ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর


সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান পার্বত্য মন্ত্রীর

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস সেক্টর প্রজেক্ট’-এর ষষ্ঠ প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে সুপেয় পানির সংকট। পাহাড়ি এলাকার জনগণের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অপার সৌন্দর্য ও পাহাড়ি জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ ৩০ জুন বা ৩১ ডিসেম্বরের সময়সীমা সামনে রেখে শেষ করার পরিবর্তে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভৌগোলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও অনগ্রসর জনগণের সঙ্গে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

এ সময় প্রশাসনে গতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সৎ, দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা এই উন্নয়নযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব অতুল সরকার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্মসচিব খাদিজা পারভীন, অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আবুল কাসেম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোসাম্মৎ জোহরা খাতুন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জসিম উদ্দীন এবং প্রকল্প পরিচালক পবন কুমার চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে জামায়াতের মতবিনিময় সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


কিশোরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে জামায়াতের মতবিনিময় সভা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে। বুধবার রাতে জেলা শহরের নগুয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী। উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু বিভাগের সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সভায় অংশগ্রহণ করেন সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি রতন কুমার দাস, হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, গৌর নিতাই আখড়ার সাধারণ সম্পাদক সুনীল মুদক, মৃদুল কান্তি চৌধুরী, নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বিশু কুমার গুপ্ত, রিপন চন্দ্র সূত্রধর, পলাশ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

নেতারা ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালভার্ট আছে, উঠানামার পথ না থাকায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


কালভার্ট আছে, উঠানামার পথ না থাকায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নির্মিত কালভার্টের কাজ প্রায় ৫৩ লাখ ৭১ হাজার টাকায় সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ তৈরি হয়নি। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় বাসিন্দারা কালভার্টটি ব্যবহার করতে পারছেন না। সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষ সরকারের উন্নয়নকাজের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের জন্য এটি চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের কারণে কাজ আটকে আছে। বৃষ্টির দিনে বিকল্প সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পায়। গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনির হাটমুখী টুনিরহাট আর অ্যান্ড এইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কটি পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কালভার্টের দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁরা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই আশা পূরণ হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যাওয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন কাজে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

পূর্ব ছাতনাইয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিব ইসলাম বলেন, "কালভার্ট নির্মাণ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় এটি দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। বৃষ্টির দিনে বেশি কষ্ট হয়। বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে যায়, আর কালভার্টের দুই পাশে গর্ত থাকায় হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হয়।" তিনি আরও বলেন, "দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হলে যানবাহন নিয়েও চলাচল করা সম্ভব হবে।"

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক এবং কৃষক সফর আলী জানান, বিপুল অর্থ খরচে নির্মিত এই কালভার্টটি এখন জনগণের কোনো কাজে আসছে না। তারা দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম বলেন, "কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।"

ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, "কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়েছে, তবে প্রকল্প এখনো অনুমোদন হয়নি। এ কারণে ঠিকাদার এখনো বিল করতে পারেননি। বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদার যে মাটি ফেলেছেন, স্থানীয় লোকজন তা কাটতে দিচ্ছেন না। এ সড়কের মাটি অ্যাপ্রোচ সড়কে ফেলা হবে। আশা করি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, "অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের মাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।"

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় টুনিরহাট আর অ্যান্ড এইচ–কলোনির হাট জিসি সড়কে বক্স কালভার্টটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৬ লাখ ৫২ হাজার ৭১৩ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'এন অ্যান্ড সন্স' ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকায় কাজ সম্পন্ন করে। স্থানীয়দের দাবি, "আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত মাটি কাটার বিরোধ নিষ্পত্তি করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হোক।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে বিশ্ব সাদাছড়ি দিবস পালিত, ডিসির নিরাপদ চলাচলের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


মানিকগঞ্জে বিশ্ব সাদাছড়ি দিবস পালিত, ডিসির নিরাপদ চলাচলের আহ্বান

মানিকগঞ্জে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদযাপন করা হয়েছে, যেখানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মাঝে সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’ এই প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং মানিকগঞ্জ প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আলী, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মিনার উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া আক্তার, সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমের রিসোর্স শিক্ষক নিয়াজ মোর্শেদ, প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা জোবায়দা গুলশান আরা, মানিকগঞ্জ সিআরপির অধ্যক্ষ মাহবুবুল ইসলাম, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান এবং প্রতিবন্ধী সংগঠন এমডিপিওডির পরিচালক এন্তাজ আলীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সাদাছড়ি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীন ও নিরাপদে চলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপকরণ। তাঁদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সাদাছড়ির ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

তারা আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সড়ক পারাপারে তাঁদের সহযোগিতা করা, সাদাছড়ি ব্যবহারকারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ দেওয়া এবং ফুটপাত ও গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

বক্তারা ফুটপাত ও প্রয়োজনীয় স্থানে ট্যাকটাইল টাইলস স্থাপনের পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সভায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিনামূল্যে থেরাপি, কাউন্সেলিং এবং চলাচলের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনা করা হয়। আলোচনা সভার শেষে নিবন্ধিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে বিনামূল্যে সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প প্রশাসন ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


ট্রাম্প প্রশাসন ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করছে

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল করার উদ্দেশ্যে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের পথ অনুসন্ধান করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তিনি নাগরিকত্ব কীভাবে অর্জন করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্তকারীরা কাজ করছেন।

বুধবার, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, এই তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলহান ওমরের পরিবারের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রের পরীক্ষা চলছে। এছাড়া, মিনেসোটায় একটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তার কয়েকজন আত্মীয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এক ডজনের বেশি সমন পাঠানো হয়েছে। তবে ইলহানের কার্যালয় এই তদন্তকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালান। তার কার্যালয় এই অভিযানকে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এ তল্লাশি পরিচালিত হয়। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এই নির্বাচনে লড়াই করছে। ইলহান মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, চলমান একটি কেন্দ্রীয় তদন্তের অংশ হিসেবে তল্লাশি পরিচালিত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় কর্মকর্তারা ইলহানের পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও নোটবুক জব্দ করেন।

ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে কেনিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে তিনি নাগরিকত্ব অর্জন করেন। এর আগে তিনি অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ইলহান ও তার প্রয়াত বাবার বিরুদ্ধে বয়স সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলহানের বাবা নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় অভিবাসন নথিতে তার বয়স ১৮ বছরের পরিবর্তে ১৭ বছর দেখানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, বয়স কম দেখানোর কারণে ইলহান তার বাবার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তবে তাকে আলাদাভাবে নাগরিকত্বের আবেদন করতে হতো না।

ইলহানের বাবা ২০২০ সালে মারা যান। ফলে বয়স নিয়ে ইলহান নিজে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, নাকি তার বাবা তার হয়ে তা করেছিলেন, সে বিষয়ে প্রমাণ সংগ্রহ জটিল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিবাসন বিষয়ক এক সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য মামলার ভিত্তি নির্ভর করতে পারে ইলহান নিজের বয়স সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিলেন কি না, তার ওপর।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তকারীরা একই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখেছিলেন। তবে জালিয়াতির প্রমাণ না থাকায় তখন তারা আর এগোননি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইলহানের নাগরিকত্ব বাতিলের দাবিতে কেউ মামলা করেছেন—এমন তথ্য তারা পায়নি। নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া চালাতে হবে। শুধু তদন্তের কারণে তার নাগরিকত্ব বাতিল হয় না বা তাকে বহিষ্কারের অনুমতিও তৈরি হয় না।

এ ছাড়া, সম্পদ সংক্রান্ত ঘোষণায় নিজের সম্পদের পরিমাণ বেশি দেখানোর অভিযোগে আগে একটি নির্দলীয় কংগ্রেসনাল নজরদারি সংস্থা ইলহানকে দায়মুক্তি দিয়েছিল বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার অধীন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা নিয়ে ইলহানের বাড়িতে তল্লাশি চালান। সোমবার সকালে তার বাড়ির আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেন কর্মকর্তারা। পরে ‘জব্দ করা সম্পত্তির প্রমাণ’ লেখা বাক্স সরিয়ে নিতে দেখা যায় তাদের।

প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত ইলহান ওমরকে তার সোমালি পরিচয় ও অভিবাসনের ইতিহাস নিয়ে বহু বছর ধরে ট্রাম্প ও তার মিত্রদের সমালোচনা ও আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে।

সোমবারের অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তল্লাশির সঙ্গে তার ‘কোনো সম্পর্ক নেই’।

তার ভাষায়, বিষয়টি ‘মূলত বিচার বিভাগের’ এখতিয়ার।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%