ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাটের বাজার চাঙ্গা, ন্যায্য দামে হাসিমুখে কৃষক


পাটের বাজার চাঙ্গা, ন্যায্য দামে হাসিমুখে কৃষক

 

নজরুল ইসলাম ছয় বিঘা জমিতে এবছর পাটের আবাদ করেছেন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলার চর বড়লই এলাকার এই চাষি পাট কাটার পর তা জাগ দিয়েছেন পাশের ধরলা নদীতে।

 

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

এতে পানির অভাব হয়নি। বাজারে পাটের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

নজরুল একা নন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এবছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় জেলার অধিকাংশ কৃষক লাভবান হয়েছেন। যদিও বেসরকারি পাটক্রয় কেন্দ্রের ক্রেতা না আসলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা পাট কিনে গুদামজাত করছেন।

 

ফলস্বরূপ, বাজারে পাটের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ

নজরুল জানিয়েছেন, নদীর পানিতে জাগ দেওয়ার কারণে পাটের রং ও মান উন্নত হয়েছে। প্রথমে খরা এবং পরে বৃষ্টির কারণে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।

 

তিনি প্রতিমণ পাটের জন্য গত বছরের তুলনায় অন্তত ৫০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন। তার ভাইও ১৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। তাদের হাটে যেতে হচ্ছে না পাট বিক্রির জন্য। চাহিদার কারণে পাইকাররা বাড়িতে এসে পাট নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, মোকামের তুলনায় স্থানীয় বাজারে পাটের দাম বেশি থাকায় পাটচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

আরও পড়ুন: শীতের আগমনে গফরগাঁওয়ে প্রস্তুতির ধুম, বাজারে শীতকালীন পণ্য আসছে

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ও বাজার পরিদর্শন করে জানা গেছে, জমি থেকে পাটকাটা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। হাট-বাজারে পাটের ভরা মৌসুমে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিমণ পাট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায়। মৌসুমের শুরুর দিকে দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে বাজার চাঙ্গা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী হাটের পাট ব্যবসায়ী জীবন ঘোষ জানিয়েছেন, তারা গুদাম ভাড়া করে বেশি মুনাফার আশায় পাট কিনে মজুদ করছেন। বেসরকারি কোম্পানি পাট কেনা শুরু করলে দাম বাড়তে পারে, তখন বিক্রি করবেন।

অন্যদিকে, পাট ব্যবসায়ী বাবুল আখতার বীর জানিয়েছেন, অন্যান্য বছর এই সময় ট্রাকযোগে এই এলাকার পাট খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যেত। কিন্তু এবার মোকামের তুলনায় স্থানীয় বাজারে দাম বেশি থাকায় বাইরের ব্যবসায়ী আসছেন না, স্থানীয়রাই মজুদ করছেন।

আরও পড়ুন: আলীকদমে পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত ৩

যাত্রাপুর হাটের পাট ব্যবসায়ী শরীফ আলম জানিয়েছেন, চরাঞ্চলে এবছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। নদীপারে হাট হওয়ায় নৌকাযোগে প্রচুর পাট আসছে হাটে।

কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেছেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবছর সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে চাষিদের পাট জাগ দিতে অনেক সমস্যা হয়েছে। তবে ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি’র সাথে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এ সাক্ষাৎ মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা অর্জন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা বৃদ্ধি, শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং শিশুশ্রম নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়াও, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন, তৈরি পোশাক খাত, কেয়ার গিভিং, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কার্বন ট্রেডিং, উত্তরাধিকার আইন এবং ডিএনএ ল্যাব কার্যক্রম আধুনিক ও শক্তিশালীকরণসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী নরওয়েকে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নরওয়ে সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য মন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যাতে সকল ধরনের উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যার অংশ হিসেবে তৃণমূল নারীদের জীবনমান ও দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো গুলোতে তাদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও সিড মানি প্রদান করা হচ্ছে। একই সাথে কর্মজীবী মায়েদের কষ্ট লাঘবে দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

এ সময় নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীর নিকট গত দুই বছরে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ধারাবাহিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশি নারীদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ুগত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ওই অঞ্চলের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের চলমান জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনু্যায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছেন। যেখানে প্রতি পাঁচ সদস্যের জন্য একটি করে কার্ড প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের কোনো খরচ নয়, এটি মূলত একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ। ফ্যামিলি কার্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থকে নারীরা পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনাসহ ক্ষুদ্র সঞ্চয় কাজে কাজে ব্যয় করতে পারবেন।

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে দক্ষ কেয়ার গিভারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়, এ লক্ষ্যে তিনি নরওয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নরওয়েসহ ইউরোপের বাজারে রপ্তানির বিষয়েও সহায়তার আশা প্রকাশ করেন।

এক পর্যায়ে মন্ত্রী ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহায়তা চাইলে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন মেনে নেওয়া যায় না: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


আওয়ামী লীগের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন মেনে নেওয়া যায় না: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী মন্তব্য করেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন এবং দেশে-বিদেশে তাদের উগ্র ও সংঘবদ্ধ তৎপরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসে এ কথা লেখেন। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধনের ওপর হামলার বিচার দাবিও করেছেন তিনি।

মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, "ফ‍্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমানে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিএনপিসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ, কৃষক-শ্রমিক, সংস্কৃতিকর্মী এবং আপামর জনতার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের মধ‍্য দিয়ে।"

তিনি বলেন, "হাজারো ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যাকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন এবং দেশে-বিদেশে তাদের উগ্র ও সংঘবদ্ধ তৎপরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।" ইতালিতে সংস্কৃতিকর্মী ও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর যারা জঙ্গি কায়দায় হামলে পড়েছে, তাদের অবশ্যই শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

মেক্সিকোতে অবস্থানরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সেদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইতালির সহযোগিতা চাইবে। তিনি বলেন, "বিদেশে ভ্রমণরত প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিক যেন নিজেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন, তা নিশ্চিত করা আমাদের (দূতাবাসগুলোর) দায়িত্বের অংশ বলে আমি মনে করি।"

এসময় তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, "বাংলাদেশ সফররত কোনো ইতালীয় নাগরিক আজ এমন হামলার শিকার হলে, ইতালীয় মিশনের তৎপরতা এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে তাদের তাৎক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিতভাবেই দৃশ্যমান হতো।" শুধু ইতালির এই ঘটনা নয়, বিশ্বের যেকোনো সভ্য দেশে এমন অসভ্য, সহিংস ও ঘৃণ্য তৎপরতা চালালে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপসাগরীয় অঞ্চলের ২০২৫ সালে সাড়ে ৭ কোটি পর্যটক ভ্রমণ করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ পি.এম


উপসাগরীয় অঞ্চলের ২০২৫ সালে সাড়ে ৭ কোটি পর্যটক ভ্রমণ করেছে

গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) এর সদস্য দেশগুলোতে ২০২৫ সালে পর্যটকদের আগমনের সংখ্যা একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। ওই বছরে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন, অর্থাৎ সাড়ে সাত কোটি পর্যটক জিসিসি অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন। এই সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে, পর্যটন খাত থেকে অর্জিত আয় এবং সামগ্রিক অর্থব্যয়ের পরিমাণ ১৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এআইএম কংগ্রেস ২০২৪-এর একটি গোলটেবিল বৈঠকে এই তথ্যগুলো তুলে ধরেন জিসিসি-র মহাসচিব জাসেম আল-বুদৈবি। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮৭ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে এই বিপুল বৃদ্ধি আঞ্চলিক অর্থনীতিতে পর্যটনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে স্পষ্ট করে।

জাসেম আল-বুদৈবি আরও জানান, ২০২৫ সালে পর্যটন খাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদানের মাধ্যমে জিসিসি অঞ্চলের অর্থনীতিতে মোট ২৫৪ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে। এটি এই অঞ্চলের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১১.৪ শতাংশ। পর্যটকদের সুবিধার্থে এবং আঞ্চলিক সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াত সহজ করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ফলে ২০২৫ সালে প্রাথমিক স্তরের ভ্রমণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩.৬ শতাংশ বেড়ে ২ কোটির ঘর অতিক্রম করেছে।

জিসিসির দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, গালফ অঞ্চলের লক্ষ্য কেবল নির্দিষ্ট কোনো একক প্রকল্প বা বিনোদন কেন্দ্রে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়, বরং বিমান চলাচল, সমন্বিত অবকাঠামো, আতিথেয়তা খাত, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিনোদন শিল্পকে একত্রিত করে একটি আন্তঃসংযুক্ত শক্তিশালী জিসিসি পর্যটন বিনিয়োগ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এই দীর্ঘমেয়াদী কৌশল আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩১ সালের মধ্যে ৪৫ লাখ মানুষকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনার পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


২০৩১ সালের মধ্যে ৪৫ লাখ মানুষকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনার পরিকল্পনা

বর্তমান সরকার, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষের জীবনমুখী এবং কারিগরি দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল অর্জন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিশ্চিতকরণ এবং ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে।

 

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ। বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার হলো সাধারণ অক্ষরজ্ঞানের সীমা অতিক্রম করে অবশিষ্ট নিরক্ষর জনগণের জন্য প্রায়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘শিক্ষাকে কর্মসংস্থান ও বাস্তব জীবনদক্ষতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে আমরা কেবল বর্ণমালা শেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না।

 

২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ কর্মক্ষম জনগণের জন্য প্রায়োগিক বা দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

‘আলফা’ কর্মসূচির অধীনে রূপরেখা

বিএনএফই জানায়, দেশের বয়স্ক ও কর্মক্ষম জনগণকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনতে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ শীর্ষক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ (প্রত্যেকে একজনকে শিক্ষা দান) মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই কর্মসূচির কনসেপ্ট নোট ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৪০টি জেলার নির্বাচিত ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নিরক্ষর মানুষের জন্য এক বছরের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে। পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে মূল প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সরাসরি দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য অর্জনের পথ সুগম হবে। অর্থাৎ, তখন সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখানো নয়; শিক্ষার সুযোগবঞ্চিতদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা।

বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা বুঝে আমরা কারিগরি ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তাদের দক্ষ করে তুলতে চাই। যেন তারা প্রশিক্ষণ শেষেই জীবিকায়নে যুক্ত হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্তিসহ অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপে কাজ এগিয়ে চলেছে। এসব প্রকল্প ও রূপরেখা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’

‘আলো’ প্রকল্পে বিকল্প শিক্ষার সুযোগ পাবে শিশু-কিশোররা

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জানায়, কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতাই নয়, বরং বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে ‘অল্টারনেটিভ লার্নিং অপারচুনিটি ফর আউট অব স্কুল চিলড্রেন (আলো)’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মোট ১৫৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্দেশিকা চূড়ান্তকরণ এবং শিক্ষার্থী-জরিপ কার্যক্রম শুরু প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ জন বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুকে মানসম্মত উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরো ১৯ হাজার ২০০ জন কিশোর-কিশোরীকে (যারা অষ্টম শ্রেণি পাস করার পূর্বে ঝরে পড়েছে) প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জানায়, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির আওতায় সম্প্রতি ৫৮টি জেলায় ৪ হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত ১১টি ট্রেডে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বিএনএফই আরো জানায়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরিচালিত মূল্যায়নে ৪ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২.৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর সরাসরি চাকরি, শিক্ষানবিশি বা স্বকর্মসংস্থানের ‘ফিউচার লিংকেজ’ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই সফলতার মডেল অনুসরণ করেই প্রস্তাবিত ৪৫ লাখ মানুষের জন্য প্রস্তুত করা আলফা কর্মসূচিতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

দক্ষতাভিত্তিক মডেল ‘স্কিলফো’

বিএনএফই জানায়, ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন, ২০১৪’-এর আওতায় বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু ও নিরক্ষরদের জন্য বয়স ও প্রয়োজনভিত্তিক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। কক্সবাজারে সফল ‘স্কিলফো’ পাইলট প্রকল্পে ৬ হাজার ৮২৫ জন কিশোর-কিশোরীকে মৌলিক সাক্ষরতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের মডেল তৈরি করা হয়েছে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশের আরো ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় ১ লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে স্কিলফো প্রকল্পের ২য় পর্যায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রকল্প দলিল পুনর্বিন্যাস চলমান।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উপপরিচালক (বাস্তবায়ন) হিরামন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আলো, স্কিলফো এবং আলফার মতো সমন্বিত কর্মসূচিগুলো পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। এগুলো মাঠপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।’

আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পলিত হচ্ছে এ দিবস। সাক্ষরতা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য— ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’-কে ভিত্তি ধরে সরকারের নেওয়া এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%