেগুলো ক্যামেরাকে ফাঁকি দিলে সিগনাল অমান্য করে চলে গিয়ে যানজট সৃষ্টির জন্য দায়ী হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙনে দুই শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ও ডিপটিউবওয়েল ঘর নদীগর্ভে বিলীন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫.৭ বিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ এম


৫.৭ বিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিখ্যাত স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা ‘ইজিজেট’ এখন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রাইভেট ইক্যুইটি জায়ান্ট অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের কাছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা দর কষাকষি এবং লড়াইয়ের পর, ৫.৭ বিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৭.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এই অধিগ্রহণ প্রস্তাবে ইজিজেট কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ইজিজেট বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের এই অফারটি গ্রহণ করার ঘোষণা দেয়। আমেরিকান বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাসেললেক বিডিং প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরপরই এই চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অ্যাপোলো প্রতি শেয়ারের জন্য ইজিজেট শেয়ারহোল্ডারদের ৭.১৫ পাউন্ড নগদ প্রদান করবে। এই মূল্য ইজিজেটের গত মে মাসের শেয়ারমূল্যের তুলনায় প্রায় ৮১ শতাংশ বেশি। ইজিজেটের পরিচালনা পর্ষদ এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত লাভজনক এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে বর্ণনা করেছে। অধিগ্রহণের পর ইজিজেটকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত করে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। তবে ইজিজেটের প্রতিষ্ঠাতা স্যার স্টেলিওস হাজি-আইয়ানু এবং তার পরিবার এয়ারলাইনটিতে তাদের বিনিয়োগ বজায় রাখবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিয়মান চলাচলসংক্রান্ত মালিকানা বিধিমালা অনুসরণ করতে বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাপোলোর কাছে থাকবে সর্বোচ্চ ৪৯.৯ শতাংশ শেয়ার, ইউ ট্রাস্টের কাছে ৫ শতাংশ এবং প্রতিষ্ঠাতা পরিবারসহ বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের কাছে বাকি ৪৫.১ থেকে ৪৯.৯ শতাংশ মালিকানা থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারের ৩ ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন না করার দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০০ এম


সাভারের ৩ ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন না করার দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

সাভার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার—এই তিনটি ইউনিয়নকে সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাথে যুক্ত করার চক্রান্তের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা ফুঁসে উঠেছেন। এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এই তিন ইউনিয়নের হাজারো বাসিন্দা।

গতকাল জুম্মার নামাজ শেষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় একটি বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ। তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাজী জামাল উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে তিনটি ইউনিয়ন থেকে খ- খ- মিছিল নিয়ে শত শত মানুষ সমাবেশস্থলে সমবেত হন। বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ থাকা অবস্থায় প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে। ফলে মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী ও চালকদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সমাবেশে বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কৌশলে ফর্মে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জানা গেছে, ওই ফর্মগুলো মূলত এই তিন ইউনিয়নকে সাভার থেকে কেটে কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত করার প্রস্তাবনা ছিল।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা জীবন দেব, তবুও আমাদের জন্মভূমি তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত হতে দেব না। এটি এলাকাবাসীর আবেগের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।

সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে নেতারা জানান, অবিলম্বে এই চক্রান্ত বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, এলাকাভিত্তিক গণস্বাক্ষর অভিযান এবং লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আয়োজকরা।

তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হাজী জামাল উদ্দিন সরকার ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমানকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শ্যামলী কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ জনগণকে ভুল বুঝিয়ে ফর্মে স্বাক্ষর নিয়েছেন। আমাদের ইউনিয়নকে ঢাকা-২ আসনের সাথে যুক্ত করিয়াছেন। এবার তিনটি ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত করার যে ষড়যন্ত্র করছেন তা হতে দেবো না। প্রয়োজন হলে রক্ত দেবো। আন্দোলন করবো এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় এই ইউনিয়নগুলো ঢাকা-১৯ আসনে যুক্ত করার জন্য আন্দোলনে নামবো। এ সময় আব্দুর রহমান, এডভোকেট দিন ইসলাম, নয়ন সরকার, যুবদল নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার (শাওন সরকার), আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আড়াইহাজারে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০২ এম


আড়াইহাজারে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে 'হানি ট্র্যাপ'-এর মাধ্যমে লোকজনকে অপহরণ, মারধর এবং বিকাশ-নগদের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের শীলমান্দি গ্রামের মো. শ্যামল ভূঁইয়া, সুমন এবং ইউসুফ। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তাদের জেলহাজতে রাখার আবেদন করেছেন। একই সাথে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক রিমান্ডের আবেদনও করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের শীলমান্দি গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার উল্লেখ করেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র যা নারীকে ব্যবহার করে 'হানি ট্র্যাপ'-এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো। এ ঘটনায় বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ‘গরিবের এসি বাড়ি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ এম


বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ‘গরিবের এসি বাড়ি’

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটি ও ছনের ঘর হারিয়ে যাচ্ছে। জায়গা দখল করছে ইট-পাথরের দালান ও টিন। শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই মাটির ও ছনের ঘর বেশ আরামদায়ক। এই ঘরগুলো গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন এবং ছায়া ঘেরা শান্তির নীড় ছিল। এর আগের সময়ে এই ঘরগুলো গ্রামের মানুষের কাছে ‘গরিবের এসি বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। তবে কালের বিবর্তনে এই ঐতিহ্যের মাটির ঘর হারিয়ে যেতে বসেছে। আধুনিকতার ছোঁয়া মাটির ঘরের জায়গায় এনে দিচ্ছে ইটের বাহারী দালান।

মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন, রুচিবোধের পরিবর্তন এবং পারিবারিক নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের সুরক্ষার কারণে আজকাল আর কেউ মাটি ও ছনের ঘরে থাকতে চান না। সচ্ছলরা ঝুঁকে পড়েছেন পাকা দালানের দিকে। তবুও মানুষ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাকা দালান কোঠা তৈরি করছেন। এই কারণেই আধুনিকতার ছোঁয়া এবং সময়ের পরিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি ঘর আজ বিলুপ্তির পথে।

একদিন হয়তো সেই মাটিও ছনের ঘরের স্থান হবে ইতিহাসে অথবা যাদুঘরে। মানুষের আর্থিক সামর্থ্য এবং রুচির পরিবর্তনের ফলে গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাটি ও ছনের ঘর।

কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে এখনো কিছু মাটির ঘর দেখা যায়। তবে সেগুলোও বেশিদিন থাকবে না। আধুনিকতার ছোঁয়া পৌঁছে গেছে বাগানগুলোতেও। প্রায় সব বাগানেই দালানকোঠা তৈরি হচ্ছে। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে এখন অনেকে ইটের ঘর তৈরি করছে, ফলে মাটির ঘর ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের ছেলে-মেয়েরা যেন মাটির ঘর দেখতে পারে, তাই অনেকে গ্রামে কিছু ঘর রেখে দিয়েছেন। তবে সেটাও বিরল। বর্তমানে মাটিও ছনের ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্তির কাছাকাছি। হয়তো খুব দ্রুতই সেদিন আসবে, যেদিন মাটির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের কাছে মাটি ও ছনের ঘর রূপকথার গল্পের মতো মনে হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আলীনগর চা বাগানের বিভিন্ন টিলায় মাটির ঘর এখনও রয়েছে। চা শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে নিজস্বভাবে বসবাস করছেন। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন ভালো নয়, তাই আধুনিকতার ছোঁয়া সেখানে লাগেনি। তবে তারা জানান, আগের তুলনায় এখন মাটির ঘর খুব কম রয়েছে। হয়তো সেটাও থাকে না। হয়ে যাবে দালান কোঠা। পরবর্তী প্রজন্ম তাদের কাছে মাটির ঘরের গল্প, কবিতার ছন্দে বা সাহিত্যর পাতায় দেখা ছাড়া কিছুই থাকবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে নাটক, সিনেমা ও গল্প কাহিনী রয়ে যাবে।

মাটির ঘরের কারিগর শাহীন, রুস্তম ও কনা মিয়া বলেন, মাটির ঘর তৈরি করতে কারিগরদের তিন থেকে চার মাসের অধিক সময় লাগতো। মজুরি হিসাবে একটি ঘরের জন্য ৩০-৩৫ হাজার টাকা নিতেন। এখন আর কেউ মাটির ঘর নির্মাণ করে না। তাই আমাদেরও আগের মতো কাজ নেই। এখন অন্য কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

আনু মিয়া বলেন, মাটির ঘর বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের বিবর্তনে অধিকাংশ মানুষ মাটির ঘর ভেঙে অধিক নিরাপত্তা ও কম জায়গায় অনেক লোকের বসবাসের জন্য ইটের ঘরকে প্রথম পছন্দের তালিকায় নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, মাটির ঘর শীত গরম উভয় মৌসুমে বেশ আরামদায়ক।

বেলা নামের একজন জানান, যুগ যুগ ধরে তারা মাটির ঘরে বসবাস করছেন। তাদের তেমন টাকা পয়সা নেই পাকা ঘরে থাকার। আরামের জন্য মাটির ঘরই ভালো। তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের বাগানে মাটির ঘরের স্থান দখল করেছে ইট, সিমেন্ট, বালি ও রডের তৈরি পাকা ঘর। মাটির ঘরগুলো বন্যা ও ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হয় বলেই মানুষ ইট সিমেন্টের ঘরবাড়ি নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতি বছর মাটির ঘরে খরচ না করে একবারে বেশি খরচ করলেও পাকা ঘরবাড়িই নির্মাণ করছেন। তবে এখন মাটির ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্তির কাছাকাছি। সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন মাটির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের মানুষের কাছে মাটির ঘর রূপকথার গল্পের মতো মনে হবে।

মাটির ঘর কেন কমে যাচ্ছে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলগঞ্জের লেখক, গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, মানুষ এখন কর্মমুখী। মানুষের আয়-রোজগার বাড়ার কারণে মানুষ দিন দিন শৌখিন হয়ে উঠছেন। জেলার প্রচুর মানুষ বিভিন্ন দেশে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন। প্রবাসীরা ও সচ্ছল ব্যক্তিরা তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে মাটির ঘরে থাকতে চাইছেন না। এ জন্য মাটির ঘর ভেঙে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন করে পাকা দালানকোঠা নির্মাণ করছেন। বর্তমানে মাটির ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্তির কাছাকাছি। হয়তো সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন মাটির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের মানুষের কাছে মাটির ঘর রূপকথার গল্পের মতো মনে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%