রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৪ পি.এম
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সংঘাতের কারণে বিকল্প হিসেবে এই নৌপথের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেলেও, বাব আল-মান্দেবও যদি ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
টিবিএস-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লোহিত সাগরে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী জাহাজগুলোকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হবে। এতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হবে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এতে পণ্য পৌঁছাতে সময় ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, বীমা এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে জাহাজ ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হামলা চালায় হুতিরা। সেই সময় থেকে অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি লোহিত সাগর এড়িয়ে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করছে। চলতি বছরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে সৌদি স্বার্থকে লক্ষ্য করে হুতিরা আবারও হামলা শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ আরো বৃদ্ধি করেছে।
এদিকে, ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। ফলে, এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিতে সরাসরি প্রভাব পড়বে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে দক্ষিণ কোরিয়াগামী জাহাজ যদি বিকল্প পথে চলে, তাহলে যাত্রার সময় ২৪ দিন থেকে বেড়ে প্রায় ৫৪ দিন হতে পারে।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ফজলুল হক বলেন, "লোহিত সাগর বাংলাদেশের ইউরোপমুখী বাণিজ্যের প্রধান সমুদ্রপথ।"
তিনি আরও বলেন, "এ পথে সমস্যা হলে জাহাজকে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হবে। এতে সময় এবং ফ্রেইট খরচ দুটোই বাড়বে।" মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ খান বলেন, "লোহিত সাগর বন্ধ হলে ইউরোপে বাংলাদেশের পণ্য পৌঁছাতে বাড়তি প্রায় ১৫ দিন লাগতে পারে।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, জ্বালানি এবং বীমা খরচ বৃদ্ধি পেলে জাহাজ ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
বাফার সাবেক সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, "এখন পর্যন্ত মেইনলাইন অপারেটরদের কাছ থেকে ভাড়া বৃদ্ধি বা শিডিউল পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।"
ফ্রেইট খরচ বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে ছোট ও মাঝারি পোশাক রপ্তানিকারকদের ওপর। এফওবি পদ্ধতিতে মূল ফ্রেইট খরচ বিদেশি ক্রেতারা বহন করলেও, ব্যয় বেড়ে গেলে তার একটি অংশ সরবরাহকারীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করতে পারেন তারা।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বাবলু বলেন, "ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকরা অর্ডার হারানোর আশঙ্কায় বাড়তি লজিস্টিকস খরচের অংশ নিজেরা বহন করতে বাধ্য হতে পারেন।" এলডিপি পদ্ধতিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বেশি। বাংলাদেশের ৫ থেকে ১০ শতাংশ চালান এ পদ্ধতিতে যায়।
হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব নৌপথে সংকট তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরো সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৬১ ডলারে উঠে গেছে। এক মাস আগে এর দাম ছিল ৮৭.০৭ ডলার। বাংলাদেশের আমদানি করা মুরবান ক্রুডের দামও একই সময়ে ৮২.২৫ ডলার থেকে বেড়ে ১১৯.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বলেন, "পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দ্রুত জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেলের মজুদ বাড়াতে হবে।" তিনি সতর্ক করেন যে, "বিশ্বের প্রধান তেল পরিবহনপথগুলো একসঙ্গে বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।"
এদিকে, ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ২ কোটি ১৬ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪৯ লাখ ব্যারেলে নেমে আসবে। ফলে, হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবেও সংকট তৈরি হলে বাংলাদেশের বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাসানগঞ্জ এলাকার ছাত্র-জনতা লাঠি হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সড়কে নেমে এসেছে। তারা মাদকমুক্ত হাসানগঞ্জ চাই’ এই দাবিতে একটি মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ বাজারে ‘হাসানগঞ্জ মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় ছাত্র-জনতা এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকেরা হাতে লাঠি নিয়ে হাসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি হাসানগঞ্জ বাজার, খুজিয়ারমোড়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মাদক ব্যবসা বন্ধ করো, নয়তো হাসানগঞ্জ ছাড়ো’, ‘ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করো, নয়তো হাসানগঞ্জ ছাড়ো’, ‘মাদক ব্যবসা চলবে না’ এবং ‘ইয়াবার আস্তানা বন্ধ করো’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ‘হাসানগঞ্জ মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’-এর সভাপতি আ. রহমান শিপন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্যরা।
সমাবেশে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ মন্তব্য করেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং এলাকাটিতে নজর রাখা হচ্ছে। যেখানে মাদকের সন্ধান পাওয়া যাবে, সেখানে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরায় বিচার বিভাগের জটিলতা কাটিয়ে কার্যক্রমে গতি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ রবিবার সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় আদালত কেন্দ্রিক যে সংকটগুলো তিনি শুনেছেন, সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করেই সরকার অগ্রসর হবে।
এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণ নিয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন আইনমন্ত্রী।
সভাটি জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্বে বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে আইনমন্ত্রীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায় না। তিনি উল্লেখ করেছেন, হুতিরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে।
শনিবার আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হুতিরা আমাদের ফোন করেছে। তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না। তারা চায় না আমরা তাদের বিরুদ্ধে যাই।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে, সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে হামলার জন্য ট্রাম্প ইরানকে দায়ী করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানই সম্ভবত এই হামলার জন্য দায়ী।
হামলার পর সৌদি আরবের পূর্ব পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়। এটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য অন্যতম প্রধান পথ।
ইরান হামলার জন্য দায়ী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, সম্ভবত তারাই।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প যুবরাজকে ‘ভালো বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন।
তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরান নয়, ইরাক থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন এই হামলার জন্য দায়ী। রিয়াদ জানিয়েছে, এসব হামলায় মানুষ আহত হয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি আরব বলেছে, তারা এখনই পাল্টা ব্যবস্থা নেবে না। এর মাধ্যমে ইরাক সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই সঙ্গে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থাপনা ও জনগণকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
ইরাক সরকারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তদন্তে হামলাটি ইরাক থেকে হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্তের কথা জানিয়েছে।
ইরাকের দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরান সীমান্তের শালামচেহ সীমান্তপথ বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক। হামলাকারীদের ধরতে বড় ধরনের অভিযানও চলছে।
লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের অগ্রগতি
এদিকে, গত সপ্তাহের টানা অভিযানের পর শুক্রবার ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল দখলে নেয় হুতিরা। এর আগে তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনটি কৌশলগত দ্বীপও দখল করে। এতে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।
সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল মান্দেব এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় উপসাগরীয় পথ দিয়ে সৌদির তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
সৌদি আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ। হরমুজ প্রণালির অবরোধের পর দেশটি বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের ওপর আরও বেশি নির্ভর করছে।
ট্রাম্প বলেছেন, হুতিরা বেশির ভাগ জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে। তবে একটি দেশের জাহাজ নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট। সেটি নিয়ে তিনি সমাধানের কথা বলেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেন। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
মোখায় সরকারি বাহিনীর হামলা
অন্যদিকে, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী শনিবার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সাবা জানিয়েছে, মোখা বন্দরের কাছে হুতিদের কয়েকটি যান ও অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, কয়েকজন হুতি সদস্য নিহত হয়েছেন।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল নাজিলি বলেছেন, মোখা ধুবাব সড়কেও হুতিদের যান ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই এলাকা মোখা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
শুক্রবারও মোখায় গোলাবর্ষণ শুরু করার কথা জানিয়েছিল সরকারি বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছিল, তাইজ মোখা ও মোখা ধুবাব সড়ক ব্যবহার না করতে।
বৃহস্পতিবার মোখা দখল করে হুতিরা। তাদের হামলার পর বহু মানুষ শহর ছেড়ে এডেনে চলে যান। এডেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রধান ঘাঁটি।
শুক্রবার হুতি সমর্থিত গণমাধ্যম জানিয়েছে, সৌদি বাহিনী মোখা বিমানবন্দরে দুটি হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহরের সমুদ্রবন্দরে অজ্ঞাত উৎস থেকে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
৫০০ জনের বেশি নিহত
গত সপ্তাহে শুরু হওয়া হুতিদের এই অভিযানে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের সূত্র জানিয়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করার পর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বর্তমান সংঘাত সেই যুদ্ধেরই নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠা।
শুক্রবার হুতিদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, লোহিত সাগরের উপকূলে তারা আরও অগ্রসর হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে ‘হামলার জবাব হামলা দিয়ে’ উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে তারা।
একই সঙ্গে হুতিরা বলেছে, সৌদি জাহাজ ছাড়া সব কোম্পানির জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ।
তেলের বাজারে উদ্বেগ
তবে পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা হুতিদের কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত অনিশ্চিত বলে মনে করছেন। চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
জুলাইয়ে অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। সৌদি আরবের ভেতরের তেল স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর ওপর সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধের জবাবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, মোখা দখল ঠেকাতে সৌদি বিমানবাহিনী কোনো বড় হামলা না চালানোর বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে। তাঁর মতে, বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি পায়নি সৌদি আরব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্র বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। এই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে হুতিরা।
বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল কমেছে
২০২৩ সালের শেষ দিকে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরুর পর থেকে বাব আল মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তখন থেকে হুতিরা বিভিন্ন জাহাজে হামলা শুরু করে।
চলতি বছর সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে বাব আল মান্দেব ব্যবহার বাড়িয়েছিল। তবে নতুন করে হুতিদের হুমকির কারণে সেই চলাচল আবার কমেছে বলে জানিয়েছে লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স।
এখন সৌদি আরবকে আরও একটি বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে। লোহিত সাগরের উত্তর দিক দিয়ে ভূমধ্যসাগরে তেল পাঠানোর চেষ্টা করছে তারা। এ জন্য সুয়েজ খাল বা মিসরের একটি পাইপলাইন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে তেল পৌঁছাতে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
এই পথও হুতিদের হুমকির বাইরে নয়। আগস্টের শেষ দিকে লোহিত সাগরের উত্তর অংশে একটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছিল হুতিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের সাহেব বাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসানের সরকারি গাড়ি।
জানা গেছে, মহাসড়কের সাহেব বাড়ি নামক স্থানে ইউএনওর সরকারি গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে দুর্ঘটনায় ইউএনও মো. মেহেদী হাসান অল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বিস্তারিত তথ্য জানালে তা জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ