০৬:২১ পি.এম
পাকিস্তান বাংলাদেশের ১০ জন রোগীর জন্য বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লিভার সেন্টারের পক্ষ থেকে এই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপদেষ্টার কার্যালয়ে তাঁর নেতৃত্বে সাক্ষাৎ করে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিল্প খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিষয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, তাঁর দেশের পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লিভার সেন্টারে প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনামূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাবও তিনি দেন। দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসাসেবা বিনিময়, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং মেডিকেল ট্যুরিজম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা রেখেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের চা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে দেশটির বাজারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আনারস ও চিংড়ি রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।
শিল্প খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এ উদ্যোগের আওতায় টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও অন্যান্য ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে আগ্রহী পাকিস্তান সরকার। হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি (এনএসপিপি) এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির (বিসিএসএএ) সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির (সিসিএ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে তাঁর দেশের আগ্রহ রয়েছে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়বে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তা ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় উপদেষ্টা স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চালু থাকা ইন্টার উইং স্কলারশিপ প্রোগ্রামের কথা স্মরণ করেন।
এ ছাড়া ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাটশিল্প, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান পাকিস্তানের হাইকমিশনার। এসব খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণেও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
হাইকমিশনার বলেন, ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন