০৮:৩০ এম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশের দূরপ্রাচ্যের কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরে প্রথমবার গিয়েছেন। এ সফরে দ্বীপপুঞ্জটির দাবিদার জাপান ‘তীব্র’ প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুতিন দ্বীপপুঞ্জটি সফর করেন। মস্কো থেকে এএফপি বার্তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জাপানে এসব দ্বীপ ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো দখল নিয়ে নেয়।
আরও পড়ুন: বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা: চীনের চার ব্যাংক শীর্ষে
ক্রেমলিনের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিন একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শন করেছেন। রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে তাকে ক্যাভিয়ার পরিবেশন করা হয়।
পুতিন কাছের রুশ দ্বীপ সাখালিন সফরের পরে কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যান। সাখালিনে রাশিয়ার নৌবাহিনী সামরিক মহড়া পরিচালনা করছিল।
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি জানিয়েছে, সাখালিনে পুতিন ‘রাশিয়ার পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’ নিয়ে একটি বৈঠক করেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর দুই দেশের সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটেছে। একই সময়ে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় গ্রেপ্তার ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে
এ পরিস্থিতিতে জাপান পুতিনের সফরের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনেও জাপানের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সফরের বিরুদ্ধে জাপান সরকার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন হোক্কাইডোর উত্তরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয়। তারপর থেকে সেখানে মস্কো সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
২০১০ সালে তখনকার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বিতর্কিত ভূখণ্ডটি সফরকারী প্রথম রুশ নেতা। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কয়েকবার সেখানে সফর করেন।
বিতর্কিত চারটি দ্বীপ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অংশ। এই দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়া কামচাটকা উপদ্বীপ থেকে দক্ষিণে জাপানের প্রধান উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডো পর্যন্ত বিস্তৃত।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার দাবি: ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত
১৯৪৫ সালের ৮ আগস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর মাত্র তিন দিন আগে হিরোশিমায় পরমাণু বোমা হামলা হয়েছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার ছয় দিন আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন এ যুদ্ধ ঘোষণা করে।
দুই দেশেই দ্বীপগুলোর নাম প্রায় একই। রুশ ভাষায় এগুলো কুনাশির, হাবোমাই, শিকোতান ও ইতুরুপ। জাপানি ভাষায় এগুলো কুনাশিরি, হাবোমাই, শিকোতান ও এতোর্ফু নামে পরিচিত।
প্রায় ২০ হাজার রুশ নাগরিক কঠোর আবহাওয়ার মধ্যে এসব দ্বীপে বসবাস করেন। তবে দ্বীপগুলোতে সোনা ও রুপাসহ খনিজ সম্পদের উপস্থিতি রয়েছে। একই সঙ্গে এতে সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদও রয়েছে।
১৯৪৫ সালে দ্বীপগুলো দখল করার পর মস্কো সেখানে বসবাসকারী প্রায় ১৭ হাজার জাপানি নাগরিককে বিতাড়িত করে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
এরপর স্নায়ুযুদ্ধের সময় দ্বীপগুলো কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করে। যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপানের মুখোমুখি অবস্থানে সোভিয়েত ইউনিয়ন সেখানে বিমান ও নৌঘাঁটি স্থাপন করেছে।
বিভিন্ন সময়ে টোকিও ও মস্কোর মধ্যে চলমান আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। ১৯৫৬ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ বিতর্কিত দ্বীপগুলোর দুটি জাপানের কাছে ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আলোচনা আবার শুরু হলেও কোনো অগ্রগতি ঘটেনি।
আরও পড়ুন: এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না: আখতার হোসেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন