বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৭ পি.এম
মলদোভায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী একটি বিমানের উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়েছে, কারণ রাশিয়ার ড্রোনের কারণে আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার, নরওয়ের উদ্দেশে যাত্রার আগে এই ঘটনা ঘটে।
বুধবার, মলদোভা সরকারের একজন মুখপাত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।
মুখপাত্র এক লিখিত বিবৃতিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, মলদোভার ভূখণ্ডে রাশিয়ার একটি ড্রোন নেমে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর জেলেনস্কিকে বহনকারী বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। ড্রোনের সতর্কতার কারণে কিছু সময়ের জন্য মলদোভার আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে, জেলেনস্কির বিমানসহ মোট তিনটি বিমান উড্ডয়নে এবং চারটি বিমান অবতরণে বিলম্বিত হয়।
মলদোভার কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার দুটি ড্রোন দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি রাজধানী চিসিনাউয়ের উত্তরে একটি মাঠে গিয়ে পড়ে। ড্রোনটি পড়ার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। অন্য ড্রোনটি মলদোভার আকাশসীমা পেরিয়ে পাশের দেশ রোমানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে।
মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু ড্রোন দুটি দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে মানুষের জীবনের জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ বলে উল্লেখ করেন।
ইউক্রেনের সঙ্গে মলদোভার সীমান্তের একটি স্থলপথে রাশিয়ার ড্রোন হামলারও তিনি নিন্দা জানান। ওই হামলায় দুজন নিহত হন। নরওয়ের রাজা হারাল্ড পঞ্চমের শেষকৃত্যে যোগ দিতে জেলেনস্কি অসলো যাচ্ছিলেন।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে বুধবার দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকেকে বলেন, মলদোভা থেকে উড্ডয়নের আগে জেলেনস্কিকে বহনকারী বিমানটি একটি ড্রোনের হামলার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। স্টোরে বলেন, ‘মলদোভা থেকে উড্ডয়নের ঠিক আগে তার বিমানটি প্রায় একটি ড্রোনের আঘাতে পড়েছিল। তিনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, এটাই তার বাস্তবতা।’ তবে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী তার এই তথ্যের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি। ড্রোনটি জেলেনস্কির বিমান থেকে ঠিক কতটা দূরে ছিল, সেটিও তিনি বলেননি।
ড্রোন সতর্কতার কারণে যাত্রায় বিলম্ব হলেও শেষ পর্যন্ত নরওয়েতে পৌঁছান জেলেনস্কি। বুধবার রাজধানী অসলোয় রাজা হারাল্ড পঞ্চমের শেষকৃত্যে অংশ নেন তিনি। সেখানে অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে রাজপরিবারের সদস্যদের পেছনে হেঁটে কফিনের দিকে যান জেলেনস্কি। শেষকৃত্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই নরওয়ে ছেড়ে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একটি নতুন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১) নির্বাচিত হয়েছেন।
বর্তমান সংসদে গঠিত সংসদীয় কমিটির মোট সংখ্যা এখন ৪৬টি।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয় ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুটি বিদ্যমান স্থায়ী কমিটি সদস্য পরিবর্তনের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। পরে সংসদ সদস্যরা কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো অনুমোদন করেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটি এবং বিষয়ভিত্তিক ১১টি কমিটি রয়েছে, যা মিলিয়ে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বুধবার অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি গঠনের ফলে এ পর্যন্ত গঠিত কমিটির সংখ্যা ৪৬টিতে পৌঁছেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্থানীয় বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মামুন হোসাইন ওরফে বাবলু জোমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ পুলিশ ও র্যাব দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশসূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত বাবলু জোমাদ্দার কাউখালী উপজেলার নীলতি গ্রামের আঃ বারেক জোমাদ্দারের ছেলে। তিনি একটি চেক জালিয়াতির মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া ২০২৪ সালে কাউখালী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলার ৮ নম্বর পলাতক আসামি ছিলেন তিনি।
কাউখালী থানার এএসআই মহিউদ্দিন ও এসআই খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কাউখালী থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে পিরোজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে কাউখালী থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কাউখালীকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পুলিশের এই ধরনের আইনগত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি ও জাতীয় দলের প্রধান কোচ জিনেদিন জিদান, ২০২৩-২৪ বা ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে নিজের দেশের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাপিয়ে লিওনেল মেসিকে সবার ওপরে রাখছেন। ৩৯ বছর বয়সেও মেসির ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে দাপিয়ে বেড়ানো দেখে মুগ্ধ এই কোচ, যিনি টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন।
মেজর লিগ সকার (এমএলএস) শিরোপা জেতার জন্য ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইন্টার মায়ামির হয়ে অসাধারণ পারফর্ম করেছেন মেসি। ৪৯ ম্যাচে ৪৫টি গোল এবং ৩০টি অ্যাসিস্টের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান গড়েছেন তিনি। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার পথে একাই ৮টি গোল করেছেন। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর।
মেসির এমন অলৌকিক ছন্দে বিস্ময় প্রকাশ করে জিদান মন্তব্য করেন, ‘আমি হলে মেসিকে ১০০ বার ভোট দিতাম। আমার মনে হয় মানুষ এখনো বুঝতে পারছে না, ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় থাকাটা কতটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার।’
ফুটবল ইতিহাসের সেরা কে সর্বকালের সেরা এই বিতর্ককেও এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়েছেন জিজু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “মেসি যদি আবার এই পুরস্কার জেতে, তাতে আমি বিন্দুমাত্র অবাক হবো না।
যার মনে এখনো ‘সর্বকালের সেরা’ নিয়ে সন্দেহ আছে, সত্যি বলতে ফুটবল সমাজে তার কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরখোলাবাড়িয়া ও দিগনগর গ্রামের বাসিন্দারা। নদীর তীব্র ভাঙনে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে জনপদ। হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙন রোধ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় চরখোলাবাড়িয়া ও দিগনগর গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়রা জানান, মধুমতি নদীর ভাঙন যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী থেকে মাত্র প্রায় ৫০ মিটার দূরে চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রায় ৪০ মিটার দূরে রয়েছে আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসা। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ ছাড়া ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ, গোরস্থান, মোখছেদ মোল্লা এতিমখানা, পোস্ট অফিস ও দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একই সঙ্গে অসংখ্য বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও রয়েছে ঝুঁকিতে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মধুমতির ভয়াল গ্রাসে প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে আসছে এলাকার জনপদ। চোখের সামনে নদীতীরবর্তী জমি ও স্থাপনা বিলীন হতে দেখে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও বসতভিটা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন শত শত পরিবারের মানুষ।
মানববন্ধন শেষে নদীভাঙনের ভয়াবহতা থেকে চরখোলাবাড়িয়া ও দিগনগরসহ আশপাশের জনপদ, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি রক্ষায় মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে নদীভাঙনের কবল থেকে এলাকাবাসীর জানমাল ও সম্পদ রক্ষা এবং বিপদ থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।
আল আমিন মিয়া, রবিউল ইসলাম রাকিব মিয়াসহ একাধিক যুবক বলেন, নদীভাঙন এখন আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোখের সামনে নদী যেভাবে তীর ভাঙছে, তাতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি রক্ষা করা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনেক পরিবার বসতভিটা হারাবে।
আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ আবদুর রব ফারুকী বলেন, মধুমতি নদীর ভাঙন অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদ্রাসাটি নদীর খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মাদ্রাসাসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, বিদ্যালয়টি নদী থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়টি বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, মধুমতি নদীর ভাঙন পরিস্থিতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে রয়েছে। নদীতে এখন অনেক পানি রয়েছে। পানি কমলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছরই তাদের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তবে এবারের ভাঙন তীব্র হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ