০৬:৫৩ পি.এম
সউদী আরবের আসির অঞ্চলে একটি প্রাইভেট কারের ভেতর লুকিয়ে রাখা ৪৫ কেজি মাদকজাতীয় উদ্ভিদ 'খাত' পাচারের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় মহাসড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ বাহিনীর পুলিশ।
গত ৩১ অক্টোবর পাবলিক সিকিউরিটি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় অভিযুক্তদের ব্যবহৃত গাড়ির ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ এই খাত উদ্ধার করা হয়। তাঁদের আটক করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মামলাটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একই সাথে মাদকের পাচার বা বিক্রির মতো অপরাধের তথ্য জানাতে নাগরিক ও বাসিন্দাদের মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ থেকে ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে ৯৯৯ বা ৯৯৪ অথবা জেনারেল ডিরেক্টরেট অব নারকোটিকস কন্ট্রোলের হেল্পলাইন ৯৯৫ ও ইমেইলে ([email protected]) যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে চায়
সউদী আরবের কঠোর মাদকবিরোধী আইন অনুযায়ী, দেশটিতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য পাচার বা চোরাচালানের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড (শিরচ্ছেদ) দেওয়ার বিধান রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সউদী কর্তৃপক্ষ মাদক পাচারের বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে এবং বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও মাদক পাচারের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একাধিক নজির রয়েছে। তবে অপরাধের ধরণ, আসামিদের ভূমিকা এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচারক মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড বা দেশান্তরের আদেশও দিতে পারেন।
সাম্প্রতিককালে মাদক মামলায় ভারতীয় এক নাগরিকের ২৫ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সউদী আরব। দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দাম্মাম কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় কেরালার মাহে পেরিংগাদির বাসিন্দা আবৃত্তি ভাল্লিয়িরের (৪১)। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রথমে ২৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছিল। তবে পরে সউদী রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের প্রেক্ষিতে আদালত রায় পরিবর্তন করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
ওমানে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে কর্মরত আবৃত্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সউদী আরবে নতুন কাজের সন্ধানে ছিলেন। ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর, যেদিন তার দেশে ফেরার কথা ছিল, কান্নুরের ওই ব্যক্তিকে তার গাড়িটি সউদী আরবে নিয়ে গিয়ে একজনের কাছে পৌঁছে দিতে বলা হয়। তাকে রিটার্ন টিকিটের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়। এদিকে তার পরিবার কালিকট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কারিপুর) তার জন্য অপেক্ষা করছিল। তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত ও বন্ধ করে রাখা হয়েছিল, ফলে তার কী হয়েছে তা পরিবার জানতে পারেনি। কয়েকদিন পর পরিবার তার গ্রেপ্তারের খবর জানতে পারে।
পরিবারের ভাষ্যমতে, কান্নুরের এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে সউদী-ওমান সীমান্ত দিয়ে একটি গাড়ি সউদী আরবে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে ভিসা ও যাতায়াতের টিকিটের লোভ দেখান। ওই ব্যক্তি আবৃত্তিকে জানান যে গাড়ির দুটি ট্যাংকের মধ্যে একটি লিক আছে, তাই সেখানে পেট্রোল না ভরা হয়। প্রকৃতপক্ষে, সেই ফুয়েল ট্যাংকের ভেতরেই ৪৩ কেজি মেথঅ্যামফিটামিন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সীমান্ত পার হওয়ার সময় গাড়ি তল্লাশি করে মাদক উদ্ধার করা হয় এবং আবৃত্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় নিহত ৫, বিক্ষোভ অব্যাহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন