ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার


শিশু নির্যাতন রোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

আজ রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, যেখানে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল আলোচনা করেছে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি, যা কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান যে, এ সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: গুলশান-বনানীতে উওরা ডিএনসির অভিযান: নেপথ্যে মাসোহারা আদায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

রাজধানীর শাহবাগস্থ শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে, যার শীর্ষক ছিল ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলা: প্রতিবন্ধকতা, দায়িত্ব ও করণীয়’ , ডেপুটি স্পিকার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’ সেইসঙ্গে কায়সার কামাল আরও উল্লেখ করেন যে, শিশু নির্যাতনের মূল কারণসমূহ চিহ্নিত করা জরুরি। বিদ্যমান আইন, নীতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো মূল্যায়ন করাও প্রয়োজন।

শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর এবং টেকসই কৌশল প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

রামিসা হত্যার বিচার প্রসঙ্গে, ডেপুটি স্পিকার বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী হতে হবে।

আরও পড়ুন: ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

বর্তমানে শিশুদের প্রতি শারীরিক, মানসিক ও অনলাইনভিত্তিক নির্যাতনের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গোলটেবিল বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য আইনগত ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা সেল পরিচালনাকারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, শিল্পী, মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী, সচেতন নাগরিক, ভুক্তভোগী পরিবার এবং নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: ডেপুটি স্পিকার তরুণদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন

এ সময় বক্তারা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি, নিপুণ রায় চৌধুরী এমপি, অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, রামিসার বাবা, নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার

স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

দেশের জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এবার দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎচালিত (ইলেকট্রিক) অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশের অ্যাম্বুলেন্স তৈরি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়ভাবে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ডিজাইন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সকল আধুনিক সুবিধা যুক্ত থাকবে।

উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, ‘সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই লক্ষ্যেই আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি পূরণ হবে এবং বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’

এছাড়া, প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, মূলত তিন পর্যায়ে এই সেবা দেয়ার মহাপরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে থাকবে – গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত রোগী পরিবহনের জন্য তিন ধরনের আলাদা ডিজাইনের অ্যাম্বুলেন্স। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অত্যন্ত কম খরচে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং স্বাস্থ্যসেবা সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী।

এ ছাড়া কারিগরি ও ডিজাইন সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ এহসান, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক আবদুল সালাম আখন্দ ও অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননের সেনাবাহিনীর জেনারেলসহ ৩ জনকে হত্যা করেছে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


লেবাননের সেনাবাহিনীর জেনারেলসহ ৩ জনকে হত্যা করেছে ইসরাইল

দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলে একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডারসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

 

শনিবার (৬ জুন) লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সকালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের চালানো হামলায় একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার, একজন কর্মকর্তা এবং একজন সৈন্য নিহত হয়েছেন।

এক বিবৃতিতে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, নাবাতিয়েহ এলাকার কাফার তেবনিত এবং খারদালির মধ্যবর্তী একটি সড়কে হামলা চালানো হয় একটি সামরিক যানকে লক্ষ্য করে। হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার দুইজন কর্মকর্তা এবং একজন সৈন্য নিহত হন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকে ইরান ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করে। ২ মার্চ, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধ বেগবান হয়। গত এপ্রিল মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও তা সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: লেবাননের প্রেসিডেন্টের সমালোচনার জবাব দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যদিও ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের সেনাবাহিনী যুদ্ধে জড়িত নয়। তারপরও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী এবং বেসামরিক নাগরিকের হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে ইসরাইলি হামলায় দুই কর্মকর্তা ও এক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, আউন এই হামলাকে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় লেবাননের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দক্ষিণাঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক শোক প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ধরনের পুনরাবৃত্ত হামলা বন্ধে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে সেনাবাহিনীর গাড়িতে হামলার পক্ষে সাফাই গেয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদের আরবি ভাষার মুখপাত্রের মাধ্যমে এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হামলার শিকার গাড়িটি একটি ‘সক্রিয় যুদ্ধাঞ্চলে’ অবস্থান করছিল, যেখানে আগে থেকেই এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং যুদ্ধাঞ্চলে চলাচলের ক্ষেত্রে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


জনগণকে সম্পৃক্ত করেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আজ রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক কার্যক্রমে তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, ড. এম. এ. মুহিত।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, ড. এম. এ. মুহিত বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন শুধুমাত্র হাসপাতাল নির্মাণ, সরকারি উদ্যোগ বা চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব নয়; জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তিনি যোগ করেন, ‘জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গুসহ জনস্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন। তাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-সহ দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আজ অনুষ্ঠিত রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ের বড় বড় কর্মসূচি সফল হয়েছে। যেমন, হামের টিকাদান কর্মসূচিতে অল্প সময়ে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল। তেমনি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও জনগণের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিক যদি ডেঙ্গু প্রতিরোধকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন, নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন এবং প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনকে সচেতন করেন, তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’

জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকার আরও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ জনগোষ্ঠী ছাড়া উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। একটি জাতির উন্নয়নের প্রকৃত সুফল তখনই নিশ্চিত হয়, যখন সেই উন্নয়ন মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।’

তিনি বলেন, ডিএনসিসির নেতৃত্বে আগামী তিন মাসব্যাপী যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে সচেতন করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।

সোসাইটিভিত্তিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি আবাসিক এলাকা ও সোসাইটিকে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে, যাতে তারা নিজেদের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সক্ষম হয়। কিন্তু কেউ যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইমামদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হবে, যেন এই বিষয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় মশক নিধন, নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা, ক্যাম্পেইন, সভা-সমাবেশ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদে চারটি সোসাইটির সহযোগিতায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সফলভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে জনগণ ও সোসাইটিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা পেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’

তিনি উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আজ যারা এখানে উপস্থিত আছেন, তারা যদি নিজেদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেন, তাহলে সচেতনতার একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে।’

তিনি নগরবাসীকে বৃষ্টির পানি, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। কারণ, এসব স্থানেই এডিস মশা বংশ বিস্তার করে।

প্রশাসক আরও জানান, আগামী তিন মাস ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বাসা-বাড়িতে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর সেবায় ডিএনসিসির কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশের পর একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক থেকে শুরু হয়ে গুলশান-২-এর বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, ডিএনসিসি প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, বিভিন্ন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক নগরবাসী অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ২১-২২ শতাংশ আছে, ট্রাম্পের দাবি মার্কিন হামলার পর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ২১-২২ শতাংশ আছে, ট্রাম্পের দাবি মার্কিন হামলার পর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলাবেহারিত হতে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতার বেশিরভাগই হারিয়েছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে।

 

এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘বেশিরভাগ ড্রোন কারখানা, বেশিরভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।’

রোববার সম্প্রচারিতব্য এই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, তাদের এখনও কিছু সামর্থ্য আছে, তবে তা সামান্যই। তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, কিছু ড্রোনও বিদ্যমান।’

‘আমি বলব শতাংশের হিসাবে, হয়তো তা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ২১-২২ শতাংশ। এটাও অনেক, কিন্তু আমরা যখন প্রথম হামলা চালিয়েছিলাম, তখন যা ছিল, এখন আর তা নেই।’ ট্রাম্প এই মন্তব্যটি করেছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের স্থায়ীভাবে শেষ করার চুক্তিতে ইরান কেন এখনও রাজি হয়নি, সে সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা গর্বিত এবং এমন কিছু কাজ আছে যা তারা কখনও ভাবেনি যে তাদের করতে হবে, কিন্তু এখন তাদের তা করতে হবে। তাদের আর কোনো উপায় নেই, তবে এতে কিছুটা সময় লাগে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এভাবে জানান।

সূত্র: আনাদোলু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%