১১:৪৭ পি.এম
সউদী আরব প্রতি বছর প্রতিরক্ষা খাতে শত শত কোটি (বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করে। তবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে নিজেদের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার এবং পাইপলাইনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল জাতীয় স্থাপনাগুলো রক্ষা করতে গিয়ে দেশটি রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।
আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে প্রাপ্ত সর্বাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা এবং বহুস্তরী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও, গত সপ্তাহে দেশটির রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সামরিক খাতে সউদী আরবের খরচ ছিল ৮৩ বিলিয়ন ডলার, যা সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে বিশ্বজুড়ে শীর্ষ দশটি দেশের তালিকায় তাদেরকে শক্ত অবস্থানে রাখে। সউদী বিমান বাহিনীতে রয়েছে আমেরিকার তৈরি সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে সংগৃহীত শক্তিশালী সব যুদ্ধাস্ত্র।
আরও পড়ুন: চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস: বিজ্ঞাপনের আড়ালে বিশাল ইসরায়েলি সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি
তবে এই বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও সউদীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর ভৌগোলিক পরিধি—দেশটি আয়তনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এবং একসাথে তিন দিক থেকে তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পূর্ব দিক থেকে: এ বছর সংঘাত যখন সবচেয়ে তুঙ্গে ছিল, তখন ইরান প্রায় ১,০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে সউদী আরবকে লক্ষ্য করে।
উত্তর দিক থেকে: ইরাকে অবস্থিত ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির অতি-গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ দিক থেকে: ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চলের গোপন আস্তানা ও মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যাচ্ছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
সউদী আরবকে রক্ষা করার অর্থ কেবল রিয়াদ বা নির্দিষ্ট একটি তেল শোধনাগার পাহারা দেওয়া নয়; বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য স্থাপনাকে নিরাপদ রাখা। সউদীর অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে কাজ করা একটি স্বাধীন ওয়েবসাইট 'ভিশন২০৩০ ডট এআই' জানিয়েছে, দেশকে সুরক্ষিত রাখতে সউদী প্রতিরক্ষাকে মুহূর্তের মধ্যে আকাশপথের যেকোনো হুমকি শনাক্ত করতে হয়, তা ঠেকানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের সতর্ক বার্তা পাঠাতে হয়।
হুথিদের ছোঁড়া বেশিরভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংসও করছে সউদী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু তা সত্ত্বেও কয়েকটি হামলা সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এক সউদী কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, দেশের অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বজায় রাখতে গিয়ে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোথায় আগে মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: তফসিলি হিন্দুরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে হারাবে অনগ্রসর শ্রেণির সুবিধা
হুথিদের ক্রমাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি
হুথিরা মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার ড্রোনের সংমিশ্রণে একই সাথে বহুমুখী হামলা চালিয়ে সউদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত বা অকার্যকর করে দেওয়ার কৌশল রপ্ত করেছে। এই কৌশলটি অনেকটা ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যবহৃত কৌশলের মতো—যেখানে একই সাথে প্রচুর ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত ও কাবু করে ফেলা হয়।
ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে নিচু উচ্চতায় উড়ে যায়, ফলে একে আগাম শনাক্ত ও ট্র্যাক করা বেশ কঠিন। তার ওপর হুথিরা এবার নতুন প্রজন্মের এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে, যা আকাশে পথ বদলাতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে।
পৃথিবীর কোনো একক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেই আগত সব হুমকি শতভাগ ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে এই সামরিক অগ্রগতি হুথিরা একা অর্জন করেনি।
আরও পড়ুন: মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
আট বছর আগেই জাতিসংঘের সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেন থেকে এমন কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইরান থেকে পাচার করা হয়েছিল। একই প্যানেল দুই বছর আগে এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানায়, হুথিদের দেওয়া বৈদেশিক সামরিক সহায়তা, সরঞ্জাম, অর্থ এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এমন অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে যার উদাহরণ আগে ছিল না।
সামরিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, হুথিদের তৈরি সাম্প্রতিকতম ‘হাতেম-২’ ও ‘ফিলিস্তিন-২’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মূল নকশা পুরোপুরি ইরানি অস্ত্রের আদলে তৈরি। এগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির ও নিখুঁত দূরপাল্লার। গত বছর একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বিখ্যাত শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হানে। তৎকালীন সিএনএন বিশ্লেষক আমির বার শালোম মন্তব্য করেছিলেন, "প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার দূর থেকে উৎক্ষেপণ করে এত নিখুঁতভাবে আঘাত হানা আসলেই বেশ তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো।"
ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলির মতে, হুথিরা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে এমনভাবে পরিবর্তন করেছে যে এগুলো শত্রু বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারে। তিনি গত মাসে জানান, "এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে ২৫ মিনিট পর্যন্ত উড়তে পারে এবং তা তাপ-শনাক্ত করণ ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে আঘাত হানে।"
তারা কি তেহরানের কথা শুনবে?
আরও পড়ুন: হাইতিতে গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সে অংশ নিতে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের দেশত্যাগ
হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘অক্ষশক্তি’ বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অন্যতম অংশ। হিজবুল্লাহ, হামাস বা ইরাকের অন্যান্য প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক সংঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, হুথিরা উল্টো আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তেহরানের সাথে তাদের সম্পর্ক গভীর এবং সম্প্রতি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফনেও তারা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে হুথিদের নিজস্ব কিছু স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য রয়েছে।
২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সউদী আরবের সাথে টানা সাত বছরের যুদ্ধে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে এবং এলাকাটি অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার হয়। পরিণতিতে, গত জুলাইয়ে তারা লোহিত সাগরে সউদী জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয় এবং পরবর্তীতে লোহিত সাগর তীরের আরামকো তেল শোধনাগার ও সউদী বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
হুথিদের মূল দাবি দুটি: প্রথমত, ইয়েমেনি সরকারের সমর্থনে সউদী বিমান হামলা পুরোপুরি বন্ধ করা, এবং দ্বিতীয়ত, তাদের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির জবাবে সউদী আরবের কাছ থেকে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায় করা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান এই সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার জানান, সউদী আরব ও হুথিদের মধ্যে আলোচনা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
তবে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুকাইতি সোমবার জানিয়েছেন, রিয়াদ মধ্যস্থতার প্রস্তাবে রাজি হলেও তারা দুই সপ্তাহ বা এক মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আল-বুকাইতি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, "এবারের লড়াই আগের সংঘাতগুলোর মতো নয়। আজ যে শর্তে সমঝোতা সম্ভব, কাল পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সেই সমঝোতা হয়তো আর সম্ভব হবে না।"
আরও পড়ুন: দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করল হাইকোর্ট
সউদীর সামনে কঠিন পথ
সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দিলেও সউদী আরব বাইরের বিশ্বকে ‘সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে’ এমন ভাবমূর্তি দেখাতে চেয়েছিল। এমনকি রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার কিছুদিন আগে সাধারণ মানুষের ফোনে স্বয়ংক্রিয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
তবে বেশ কয়েকজন স্থানীয় অধিবাসী সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছেন যে সোমবার থেকে পুনরায় ফোনে সেই সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু হয়েছে। সউদী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সোমবারে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করেছে।
রিয়াদের এক প্রবাসী বাসিন্দা সিএনএন-কে জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির কারণে চলতি সপ্তাহে তাদের সন্তানদের বাসায় রেখে অনলাইনে পড়াশোনা করানো হচ্ছে। শনিবার বিমানবন্দরে হামলার খবর ও সতর্কবার্তার অভাব তাদের আতঙ্কিত করলেও সোমবার নাগাদ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে। তবে গত সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দর হামলায় সরকারি নীরবতা সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সিএনএন এ বিষয়ে সউদী সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়ে অনুরোধ পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: এডেনে হুথিদের মিসাইল হামলায় নিরাপদ রয়েছেন ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা
ভবিষ্যতের দিনগুলোতে সউদীর সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ খুবই কঠিন। বিমানবন্দরে এক ডজনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির পর হুথিদের সাথে আপস করা সউদী সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে বেশ অস্বস্তিকর।
অন্যদিকে, আবার বিমান হামলা বাড়িয়ে সংঘাতকে তীব্র করাও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এর জবাবে হুথি হামলা আরও বাড়লে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেশকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটনের বিশ্বমানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সউদীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন শুধু তেল শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ডেটা সেন্টার, পানি শোধনাগার ও বিমানবন্দর গুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তাদের পুরো প্রযুক্তি ও পর্যটন খাত ধাক্কা খাবে। চলতি মাসের শেষদিকে রিয়াদে অনুষ্ঠেয় যুবরাজের বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসেও ইতিমধ্যে অনেক বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি।
এদিকে, স্থলযুদ্ধের মাধ্যমে লড়াই করে হুথিদের পরাজিত করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে হুথিরা বহু বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষ ও শক্ত অবস্থান তৈরি করে রেখেছে। গত এক মাসে তারা ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর আমেরিকা প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে হুথিদের বিরুদ্ধে সাত সপ্তাহের বিমান হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু হুথিরা আমেরিকার কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রেনিটর ও রিপার ড্রোন গুলি করে নামায় এবং লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না করার শর্তে বহাল তবিয়তে রয়ে যায়।
আমেরিকা বা ইসরায়েল—কারো বিমান হামলাই হুথি শীর্ষ নেতৃত্বকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’-এর তথ্য মতে, প্রায় ৩,৫০,০০০ সশস্ত্র সদস্যের শক্তিতে বলীয়ান হুথিরা এখন আরও আক্রমণাত্মক রূপ নিয়েছে এবং তারা ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম কৌশলগত শহর ‘তাইজ’ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে।
সউদী আরবের আন্তর্জাতিক সমর্থনের চেষ্টা
সউদী আরব এখন হুথিদের বিরুদ্ধে একটি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলো ডিফেন্স সাপোর্ট দিতে এগিয়ে এসেছে। পাকিস্তান হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে সউদীর সীমান্ত ও স্থাপনা পাহারা দিতে, এবং মিসরও যেকোনো সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
সউদী আরব হয়তো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক এক রিপোর্টে দেখা গেছে, ইরানের সাথে সাম্প্রতিক নানা উত্তেজনার পর আমেরিকার নিজস্ব প্রতিরক্ষা ভাণ্ডারেই টান পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারাবাহিক সংঘাতের কারণে তাদের মজুদ অস্ত্র কমে গেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সরাসরি সেনা জড়িয়ে ফেলবেন কি না, তা নিয়ে অনীহা দেখাচ্ছেন। তিনি সরাসরি হুথিদের ওপর মার্কিন হামলার বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলছেন না।
ওয়াশিংটনের ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর বিশ্লেষক ও রিয়াদের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছু হটার নীতিতে মনে হচ্ছে বিপদের মুহূর্তে ওয়াশিংটন তার দীর্ঘদিনের মিত্রকে একাই ছেড়ে দিচ্ছে।"
তিনি বিমানবন্দর হামলার আগেই লিখেছিলেন: "সউদী রাজ্য এখন সরাসরি হামলার মুখে, রাজনৈতিক কারণেই তাদের এর জবাব দিতে হবে। তবে চূড়ান্ত বিচারে আমাদের হয়তো আবার সেই কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলেই ফিরতে হবে—যা হয়তো খুব একটা সন্তোষজনক হবে না, কিন্তু সংঘাত কমাতে এটিই এখন একমাত্র পথ।"আর যদি তা-ই হয়, তবে ইয়েমেনের ভেতরে হুথিরা আরও বেশি প্রভাবশালী ও শক্তিশালী অবস্থানে থেকেই টিকে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন