রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৩ পি.এম
দেশের আমদানি ব্যবস্থাপনায় নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। নতুন নীতির অধীনে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের জন্য আমদানিযোগ্য সব ধরনের পণ্য নির্ধারিত মূল্যসীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ঋণপত্র খোলার প্রয়োজন ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে আমদানির মূল্য পরিশোধের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় কিছুটা নমনীয়তা সৃষ্টি হবে।
নতুন নীতির আওতায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে উপকরণ সংগ্রহের পাশাপাশি বিনা মূল্যে স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে। বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদন উপকরণ আমদানি ও সংগ্রহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ এ এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নতুন নীতির বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৯ সাল পর্যন্ত কার্যকর:
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এসআরও নম্বর ৩০৮-আইন/২০২৬, তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬-এর মাধ্যমে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ জারি করা হয়। নতুন আদেশটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে ওই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো আমদানি নীতি আদেশ জারি না হলে বর্তমান আদেশের বিধান পরবর্তী নতুন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
সরকারি গেজেটেও ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন নীতির ফলে আগামী কয়েক বছর দেশের আমদানি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি হবে প্রধান নীতিগত কাঠামো। আমদানিকারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক এবং অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে এ নীতির বিধান অনুসরণ করেই আমদানি ও সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পরিচালনা করতে হবে।
উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ:
নতুন আমদানি নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে আমদানির মূল্য পরিশোধের সুযোগ। আমদানি নীতি আদেশের অনুচ্ছেদ ৫(ম)-এ এ সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারেও বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে আমদানি লেনদেনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় প্রক্রিয়াগত নমনীয়তা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে লেনদেন পরিচালনার সুযোগ বাড়বে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, বিধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের জন্য সুবিধা যেমন তৈরি হবে, তেমনি ব্যাংকগুলোর জন্য যাচাই-বাছাই ও নথিপত্র সংরক্ষণের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কারণ নতুন নীতিতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিধিবিধান থেকে ব্যাংকগুলোকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
এলসি ছাড়াই মূল্যসীমা ছাড়া আমদানির সুযোগ:
নতুন নীতির সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের আমদানির ক্ষেত্রে। আমদানি নীতি আদেশের অনুচ্ছেদ ৬(৩) অনুযায়ী শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে আমদানিযোগ্য সব পণ্য নির্ধারিত মূল্যসীমার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ঋণপত্র না খুলে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানি করা যাবে।
এর ফলে আমদানিকারকদের জন্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য আমদানির ব্যবস্থা করা যাবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যক্রম দ্রুত করার সুযোগ দিতে পারে।
তবে এই সুবিধার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের পণ্য যেকোনো শর্তে আমদানি করা যাবে। আমদানি নীতি আদেশে পণ্যের শ্রেণি, নিষেধাজ্ঞা, নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান রয়েছে। ফলে এলসি না খুলে আমদানির সুযোগ থাকলেও আমদানি কারককে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব বিধান অনুসরণ করতে হবে।
রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থানীয় উপকরণ সংগ্রহে সুবিধা:
রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন আমদানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ২৫-এ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও সংগ্রহের বিধান বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ করা যাবে। একই সঙ্গে বিনা মূল্যে স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে।
রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও সময় কমানোর ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে উপকরণ সংগ্রহের এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় উপকরণ দ্রুত সংগ্রহ করা গেলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে সময়ের চাপ কিছুটা কমতে পারে।
এ ছাড়া অনুচ্ছেদ ২৫-এর আওতায় উৎপাদন উপকরণ আমদানি বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে বন্ডেড ওয়্যারহাউস পদ্ধতির প্রযোজ্যতা নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আমদানি ব্যবস্থাকে বন্ড সুবিধার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারীদের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে ৩০-এর পার্ট-জি অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলার অনুমতি ছিল। নতুন আমদানি নীতি আদেশের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওই সার্কুলারের সংশ্লিষ্ট পার্ট-জির বিধান প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধিত হিসেবে গণ্য হবে বলে নতুন সার্কুলারে জানানো হয়েছে।
এতে বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আমদানি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় নীতিগত সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগের নির্দেশনার সঙ্গে নতুন আমদানি নীতির কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে নতুন নীতির বিধানকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ব্যাংকের ওপর বাড়ল দায়িত্ব:
নতুন আমদানি নীতিতে আমদানিকারকদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব কমেনি। বরং আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির সময় আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, পণ্য আমদানি বা স্থানীয়ভাবে উপকরণ সংগ্রহসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে আমদানি নীতি আদেশের বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থায় অনুসৃত বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নতুন আমদানি নীতি আদেশের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
এর ফলে আমদানিকারকরা নতুন সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চুক্তি, পণ্যের বিবরণ এবং লেনদেনের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ এলসি বাধ্যতামূলক না থাকলেও ব্যাংকিং তদারকি পুরোপুরি বাদ যাচ্ছে না।
ব্যবসা সহজ করার পথে নতুন পদক্ষেপ:
নতুন নীতির মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো আমদানি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তা তৈরি করা। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে মূল্যসীমা ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে এলসি ছাড়া আমদানির সুযোগ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হিসাব পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বিকল্প তৈরি করেছে।
অন্যদিকে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের মাধ্যমে উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ রপ্তানিমুখী শিল্পের সরবরাহব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করবে।
তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, নথিপত্র যাচাই, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিধান এবং আমদানিকারকদের মধ্যে নতুন ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগের ওপর। একই সঙ্গে আমদানি নীতির অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক বিধানও সমানভাবে কার্যকর থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত কাঠামো:
২০২৬–২০২৯ মেয়াদের নতুন আমদানি নীতি আদেশকে শুধু আমদানি সহজ করার একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ তাৎপর্য পাওয়া যাবে না। এটি আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের আমদানি ব্যবস্থাপনা, শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ, বাণিজ্যিক আমদানি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের উপকরণ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত কাঠামো।
বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে এলসি ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে স্থানীয় উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহের বিধান ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন নমনীয়তা আনতে পারে। একই সঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের বিধানের সঙ্গে নতুন নীতির সমন্বয় রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সার্কুলারে তাই ব্যাংকগুলোকে শুধু নতুন নীতির বিষয়ে অবহিত করা হয়নি; বরং আমদানি ও স্থানীয় সংগ্রহসংক্রান্ত প্রতিটি লেনদেনে নতুন নীতির বিধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিদ্যমান বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন আমদানি নীতিতে একদিকে আমদানি প্রক্রিয়ায় নমনীয়তা বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ন্ত্রিত লেনদেন নিশ্চিত করার দায়িত্বও বহাল রাখা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত এই নীতির অধীনেই দেশের আমদানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যদি এর আগে নতুন কোনো আমদানি নীতি আদেশ জারি না হয়।
নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি লেনদেনে বিকল্প পদ্ধতি বাড়ানো, রপ্তানিমুখী শিল্পে উপকরণ সংগ্রহ সহজ করা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়ন্ত্রিত কাঠামো বজায় রাখা। এর ফলে আমদানি ব্যবস্থায় গতি ও নমনীয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়ায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষিকাজ অব্যাহত রাখতে সরকারের কাছে যথেষ্ট সার মজুত রয়েছে। তবে কৃষকদের মধ্যে সারের সুষ্ঠু ও যথাযথ বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
তিনি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জামালপুর জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সারের বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং কৃষকের স্বার্থে পর্যাপ্ত সার মজুত রেখেছে। তাই সারের সংকট নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় জনবল ও যানবাহন সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, মাদক সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এবং যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন, এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল হক, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এবং ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণ বিশেষ করে সারের সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন।
রোববার বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়।
বৈঠকে কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য সচিবালয়ের ষষ্ঠ তলায় যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে ওঠেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজারের পেন্নাই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার মেম্বার মধ্যরাতে দলবল নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করার পর গণপিটুনিতে নিহত হন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের (জাহাঙ্গীর গ্রুপ) একটি অংশ চাঁদা না পেয়ে তাঁকে হত্যা করেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজারের উত্তর পেন্নাই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (মেম্বার) সাবেক এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই সম্পর্কের সুবাদে তিনি এমপির প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয় জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাতেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। আনোয়ারের দখলে ছিল এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার একক আধিপত্য। ২০২৩ সালে ড্রেজারের অভিযানে গেলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িতে হামলা করেন আনোয়ার ও তাঁর বাহিনী। তখন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি আইনের হাত থেকে বেঁচে যান।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকার বিজয়ী হওয়ার পর আনোয়ার মেম্বার এলাকা ছাড়েন। ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মধ্যরাতে এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর দ্বারা নির্যাতিত এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন।
১৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে আবারও দলবল নিয়ে গ্রামে আসেন আনোয়ার মেম্বার। এ সময় এলাকাবাসী তাঁর দলবলকে ধাওয়া দেয়, ফলে গণপিটুনিতে আনোয়ার মেম্বার নিহত হন।
উত্তর পেন্নাই গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ মাকসুদ মিয়া বলেন, "আনোয়ার ডাকাত আওয়ামী লীগের সময়ে মানুষকে মানুষই মনে করত না। জমি কিনলে, বাড়ি করলেও, দোকান দিলেও তাঁকে চাঁদা দিতে হতো। দলমত নাই, তাঁর কাছে সবাই নির্যাতিত ছিল। মধ্যরাতে সে দলবল নিয়ে হামলা করলে সাধারণ মানুষ বাঁচার জন্য প্রতিরোধ করলে সে গণপিটুনিতে আহত হয়ে মারা যায়।"
নিহত আনোয়ারের মেয়ের জামাতা শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার শ্বশুর আওয়ামী লীগ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে। আমার শাশুড়ি বাড়িতে থাকেন। রাতে আমার শ্বশুর বাড়িতে আসলে তাঁকে আওয়ামী লীগের (জাহাঙ্গীর গ্রুপের) নেতারা ১০ লাখ টাকার চাঁদার জন্য পিটিয়ে হত্যা করে। এখানে বিএনপির কেউ নেই। দুই গ্রুপই আওয়ামী লীগের।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঙ্গরা থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, "আনোয়ার মেম্বার নামের নিহত ব্যক্তি মধ্যরাতে দলবল নিয়ে গ্রামে হামলা দেয়। এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে সে নিহত হয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ এর মাধ্যমে যেন কোনো ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল স্পেসে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে সুরক্ষা প্রদান এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রস্তাবিত আইনের মূল লক্ষ্য। আইনটির অপব্যবহার রোধে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সরকার নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন বা গালিগালাজ এক নয়।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পরিমার্জনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শ গ্রহণ করবে।
আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, আইআরআইয়ের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আইআরআইয়ের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জন ফ্লুহার্টি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিরোধীদলগুলোর জন্য সর্বসম্মত নীতি ও আইনগত সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সাইবার বুলিং, সংগঠিত অপপ্রচার, যুব নেতৃত্ব ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা নিয়ে আলোচনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ