১২:১৪ এম
পটুয়াখালীর গলাচিপায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামির উপস্থিতি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গত সোমবার উপজেলা পরিষদের নতুন সম্প্রসারিত ভবনের চতুর্থ তলায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক, সেক্রেটারি ও গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই সভায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোসাম্মদ রেনু আক্তারও উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, রেনু আক্তারের বিরুদ্ধে সি আর মামলা নম্বর ৪৭৯/১৭-এ জারি হওয়া ওয়ারেন্টের একটি কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই নথিতে আদালতে হাজির করার নির্দেশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে। নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে এক বছরের সাজা রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমরা জানার চেষ্টা করছি। প্রতিদিন থানায় অনেক ওয়ারেন্ট থাকে, সবগুলোর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। তার নামে ওয়ারেন্ট আছে কি না, সেটি যাচাই করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দুর্গাপুরে অপূর্ব নামের যুবক গ্রেপ্তার
তিনি আরও বলেন, “সভাটির আয়োজক উপজেলা প্রশাসন। সেখানে কারা উপস্থিত থাকবে, সেটি তাদের বিষয়।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত রেনু আক্তার দাবি করেন, তিনি ওই মামলায় গত মাসে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। তবে জামিনসংক্রান্ত কোনো নথি বা আইনজীবীর নাম জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “তিনি কমিটির সদস্য নন, উপজেলা বিএনপির সভাপতির সঙ্গে সভায় এসেছিলেন। আর সাজা বা ওয়ারেন্টের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পুলিশের।” ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামি কীভাবে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নিলেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা কতটুকু।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন