১২:৪০ পি.এম
রামিসা হত্যা সংক্রান্ত মামলায়, পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করার ঘটনায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। এই শুনানি বুধবার (৩ জুন) অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিন সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ১০ টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ১০ টা ৫৭ মিনিটে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে কোর্ট বসে।
আরও পড়ুন: সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
পরে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এই মামলার সকল সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান। এরপর আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না। সোহেল বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করিনাই তা-না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।’
পরে স্বপ্না আক্তারের কোনো কথা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।’
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণের আবেদন করায় আদালত সেটি মঞ্জুর করে। পরে ১১টা ২৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে আদালত থেকে এই আদেশ আসে।
শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানি করেন। এসময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বর্তমান সরকার জাতির ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে: জামায়াত আমির
গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গতকাল ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান।
এরপর চার্জশিটটি আমলে নিয়ে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালে বদলির আদেশ দিয়েছে। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ পত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন