ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় প্রমাণ’


‘শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় প্রমাণ’

ফুটবলে প্রতিটি যাত্রার সফলতা শুধুমাত্র ফলাফলের সমীকরণ দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম দেড় বছর কাটানো কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং একটি নতুন দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা ছিল।

ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের কাছে পরাজয়ের পর হামজা চৌধুরী নিজের এই অনুভূতি প্রকাশ করেন। এই মিডফিল্ডার অকপটে স্বীকার করেন, জাতীয় দলের সাথে কাটানো সময়ের মধ্যে অনেক উত্থান-পতন ছিল।

এমনকি তিনি বলেন, সফলতার চেয়ে কঠিন মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে বেশি। তবে তিনি সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে দল ভবিষ্যতে বড় কিছু অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।

আরও পড়ুন: মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ও কোস্টারিকা

ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামজা চৌধুরী বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল, আলহামদুলিল্লাহ। অবশ্যই এই যাত্রায় অনেক ভালো-মন্দ সময় এসেছে। দুর্ভাগ্যবশত, ভালো মুহূর্তের চেয়ে আমাদের হয়তো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি বেশি হতে হয়েছে। তবে আমরা হাল ছাড়ছি না; একটি সুন্দর ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আমরা সবাই একসাথে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’

শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার মনে করেন, ফলাফল দিয়ে সবসময় দলের উন্নতি বিচার করা যায় না; বরং শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে সমানতালে লড়াই করতে পারাটাই বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় প্রমাণ।

অভিজ্ঞতার অভাব থাকা সত্ত্বেও বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফুটবল দল প্রতিনিয়ত নিজেদের উন্নত করছে বলে মনে করেন হামজা চৌধুরী। আসিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলক অনভিজ্ঞ হলেও, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তা যাচাই করার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ধীরগতির শুরুর কারণে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফিরে আসা কঠিন হয়েছিল। তবে আমার মনে হয়েছে, আমরা আগের ম্যাচের সিঙ্গাপুরের সাথে আরো ভালো খেলেছি।’

আরও পড়ুন: রিয়াল মাদ্রিদ লা লীগার সভাপতি তেবাসের পদত্যাগের দাবি জানাল

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে সেই ব্যবধান সবসময় স্পষ্ট ছিল না বলে মনে করেন হামজা চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এই পর্যায়ে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা দারুণ। র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা আমাদের ওপরে। কিন্তু মাঠের কিছু কিছু মুহূর্ত দেখলে সেই ব্যবধানটা আসলে বোঝা যায় না। তাই নিশ্চয়ই আমরা কিছু একটা ঠিকভাবেই করছি।’

শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা এখন পাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো খুঁজছি। আশা করি, সেগুলো নিখুঁতভাবে একসঙ্গে বসাতে পারব।’

বাংলাদেশের উন্নতির জন্য এখনো কয়েকটি জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন হামজা। আর সেই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে নভেম্বরের ঘরের মাঠের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে চান তিনি।

আরও পড়ুন: ২০৩১ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে থাকছেন জুড বেলিংহ্যাম

হামজা বলেন, ‘নভেম্বরে ঘরের মাঠে আমাদের বড় একটি টুর্নামেন্ট আছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেটিকে সামনে রেখে তৈরি হচ্ছি এবং আশা করি সেখানে কিছু সাফল্য অর্জন করতে পারব।’

বাংলাদেশের সাথে পথচলায় মাঠের বাইরেও নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে হামজার। ইন্দোনেশিয়ায় এবারই প্রথম গেছেন তিনি। বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন আগে দেশটিতে গিয়ে ভালো অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। এবার নিজেও ইন্দোনেশিয়ার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন তিনি।

হামজা বলেন, ‘আমার খুব ভালো লেগেছে। সত্যিই ভালো! ইন্দোনেশিয়ায় এটাই আমার প্রথমবার। আমার অনেক বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন আগে এখানে এসেছে। তারা শুধু ভালো কথাই বলেছে। তাই নিজে এসে দেখাটাও দারুণ ছিল।’

তবে গরম আবহাওয়াটা কিছুটা কঠিন মনে হয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, ‘মানুষগুলো খুব বন্ধুবৎসল। আবহাওয়াটা আমার জন্য একটু বেশি গরম। তবে সব মিলিয়ে খুব উপভোগ করেছি। আশা করি, আবারও আসতে পারব এবং ইন্দোনেশিয়ার অন্য জায়গাগুলোও ঘুরে দেখতে পারব।’

আরও পড়ুন: রাফিনিয়াকে নিয়ে বার্সেলোনার সুখবর

বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচে গ্যালারিতে বড় সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটিও দলের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হবে বলে মনে করেন হামজা।

তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই ম্যাচটির অপেক্ষায় আছি। জানি, গ্যালারিতে আরও বেশি দর্শক থাকবে। তাই দল হিসেবে এটি আমাদের জন্য আরেকটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা হবে।’

ইন্দোনেশিয়া দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি কঠিন পরীক্ষাই হবে বলে মনে করেন হামজা। তবে এ ধরনের দলের বিপক্ষেই নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করতে চান এই তারকা মিডফিল্ডার।

হামজার ভাষায়, ‘ইন্দোনেশিয়া খুব ভালো দল। তাদের অনেক খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলে। তাই আমাদের জন্য এটিও কঠিন পরীক্ষা হবে। তবে আমরা এখানে এসেছিই এই কারণে, এই মুহূর্তে আমাদের চেয়ে ওপরে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে।

আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে ফিরলেন বুমরাহ ও পন্ত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাইড শেয়ারিং গাড়িতে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি ভারতীয় গায়িকা শ্রিয়া রাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


রাইড শেয়ারিং গাড়িতে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি ভারতীয় গায়িকা শ্রিয়া রাও

ভারতীয় গায়িকা ও গীতিকার শ্রিয়া রাও সম্প্রতি একটি রাইড শেয়ারিং গাড়িতে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া এই অস্বস্তিকর ঘটনার বিবরণ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। তার অভিযোগ, গাড়িতে ওঠার পর থেকেই চালক বারবার তার পায়ের দিকে নজর দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গালিগালাজের কথাও জানিয়েছেন শ্রিয়া।

ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শ্রিয়া ওই চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অভিযুক্ত চালকের কারণে ভবিষ্যতে অন্যান্য যাত্রীরা গুরুতর সমস্যায় পড়তে পারেন।

শ্রিয়ার মতে, গাড়িতে ওঠার পর থেকেই চালকের আচরণ তাকে অস্বস্তিতে ফেলছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘প্রথমদিকে গাড়িতে ওঠার সময়ে মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু দেখছিল। তার কয়েক সেকেন্ড পরে পায়ের দিকে তাকাচ্ছিলেন। আমারও খুব অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল একেবারেই নিরাপদ নই। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে।’

চালক যখন গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। শ্রিয়া জানান, তিনি শুরু থেকেই চালককে গতি কমানোর জন্য অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু চালক তার অনুরোধে সাড়া না দিয়ে বরং আরও দ্রুত গাড়ি চালাতে থাকেন। এ সময় গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সেই মুহূর্তের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে শ্রিয়া বলেন, ‘চালক হঠাৎ গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেওয়ায় শুধু নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছিলাম। বার বার মনে হয়েছিল এমন কিছু করবই না, যাতে পরিস্থিতি কোন ভাবে খারাপ হয়ে যায়। তাই মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেছি।’

শ্রিয়ার দাবি, একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ার কথাও তার মনে হয়েছিল। তবে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সেটি করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

ঘটনার পর শ্রিয়া অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৭ বছরেও শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ পথ নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


১৭ বছরেও শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ পথ নেই

বাঁধ নেই, সড়ক নেই; সেতুও নেই। প্রতিদিন নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিশুদের। নদী পার হওয়ার জন্য তাদের একমাত্র ভরসা হলো কয়েকটি ড্রাম জোড়া দিয়ে তৈরি ভেলা। মাঝনদীতে ঢেউ উঠলে ভেলা দুলতে থাকে, ফলে আতঙ্কে জমে যায় শিশুদের বুক।

২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় ভেঙে যায় ১৭০ মিটার বাঁধ। এর ১৭ বছর পরেও স্থায়ীভাবে নির্মাণ হয়নি। তাই খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া বদ্ধ নদীর তীরঘেঁষা কয়েক গ্রামের শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করছে।

স্থানীয়দের মতে, বাঁধের জায়গায় সড়ক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও শিশুদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হয়নি। তারা জানায়, শিশুরা দল বেঁধে নদী পার হতে আসে। কেউ আগে ওঠার জন্য অপেক্ষা করে, কেউ ভেলায় বসার জায়গা খোঁজে। ভেলা ছাড়ার পর দুই পাশে থাকা রশি টানতে থাকেন স্থানীয়রা। পানির ওপর ভেসে থাকা ড্রামগুলো কাঁপতে কাঁপতে ওপারের দিকে এগিয়ে যায়।

মহারাজপুর মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ভবতোশ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাঁধটা আইলার সময় ভাঙছে। ১৭ বছর হইয়া গেল, এহনও ঠিক অয় নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাগো পোলাপানরে বই-খাতা দিইয়া ভেলায় উঠাইয়া দিই। ভেলা দুললে বুকটা ধড়ফড় করে, কখন পোলাপান পানিতে পড়ে যায়!’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধের এক পাশে প্রতাপ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি কমিউনিটি ক্লিনিক অবস্থিত। অন্য পাশে রয়েছে কয়েকটি গ্রামের বসতি।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও বয়স্কদের নদী পার হতে হয়। বিকল্প পথ থাকলেও তা দীর্ঘ ও দুর্ভোগের। ফলে গ্রামবাসীর প্রধান ভরসা এই ড্রামের ভেলা।

শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি, স্থায়ী বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে স্কুলগামী শিশু, কমিউনিটি ক্লিনিকের রোগী এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল নিরাপদ হবে।

প্রতাপ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন জানায়, প্রতিদিনই সে ড্রামের ভেলায় স্কুলে যায়। কিন্তু ভেলাটি নদীর মাঝখানে গেলে ভয় হয়, যদি উল্টে যায়! তবুও ক্লাসে যাওয়ার জন্য ঝুঁকি নিতে হয়।

অন্য শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানায়, একবার ভেলা উল্টে সে নদীতে পড়ে গিয়েছিল। সঙ্গে থাকা বই-খাতা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে আসায় প্রাণে বেঁচে যায় সে।

এদিকে, সন্তান বিদ্যালয়ে গেলেও অভিভাবকরা স্বস্তিতে থাকতে পারেন না। দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাইয়া মনটা ঘাটে পড়ে থাকে। একবার ভেলায় পার হওয়ার সময় আমার মেয়েসহ কয়েকজন শিশু পানিতে পড়ে গেছিল। আল্লাহর রহমতে সে যাত্রায় বেঁচে গেছে। আমরা আর এভাবে চাই না। একটা রাস্তা বা অন্তত নিরাপদ সেতু দরকার।’

আঞ্জুয়ারা আরও বলেন, বর্ষা এলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়। নদীতে পানি ও স্রোত বাড়ে। বাতাসে ঢেউ উঠলে ড্রামের ভেলায় ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনসুর গাজী বলেন, ‘বর্ষা আইলে পানি বাড়ে, স্রোত বাড়ে। তখন এই ভেলায় পার হওয়া আরো বিপজ্জনক। মাইয়ে-ছেলে, বুড়ো মানুষদেরও বাইরে এই কষ্ট করতে হয়। বাঁধ বা একটা সেতু হইলে আমাদের বহু বছরের কষ্ট শেষ হতো।’

প্রতাপ সরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রণজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আইলার পর থেকে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। অনেক অভিভাবক যাতায়াতের সমস্যার কারণে সন্তানদের এ স্কুলে ভর্তি করাতে চান না। অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তির কারণে বিদ্যালয়ে আসে না। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ ও স্কুলের যাতায়াতের পথ নির্মাণ করা জরুরি।’

মহারাজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক ইউপি সদস্য আবু সাঈদ বিশ্বাস লেন জানান, ‘ভাঙা অংশটি প্রায় ১৭০ মিটার। জায়গাটি গভীর ও বড় হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বরাদ্দে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এখানে স্থায়ী বাঁধ অথবা নিরাপদ ভাসমান সেতু প্রয়োজন।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত নিরাপদ পারাপারের অস্থায়ী ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এ সমস্যা এখন নিরাপত্তাঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাঁধ নির্মাণে সময় লাগলে এর আগেই নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জে ৯৪ চোরাই মোবাইল ফোনসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


সিরাজগঞ্জে ৯৪ চোরাই মোবাইল ফোনসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে একটি বাসে তল্লাশি পরিচালনা করে ৯৪টি চোরাই মোবাইল ফোনসহ (অ্যান্ড্রয়েড) আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রবিউল (৩৩), আলাউদ্দিন (২৫), ইসরাফিল (২৭), হৃদয় (৩৫), আলামিন (৩০), আক্কাস (৩৫), ইমরান (৩০) ও ইয়াসিন আরাফাত (৩৮)।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাসটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের কাছ থেকে ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং একটি সংঘবদ্ধ চোরাই চক্রের সদস্য। বুধবার সকালে চক্রটি বগুড়ার ধুনটের মাসুদ টেলিকম নামের একটি মোবাইলের দোকানের শাটার কেটে ভেতরে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনগুলো চুরি করে। এ ঘটনায় বগুড়ার ধুনট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মাসুদ টেলিকমের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরি। বুধবার সকালে মার্কেটের নৈশপ্রহরী দোকানগুলো দেখভালের জন্য মার্কেটে গিয়ে দোকানের তালা কাটা ও শাটার খোলা দেখতে পান। বিষয়টি জানার পর তিনি ধুনট থানার পুলিশকে অবহিত করেন। একপর্যায়ে সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পালানোর বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। তারা জানান, আটজন ব্যক্তি দুটি সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করে শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখান থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় চক্রটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক নারীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


যাত্রাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক নারীর

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নিহতের নাম ও পরিচয় এখনও জানা যায়নি। নিহত নারীর পরনে ছিল লাল কামিজ এবং হলুদ রঙের সালোয়ার।

যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ী কাজলা সুফিয়া গার্মেন্ট-এর বিপরীত পাশে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মাথার মগজ বের হয়ে ঘটনাস্থলেই ওই নারী মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওই নারী ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন এবং তিনি প্রায়ই ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন।

এসআই আওলাদ আরও জানান, সংবাদ পেয়ে সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ময়নাতদন্তের জন্য আজ দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নারীর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%