০৪:২৩ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তিরা আগের দিনেই সতর্কতা জানিয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ডারউইনের মারারা ওভালে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ একদিন হাতে রেখেই ৯ উইকেটের বিশাল জয় নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া চার উইকেট হারিয়ে বিপদে ছিল। তখন মহার্ঘ্য অনুভব করার মত একমাত্র ভরসা ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। পরদিন সকালে তিনি খুব বেশি সহযোগিতা পাননি। দ্বিতীয় সেশনে গ্রিন তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন, কিন্তু তাতেও অস্ট্রেলিয়ার পরাজয় ঠেকানো সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য ছিল, যা তারা ১৪.২ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে পূর্ণ করে।
এই জয়কে কেন্দ্র করে অধিনায়ক শান্ত মন্তব্য করেছেন, 'এটি এখন পর্যন্ত যেকোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়।' তাঁর কথাটি যথার্থ বলে ধরা হচ্ছে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েছে অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত বাংলাদেশ দল। এই বিশাল জয়ের ব্যবধান ক্রিকেট বিশ্বে সৃষ্টিকর্তা বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার মার্ক ওয়াহ এবং রিকি পন্টিং প্যাট কামিন্সের দলের এই হারকে 'লজ্জাজনক' উল্লেখ করেছেন।
ফক্স ক্রিকেটে সাক্ষাৎকারের সময় মার্ক ওয়াহ বলছেন, এটি দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় অঘটন, এমনকি এটি তাঁর স্মৃতিতে থাকা সবচেয়ে বড় অঘটন হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাব্বায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ের চেয়ে এটিকে বড় অঘটন বলে মনে করছেন।
ওয়াহ বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আমার মনে পড়া সবচেয়ে বড় অঘটন সম্ভবত এটি। কয়েক বছর আগে গাব্বায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল; সেটিও ছিল একটি অঘটন। কিন্তু এবার বিষয়টি আরও বড়। বাংলাদেশের সেরা দুই বোলার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম খেলছে না এবং র্যাঙ্কিংয়ের দিক দিয়েও পার্থক্য আছে; আর অস্ট্রেলিয়ার দলও পূর্ণ শক্তির ছিল। তাই এই হারটা সত্যিই বড়।'
রিকি পন্টিংও চ্যানেল সেভেনে মন্তব্য করেন, এটিকে 'খুবই লজ্জাজনক পরাজয়' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এবার অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের জন্য দলের পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসেছে।
আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বলছেন, 'দলে পরিবর্তন আনার কথা বলতে আমিই সবার শেষে আসি। অধিনায়ক বা খেলোয়াড় হিসেবে আমি সবসময় একই দলকে ধরে রাখতে চেয়েছি। কিন্তু পরিস্থিতি এতটা খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আমি বলতে শুরু করেছি যে কাউকে বাদ দেওয়া উচিত। এখানে আসার আগেই যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যে দলে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দিলে অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি কিছু হারাবে না।'
পন্টিং যোগ করছেন, 'হয়তো নতুন কোনো ওপেনারকে খেলানো যেতে পারে, কিংবা তিন নম্বরে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। আর এখানে যদি তারা হেরে যায়, তাহলে আমার মনে হয় সেটি করতেই হবে।'
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ম্যাথিউ হেইডেনও দলে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, স্যাম কনস্টাস ও ম্যাট রেনশকে আবার দলে ফেরানোর সময় এসেছে। একই সঙ্গে ট্রাভিস হেডকে ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে নামানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
হেইডেন বলেন, 'ওপেনিং (হেডের) সেরা পজিশন নয়। আমার মনে হয়, তার জন্য পাঁচ নম্বরই এখনো সবচেয়ে ভালো। অ্যালেক্স ক্যারিকে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো উচিত নয়।'
আরও পড়ুন: মাদরাসা বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র একীভূত করার পরিকল্পনা সরকারের
তিনি আরও বলেছেন, 'সবকিছুই একটু অস্থির ও অনিশ্চিত মনে হচ্ছে। কিন্তু আমরা কেন এমন অবস্থায় আছি? অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট এত শক্তিশালী যে, আমার মতে, এমন পরিস্থিতিতে থাকার কথা নয়। তবে কাকে বেছে নেওয়া হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। আপনি কি ম্যাচ খেলার ছন্দে থাকা খেলোয়াড়দের বেছে নেবেন, নাকি প্রতিভার ভিত্তিতে দল সাজাবেন? যেমন, স্যামি কনস্টাসের মতো একজনকে?'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন