ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ রাতের আকাশে দেখা মিলবে গ্রীষ্মের প্রথম পূর্ণিমার ‘স্ট্রবেরি মুন’


আজ রাতের আকাশে দেখা মিলবে গ্রীষ্মের প্রথম পূর্ণিমার ‘স্ট্রবেরি মুন’

গ্রীষ্মের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদ এখন আকাশে দেখা যাচ্ছে। চমৎকার এবং অপরূপ এই চাঁদের নাম ‘স্ট্রবেরি মুন’ রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাতেও এই সুন্দর চাঁদ টিকে আকাশে আলোকিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন সময় (ET) অনুযায়ী, সোমবার রাত ৭টা ৫৭ মিনিটে চাঁদটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সেই সময়টির অবস্থা ছিল আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫৭ মিনিট। তখন এটি তার সর্বোচ্চ আলো ছড়িয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার রাতে রাতের আকাশে এই চাঁদের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।

উত্তর গোলার্ধে, এই চাঁদটি এ বছরের সবচেয়ে নিচু পথ ধরে আকাশে উঠবে। দক্ষিণ গোলার্ধে এটি সবচেয়ে উঁচু পথ ধরে চলবে। এবারের ‘স্ট্রবেরি মুন’ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করছে, এজন্য বিজ্ঞানীরা একে ‘মাইক্রোমুন’ বলছেন। এটি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম চাঁদ হিসেবে পরিচিত। তবে চাঁদটি কিছুটা ছোট হলেও খালি চোখে এই পার্থক্য খুব একটা ধরা পড়ে না।

আরও পড়ুন: লালন সাঁইয়ের দর্শনে মানবতা ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বান : খাদ্যমন্ত্রী

চাঁদটি ভালোভাবে উপভোগ করার জন্য বিজ্ঞানীরা একটি পরিষ্কার এবং অন্ধকার জায়গা বেছে নিতে বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, বড় দালান বা গাছপালার বাধা নেই—এমন জায়গা থেকে চাঁদটি সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।

চাঁদের এই ‘স্ট্রবেরি’ নামটি আমেরিকার আদিবাসী আলগনকুইন উপজাতির দেওয়া। কারণ, বছরের এই সময় তারা স্ট্রবেরি বা বেরি জাতীয় ফল ঘরে তুলত। তাই চাঁদের এমন নামকরণ করা হয়েছে।

অনেকেই ভাবতে পারেন চাঁদের রঙ হয়তো পরিবর্তিত হয়। আসলে, চাঁদটির আসল রঙ কখনো বদলায় না। সূর্যের আলো চাঁদে পড়ে পৃথিবীতে আসার সময় আমাদের বায়ুমণ্ডল পার হয়ে যায়। বায়ুমণ্ডলের অবস্থা ও বায়ু দূষণের কারণে আমাদের চোখে চাঁদের রঙে পরিবর্তন নজরে আসে।

সামনেই নাসার ‘আর্টেমিস’ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে আবার মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তাই চাঁদ দেখা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এ বছরে আরও ছয়টি পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যাবে। বাকি পূর্ণিমাগুলো হলো: ২৯ জুলাই: বাক মুন, ২৮ আগস্ট: স্টারজন মুন, ২৬ সেপ্টেম্বর: হারভেস্ট মুন, ২৬ অক্টোবর: হান্টারস মুন, ২৪ নভেম্বর: বিভার মুন এবং ২৩ ডিসেম্বর: কোল্ড মুন।

আরও পড়ুন: শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনে কার্যকর রোডম্যাপের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নূরের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘কাছের লোক’ দাবি করা ব্যক্তিদের পাত্তা না দিতে সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫০ এম


নূরের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘কাছের লোক’ দাবি করা ব্যক্তিদের পাত্তা না দিতে সতর্কবার্তা

প্রখলিত বিষয় হিসেবে, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর অত্যন্ত জরুরি এক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'রাস্তা-ঘাট, বিভিন্ন অফিস কিংবা প্রতিষ্ঠানে সৌজন্যবশত তোলা ছবি দেখিয়ে যেসব ব্যক্তি নিজেকে তার “কাছের লোক” হিসেব দাবি করেন, তাদের প্রতি সচেতন থাকতে হবে।' এর মধ্য দিয়ে তিনি ছবির মাধ্যমে পরিচয় ও সুবিধা লাভের জন্য কিছু লোকের অপব্যবহার সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টার পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটাসটি দেন। তিনি এই স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, 'অফিস, রাস্তা-ঘাট কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা হলে অনেকেই ছবি তোলার অনুরোধ করেন। সৌজন্যতা ও মানবিকতার জায়গা থেকে আমরা তাদের সঙ্গে ছবি তুলি। তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, অনেকেই সেই ছবি দেখিয়ে নিজেদের আমার কাছের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন।' এর পাশাপাশি নূর আরো বলেন, 'এ ধরনের দাবি বা পরিচয়ে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন এবং এসব বিষয়ে পাত্তা না দেন—সবাইকে সেই অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মায় বালু উত্তোলন ঠেকাতে লাঠিসোঁটা হাতে গ্রামবাসীর পাহারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০০ এম


পদ্মায় বালু উত্তোলন ঠেকাতে লাঠিসোঁটা হাতে গ্রামবাসীর পাহারা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের রানিনগর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ইজারাদারপক্ষের। সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ নদীপাড়ে অবস্থান নিয়ে বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে লাঠি ও শনকি নিয়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রানিনগর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য আসেন। স্থানীয় কয়েকজন তাদের এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা নদীপাড়ে জড়ো হন। খবর পেয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তারা নদীরক্ষা বাঁধসংলগ্ন এলাকায় আবাস গড়ে তুলেছেন। এর আগেও একাধিকবার উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কাছে বাঁধের কাছ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে কিন্তু তা কার্যকর করা হয়নি। তাদের আশঙ্কা, বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন হলে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও নদীরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।

রানিনগর এলাকার বাসিন্দা বাবুল আক্তার ও চরচাকলা গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, তারা একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। এখন বাঁধের পাশেই বসবাস করছেন। তাই বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন কোনোভাবে তারা মেনে নেবেন না।

স্থানীয় কলেজছাত্র মুশা হক বলেন, সকালে কিছু ট্রলার, নৌকা ও একটি ড্রেজার নিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে বাধা দিলে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দিনভর কয়েক হাজার মানুষ নদীপাড়ে অবস্থান করে।

কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরামুল হোসাইন বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, ইজারাদারপক্ষ বালু উত্তোলন করতে এলে গ্রামবাসী বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেকর্ডের সামনে নাগেলসমান, ধুঁকছে প্যারাগুয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০১ এম


রেকর্ডের সামনে নাগেলসমান, ধুঁকছে প্যারাগুয়ে

দীর্ঘ এক যুগ পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফেরার আনন্দ আর নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি নিয়ে মাঠে নামছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত আড়াইটায় বস্টনে রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।

টানা দুটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের হতাশাকে পেছনে ফেলে জার্মানি এবার নকআউট ধাপে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জার্মানি ১-০ গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিল। এরপর ২০১৩ সালে এক প্রীতি ম্যাচে দুই দল ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল।

দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ফের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়ার আগে জার্মানি শিবিরে বইছে আত্মবিশ্বাসের হাওয়া। চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জার্মানরা ১০টি গোল করেছে, যেখানে গোল পেয়েছেন সাতজন আলাদা খেলোয়াড়। দলের সম্মিলিত এই পারফরম্যান্স নকআউট ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে চায় তারা।

জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৩৮ বছর ৩৪১ দিন বয়সে তিনি যখন ডাগআউটে দাঁড়াবেন, তখন গত ৪০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বকনিষ্ঠ কোচ হিসেবে রেকর্ড গড়বেন তিনি। এর আগে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অঁরি মিশেল তার চেয়ে কম বয়সে নকআউটের ডাগআউট সামলেছিলেন।

অন্যদিকে, পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা প্যারাগুয়ে খেলছে ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে। নিজেদের ইতিহাসে নকআউট পর্বে তারা এখন পর্যন্ত কোনো গোল করতে পারেনি। ২০১০ সালে জাপানের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জয়ই তাদের শেষ ১৬-এর সেরা সাফল্য।

তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে খেলা নিজেদের আগের চারটি ম্যাচেই হেরেছে তারা এবং সেই সব ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারার আক্ষেপ তাদের সঙ্গী হয়েছে।

পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্মের বিচারে জার্মানি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বে অঘটন ঘটাতে ওস্তাদ অনেক দলই।

তবে ১২ বছর পর নকআউটের স্বাদ পাওয়া জার্মানি সেই ২০১০ সালের সেমি-ফাইনালের হারের পর থেকে নিজেদের সবশেষ ৯টি নকআউট ম্যাচের আটটিতেই জয় তুলে নিয়েছে।

তাহলে আজকের ম্যাচেও নিজেদের দাপট অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি। প্যারাগুয়ে কি পারবে নিজেদের গোলখরা কাটিয়ে নতুন কোনো ইতিহাস লিখতে, নাকি জার্মানির আক্রমণের সামনে আবারও মাথানত করবে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি, সেটির উত্তর মিলবে বস্টনের মাঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই’শ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক থেকে স্টেট সিনেটর, এমডি মাসুদুর রহমানের উত্থানের গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৩ এম


দুই’শ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক থেকে স্টেট সিনেটর, এমডি মাসুদুর রহমানের উত্থানের গল্প

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট রাজ্যের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমানের পথচলা যেন এক অভিবাসীর স্বপ্ন পূরণের গল্প। বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়া এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক আজ কানেকটিকাটের মূলধারার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করা এমডি মাসুদুর রহমান বর্তমানে কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ৪র্থ জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন। এই জেলার আওতাভুক্ত রয়েছে ম্যানচেস্টার, গ্ল্যাস্টনবারি, অ্যান্ডোভার ও বোল্টন শহর।

২০২২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রথমবার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি তৃতীয়বারের মতো একই পদে নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের রাজনৈতিক যাত্রা ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন এবং জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তার শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না।

তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলাম মাত্র কয়েকশ ডলার ও একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে। শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিভিন্ন কাজ করেছি, সংগ্রাম করেছি। কিন্তু লক্ষ্য ঠিক থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”

যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর প্রথমে নিউইয়র্কে অবস্থান করলেও পরে কানেকটিকাটে স্থায়ী হন তিনি। জীবনের শুরুতে বিভিন্ন সাধারণ কাজ করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।

পরবর্তীতে তিনি স্বাস্থ্যসেবা, আমদানি-রপ্তানি, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কানেকটিকাটে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্যবসায় সফলতার পর সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এমডি রহমান। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন।

রাজনীতিতে আসার পেছনে কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বের অভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এমডি রহমান বলেন, “আমি দেখেছি আমাদের কমিউনিটি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব খুব কম। স্টেট সিনেট, কংগ্রেস বা গুরুত্বপূর্ণ পদে আমাদের উপস্থিতি ছিল না। তখন মনে হয়েছে, আমাদের কাউকে এগিয়ে আসতে হবে।”

ডেমোক্রেটিক পার্টির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যুক্ত হন। স্থানীয় রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পান তিনি।

২০২২ সালে স্টেট সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ওই সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করতে হয়েছিল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এক রাজনীতিবিদকে।

তিনি বলেন, “অনেকে বলেছিলেন এটি বড় একটি পদ, ছোট জায়গা থেকে শুরু করা উচিত। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নেতৃত্বের জন্য বড় লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন।”

নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর এমডি রহমান সিনেটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বর্তমানে কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান। এছাড়া বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, অর্থ ও বিচার বিষয়ক কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তার নেতৃত্বে আবাসন সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।

এমডি রহমান বলেন, “জনগণের জীবন সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করাই আমাদের কাজ। মানুষের জন্য কাজ করলে মানুষ তার মূল্যায়ন করে।”

বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি আশাবাদী। তার মতে, শুধু ব্যবসা বা চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলাদেশিদের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের কণ্ঠস্বর শক্ত করতে হলে রাজনীতিতে অংশ নিতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্টেট ও ফেডারেল পর্যায়ে আমাদের প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন।”

বাংলাদেশের তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সফলতার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস জরুরি।

“আপনি কতবার ব্যর্থ হলেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কতবার উঠে দাঁড়ালেন,” বলেন তিনি।

চাঁদপুরের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটে জায়গা করে নেওয়া এমডি মাসুদুর রহমানের গল্প এখন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%