ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্প প্রশাসনে শীর্ষ পদ থেকে বিদায় নিচ্ছেন নারীরা


ট্রাম্প প্রশাসনে শীর্ষ পদ থেকে বিদায় নিচ্ছেন নারীরা

কিম্বার্লি গিলফয়েলের বিদায়ের ঘটনা ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। চলতি সপ্তাহের মধ্যে তিনি গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারির প্রথম সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচারকালে তার বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে গিলফয়েলের এই বাধ্যতামূলক পদত্যাগ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের একটি বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসন ছেড়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই নারী—তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন অথবা তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর শীর্ষপদ থেকে বিদায় নেওয়া সর্বশেষ নারী গিলফয়েল। এর আগে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন আট নারী কর্মকর্তার মধ্যে চারজন পদত্যাগ করেন অথবা বরখাস্ত হন। তারা হলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, শ্রমমন্ত্রী লরি শাভেজ-দেরেমার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি এল. নোয়েম এবং জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড। তাদের প্রত্যেকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পুরুষ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগের অনুমোদন নিয়ে ভোটাভুটির আগে নিজের এক লাখ ডলারের আমেরিকান এক্সপ্রেস বিল পরিশোধ করতে এক দাতাকে অনুরোধ করেছিলেন গিলফয়েল। এরপর তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, গিলফয়েল ‘ভালো কাজ করলেও’ প্রতিবেদনে যা পড়েছেন তা তার ‘পছন্দ হয়নি’।

গিলফয়েল ট্রাম্পের অন্যতম একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। একসময় তার বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে গিলফয়েলের বাগ্‌দানও হয়েছিল। তা সত্ত্বেও গিলফয়েলের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে যান ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তিনি আমার পরিবারের সদস্য ছিলেন না।’ এরপর যোগ করেন, ‘আমার মনে হয়, অনেক আগে তিনি আমার ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।’

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকা নারী কর্মকর্তারা পুরুষদের তুলনায় বেশি বিতর্কে জড়ান—এমন কোনো চিত্র নেই। বরং তার মনোনীত পুরুষ কর্মকর্তারাও বারবার সমালোচনা ও তাদের অপসারণের দাবির মুখে পড়েছেন।

এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলকে তার আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপান, বান্ধবীর নিরাপত্তায় সোয়াট দল নিয়োগ এবং ব্যক্তিগত কাজে সরকারি বিমান ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও বিচার বিভাগের প্রকাশ করা নথিতে উঠে এসেছে। যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের মালিকানাধীন ব্যক্তিগত দ্বীপে যারা গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে লুটনিকের নাম রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপে কথোপকথনের সময় গোপন যুদ্ধপরিকল্পনা প্রকাশ করে ফেলেছিলেন। ওই কথোপকথনে অনিচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন দ্য আটলান্টিক সাময়িকীর সম্পাদক জেফরি গোল্ডবার্গ।

ওই ঘটনার পর ট্রাম্প একজন পুরুষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ, যিনি ওই কথোপকথনে সাংবাদিককে যুক্ত করেছিলেন। তবে ওয়াল্টজের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুব কঠোর ছিল না। তাকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ ট্রাম্প এ পদে কংগ্রেসে তার দীর্ঘদিনের নারী মিত্র এলিস স্টেফানিককে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

নিজেকে ‘আল্ট্রা মাগা’ যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়া স্টেফানিক শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে দিশাহারা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করেন।

প্রেসিডেন্টের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের শীর্ষ পদ থেকে একই লিঙ্গের এতজনের বিদায় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক।

আরও পড়ুন: উটের প্রস্রাবেই সারবে ক্যানসার? সৌদি ভাইরাল দাবির সত্যতা জানাল

রিগ্যানের আমল থেকে মার্কিন প্রশাসনে বৈচিত্র্যের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের অনাবাসিক ফেলো ক্যাথরিন ডান টেনপাস। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি, যেখানে মন্ত্রিসভা থেকে প্রথম দফায় বিদায় নেওয়া সবাই একই লিঙ্গের—সবাই নারী।’

শীর্ষ পর্যায়ে নারী

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প যখন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিচ্ছিলেন, তখন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারীও ছিলেন। তিনি সুসি ওয়াইলসকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ নিয়োগ করেন। মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনিই প্রথম নারী। ক্যারোলিন লেভিটও ছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি। দুই ছোট সন্তানের লালন-পালনের জন্য গত আগস্টে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন আরেক নারী কেটি জাকারিয়া।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশাসন গঠন করেছেন। তার অসাধারণ দলের প্রত্যেক সদস্যকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিষয়কেই মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে—তারা মার্কিন জনগণের জন্য কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।’

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

তিনি আরও বলেন, ‘পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিতে আচ্ছন্ন ডেমোক্র্যাটদের মতো নন প্রেসিডেন্ট। তিনি মানুষের অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেন।’

গত বছর নারী ইতিহাস মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে রিপাবলিকান দলের কোনো প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভার তুলনায় আমার মন্ত্রিসভায় নারীর সংখ্যা বেশি।’

এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন পদগুলোতে মাত্র চারজন নারী দায়িত্বে রয়েছেন।

অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন ছেড়ে যাওয়া নারী কর্মকর্তারা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বলে মনে হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক

এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়টি সামাল দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় পাম বন্ডি সমালোচনার মুখে পড়েন। কংগ্রেসের শুনানি ও টেলিভিশনেও তার ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না ট্রাম্প।

কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যও ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করার পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে, ট্রাম্পের অনুমোদনে সরকারের কয়েক কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছিল বলে তার দেওয়া বক্তব্যটি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই বিজ্ঞাপনগুলোতে নোয়েমকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে নোয়েমের এই বক্তব্য অস্বীকার করেন ট্রাম্প।

তুলসি গ্যাবার্ড অসুস্থ স্বামীর দেখাশোনার জন্য পদত্যাগ করলেও তার এ ঘোষণা এমন এক সময়ে আসে, যখন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসন্ন হুমকি তৈরি করেছিল—ট্রাম্পের এমন দাবির পক্ষে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ট্রাম্প ওই দাবি করেছিলেন। এ বিষয়ে গ্যাবার্ডের অবস্থান নিজের তুলনায় ‘অনেক বেশি নমনীয়’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

লরি শাভেজ-দেরেমার পদত্যাগ করেন একাধিক অভিযোগের জেরে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে। অভিযোগ ছিল, তার দপ্তরে বিষাক্ত কর্মপরিবেশ ও চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছিল। এ ছাড়া এক কর্মীর সঙ্গে অনুচিত সম্পর্কে জড়ানো এবং ব্যক্তিগত কাজে সরকারি অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন: ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র দুই নেতার আটকাদেশ দুই দিন বৃদ্ধি

তবে নারী মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিদায়ে ট্রাম্পের কট্টর সমালোচকদের কেউ কেউ সন্তোষ প্রকাশ করলেও বিষয়টিতে স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ড দেখেছেন বলে সমালোচনা করেছেন।

পাম বন্ডি ও ক্রিস্টি নোয়েমের বিদায়ের পর প্রেসিডেন্টের পরবর্তী লক্ষ্য কে হতে পারেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ‘তাহলে কি তার কাছে আর কোনো নারী নেই?’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পকে দেখে মনে হয়, নারী মন্ত্রীদের বরখাস্ত করার সামর্থ্যই শুধু তার আছে।’

টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেসমিন ক্রকেটও পিট হেগসেথকে পরবর্তী বিদায়ী কর্মকর্তা হিসেবে দেখতে চান বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন। প্রেসিডেন্টের বিদ্রূপের নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু এই আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের আচরণ প্রসঙ্গে লেখেন, ‘আমি একটা ধরন দেখতে পাচ্ছি। অযোগ্য নারীদের তিনি অযোগ্য পুরুষদের তুলনায় অনেক দ্রুতই বিপাকে ফেলে দেন।’

গত এপ্রিলে কংগ্রেসের এক শুনানিতে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মেডেলিন ডিন নারী-পুরুষের এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে বাণিজ্য সচিব লুটনিককে তুলাধোনা করেন এবং যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন।

ডিন জানতে চান, ‘এপস্টিনের সঙ্গে আপনার যে সম্পর্ক ছিল, তা এখনো অব্যাহত থাকায় প্রেসিডেন্ট কি উদ্বিগ্ন?’ জবাবে লুটনিক বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার যেসব কথোপকথন হয়, সেগুলো নিয়ে আমি আলোচনা করব না।’

এরপর ডিন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্যকে বরখাস্ত করেছেন—তিনজনই নারী। জেফরি এপস্টিনকে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যদি সামান্যতম উদ্বেগও থাকে, তাহলে আপনাকেও বরখাস্ত করা উচিত।’

ইন্ডিপেনডেন্ট উইমেনস ল সেন্টারের পরিচালক মে মেইলম্যান অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অনেক প্রভাবশালী নারী দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের দুই মেয়াদেই হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি সুসি ওয়াইলসের পাশাপাশি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এরিকা শোয়ার্টজ এবং বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলনের কথা উল্লেখ করেন।

মেইলম্যান বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনে কনজার্ভেটিভ নারীদের নিঃসঙ্গতা নেই, বরং এখানে তাদের ক্ষমতায়ন হচ্ছে। নারী হিসেবে নয়, নিজের যোগ্যতায়ই আপনি দলের অপরিহার্য সদস্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীতাকুণ্ডে ক্র্যাশ প্রোগ্রামে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি কমেছে, ঝুঁকি কাটেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ এম


সীতাকুণ্ডে ক্র্যাশ প্রোগ্রামে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি কমেছে, ঝুঁকি কাটেনি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর 'হটস্পট' হিসেবে ঘোষণার পর বিশেষ সাত দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সম্পন্ন হওয়ার পর হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে বিভিন্ন হাসপাতালে গড়ে ১৩ দশমিক ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এটি কমে ১০ দশমিক ৭৯ জনে নেমে এসেছে। রোগী ভর্তির এই নিম্নমুখী প্রবণতায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে নতুন করে মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স জানিয়েছেন, ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তখন দৈনিক গড় ভর্তি ছিল ১৩ দশমিক ৭৬ জন। অপরদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্র্যাশ প্রোগ্রামের পর ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন ভর্তি হয়েছেন ২০৫ জন, যেখানে দৈনিক গড় ১০ দশমিক ৭৯ জন। অর্থাৎ, দুই সময়ের হিসাব অনুযায়ী হাসপাতালে রোগী ভর্তির দৈনিক গড় প্রায় তিনজন কমেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক ফখরুল ইসলাম জানান, ওয়ার্ডগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কও দূর হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ হলেও ঝুঁকি এড়াতে পৌর এলাকায় আবারও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ফগার ও স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো হবে।”

গত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো সীতাকুণ্ডকে 'হটস্পট' হিসেবে ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ২৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ ক্র্যাশ কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে উপজেলায় ৫১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাতটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু হয়।

এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা, ড্রেন, ডোবা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে লার্ভিসাইড প্রয়োগের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সামাজিক ও যুব সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক মাইকিং পরিচালনা করা হয়।

চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তনয় মজুমদার বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি জানান, আগে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কলেজ রোড ও লোকনাথ মন্দির এলাকার মতো স্থানগুলোতে এখন নতুন করে রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে কেবল হাসপাতালে রোগী ভর্তি কমাকে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত কমার হার ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ হলেও বেসরকারি ল্যাব ও হাসপাতালের তথ্যে এই হার ৮ শতাংশ। তবে উভয় পরিসংখ্যানের সময়সীমা ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনা করার সুযোগ সীমিত।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি রোগী কমলেও এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে প্রজননস্থল ধ্বংসের অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, উঠান, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পেতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন ওষুধের স্প্রের পাশাপাশি আক্রান্তের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ ও রেড জোনগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতার নিউমার্কেটে আবাসিক হোটেল খুলতে শুরু, রয়ে গেছে অগ্নিঝুঁকি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ এম


কলকাতার নিউমার্কেটে আবাসিক হোটেল খুলতে শুরু, রয়ে গেছে অগ্নিঝুঁকি!

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য পরিচিত আবাসিক হোটেলগুলো খুলতে শুরু করেছে। কলকাতা হাইকোর্ট হোটেলমালিকদের করা মামলায় ১৩টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ খারিজ করে দেওয়ার পর একে একে চালু হচ্ছে হোটেলগুলো। দুর্গাপূজার আগে হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় মালিক, কর্মী ও বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গত আগস্ট মাসে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন। ওই ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পৌরসভা ও দমকল বিভাগ তৎপর হয়। নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত হওয়ায় বেশ কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে হোটেলমালিকদের একাংশের দাবি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ব্যবসায়ীরা। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৩টি হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। এরপর বন্ধ থাকা হোটেলগুলো আবার চালুর পথ খুলে যায়।

হোটেল ম্যানেজাররা জানান, দুর্গাপূজার কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতাদের সাড়া ভালো রয়েছে। কয়েক দিন ব্যবসা কিছুটা খারাপ গেলেও বর্তমানে আবার গ্রাহক আসছেন। পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

প্রায় দুই মাস হোটেল বন্ধ থাকায় মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তবে মধ্য কলকাতার মার্ক স্ট্রিট, রফি আহমেদ, কিদে স্ট্রিট ও সাদার স্ট্রিটসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বন্ধ হয়ে যাওয়া আবাসিক হোটেলগুলো আবার চালু হয়েছে। এতে আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও হোটেল ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশি পর্যটকরা জানান, আগের মতো সেবা পাওয়া গেলে তাদের জন্য ভালো হবে।

অন্যদিকে, কাজ হারানোর শঙ্কায় ছিলেন হোটেল কর্মীরাও। আদালতের নির্দেশে হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় সংশ্লিষ্টরা আবারও ভালো ব্যবসার আশা করছেন। পাশাপাশি পরিবহন খাতেও ফিরেছে ব্যস্ততা।

হোটেলকর্মী ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান, হোটেলগুলো খুলে যাওয়ায় পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তারা আশা করছেন সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরবে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। কেউ পূজা দেখতে আসেন, আবার কেউ চিকিৎসার প্রয়োজনে আসেন। ফলে নিউমার্কেট এলাকায় আবাসিক হোটেলের চাহিদাও বেড়ে যায়। হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। তবে ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি হোটেলগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএসইর বাজার মূলধন ৯৯ কোটি টাকা কমে, প্রধান সূচক ২৩ পয়েন্ট হ্রাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ এম


ডিএসইর বাজার মূলধন ৯৯ কোটি টাকা কমে, প্রধান সূচক ২৩ পয়েন্ট হ্রাস

দেশের পুঁজিবাজারে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে সূচকের পতনের মাধ্যমে। এই পতনের ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৯৯ কোটি টাকা কমে গেছে।

এ তথ্যটি পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)

সপ্তাহের মধ্যে ডিএসইর বাজার মূলধন শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ বা ৯৯ কোটি টাকা কমেছে। চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন ৬ লাখ ৮৪ হাজার ১০৭ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

ডিএসইতে চলতি সপ্তাহে সব সূচকের মানও কমেছে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৩.৫২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। ডিএসইএস সূচক ৯.০১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। ডিএস-৩০ সূচকও ৯.১৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৩৫৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন ছিল ২ হাজার ৭৮২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৪২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন ৮৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বা ১৫.৪২ শতাংশ কমেছে। চলতি সপ্তাহের প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৭০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন ছিল ৫৫৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৮২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, ২২৩টির দাম কমেছে এবং ৩৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের মধ্যে প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ০.৫৭ শতাংশ ও ০.৭৬ শতাংশ কমে ১৪৫৭৬.৫৯ পয়েন্ট ও ৮৯৪৮.৩০ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

এছাড়া, সিএসআই সূচক ০.৯৪ শতাংশ ও সিএসই-৫০ সূচক ০.৩০ শতাংশ কমে যথাক্রমে ৭৯২.০০ পয়েন্ট ও ১০৬৮.৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসই-৩০ সূচকও ০.১৩ শতাংশ কমেছে, যা ১৩৫১৬.৬৪ পয়েন্টে রয়েছে।

চলতি সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭২ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সপ্তাহের মধ্যে লেনদেন কমেছে ৩ কোটি ০৭ লাখ টাকা।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৮৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টির দাম বেড়েছে, ১৮৬টির দাম কমেছে এবং ২৪টির কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটকে নান্দনিক ও শান্তির নগরী করার প্রতিশ্রুতি দিলেন বিকেএম প্রার্থী আতাউর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১২ এম


সিলেটকে নান্দনিক ও শান্তির নগরী করার প্রতিশ্রুতি দিলেন বিকেএম প্রার্থী আতাউর

সিলেট সিটি করপোরেশনকে (সিসিক) আধুনিক, নান্দনিক ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ১৫ দফা প্রাথমিক অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন আলহাজ মাওলানা আতাউর রহমান, যিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) মনোনীত মেয়র প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর তালতলার একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি তার নির্বাচনি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

আতাউর রহমানের ঘোষিত অঙ্গীকারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুরমা নদীর ওপর যুক্তরাজ্যের লন্ডনের টেমস নদীর আদলে দুটি নান্দনিক সেতু নির্মাণ, নগরীর বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ এবং সিলেটকে একটি আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী জানান, খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক সম্প্রতি সিলেট সফরকালে তাকে আসন্ন সিসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

নগরীর ১২টি প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আতাউর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জরাজীর্ণ সড়ক, যানজট, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুপেয় পানির সংকট নগরবাসীর জন্য অন্যতম বড় ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানের জন্য তার ঘোষিত ১৫ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা হলো—জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, ডিজিটাল নাগরিক সেবা, প্রবাসীদের বিশেষ সেবা প্রদান ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বিদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতা দিয়ে সিলেটের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চাই। দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সিলেটকে একটি শান্তির নগরী করাই আমার মূল লক্ষ্য।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা এমরান আলমসহ স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%