ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি পিস্তলসহ আরসা সদস্য গ্রেফতার


রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি পিস্তলসহ আরসা সদস্য গ্রেফতার

কক্সবাজারের উখিয়া অঞ্চলের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আরসার একজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম জহির (১৯), যিনি উখিয়ার ময়নারঘোনা ১২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রশিদ আহম্মদের ছেলে।র‌্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন ১১নং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের মরাগাছতলা এলাকায় মাল্টিপারপাস কমিউনিটি অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারের সামনে একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানের সময় সন্দেহভাজন মোহাম্মদ জহিরকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন এবং ৪ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তি মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার সক্রিয় সদস্য এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অস্ত্র বহন ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহনের অভিযোগে নিয়মিত মামলা রুজু করে তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


সিলেটে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে শতাধিক

সিলেট বিভাগের মধ্যে হামের পরিস্থিতি ক্রমাগত উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে আরও দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে ১১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত চলতি বছরে বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৭ জনে পৌঁছেছে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেটের এবং অন্যজন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। তাদের চিকিৎসা শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে নতুন ১১৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৮ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৮ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ জনসহ বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও রোগী ভর্তি হয়েছে।

নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৯৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২০৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৪২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৯ জন এবং সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন রোগী ভর্তি আছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।

মৃত্যুর হিসাব অনুযায়ী সিলেট বিভাগের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে সিলেটে ৬০ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আর নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন এবং সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে বিভাগের মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৭ জন।

নতুন করে দুই শিশুর মৃত্যু এবং এক দিনে ১১৯ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় বিভাগজুড়ে হাম পরিস্থিতির তীব্রতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এ দুই জেলায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শুধুমাত্র সিলেট জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শত শত সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা প্রদানে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাব বলছে, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ও চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের নিকটবর্তী এলাকা থেকে শুভ দাস (৩২) নামক এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শুভ দাস চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব বাজার এলাকার হরি চন্দ্র দাসের পুত্র। তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, হকার্স মার্কেটের সংলগ্ন রাস্তার মাথায় খোকন সাহেবের বাড়ির সামনে তিন রাস্তার মোড়ে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন।

পুলিশের কাছে খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাজল মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা তারেক আল মেহেদী আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসিনা আমলের বিতর্কিত সাইবার আইনের ‘কালো থাবা’: সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে এখনো থেকে গেছে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৮ পি.এম


হাসিনা আমলের বিতর্কিত সাইবার আইনের ‘কালো থাবা’: সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধে এখনো থেকে গেছে প্রশ্ন

বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিতর্কিত সাইবার আইন বাতিল ও সংস্কারের যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হয়েছে—এখন সেই প্রশ্নই জোরদার হয়ে উঠেছে। আইন বাতিলের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও অতীতের মামলায় জড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের আইনি জটিলতা, হয়রানি ও আদালতে হাজিরার ভোগান্তি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সমাজে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও সংশয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে বিতর্কিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এসব আইনের একাধিক দমনমূলক ধারার কারণে সাংবাদিকদের স্বাধীন সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ, সংবাদ উপস্থাপন কিংবা সাধারণ মতপ্রকাশের জের ধরে অসংখ্য সাংবাদিককে মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবাস ও দীর্ঘদিন ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়েছে।

সমালোচকদের মতে, সাইবার অপরাধ দমনের দোহাই দিয়ে এসব আইন করা হলেও বাস্তবে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা স্তব্ধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেক সাংবাদিকের কাছেই আইনগুলো চরম আতঙ্ক ও হয়রানির সমার্থক হয়ে উঠেছিল।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং এর বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ধারা রহিত করার উদ্যোগ নেয়। নতুন অধ্যাদেশে আগের আইনের আলোচিত ৯টি ধারা বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে সাংবাদিক সমাজে প্রাথমিকভাবে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে এই আইনি সংস্কার বাস্তবে কতটুকু স্বস্তি আনবে—তা নিয়ে রয়ে গেছে বড় ধরনের প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি আইন বাতিল বা কয়েকটি ধারা বাদ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। এই আইনের আওতায় দায়ের হওয়া পুরোনো মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী, বছরের পর বছর ধরে আদালতে হাজিরা দেওয়া সাংবাদিকরা কবে নাগাদ পুরোপুরি আইনি যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো আইনের নামে একই ধরনের অপব্যবহার রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

সাংবাদিকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে—এমন প্রচারণার চেয়ে বাস্তবে সাংবাদিকরা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন, সেটিই আসল বিষয়। কেবল আনুষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল বা ‘ব্র্যান্ডিং’ করার চেষ্টা না করে এমন একটি কার্যকর আইন ও প্রয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে তথ্য প্রকাশ বা মতপ্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে অপরাধী হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সাইবার অপরাধ দমনে সুনির্দিষ্ট আইন থাকার প্রয়োজনীয়তা সর্বজনস্বীকৃত। তবে সেই আইন যেন কোনোভাবেই সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা, সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়া কিংবা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত না হয়—তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

বিতর্কিত আইনে দায়ের হওয়া পুরোনো মামলাগুলোর দ্রুত ও সম্মানজনক নিষ্পত্তিই এখন বড় পরীক্ষা। অতীতের অশুভ অধ্যায়ের ইতি টেনে একজন সাংবাদিক যখন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই সত্য ও জনস্বার্থমূলক সংবাদ প্রকাশ করতে পারবেন এবং তার জন্য তাকে আর আদালতের বারান্দায় বছরের পর বছর ঘুরতে হবে না—ঠিক তখনই বোঝা যাবে, আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৮ পি.এম


ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা

কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করার লক্ষ্যে ভিডিও কলের বিশেষ সুবিধা চালু হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই সুবিধাটি কার্যকর করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিগগিরই সারা দেশে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।কারা কর্তৃপক্ষের আধুনিক ও মানবিক এই উদ্যোগের ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিটের জন্য ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানিয়েছেন, সারা দেশে শিগগিরই কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।এদিকে, সরকার কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।মাসুদ হাসান জুয়েল আরও জানান, বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে এবং তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।কারা অধিদপ্তর জানায়, বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পানি সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।কারাগারের মৌলিক সেবাগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়টি ভবিষ্যতেও অগ্রাধিকার পাবে। কারা অধিদপ্তর জানায়, একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য।কারা অধিদপ্তর আরও জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বাসস’কে জানান, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রমকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে চায়না থেকে আমদানি রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বৃহৎ সংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে।তিনি বলেন, কারাগারে বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা আছে। বন্দিদের খাবারের মান উন্নত করার জন্য বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এছাড়াও বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক ও জুতা-স্যান্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।কারা অধিদপ্তর জানায়, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক প্রত্যাশা ছিল অবসর-পরবর্তী কল্যাণ। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এছাড়াও কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে।কারাগারকে আরও স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং একটি আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা সৃষ্টির কাজ করা হচ্ছে।এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান। বন্দিরা পাবেন সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ। আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি হবে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%