ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চলন্ত অটোরিকশা থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু


চলন্ত অটোরিকশা থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

রাজধানীর দক্ষিণখানে চলন্ত অটোরিকশা থেকে পড়ে মানিক মিয়া (৪০) নামে এক দোকানির মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর দক্ষিণখানের কাওলা মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মানিক মিয়াকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মানিক মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায়। তিনি রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার আশকোনায় বসবাস করতেন এবং সেখানে একটি মুদিদোকান পরিচালনা করতেন।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য

মানিক মিয়ার শ্যালিকা রুপালী আক্তার জানান, দুপুরে একটি কাজে অটোরিকশাযোগে উত্তরার দিকে যাচ্ছিলেন মানিক মিয়া। কাওলা মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ চলন্ত অটোরিকশা থেকে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পথচারীরা উদ্ধার করে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য দক্ষিণখান থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় হামাস কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


গাজায় হামাস কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, গাজার উপত্যকায় তাদের অভিযানে হামাসের শুজাইয়া ব্যাটালিয়নের সামরিক নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ নাইম জানদিয়া নিহত হয়েছেন। এই খবরটি আল জাজিরার মাধ্যমে জানা গেছে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায় যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় অপহৃত তিনজন ইসরাইলি জিম্মিকে একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে রাখার দায়িত্বে ছিলেন জানদিয়া।

ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, ওই তিন জিম্মি পরবর্তীকালে গাজার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। সে সময় সেনারা ভুলবশত তাদের ফিলিস্তিনি হিসেবে শনাক্ত করেছিল, এই কথা ইসরাইল স্বীকার করেছিল।

তবে মোহাম্মদ নাইম জানদিয়ার নিহত হওয়ার দাবি বা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্ধারিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে, এর ফলে অধিক সংখ্যক ফিলিস্তিনি এলাকা বাসিন্দাদের জন্য অপ্রবেশযোগ্য হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের মানবাধিকার সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স।

সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে কার্যকর হতে যাওয়া গাজার যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরাইলি সেনাবাহিনী যে সীমারেখা পর্যন্ত সরে গিয়েছিল, সেটিই প্রথমে ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে এর পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা গাজার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০ শতাংশে পৌঁছে গেছে।

এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স জানায়, এর ফলে গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যা এখন উপত্যকার এক-তৃতীয়াংশেরও কম এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইয়েলো লাইন’-এর সম্প্রসারণের কারণে পানির উৎস, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই নীতির ফলে বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত ‘ইয়েলো লাইন’-সংলগ্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৯৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন নারী ও ৪৩ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স আরও অভিযোগ করে, ‘ইয়েলো লাইন’ কার্যত একটি ‘কিল জোন’ বা মৃত্যু অঞ্চল, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নিয়ম অত্যন্ত শিথিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
কাজ বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন

গৌরনদীতে মসজিদের ৩০ ভাগ নির্মান কাজ শেষে স্থানান্তরের গুজব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ পি.এম


গৌরনদীতে মসজিদের ৩০ ভাগ নির্মান কাজ শেষে স্থানান্তরের গুজব

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশ্ববর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্মাণাধীন গৌরনদী মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ রহস্যজনক কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ও পুনরায় দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরুর দাবিতে শুক্রবার (৩ জুলাই) বাদ জুমা মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের সামনের মহাসড়কের পাশে সচেতন গৌরনদী উপজেলার মুসুল্লীগণের ব্যানারের অধীনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সচেতন মুসুল্লীসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে গৌরনদী মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ বিগত ২০২০ সালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা আশোকাঠী ব্র্যাক অফিসের পাশের জমিতে শুরু করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের ৩০ শতাংশ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু হঠাৎ করে গত দশদিন ধরে পুরো নির্মাণ কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় তরুণ সমাজ সেবক ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক জানান, কাজ বন্ধের বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন সরকারের কোনো এক কর্মকর্তা কাজটি বন্ধ রাখতে বলেছেন। কারণ, মডেল মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করার পরিকল্পনা আছে। বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মুসুল্লীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ফলে, মুসুল্লীদের অংশগ্রহণে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরুর দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গৌরনদী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান আকবর তার বক্তব্যে বলেন, ৩০ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ করার পর যদি মডেল মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়, তাহলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান হবে। তাছাড়া মডেল মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তরের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই যেকোনো মূল্যে নির্মাণাধীনস্থানে কাজ সম্পন্নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গৌরনদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ ঘরামী বলেন, সারাদেশের মডেল মসজিদগুলোর নির্মাণকাজ অনেক আগে শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে গৌরনদীর মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজে ভাটা ছিল। পরবর্তীতে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারের মতে, ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই অবস্থায় মডেল মসজিদটি যদি অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়, তাহলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ লোকসান হবে। আর যদি এ ষড়যন্ত্র কেউ করে থাকেন, তাদের গৌরনদীর মুসুল্লীদের নিয়ে প্রতিহত করা হবে। বর্তমানে যেখানে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে, সেখানেই দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করার জন্য সাবেক কাউন্সিলর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গৌরনদী পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন, পৌর বিএনপির সদস্য হুমায়ুন পাইক, ওয়ার্ড যুবদল নেতা ওয়াশিম ফকির, আবু সাইদ, নূর আলম, নজরুল সরদার, আরিফ ফকির, সোবহান সরদার প্রমুখ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী মজিবর রহমান বলেন, মডেল মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ইসলামিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, গণপাঠাগার এবং সামাজিক-ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে। তাই নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গৌরনদীর মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মডেল মসজিদের কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানানো হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে মসজিদ নির্মাণকারী ঠিকাদার টিপু সুলতান জানান, বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ থেকে আমাকে মৌখিকভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তাই আমি কাজ বন্ধ রেখেছি। তিনি আরও বলেন, মসজিদ নির্মাণের প্রায় ৩০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সে হিসেবে আমি প্রায় আড়াই কোটি টাকার বিল নিয়েছি। এই বিষয়ে জানতে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পরিবারে ফিরেছে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ

ইনকিউবেটর পেয়ে স্বপ্ন পূরনের পথে হাঁটছেন কলাপাড়ার ইমাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৫ পি.এম


ইনকিউবেটর পেয়ে স্বপ্ন পূরনের পথে হাঁটছেন কলাপাড়ার ইমাম

শ্রমজীবী ইমাম হোসেনের পরিবারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের এক নতুন সূচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষটির এগিয়ে চলার পথে মনোবল যেন বেড়েছে। তিনি হাঁস-মুরগির খামার পরিচালনা করছিলেন। প্রতিদিন হাঁসের দেয়া ডিম বিক্রি করা হতো। ছোট্ট পরিসরে মা হাঁসের সাহায্যে স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা ফোটাতে পারতেন। তবে সে বছর একটি হাঁস দিয়ে ৫-৬ বারের বেশি করতে পারতেন না, এবং এসব নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বিশাল পরিসরে হ্যাচারির মাধ্যমে বাচ্চা ফোটানোর এবং বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করার পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন, যা এবার তার পূর্ণ হয়েছে। এখন তার সামনে এগিয়ে চলার পথটি আরও মসৃণ হয়েছে। একটি ইনকিউবেটার তার উন্নতির গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। ইমাম হোসেন ও কোহিনুর দম্পতি এখন স্বাবলম্বিতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। তারা প্রতি মাসে গড়ে তিন থেকে চারশ’ ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বিক্রি করতে পারছেন। বাড়ি থেকেই তাঁরা দৈনিক ৫০-৮০টি ডিম বিক্রি করছেন। এ ধরনের উন্নতিতে বর্তমানে একটি হাঁস বছরে নয় মাস ডিম দিতে পারছে। হাঁস-মুরগির খামারের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন করে চলেছেন। তাদের বাগানে ফলদ গাছের একটি ছোট্ট বাগান রয়েছে এবং পুকুরের মাছও রয়েছে। ৪২ বছর বয়সী ইমাম হোসেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুমিরমারা গ্রামে বসবাস করেন। তিনি এখন গ্রামের অন্য মানুষের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন যিনি তার অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার পথে চলছেন। ২১ বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। তিনি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছেন এবং এরপর থেকেই কৃষিকাজের পাশাপাশি ছোট পরিসরে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন করতেন। গত চার বছর ধরে তিনি প্রথমে হাঁসের বাচ্চা কিনে বড় করে ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি হাঁস বিক্রি শুরু করেছেন। টানা দশ বছর ধরে তিনি নিয়মিত ডিম বিক্রি করে আসছেন। আবার ডিম থেকে হাঁসের মাধ্যমে তা দিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করেন। প্রায় ২৮দিন ধরে ডিম দেয়ার ফলে মা হাঁসগুলো টানা দেড় মাস ডিম দিতে রাজি থাকতেন না, যার জন্য ইমাম হোসেন চিন্তিত ছিলেন। সবশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশের মাধ্যমে ইনকিউবেটর মেশিনে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফোটানোর পদ্ধতি শেখেন। এর পর হীড বাংলাদেশ একটি ইনকিউবেটর বিনামূল্যে তাকে প্রদান করে। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ইমাম হোসেনের। বর্তমানে প্রতি মাসে তিনি গড়ে আড়াইশ’ থেকে ২৮০টি বাচ্চা ফুটাতে সক্ষম হয়েছেন। এজন্য এখন তার মা হাঁস-মুরগির ডিম দেয়া বন্ধ হয় না। স্বাভাবিকভাবে ডিম দেয়ার ৭-১০ দিনের মধ্যে মা হাঁস-মুরগি আবার ডিম দেয়। প্রতিদিন ডিম বিক্রির পাশাপাশি তিনি প্রতিবছর ২৫০-২৮০টি বাচ্চা ফুটান। কখনও তিনি এই বাচ্চা বিক্রি করেন এবং আবার বড় করে ডিমের জন্য প্রস্তুত করেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত চারবার হ্যাচারির মাধ্যমে তিনি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়েছেন। মুরগির বাচ্চা ফোটাতে ২১ দিন এবং হাঁসের জন্য লাগে ২৮ দিন। মুরগির ৮০ শতাংশ আর হাঁসের ৬৫-৭০ শতাংশ বাচ্চা ফুটে। বর্তমানে ডিম দেয়ার মতো ১৩০টি হাঁস ও শতাধিক মুরগির বাচ্চা রয়েছে। নিচের হ্যাচারিতে ডিম ফোটানোর জন্য এখন নিত্যদিনের আয় নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। তিনি তার স্ত্রী কোহিনুর বেগম সহ তিন সন্তানের সঙ্গে স্বস্তিদায়ক পরিবেশে আছেন। তার বড় মেয়ে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ছোট মেয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট্ট ছেলে ক্ওাছার ক্লাশ ওয়ানের শিক্ষার্থী। ইমাম হোসেনের আর্থিক স্বচ্ছলতার গল্পটি আশেপাশের মানুষের কাছে অনেকটাই বিস্ময়। তবে তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুতের কিছুটা সমস্যা রয়েছে, তাই একটি সৌরবিদ্যুত সিস্টেমের প্রয়োজন। উন্নয়ন সংস্থা হীড বাংলাদেশ পাখিমারা অফিসের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইব্রাহিম খান জানান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় হীড বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত স্পেশাল প্রোগ্রাম-ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার) এর আওতায় স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে এই ইনকিউবেটর মেশিন সরবরাহ করা হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে হাঁস ও মুরগির বাচ্চা সহজলভ্য হচ্ছে এবং খামারিদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের প্রশিক্ষণ সহায়তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 
 
 
 
 
 

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রলীগের মিছিল, প্রতিবাদে থানা ঘেরাও ছাত্রদলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০০ এম


ছাত্রলীগের মিছিল, প্রতিবাদে থানা ঘেরাও ছাত্রদলের

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ একটি বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করে। ওই মিছিলের প্রতিবাদে জয়দেবপুর থানার চারপাশ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহাগ হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জয়দেবপুর থানার সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা থানার গেট আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর মহানগরের রাজেন্দ্রপুরের নান্দুয়ান এলাকায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়লের নেতৃত্বে একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের একটি ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, নাসির মোড়ল অনেকদিন ধরে ভারতে ছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি মিছিল করার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার আওতায় নাসির মোড়ল দেশে ফিরে এসে এই ঝটিকা মিছিল করেন।

ছাত্রলীগের এই ঝটিকা মিছিলের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে, এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে তারা গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম, গাজীপুর সদর উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক নাজিম সরকার, সদস্য সচিব এমারত হোসেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য জাহাঙ্গীর সিকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল সিনহা এবং গাজীপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন বলেন, থানা ঘেরাও করার মতো এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও বক্তব্য দিয়ে চলে গেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%