রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৯ পি.এম
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে আপনাকে নিজের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে, বরং সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা শিখতে হবে। এআই আপনার চাকরি কেড়ে নেবে না; বরং যে ব্যক্তি এআই ব্যবহার করতে জানেন, তিনি হয়তো এআই না জানা ব্যক্তির জায়গাটি দখলে নিতে সক্ষম হবেন। তাই এআই সম্পর্কে আপনার জ্ঞান থাকা আবশ্যক; অন্যথায় আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যাবে।
আমাদের গভীর আবেগের উৎস হলো আজীবন অর্জিত অভিজ্ঞতা। কিছু ছোট সাফল্য ও ব্যর্থতার সমন্বয়ে গঠিত অভিজ্ঞতা, কিছু অসাধারণ মুহূর্ত কিংবা কিছু তীব্র কষ্টের ভাণ্ডার থেকে। যখন একজন ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে কোনো মেলবন্ধন ঘটাতে চান, তখন এআইয়ের সরবরাহ করা সাবলীল টেক্সটের পাশাপাশি আরও কিছু প্রয়োজন হয়। জেনারেটিভ এআই সিস্টেমগুলো এখন গান ও উপন্যাস লিখছে। তবে, এসব কি শোনার বা পড়ার যোগ্য হবে?
সম্ভবত হবে। কারণ, “জেনারেটিভ এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কোনো কাজ করবে না, যা আমার অন্তরের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যাবে।” জেনারেটিভ এআইয়ের কোনো জীবন্ত অভিজ্ঞতা বা বাস্তবজীবন নেই। এটি একটি ভুয়া জীবনের অভিনয় করতে পারে, কিন্তু ভুয়া জীবনের কোনো ভুয়া সঙ্গী কেই বা চায়? আমি বিশ্বাস করি, কিছু পেশা বা চাকরি থাকবে যেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের গভীর সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন চাকরির সৃষ্টি হবে এবং সেগুলো হারিয়ে যাবে না। ভবিষ্যতে সেসবের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। মানুষের প্রয়োজন হবে মানুষের। তাই গ্র্যাজুয়েটরা— আমরা মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত ও ভীত হব— এটা হয়তো এড়ানো সম্ভব নয়।
এর আগে ২০১৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কম্পিউটার বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল আরউইন জর্ডান গত মে মাসে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল আরউইন জর্ডানের নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
তিনি বলেন, “২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটরা, তোমাদের শুভেচ্ছা। একই সঙ্গে সমবেদনাও জানাচ্ছি। এমন এক জটিল সময়ে তোমরা বড় হচ্ছ, যে সময় দ্রুতই বদলে যাচ্ছে। এ মুহূর্তে ভবিষ্যদ্বাণী করা যেমন কঠিন, ঠিক তেমনই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়াও বেশ কঠিন। কারণ এই জন্য— একজন বিখ্যাত পরিসংখ্যানবিদের একটি গল্প আছে। জীবনের একটা সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি দ্বিধায় পড়েছিলেন— পূর্ব উপকূলে থাকবেন, নাকি পশ্চিম উপকূলে চলে যাবেন! সেই সময় এক সহকর্মী তাকে বললেন, ‘তুমি তো পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ! তুমি তো জানোই যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সম্ভাব্য সব পরিণতি বিবেচনা করে সেটাই বেছে নেওয়া, যেটার উপযোগিতা সর্বোচ্চ।’ পরিসংখ্যানবিদ বললেন, ‘তুমি বুঝতে পারছ না। এটা বাস্তবজীবন।’
ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল আরউইন জর্ডান বলেন, অনেক দিন আগে কালের অতলে হারিয়ে যাওয়া আমার নিজের সমাবর্তনের কথা বলি। সমাবর্তনের বিশেষ টুপি আর গাউন পরে বসেছিলাম। এমন সময় পাশে একজনকে আবিষ্কার করলাম, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চার বছরেও যার সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি। আমরা কথা শুরু করলাম।
তিনি বলেন, “একটা সময় মনে হলো— আমাদের কত পুরোনো বন্ধুত্ব। যেন অনেক দিনের সম্পর্ক। একদিকে সমাবর্তনের বোরিং বক্তৃতা চলছিল, অন্যদিকে আমরা আমাদের আশা, ভয়, অভিজ্ঞতা আর পরিবার নিয়ে কথা বলছিলাম। তারপর আবার যে যার পথে চলে গেলাম। সাধারণত বিচ্ছেদের সময় যে দুঃখবোধ থাকে, তার কিছুই সেখানে ছিল না। পরিস্থিতি আর পরিবেশটা যদি ঠিক হয়, তাহলে দুজন মানুষের সংযোগ অপ্রত্যাশিতভাবেই কতটা গভীর হতে পারে, সেদিন বুঝেছিলাম।” কেউ কেউ বলেন, এআই এমন এক নতুন যুগ নিয়ে আসবে, যা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো সমাধান করে দেবে। আবার কেউ বলেন, এটি মানবজাতিকে ক্রীতদাস বানিয়ে ফেলবে। এসব শুনে বিভ্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
ইমেরিটাস অধ্যাপক বলেন, এআই প্রযুক্তির প্রথমে সায়েন্স ফিকশনের মতো অবাক করা কিছু অগ্রগতির কথা তুলে ধরা। তারপর দুশ্চিন্তার বিষয়গুলোতে আসা। তবে আজ আমি ক্রমটা উল্টে দিতে চাই। কারণ এআই নিয়ে শঙ্কার শেষ নেই। তিনি বলেন, প্রথমত এটা স্পষ্ট যে, আগামী দশকে বহু চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কারণ এমনভাবে বদলে যাবে, যা আগে থেকে অনুমান করা খুব কঠিন। এর মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামারের চাকরিও আছে! অথচ এক দশক আগেও আমরা এটাকে সবচেয়ে নিরাপদ চাকরি মনে করতাম।
অধ্যাপক মাইকেল আরউইন জর্ডান বলেন, দ্বিতীয়ত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে একদম আমূল বদলে ফেলা প্রয়োজন। সদ্য গ্র্যাজুয়েট হিসেবে কথাটা হয়তো তোমাদের জন্য বেশ উদ্বেগের। তবে আশা করি তোমরা এতদিনে বুঝে ফেলেছ, শিক্ষা এমন কোনো বিষয় নয় যা একবার শেষ করলেই চুকে যায়। এ ছাড়া প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সময়ে শুরুর দিকে বৈষম্য বেশ প্রকট হবে। আমরা এখন যে বৈষম্য দেখছি, সম্পদের বৈষম্য তারচেয়েও বাড়বে। সুযোগের বৈষম্য তৈরি হবে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া লেখা ও ছবির বিস্তার বর্তমানে আমাদের সমাজকে ব্যাহত করছে। ভবিষ্যতেও এটা চলতে থাকবে।
তিনি বলেন, এ সমস্যাগুলোর কারণে সারাবিশ্বেই গণতন্ত্র— এমনকি এর অস্তিত্বই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। শ্রমবাজারের তোলপাড়, বৈষম্য ও ভুল তথ্যের ওপর ভর করেই গণতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনগুলো ডালপালা মেলবে। বাস্তবতার এই অস্বস্তিকর তালিকা দেখে মনে হতেই পারে— এত প্রযুক্তির দরকারই বা কি? আমি ১৯৬০-এর দশকে বড় হয়েছি। তাই এ ধরনের প্রতিক্রিয়া আমার মধ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই আসে। তবে আমি বলব— প্রযুক্তির অগ্রগতি আদতে আমাদের প্রয়োজন আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিজ্ঞাপনী বাজার ও ডিজিটাল বিপণনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই চালিত প্রোগ্রাম্যাটিক এড-বাইয়িং প্ল্যাটফর্ম অ্যাডজোইক (AdZoic)।
রাজধানীর বনানীতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি অভিজাত হোটেলে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সেলস ইন্টেলিজেন্স ও ডিজিটাল মার্কেটিংকে একসূত্রে বাঁধতে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘আম্ব্রেলাএক্স’ (Umbrellax)-এর সমন্বিত ইকোসিস্টেম উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে অ্যাডজোইক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্ত চ্যাটার্জী উল্লেখ করেন, প্রথাগত নিয়মে আন্দাজ নির্ভর বিজ্ঞাপন চালাতে গিয়ে উদ্যোক্তা ও ব্র্যান্ডগুলোর প্রচুর অর্থ ও সময় অপচয় হয়। ডিসেলস (DSales)-এর ডেটা ও সেলস ইন্টেলিজেন্সের শক্ত ভিত্তির ওপর নির্ভর করে নির্মিত অ্যাডজোইক (AdZoic) ব্র্যান্ডগুলোকে সঠিক ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
অ্যাডজোইক-এর প্রযুক্তিগত কৌশল ও কার্যক্রম উপস্থাপন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চিফ টেকনোলজি অফিসার টিপু আরবিদ জানান, অ্যাডজোইক (AdZoic) কোনো সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া এড ম্যানেজমেন্ট টুল নয়; এটি একটি ডিমান্ড-সাইড প্ল্যাটফর্ম (DSP)। কোনো থার্ড-পার্টি কুকির ওপর নির্ভর না করে এটি মাত্র ১০ মিলিসেকেন্ডের কম সময়ে সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১০০ মিলিসেকেন্ডের ডিজিটাল নিলামের মাধ্যমে সর্বনিম্ন খরচে সঠিক বিজ্ঞাপন নিশ্চিত করে।
ইভেন্টের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্ল্যাটফর্মটির অফিশিয়াল কাউন্টডাউন উন্মোচন করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্ত চ্যাটার্জী, ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে. এম. আমিনুর রহমান এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার টিপু আরবিদ।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে. এম. আমিনুর রহমান বিজ্ঞাপনী সংস্থা, পাবলিশার এবং ব্র্যান্ডগুলোকে এই এআই-নির্ভর নতুন ইকোসিস্টেমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান DSales-এর ছাতার নিচে গড়ে ওঠা AdZoic ও Umbrellax যৌথভাবে ডিজিটাল প্রোগ্রামেটিক বিজ্ঞাপন, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এবং সেলস অটোমেশনকে একটি স্মার্ট ড্যাশবোর্ডে নিয়ে এসেছে, যা এশিয়াজুড়ে ডিজিটাল ব্যবসার ধারা বদলে দিতে প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তিনটি সেক্টরের মধ্যে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন সেক্টর রংপুর জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এলজিইডি রংপুরের একটি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৯৯৫-৯৬ ইং সাল থেকে অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র পরিসরে পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রতিটি উপ-প্রকল্প প্রায় ১ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
বায় অধিদপ্তরের নিবন্ধনকৃত পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের দারিদ্র্য হ্রাসের মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য ও আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে উপ-প্রকল্প এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সাধন ত্বরান্বিত হয়েছে। এডিবি, ইফাদ, নেদারল্যান্ডের সহায়তা ও বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের সকল জেলায় জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প-২ এবং পুকুর-খাল উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সূত্র জানায়, এই তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮৩ কি. মি. খাল ও ২৬ কি. মি. এর অধিক বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে করে প্রান্তিক ও বর্গা চাষীদের প্রায় ৯ হাজার ৫’শ ৫০ হেক্টর জমি উপকৃত হয়েছে। এলজিইডি রংপুর সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় তিনটি উপ-প্রকল্প এবং তারাগঞ্জ ও পীরগাছা উপজেলায় চারটি নতুন উপ-প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রেগুলেটর নির্মাণের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় মিঠাপুকুর উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন সাতটি উপ-প্রকল্প, পীরগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন দুটি এবং পীরগাছা উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন চারটি নতুন উপ-প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে উপকারভোগী জনগণকে সদস্য করে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি গঠন করা হয়েছে, যা দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য আর্থিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।
এছাড়া, কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ, টেকসই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিসহ আয়বর্ধনমূলক বিভিন্ন হস্ত ও কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সমিতিগুলোর সার্বিক সহায়তার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, বীজ ও মাছের পোনা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
সারা দেশে পুকুর-খাল খনন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন কি. মি. খাল ও ৮’শ ৫০ হেক্টর জমি উপকৃত হয়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। সূত্র জানিয়েছে, গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে উপকারভোগী জমি ও কৃষক-কৃষাণী ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এতে করে জেলার সার্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় নিষিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি এবং পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শেখ তৈয়েব হোসেন নুরকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা সুপার মার্কেটের অভ্যন্তর থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া তৈয়েব হোসেন মৃত শেখ শাহাদাত হোসেন বাচ্চুর পুত্র, যিনি পাইকগাছা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
নাশকতা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তৈয়েব হোসেনের বিরুদ্ধে গোপনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
পাইকগাছা থানার ওসি আউওয়াল কবীর তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে ভারতকে পিছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন অবস্থানে রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অপরদিকে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ছিল ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যবধানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, এবং চীন পূর্বের মতো তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন শুল্ক নীতির চাপ মোকাবেলা করতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর ফলে গম, সয়াবিন বীজ, তুলা এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তও এই বাণিজ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অন্যদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যে কিছুটা অবনতি দেখা দিয়েছে। গত বছর থেকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন নিয়মকানুন ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয়, এবং এর বিপরীতে ভারতও কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য অন্য দেশে পাঠানোর বিশেষ সুবিধা তুলে নেয়।
সব মিলিয়ে, দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
সূত্র: ফার্স্টপোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ