০৯:৪৪ পি.এম
প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে হঠাৎ ভেসে ওঠে একটি সাবমেরিন। কিছু সেকেন্ডের মধ্যে আকাশ চিরে ছুটে যায় একটি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র। এতে কোন বিস্ফোরক ছিল না। কিন্তু বিস্ফোরণের শব্দ ছাড়াই এই একটিমাত্র উৎক্ষেপণ যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, চীন কি শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, নাকি পুরো বিশ্বের উদ্দেশে শক্তির বার্তা পাঠিয়েছে?
গেলো সোমবার, চীন পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি সাবমেরিন থেকে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম উৎক্ষেপণ করে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ছিল বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ। এই পরীক্ষায় কোন নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে পরিচালনা করা হয়নি এবং ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কোন পারমাণবিক ওয়ারহেডও ছিল না। সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
তবে উদ্বেগের একটি ভিন্ন দিক রয়েছে। এটি ছিল প্রায় দুই বছর পরে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের প্রথম আইসিবিএম পরীক্ষা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশেষ ধরনের হতে পারে, যা চীনের উপকূল থেকে উৎক্ষেপণ করেও যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া গত মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্রটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে। এই ছবিটি দেখে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, এটি জেএল-৩ অথবা জেএল-২ শ্রেণির সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। বিশেষ করে জেএল-৩-এর পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। অর্থাৎ, পৃথিবীর বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুতে এটি পৌঁছাতে পারে। চীনের রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস ও এ তথ্য জানায়।
আরও পড়ুন: সাদিক কায়েম: ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে
এবং এখানেই আন্তর্জাতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের সেই অঞ্চলে, যেটিকে ১৯৮৬ সালের রারোটোঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। চীন নিজেও পরে সেই চুক্তির সংশ্লিষ্ট প্রটোকলে সম্মতি জানিয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র, টমি পিগট জানায়, বিশ্ব যখন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তখন চীন ঠিক উল্টোপথে হাঁটছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য, বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজও এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, এত বড় ধরনের সামরিক পরীক্ষা চালানোর আগে প্রতিবেশী দেশগুলোকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জানানো হয়েছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরী হয়েছে।
নিউজিল্যান্ড একে অনাকাঙ্ক্ষিত বলেছে এবং তাইওয়ানের দাবি, এটি ভয় দেখানোর একটি কৌশল। এমনকি চীনের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত সলোমন দ্বীপপুঞ্জের প্রধানমন্ত্রী ম্যাথিউ ওয়ালে বলেছেন, বন্ধু হলে, তাহলে ভয় দেখানোর প্রয়োজন নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষার সময়সূচী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়া ও ফিজি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করছিল। অনেকের ধারণা, সেই প্রেক্ষাপটে চীন তার সামরিক সক্ষমতার একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে। তবে বেইজিং সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, এটি ছিল নিয়মিত সামরিক মহড়ার অংশ এবং পুরো প্রক্রিয়া নিরাপদ ও পেশাদারভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: খাদ্যমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন