ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সন্দ্বীপে সাগরের ভাঙনে উন্মুক্ত দুটি সাবমেরিন কেবল, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা


সন্দ্বীপে সাগরের ভাঙনে উন্মুক্ত দুটি সাবমেরিন কেবল, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ উপকূলের পূর্বে চ্যানেল-সংলগ্ন অংশে সাম্প্রতিক ভাঙনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ কেভি সৈয়দপুর-বাউরিয়া সাবমেরিন কেবলের একটি অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সন্দ্বীপ চ্যানেলের তলদেশে স্থাপিত কেবল দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চুরির ঝুঁকি এবং পুরো দ্বীপে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের প্রথম এ সাবমেরিন কেবল বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন মেরামতের অভিজ্ঞতা না থাকায় গ্রাহক এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের ঝুঁকি ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কায় রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাবমেরিন কেবল লাইনের ত্রুটি কিংবা বৈদ্যুতিক কেবল দৃশ্যমান হয়ে গেলে ঝুঁকি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অভিজ্ঞতা বিদ্যুৎ বিভাগের নেই। একইসাথে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা, প্রশিক্ষণ বা কারিগরি দক্ষতার বিনিময় হয়নি। পিডিবির বিতরণ ও প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকেও এ ধরনের সংকট তৈরি হলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো প্রস্তুতি রাখা হয়নি। ফলস্বরূপ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সাত বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সমুদ্র উপকূলে বৈদ্যুতিক লাইন মাটি ও সমুদ্রকূলে উন্মুক্ত হয়ে আসায় সমস্যাটি সমাধানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে সাহায্য চাওয়া হলেও পিডিবি কোনও প্রতিকার পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর উপকূল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ৩৩ কেভি দুটি কেবল স্থাপনের মাধ্যমে গ্রিড সংযোগ স্থাপন করা হয়। এই প্রকল্পে সন্দ্বীপে ১৬ কিলোমিটার এবং সীতাকুণ্ডে ১০ কিলোমিটার ওভারহেড লাইন (মাটির ওপর) স্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দিকে একজনের মাধ্যমে 10 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ব্যবস্থাপনা করা হয়। বর্তমানে প্রায় অর্ধলক্ষ গ্রাহক প্রতিদিন ৪-৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তবে দুটি কেবলের মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ৫০ বছর ধরে সঞ্চালনের সক্ষমতা রয়েছে। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সমুদ্র চ্যানেলের মাধ্যমে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সংযোগের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চীনা কোম্পানি জেডটিটি প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল, যদিও বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ছিল চীনের এসবি সাবমেরিন সিস্টেমস কোম্পানি লিমিটেডের সহযোগিতা। জানা গেছে, গতকাল সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নের সন্দ্বীপ চ্যানেলের উপকূলে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত দুটি কেবল দৃশ্যমান হওয়ায় পিডিবি ওই কেবল দুটি রক্ষা এবং ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পাউবোকে চিঠি দিয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভাঙনের ফলে নিচ থেকে বের হয়ে আসা ৩৩ কেভির সাবমেরিন কেবল দুটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। যদিও কেবলগুলো বিপজ্জনক, তবুও স্থানীয় শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই কেবল দুটি উপরে উঠে ছবি তুলছে এবং আশপাশে ভিড় করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ার ফলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে সমুদ্র চ্যানেলের খাড়া অংশে বাঁধ দিয়ে কেবলগুলো সুরক্ষার সুযোগ না থাকায় পিডিবি এবং স্থানীয় প্রশাসন আপাতত 'ঝুঁকিপূর্ণ' লেখা সাইনবোর্ড দিয়ে ওই এলাকায় মানুষের যাতায়াত বন্ধ রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপ চ্যানেল-তীরবর্তী এলাকায় ৩৩ কেভির দুটি বৈদ্যুতিক কেবল দৃশ্যমান হওয়ার খবর এবং পিডিবির চিঠি পাওয়ার পর পাউবোর প্রকৌশলীরা গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সন্দ্বীপ রক্ষার বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাইরে ভাঙনকবলিত এলাকায় কেবলগুলো দৃশ্যমান হওয়ায় পাউবোর পক্ষ থেকে কিছুই করার নেই বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, প্রাকৃতিক সামুদ্রিক উপকূলে ভাঙন তৈরি হলে কেবলগুলোর যাতে ক্ষতি না হয়, এমন পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা গ্রহণ করার বাইরে অন্য কিছু করার উপায় নেই। সাবমেরিন কেবলের দৃশ্যমান অংশকে রক্ষা করার জন্য পিডিবির চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ (চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-২) ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেছেন, 'পিডিবির চিঠি পেয়ে আমাদের প্রকৌশলীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার চ্যানেলের ভেতরে ভাঙন এলাকায় বৈদ্যুতিক কেবল মাটির ভেতর থেকে বের হয়ে আসায় কাজ করার সুযোগ নেই। ভাঙনকবলিত অংশে চ্যানেলের মধ্যে মাটি ভরাট বা ব্লক দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে পিডিবিকে আমাদের অপারগতার বিষয়টি জানিয়ে দেব।' প্রকৌশল-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৩৩ হাজার ভোল্টেজের সঞ্চালন সক্ষমতার কেবল মাটির ওপর উঠে আসায় এর আস্তরণে লিকেজ তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া কেবল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় তা পুরো সঞ্চালন লাইনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। লিকেজ তৈরি হলে কেবলের সংস্পর্শে আসা যেকোনো প্রাণীর তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে। উন্মুক্ত কেবলের ওপর নৌযানের নোঙর বা ধাতব কিছুর সঙ্গে লেগে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও প্রবল। এতে সামুদ্রিক ওই অঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট এলাকার পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ার পাশাপাশি সন্দ্বীপের সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদি দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটের মধ্যে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। এক্ষেত্রে কেবল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান অথবা এ-সংক্রান্ত দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়া সন্দ্বীপের সাবমেরিন কেবলের সংকট নিরসন সম্ভব নয় বলেও ধারণা করছেন তারা। জাননে চাইলে পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, 'আমাদের কাছে সাবমেরিন কেবলের সঞ্চালন লাইন সমুদ্র কিংবা সন্দ্বীপ চ্যানেল-তীরবর্তী এলাকায় দৃশ্যমান হয়ে যাওয়া একটি সম্পূর্ণ নতুন ঘটনা। তাই এ বিষয়ে আমাদের করণীয় এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে দৃশ্যমান উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী কেবলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, স্থানীয়দের কেবলের সংস্পর্শে আসলে সম্ভাব্য বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়াও জরুরি। সন্দ্বীপের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাউবোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উপজেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে।' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি চালু হওয়ার সাত-আট বছরের মধ্যেই সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীরের ভাঙন ও বৈদ্যুতিক কেবল দৃশ্যমান হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগ সমাধানের কোনো প্রযুক্তি জানে না। এক্ষেত্রে প্রকল্প নেয়ার সময় সম্ভাব্যতা যাচাই ও সংকটকালে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে গাফিলতি ছিল কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। ভাঙন তীব্র হলে তীরবর্তী এলাকায় চলাচলকারী নৌযানের আঘাতে কেবল বিচ্ছিন্ন হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকির আশঙ্কাও উঁকি দিচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। জানা গেছে যে, সন্দ্বীপ চ্যানেলের তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে মোট ৪২ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক কেবল ব্যবহৃত হয়েছে। রক্ষা ও কেবল বার দেয়ার জন্য এটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকা থেকে সন্দ্বীপের বাউরিয়া এলাকায় সঞ্চালন করা হয়েছে। রোবটের মাধ্যমে জাহাজ থেকে কেবল দুটি চ্যানেলের তলদেশের ১০ ফুট মাটি খুঁড়ে বসানো হয়েছিল। তবে তীরবর্তী এলাকায় পৌঁছালে কেবল দুটির ভূগর্ভস্থ গভীরতা পাঁচ ফুট হয়ে যায়, যার কারণে বাউরিয়া ইউনিয়ন এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হলে বৈদ্যুতিক কেবল দুটি দৃশ্যমান হয়ে যেতে পারে। যদি ভাঙন আরও তীব্র হয়, তাহলে সাবমেরিন কেবল আরো বেশি দৃশ্যমান হবে, যা সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, সাত-আট বছর আগে রোবটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক কেবল বসানো হয়েছিল। এখন দেশীয় প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ কেবল উন্মুক্ত হয়ে আসায় বর্তমানে কিছুই করার সুযোগ নেই। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া এই সংকট সমাধানের অন্য কোনো উপায় নেই বলে তারা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের আগে সন্দ্বীপে জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পৌর এলাকায় আড়াই হাজার গ্রাহককে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেয়া হতো। বর্তমানে প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার ওই দ্বীপটিতে ৫৩ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১১-১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো দ্বীপকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে এলে সন্দ্বীপে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণের সক্ষমতা রয়েছে পিডিবির।

সূত্র : বণিক বার্তা

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে কলেজশিক্ষার্থী শ্রাবণ পানিতে ডুবে মারা গেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকালে খালিপেটে কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাচ্ছেন? জানুন কি উপকারিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


সকালে খালিপেটে কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাচ্ছেন? জানুন কি উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার মসলা ও ভেষজ উপাদান হিসেবে কাঁচা হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। এর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের নানা উপকারে ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকেই সকালে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। আজ আমরা আলোচনা করব সকালে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক

কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিন নামক উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে মৌসুমি সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

হজমশক্তি উন্নত করে

সকালে কাঁচা হলুদ খেলে হজম প্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে। এটি পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদহজমের মতো সমস্যাও কিছুটা কমাতে পারে।

প্রদাহ কমাতে কার্যকর

শরীরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে হলুদ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে

কাঁচা হলুদ শরীরের ভেতর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

লিভারের জন্য উপকারী

লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে হলুদ সহায়ক বলে মনে করা হয়। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদের উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত হলুদ গ্রহণ করা উচিত নয়।

তবে যাদের পিত্তথলির সমস্যা, কিডনিতে পাথর বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনের ইতিহাস রয়েছে, তাদের কাঁচা হলুদ নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে পেটের অস্বস্তি বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

সূত্র: আনন্দবাজার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইএলও সম্মেলনের সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৬ এম


আইএলও সম্মেলনের সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান।

মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

বৈশ্বিক শ্রমনীতি ও শ্রম অধিকারবিষয়ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফোরামে বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে দেশের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এতে আরো বলা হয়, শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিশ্বের শীর্ষ এই সম্মেলনে সভাপতি পদে উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো এবং সহসভাপতি পদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহসভাপতি পদে সংস্থার ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গণতন্ত্রায়ন, শোভন কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রমিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে শ্রম খাতের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

সম্মেলনের সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আইএলওর সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

আইএলওর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন সর্বোচ্চ ফোরাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একে বিশ্বের শ্রম সংসদ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সরকার, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে শ্রম খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। এ বছরের সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, সাতজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৮ এম


তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, সাতজন আটক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে পুলিশের অভিযুক্ত সাতজন আটক করেছে, যাঁরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও মিছিলের চেষ্টা করেন।

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ সহ আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে, যখন তারা মিছিল করার চেষ্টা করতে থাকে, তখন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে।

অতীতের ঘটনার সাথে তাদের নাম-পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য বর্তমানে জানা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন। তিনি জানান, জানাজা শেষে কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন, এবং পরে পুলিশ সেখান থেকে সাতজনকে আটক করে।

তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারিসের প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ এম


প্যারিসের প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ফ্রান্সের

এই মাসে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হব যাওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ইউরোসেটরিতে ইসরায়েলি সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স।

সোমবার (১ জুন) রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, ফ্রান্স প্যারিসে একটি বড় অস্ত্র প্রদর্শনীর জন্য ইসরায়েলি সরকারি কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ করেছে এবং পাশাপাশি ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে তারা কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করতে পারবে না। তবে, ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোকে ‘আকাশ প্রতিরক্ষা পণ্য’ প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের এই কঠোর সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর ফ্রান্সে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অপহৃত ফ্লোটিলা কর্মীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং মন্ত্রী বেন-গভির তাদের পাশে দাঁড়িয়ে উল্লাস করছেন। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ফ্রান্স এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক সমালোচনার কারণে।

ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গাজা যুদ্ধের কারণে ২০২৪ সালের ইউরোস্যাটরি অস্ত্র প্রদর্শনীতে ইসরায়েলের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে তারা জানিয়েছে কীভাবে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো কেবল বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রদর্শন করতে পারবে, তবে এর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ইউরোসেটরি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ল্যান্ড এবং এয়ার-ল্যান্ড প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রদর্শনী। ইসরায়েলের মতে, এই প্রধান অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশকে এভাবে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%