০৩:৪৭ পি.এম
আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে ‘যৌনতা মন্ত্রণালয়’ (মিনিস্ট্রি অব সেক্স) গঠনের প্রস্তাবের কারণে সংসদ সদস্যদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সরকারি দলের এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একে অপরকে কিল-ঘুষি, লাথি এবং চেয়ার ছুঁড়ে মারতে শুরু করেন।
চলতি বছরের শুরুতে বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি’ ঘোষণা করেছিল যে, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশে ‘কোনো অসন্তুষ্ট নারী না থাকে’ তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন যৌনতা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করবে। দলটির বক্তব্য ছিল, মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ ‘যৌন অসন্তোষ’ বলে তারা মনে করে।
গত বৃহস্পতিবার আইনসভায় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন ক্ষমতাসীন ‘সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টি’র সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রস্তাবিত মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধী দলের নেতার কাছে নারীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতদের জন্য সউদীর ২৩২টি বাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও খেলাধুলার সুযোগ
চাখোয়ান যখন স্ট্রং আর্মেনিয়ার নেতা নারেক কারাপেতিয়ানকে ‘আপাদমস্তক ঝামেলা’ বলে উল্লেখ করেন, তখন দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিরোধী এমপিরা আসন ছেড়ে উঠে ডায়াসের দিকে ছুটে যান এবং উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এমপিরা একে অপরকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ও সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টির সদস্য ভাহাগন আলেকসানিয়ান বিরোধী এমপিদের লক্ষ্য করে একটি চেয়ার ছুঁড়ে মারেন। অন্যদিকে, চাখোয়ানকে বিরোধী দলীয় এমপি গার্নিক দাভতিয়ানের গায়ে পানি ছিটাতে দেখা যায়। উত্তেজনার চরম মুহূর্তে সংসদ সদস্যরা একে অপরের দিকে পানির বোতল ছুঁড়ে মারেন এবং বেশ কয়েকটি টেবিল ভেঙে ফেলেন।
সহিংসতার মাত্রা চরম আকার ধারণ করলে স্পিকার বাধ্য হয়ে অধিবেশন স্থগিত করেন। তবে বিরতির পরও করিডরে হাতাহাতি অব্যাহত থাকে, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা কর্মীদের মানবপ্রাচীর তৈরি করতে হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাদের ছেঁড়া জামাকাপড় পরা অবস্থায় চেম্বার থেকে বের হতে দেখা যায়।
ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেন, ‘আমি সহিংসতার নিন্দা করি, তবে আজ সিভিল কন্ট্রাক্ট উপদল যে ব্যবস্থা নিয়েছে আমি তাকে সমর্থন করি। কারণ বিরোধী দলে থাকার মানে এই নয় যে কেউ উদ্ধত আচরণ করবে।’
আরও পড়ুন: হরমুজে ৩ জাহাজে আগুন, ইরান দাবি করেছে ২ মার্কিন ড্রোন জব্দ
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কৌতুক করে লেখেন, বিরোধী দলটির নাম ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ হলেও তাদের এমপিরা শারীরিকভাবে শক্তিশালী নন।
অন্যদিকে, সংঘর্ষের পক্ষ সমর্থন করে বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ান এটিকে ‘খাঁটি আর্মেনীয় ধাঁচের পুরুষে পুরুষে স্বাভাবিক লড়াই’ বলে অভিহিত করেন।
এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
এদিকে, আর্মেনিয়ার পাশাপাশি আলবেনিয়ার পার্লামেন্টেও বৃহস্পতিবার পৃথক এক হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব আলবেনিয়া সংক্রান্ত একটি আইনের সংশোধনীতে ভোটের সময় ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় এমপিরা স্মোক বোমা ফাটিয়ে ডায়াস অবরুদ্ধ করেন। এ সময় বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগ দাবি করেন।
আরও পড়ুন: জেডি ভ্যান্সের ট্রাম্পের থেকে দূরত্ব বাড়ানোর আভাস
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন