মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:০৪ পি.এম
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতির কারণে মালয়েশিয়ার বিমান সংস্থা ফায়ারফ্লাই কুয়ালালামপুর-সিঙ্গাপুর রুটে বুধবার পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর এবং কুয়ালালামপুর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছিল।
ফায়ারফ্লাই এক বিবৃতিতে জানায়, কুয়ালালামপুরের সুলতান আবদুল আজিজ শাহ বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। ধোঁয়াশা ও আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বায়ুমান সূচক ছিল ১৯৯ এবং কুয়ালালামপুরের ১৮৩। সূচকের মান ১৫০ ছাড়ালে বায়ু অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয় এবং ৩০০-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া দাবানল থেকে এই ধোঁয়ার উৎপত্তি হয়েছে। চলতি বছর দাবানলটি গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এল নিনো নামের আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি আগুনের বিস্তারকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এল নিনোর প্রভাবটি গত চার দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ারফ্লাই, মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের অধীনে রয়েছে। ধোঁয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় গত ১০ অক্টোবর প্রথম ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের মধ্যে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তবে এটি আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করবে।
ধোঁয়াশার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিঙ্গাপুর সরকারও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটি ধোঁয়াশাজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় ভর্তুকি সুবিধা পুনরায় চালু করেছে, যা ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে অঞ্চলটিকে আচ্ছন্ন করে রাখার সময়ও কার্যকর ছিল।
মালয়েশিয়ায় মঙ্গলবার অধিকাংশ রাজ্যে স্কুল খুলেছে। বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি রাজ্য, একটি ফেডারেল অঞ্চল এবং কয়েকটি জেলার স্কুল এখনো বন্ধ রয়েছে।
দাবানলের ধোঁয়া মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ জোরদার করতে মালয়েশিয়া চায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান সোমবার জানান, আগামী মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই বিষয়টি তুলে ধরবেন।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার তথ্য অনুযায়ী, সেপাংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহামাদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আসিয়ানের একটি ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ধোঁয়াশাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বা শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।’
চলতি বছর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ফিলিপাইন জানিয়েছে, আগামী মাসের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ধোঁয়াশার বিষয়টি থাকবে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডমিনিক জেভিয়ার ইম্পেরিয়াল বলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করা হবে। ওই বৈঠকের পর ম্যানিলায় আসিয়ানের ৪৯তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
মোহামাদ জানান, দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া প্রায় ৬০ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে। কিন্তু ঘন ধোঁয়ার কারণে বিমান ও হেলিকপ্টারসহ ৩৪টি বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গম এলাকা ও পানির সীমিত সরবরাহও আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। উপযুক্ত বৃষ্টিবাহী মেঘ না থাকায় কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিলেও আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ধোঁয়াশার কারণে মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনটি মোটেও ভালোভাবে কাটেনি। পুরো সেশনে কষ্ট করে উইকেট মিলেছে মাত্র একটি। সেটি এসেছে লিটন দাসের অসাধারণ একটি ক্যাচের মাধ্যমে। তবে, ওই এক ক্যাচের মাধ্যমে লিটন এমন একটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন যা ১৪৯ বছরের ইতিহাসে আর কখনো হয়নি।
লিটন আবুধাবি টেস্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ফিফটি করে তিনি ৪ ইনিংসের রান খরার অবসান ঘটান এবং দলকে ৩০০ রানের ওপারে নিয়ে যান। এরপর উইকেটকিপিং গ্লাভস হাতে ৪টি ক্যাচ নেন, সঙ্গে একটি স্টাম্পিংও করেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আরও দূরে এগিয়ে যান। তার সেঞ্চুরি দলের জন্য বিশাল এক লিড এনে দেয় এবং তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় পঞ্চম স্থানে চলে আসেন।
এরপর আফগানদের দ্বিতীয় ইনিংসে কিপিং করতে নেমে প্রথম তিনটি ক্যাচ গতকালই নিয়েছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে লিটন খালেদ মাসুদ পাইলটের ২২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন। ২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭টি ডিসমিসালের রেকর্ডটি এতদিন বাংলাদেশের হয়ে ছিল পাইলটের দখলে। গতকাল সেটি লিটনের হয়ে যায়।
তবে লিটন এখানেই থামেননি। তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। আজ ইকরাম আলীখিলের ক্যাচ ডান পাশে ঝাঁপিয়ে ধরে তিনি সেই রেকর্ডটি গড়েন। এই টেস্টের দুই ইনিংসে লিটন করেছেন অন্তত পঞ্চাশোর্ধ্ব রান। উইকেটের পেছনে তার ডিসমিসালের সংখ্যা ৯টি। এক টেস্টে একজন উইকেটকিপারের এতসব কীর্তি ক্রিকেটে আগে দেখা যায়নি। সেটাই এবার দেখালেন লিটন দাস।
এখন তার সামনে রয়েছে একটি বিশ্বরেকর্ড। এক টেস্টে উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্ব রেকর্ড ১১টি। এই রেকর্ডটি বর্তমানে ভাগাভাগি করছেন তিনজন। তারা হলেন ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ভারতের ঋষভ পন্ত। রাসেল ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন। ডি ভিলিয়ার্স ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং পন্ত ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েন। লিটনের সামনে এখন সেই বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে।
লিটন ব্যাট হাতেও দারুণ সময় কাটিয়েছেন এই টেস্টে। প্রথম ইনিংসে ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেছেন একটি দারুণ সেঞ্চুরি। তিনি ৯০০০ আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন, যা পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে অর্জিত। এরপর সেঞ্চুরির তালিকায় কিংবদন্তি মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেছনে ফেলেছেন। শেষ দিনে লিটন এখন বিশ্বরেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা সালমান খানের প্রতি চাঁদনীর ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই রয়েছে। প্রিয় নায়কের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সালমানের হাত ধরে ছিলেন। বাড়িতে ফিরে আসার পর, সাত দিন তিনি সেই হাত ধোয়ার সাহস পাননি, এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী। সম্প্রতি সালমানের সঙ্গে দেখা হওয়ার সেই আনন্দময় স্মৃতি তিনি ভাগাভাগি করেছেন।
শৈশব থেকেই সালমান খানের একজন ভক্ত হিসেবে পরিচিত চাঁদনী। তার প্রিয় তারকার ছবি তিনি ঘরের দরজায় এবং পড়ার টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখতেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি সালমানের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চাঁদনী সালমানের সঙ্গে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আমার সাল্লুর সঙ্গে। যারা আমার সাক্ষাৎকার দেখে বলেছিলেন, ‘চাপা’, এই ছবি তাদের জন্য।’
সালমানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতি চাঁদনী শেয়ার করে বলেন, ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে বাংলাদেশে একটি অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল এই বলিউড তারকার। খবরটি শোনার পর তিনি অনুষ্ঠানের টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, কোনো কারণে অনুষ্ঠানটি আর হচ্ছে না। এতে তার মন ভীষণ খারাপ হয়েছিল।
এরপর তিনি প্রিয় নায়কের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন। একসময় জানতে পারেন, সালমান খান বাংলাদেশে এসেছেন এবং শেরাটন হোটেলে অবস্থান করছেন। বর্তমানে হোটেলটির নাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা।
চাঁদনী তার মা, বান্ধবী সাদিয়া ইসলাম এবং ফটোগ্রাফার মহসিন ভাইকে নিয়ে হোটেলে চলে যান। প্রথমে দেখা করার সুযোগ না পেলেও পরে নানা উপায়ে সেই সুযোগ তৈরি করেন। একপর্যায়ে সালমানের কক্ষের ঠিকানা পেয়ে যান তারা।
সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে চাঁদনী বলেন, ‘নানাভাবে সুযোগটা করে নিতে হয়েছিল। পরে রুমের ঠিকানা পাই। সঙ্গে মা, বান্ধবী সাদিয়া ইসলাম আর আমাদের ফটোগ্রাফার মহসিন ভাই ছিলেন। গিয়ে দেখি, সালমান খান একাই রুমে রয়েছেন। অনুমতি নিয়ে তখন আমি তার পাশে গিয়ে দাঁড়াই।’
সেই সময় চাঁদনী স্কুলে পড়তেন। সালমানের কাছে নিজের নাম এবং পরিচয় তুলে ধরে ছবি তোলার কথা জানান। সেই সময় প্রিয় তারকার হাত ধরে থাকার স্মৃতিটি আজও তার কাছে অমলিন রয়েছে।
চাঁদনী বলেন, ‘আমি সেদিন সালমান খানের হাত ধরে ছিলাম। যত সময় ছিলাম, পুরো সময়েই হাত ধরে ছিলাম। তিনি আমার নাম জিজ্ঞাসা করলেন। পরে অটোগ্রাফে লিখলেন, ‘চাঁদনী, ফর ইয়োর সালমান।’
সালমানের সেই আচরণ এবং চাহনি এখনও চাঁদনীর মনে গেঁথে আছে। তার ভাষায়, ‘এ লেখা আর তার জিজ্ঞাসা করার সময়টা এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। তিনি একটু লাজুক টাইপের ছিলেন। নাম জিজ্ঞাসা করার সময়ে তিনি আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। সেই চাহনি এখনও আমার মনে আছে।’
প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর হাত না ধোয়ার ঘটনাটি বলতে গিয়ে চাঁদনী হাসেন। তিনি বলেন, ‘আমি সালমান খানের সঙ্গে দেখা হওয়ার পুরো সময় তাকে ধরে ছিলাম। হ্যান্ডশেক করেছিলাম। পরে বাসায় এসে ৭ দিন ওই হাতই ধুইনি। এটা আসলে কিশোর মনের একটা পাগলামি ছিল। ক্রেজি ফ্যান বলতে যা বোঝায়। আমি তাকে এতটাই পছন্দ করতাম যে আমার বাসায়, আমার রুমের অনেক স্থানে তার ছবি টাঙিয়ে রাখতাম। বাচ্চাকালে কত কিছু করেছি।’
১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া সালমান খানের সিনেমা ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ দেখেই তার প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল বলে জানান চাঁদনী। সেই ভালো লাগা থেকেই একসময় প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ খুঁজেছিলেন তিনি। আর সেই সাক্ষাতের স্মৃতি আজও তার কাছে বিশেষ হয়ে আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি বিশ্ববাণিজ্যে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন বাজার খুঁজে বের করতে এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ করছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অতিরিক্ত ১৪০ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হতে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এই হার ১০ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। শুল্ক বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ নতুন বাণিজ্য চুক্তি করছে বা পুরোনো চুক্তি সম্প্রসারণ করছে। ভারতও এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তবাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদন খাতে সংস্কার এবং কৃষিশ্রমিকদের উৎপাদন ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি ভারতের রপ্তানিতে চাপ সৃষ্টি করলেও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ভারতের।
একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মডেলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা ভারতীয় পণ্যের ওপর গড় শুল্কহার ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১১ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। এর ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে।
তবে ভারতের মোট উৎপাদনের ২ শতাংশেরও কম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাই অন্য দেশে রপ্তানি বাড়িয়ে এই ক্ষতি সামাল দেওয়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম।
ভারতের মুক্তবাণিজ্য চুক্তিগুলো কীভাবে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তা তিনটি বিষয়ের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো, শুল্ক কমানো, বাণিজ্য বাধা হ্রাস এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো।
প্রথমত, প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, ভারতের বাণিজ্যিক অংশীদাররা প্রথম বছরেই ভারতীয় পণ্যের ওপর সব শুল্ক তুলে নেবে। ভারতও শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক বাতিল করবে। কৃষিপণ্যের শুল্ক অর্ধেক কমানো হবে, এর অর্ধেক প্রথম বছরে এবং বাকি অংশ পরবর্তী ১০ বছরে কার্যকর হবে।
দ্বিতীয়ত, বাণিজ্য বাধা কমানো। আগামী ১৫ বছরে পণ্য ও পরিষেবা খাতের অশুল্ক বাধাজনিত ব্যয় ধাপে ধাপে ২৫ শতাংশ কমবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। চুক্তির ফলে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কমলে পরিষেবা খাতেও অতিরিক্ত সুবিধা মিলতে পারে।
তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার (ইএফটিএ) সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১৫ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগ হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই অতিরিক্ত বিনিয়োগ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে ভারত।
চলমান ও পরিকল্পিত সব চুক্তি কার্যকর হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বর্তমান পূর্বাভাসের তুলনায় ১৭০ বিলিয়ন ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কিছু পণ্যের শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মোট শুল্কহার ১৫ শতাংশে নামতে পারে। তবে বেশিরভাগ আওতাভুক্ত পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ ধাতব শুল্ক এবং ১০ শতাংশ ধারা ৩০১-এর শুল্ক বহাল থাকবে। এই চুক্তির লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্যিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা কমানো।
ইতোমধ্যে কার্যকর মুক্তবাণিজ্য চুক্তিগুলোর ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হলে এই হার বেড়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। এতে অর্থনীতিতে প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে শূন্য দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ হতে পারে। পাশাপাশি ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ ও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা সফল হলে প্রবৃদ্ধি আরো বাড়তে পারে।
সব চুক্তি কার্যকর হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের রপ্তানি বর্তমান পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আমদানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি পণ্য ও পরিষেবা পাবে এবং ভারতের উৎপাদকদের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়বে।
তবে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করলেই এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না। এসব চুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভারতকে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গতি ধরে রাখতে হবে।
চুক্তিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উন্নত প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি, ভারতের বিশাল শ্রমশক্তিকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে পারলে অর্থনীতির অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতে পারে।
এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সুফল আরও বাড়বে এবং ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হবে। উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিশ্রমিকদের উৎপাদন ও সেবা খাতে যুক্ত করতে পারলে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে। মুক্তবাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি এসব সংস্কার কার্যকর হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের রপ্তানি ও মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ
ভারত করপোরেট কর কমানো, ভর্তুকি দেওয়া, অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে উৎপাদন খরচ কমতে পারে। মডেল অনুযায়ী, উৎপাদন খরচ প্রায় ২ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ হতে পারে।
কৃষিশ্রমিকদের উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত করা
ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি কর্মী কৃষিতে নিয়োজিত। গত এক দশকে এই হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে, দ্রুত শিল্পায়নের মধ্য দিয়ে ভিয়েতনামে কৃষিশ্রমিকের হার ৪০ শতাংশের বেশি থেকে কমে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে দেশটিতে মাথাপিছু কৃষি উৎপাদন বেড়ে ভারতের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি হয়েছে। ভারতেও ধাপে ধাপে কৃষিশ্রমিকদের উৎপাদন ও সেবা খাতে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করা গেলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ১ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ২ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে শিল্পোন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারের সমন্বয় করতে পারলে ভারত দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন গতি পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি বাধা তৈরি করলেও সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত এই পরিস্থিতিকে উন্নয়নের সুযোগে পরিণত করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, এমন মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি মানসম্মত ডিম উৎপাদন, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং পোলট্রি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘প্রোটিন, যা শক্তি দেয় ও সুরক্ষা করে’।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এ বছর আমরা প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করেছি, যা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, যদি আমরা ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হই, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে ডিম রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
পোলট্রি খাতের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য ফিডের (পশুখাদ্য) দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ফিডে কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে ডিম রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি কম খরচে প্রোটিনের চাহিদা পূরণের কথা তুলে ধরেন।
পোলট্রি খাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০০১ সালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাঁস-মুরগি বিতরণ করেছিলেন। একই ধারায় নারীদের হাঁস-মুরগি পালনে উৎসাহিত করলে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন। এছাড়া খামারে বিদ্যুতের ব্যয় কমাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের আহ্বায়ক মসিউর রহমান, ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সাইন্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. সিরাজুল হক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ