০৪:২৯ পি.এম
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
তিনি এ বিষয়ে বলেছেন, বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের নানা স্থানে স্মরণসভা, সমাবেশ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী জ্যোতি বলেন, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালিত হবে। এ উপলক্ষ্যে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
এ নিয়ে তিনি জানান, ওই দিন ভোর ৬টায় শাহবাগে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। অনুষ্ঠানে আন্দোলনকালে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি শহীদ ও আহত পরিবারের কয়েকজন সদস্য বক্তব্য রাখবেন।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, আগামী ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি এই দিনের ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে সংঘটিত দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ফলে আন্দোলন দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়।
এদিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এই অনুষ্ঠানেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আজম খান উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে চট্টগ্রামের কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহিদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, যেখানে সেখানে উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ইশরাক হোসেন।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান রিজভীর
তিনি এ বিষয়ে আরো জানান, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্রতা ছিল অতিরিক্ত। ওই দিনটিকে স্মরণ করে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে, যার নাম হতে পারে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’। প্রদর্শনীটি চারুকলা একাডেমি কিংবা জাতীয় জাদুঘরের সামনে বা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করা হতে পারে।
ইশরাক হোসেন বলেন, ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালিত হবে। তিনি বলেন, ১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের ঘটনার পর ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন এবং সেদিন চারজন শহিদ হন। এই আন্দোলন পুরো গণআন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এ উপলক্ষে আর্মি স্টেডিয়ামে একটি প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হবে, পরে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদী গান পরিবেশন করা হবে।
তিনি জানান, ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে শুরু হওয়া আন্দোলনে স্থানীয় জনগণ, ছাত্র-জনতা ও অসংখ্য মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েকদিন অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। সেখানে কমপক্ষে ৮০ জন শহীদ হন, যার স্মরণে এবং সে স্থানটি স্মরণীয় করে রাখতে এক সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের জন্য আন্দোলন করছে সরকার: এমপি দিপু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন