শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৫ এম
দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নামিবিয়া। মরু অধ্যুষিত সাব-সাহারান এই দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত। দেশের সরকারি নাম ‘নামিবিয়া প্রজাতন্ত্র’। এটি রাষ্ট্রপতি শাসিত দেশ। নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোক, যা দেশের বৃহত্তম নগরী। প্রধান ধর্ম খ্রিস্ট। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী। নামিবিয়ায় প্রায় ৭০ হাজার মুসলিম বাস করেন, যারা সেখানে একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।
নামিবিয়ার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিচয়
নামিবিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১৯৯০ সালের ২১ মার্চ স্বাধীনতা লাভ করে। জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে ১৯৯০ সালের ২৩ এপ্রিল। নামিবিয়ার অবস্থান আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে। উত্তরে অ্যাঙ্গোলা, উত্তর-পূর্বে জাম্বিয়া, পূর্বে বতসোয়ানা, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। নামিবিয়ার উত্তরে শুষ্ক এলাকা থেকে উপকূল এবং পূর্বে মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। মোট আয়তন আট লাখ ২৫ হাজার ৪১৪ বর্গকিলোমিটার। ২০২৫ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ৩০ লাখ ২২ হাজার। জনসংখ্যার ৮৭.৯ শতাংশ মানুষ খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী এবং ২.৩ শতাংশ মানুষ মুসলিম।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসলামের আগমন ও বিকাশ
নামিবিয়ায় ইসলামের ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। ১৮ শতকে দেশটিতে মুসলিম জনগণের আগমন ঘটে বলে জানা যায়। তবে ইসলামের বিকাশ ঘটে বিশ শতকের দিকে। প্রধানত ভারতীয় মুসলিম ব্যবসায়ীরা নামিবিয়ায় গমন করার মাধ্যমে সেখানে ইসলামের বিকাশ সাধিত হয়। ১৮ শতকে মুসলিম ব্যবসায়ীরা নামিবিয়ার বন্দরনগরী লুডেরিটজে বসতি স্থাপন করেন। এই ব্যবসায়ীরা ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তারা ধর্মীয় অনুশাসন পালন এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়ে শিক্ষার তাগিদে লুডেরিটজে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। বর্তমানে দেশটির রাজধানী উইন্ডহোকে কয়েকটি মসজিদ বিদ্যমান।
নামিবিয়ার মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও ইসলামিক সেন্টার কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো সংগঠন ‘নামিবিয়া ইসলামিক কাউন্সিল’। দেশটিতে ‘ইসলামিক হালাল অ্যাসোসিয়েশন’ নামেও একটি সংগঠন রয়েছে, যা হালাল পণ্যের সনদ প্রদান করে। নামিবিয়ার মুসলিম শিক্ষার্থীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য গমন করেন।
‘উইন্ডহোক ইসলামিক সেন্টার’ নামীয় মুসলমানদের আরেকটি সংগঠন আছে, যা রাজধানী উইন্ডহোকে অবস্থিত। এই সংগঠন ইসলাম প্রচারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ইসলামিক সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ড. আরমাস আবদুল মালিক সিকঙ্গো নামিবিয়ার মুসলমানদের সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "নামিবিয়ার বহু মানুষ এখনো খ্রিস্ট ধর্মের সঙ্গে ইসলামের পার্থক্য কোথায় তা জানে না।" তাদের অনেকেই মসজিদকে ইসলামের চার্চ মনে করে। যদিও ইবরাহিমি ধর্ম হিসেবে ইসলাম ও খ্রিস্ট ধর্মের মধ্যে কিছুটা মিল থাকলেও দুটিই আলাদা ধর্ম।
নামিবিয়ায় বসবাসরত বেশির ভাগই সুন্নি ধারার মুসলিম। নামিবিয়ার মুসলিমরা মুক্ত মনের অধিকারী। মুসলিমদের বেশির ভাগ নামিবিয়ান নাগরিক নন, বরং তারা অভিবাসী। তাদের মধ্যে রয়েছে ভারতীয়, পাকিস্তানি, আরব ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত নাগরিক। নামিবিয়ার মুসলমানদের বড় অংশ অভিবাসী হলেও সেখানে ধর্মান্তরিত মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, নামিবিয়ায় একজন নারী প্রথমে ১৯৪০ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন।
নামিবিয়ায় মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
নামিবিয়ায় ২০০৯ সালে ১২টি মসজিদ ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে দেশটিতে ৫০টিরও বেশি মসজিদ বিদ্যমান। তা ছাড়া রয়েছে কয়েকটি বিখ্যাত ইসলামিক সেন্টার। এসব মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার মুসলিমদের মধ্যে ইসলামী শিক্ষা প্রসারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সাধারণত মসজিদগুলোতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও জ্ঞান দান করা হয়।
নামিবিয়ায় মুসলিমের সংখ্যা বাড়ছে
উইন্ডহোক ইসলামিক সেন্টারের প্রধান ড. আরমাস আবদুল মালিক বলেন, "মুসলিমরা নামিবিয়ায় ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হলেও সমাজে তাদের প্রভাব ও পরিচিতি বাড়ছে।" উল্লেখ্য যে নামিবিয়ার সাধারণ মানুষ মুক্ত মনের অধিকারী এবং ইসলামের ব্যাপারে তারা উদার ও সহনশীল। ফলে মুসলমানদের সেখানে স্বাধীনভাবে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করতে বাধা নেই। বর্তমানে যেভাবে ইসলামের কাজ চলছে, তাতে শিগগিরই মুসলমানরা আরো এগিয়ে যাবে এবং মুসলিম জনসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। মহান আল্লাহ নামিবিয়ার মুসলমানদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন।
লেখক : শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও সিনিয়র ইসলামী ব্যাংকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সপ্তমবারের মতো বসছে ‘সুপার সেল কার বাজারের’ আসর। টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের সাড়া পাওয়ার পর, এ নিয়ে সপ্তম সপ্তাহের জন্য গাড়ি কেনা-বেচার এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ক্রেতারা এখানে নিজের পছন্দের গাড়িটি কিনতে পারছেন। একইসাথে, তারা নিজেদের ব্যবহৃত গাড়ি উপযুক্ত দামে বিক্রি করার সুযোগও পাচ্ছেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই গাড়ি কেনা-বেচার আসর এখন থেকে নিয়মিতভাবে প্রতি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। ক্রেতারা এখানে কোনো রকম ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই পছন্দের বাইক কিংবা গাড়ি কিনতে সক্ষম হচ্ছেন।
প্রয়োজনে, নিজের ব্যবহৃত বাইক কিংবা চার চাকার গাড়িও বিক্রি করা সম্ভব। ‘সুপার সেল কার বাজার’ উদ্বোধনী দিনেই অনেক ক্রেতার নজর আকর্ষণ করেছে। অনেক ক্রেতা মনে করছেন, ব্যস্ততার এই শহরে এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক।
তাহলে ক্রেতাদের নিয়মিত স্বস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ‘সুপার সেল কার বাজার’ বসছে।
নতুন, পুরাতন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, মোটরবাইক এবং ইউটিলিটি ভেহিকেলের বিশাল সমাহার এই কার বাজারে থাকবে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই চাহিদা পূরণে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ক্রেতারা এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিক্রেতারাও সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন।
‘সুপার সেল কার বাজার’ আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ এবং ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইসিসিবি। এই আয়োজনে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহান আল্লাহর রহস্যময় সৃষ্টির মধ্যে একটি হলো কালি। যদিও শব্দটি শুনতে বা পড়তে সাধারণ তরল পদার্থের মতো মনে হয়, মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে অসাধারণ ক্ষমতাবান করে গড়েছেন। কালি বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে এবং এর ব্যবহারও বহুবিধ। উদাহরণ হিসেবে কলমের ডগা থেকে বের হওয়া কালির কথা উল্লেখ করা যায়। এটি কখনো জ্ঞান সংরক্ষণের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়, কখনো ইতিহাসের সাক্ষী, কখনো মুক্তির পরোয়ানা, আবার কখনো বিচারকের কলমের ডগা বেয়ে কারো জীবন-মৃত্যুর ফয়সালা নির্ধারণ করে।
রাষ্ট্র বা বিশ্বনেতাদের কলমের ডগা থেকে বের হওয়া এক ফোঁটা কালি কোটি কোটি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে, আবার একটি কলমের খোঁচায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। এটি সভ্যতার সংরক্ষণের অন্যতম হাতিয়ারও হতে পারে। কারণ কলমের কালিতে লিপিবদ্ধ হয় মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস, আবিষ্কার ও সভ্যতার অগ্রযাত্রা। মানুষের স্মৃতি সীমিত এবং আয়ু ক্ষণস্থায়ী।
তবে কালিতে লেখা জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলো ছড়াতে সক্ষম। যেমন—প্রাচীনকালের বহু গুণী লেখক পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁদের কলমের কালিতে সঞ্চিত জ্ঞান আজও বেঁচে আছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের মধ্যে তাঁদের চিন্তা ও মেধার ফসল বণ্টন করে যাচ্ছে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ জ্ঞানচর্চার অন্যতম মাধ্যম কলমের কথা উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘পড়ুন, আর আপনার রব মহামহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (সুরা : আলাক, আয়াত : ৩-৫)
সুরা আলাকের এই আয়াতগুলো মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়, জ্ঞান অর্জন আল্লাহর এক মহান নিয়ামত এবং কলম সেই জ্ঞান সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম। আর কলমের অন্যতম উপাদান হলো কালি। মহান আল্লাহর সৃষ্ট এই শক্তিশালী ও অতিপ্রয়োজনীয় পদার্থের কথাও পবিত্র কোরআনে এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন, “বলুন, ‘আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৭)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘আর জমিনে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয়, আর সমুদ্র (হয় কালি), তার সঙ্গে কালিতে পরিণত হয় আরো সাত সমুদ্র, তবু আল্লাহর বাণীসমূহ শেষ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ২৭)
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, কলমের কালি জ্ঞান সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম।
কখনো কখনো আবার কলমের কালি হক-বাতিলে পার্থক্যকারী হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে কালির সঙ্গে ন্যায়-অন্যায় সম্পৃক্ত হয়ে যায়। যেমন—বিচারকের কলম থেকে বের হওয়া কিছু শব্দ কারো কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার একই কালিতে লেখা হতে পারে নিরপরাধ মানুষের বেকসুর খালাসের রায়। শুধু আদালতের বিচারকের হাতে নয়, অফিস-আদালত, সংবাদমাধ্যম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রকদের হাতে থাকা কলমের কালিও ন্যায়-অন্যায়ের মাধ্যম হয়ে থাকে। প্রতিটি দায়িত্বশীলের উচিত ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে তা ব্যবহার করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল, প্রত্যেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৪০৯)
এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, প্রত্যেকের দায়িত্বের পরিধিতে প্রত্যেকের সৎ থাকা উচিত। হাতে দায়িত্বের কলম পেয়ে তার কালির সঙ্গে নিজের অন্তরের কালি গুলিয়ে আমানতের খিয়ানত করলে, তার জন্য পরকালে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সামনে উত্থাপিত হওয়া তাদের আমলনামায় দেখা যাবে, আল্লাহর নিয়োজিত ফেরেশতাদের কলম তাদের বিরুদ্ধে লিখে রাখবে।
তাহলে কলমের কালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্তরের কালির দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবে না। অন্তরের কালির প্রভাবে করা অপরাধকে আইনসিদ্ধ করতে মিথ্যা অপবাদের মাধ্যমে অন্যের চরিত্রে কালি মেখে তাকে সমাজের সামনে হেয় করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে এ ব্যাপারে সতর্ক করে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর কেউ কোনো দোষ বা পাপ করে পরে সেটা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি আরোপ করলে সে তো মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১২)
মনে রাখতে হবে, মানুষের গায়ের রং কালো হওয়া নিন্দনীয় নয়, কিন্তু অন্তর কালো হওয়া নিন্দনীয়। উল্লিখিত আলোচনা দ্বারা বোঝা যায়, মহান আল্লাহর সৃষ্ট এই তরল পদার্থ প্রকৃত অর্থ ও রূপক অর্থের সমন্বয়ে আমাদের বহু বিষয়ে শিক্ষা দেয়। এটি কখনো তা জ্ঞানের আলো, কখনো ন্যায়বিচারের দলিল, কখনো অপবাদের অন্ধকার, আবার কখনো মানুষের দায়িত্ববোধের পরীক্ষা। একই কালি দিয়ে সত্য লেখা যায়, মিথ্যাও লেখা যায়; মানুষের সম্মান রক্ষা করা যায়, ধ্বংসও করা যায়। পার্থক্যটা কালিতে নয়, বরং কলমধারীর বিবেক ও নিয়তে। মহান আল্লাহ সবার নিয়ত বিশুদ্ধ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন মিন অং হ্লাইং, যিনি সামরিক শাসক থেকে প্রেসিডেন্টে পরিণত হয়েছেন। একসময় যিনি আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে দূরে রাখা হয়েছিল, এখন সেই নেতাকে একের পর এক দেশ স্বাগত জানাচ্ছে। সর্বশেষ মালয়েশিয়া সফরে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলো এখন বাস্তব স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেলেও গৃহযুদ্ধ অবসানের কোনো স্পষ্ট পথ তৈরি হচ্ছে না।
গত সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়া মিন অং হ্লাইংকে সফরের আমন্ত্রণ জানালে দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, এর অর্থ তার সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়। সফরের উদ্দেশ্য ছিল মালয়েশিয়ায় থাকা মিয়ানমারের শরণার্থী ও অভিবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান, এমনটাই জানিয়েছিলেন দেশটির এক কর্মকর্তা। কিন্তু গত সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে পৌঁছালে সাবেক এই জেনারেলকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও সামরিক গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমার নিজ খরচে তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। শরণার্থীবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে মালয়েশিয়ায়, তাই এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটিতে মিয়ানমারের প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার নাগরিক রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলিম জনগণের সদস্য।
মিন অং হ্লাইং জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে তিনি নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠাবেন।
অন্যদিকে, মিয়ানমারকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ সদস্যের আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে পুনরায় সম্পৃক্ত করতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সহিংসতা বন্ধ ও সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসিয়ান যে পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন না করায় মিন অং হ্লাইংকে জোটের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। মালয়েশিয়া ওই পরিকল্পনার অন্যতম জোরালো সমর্থক ছিল।
আনোয়ার ইব্রাহিম সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারকে কোনো ধরনের পক্ষপাত ছাড়াই আসিয়ানসহ জাতিগুলোর বৃহত্তর সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে ফিরিয়ে আনতে মালয়েশিয়া যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।
মিয়ানমারে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে চলা গৃহযুদ্ধে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর হিসাবে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৩৫ লাখ। সংঘাত এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে।
মিন অং হ্লাইং গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তাকে আতিথ্য দেওয়া পঞ্চম আসিয়ান দেশ মালয়েশিয়া। এর আগে তিনি থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস সফর করেন। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর তিনি প্রেসিডেন্ট হন। ওই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
মালয়েশিয়া সফর শেষে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেই সফর করতে পারেন তিনি।
নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সম্মানসূচক গবেষক ব্রিজেট ওয়েলশের মতে, মিন অং হ্লাইংকে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে মালয়েশিয়া জান্তাবিরোধী অবস্থানের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও যেসব আঞ্চলিক নেতা তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন, তারা মানবাধিকারের চেয়ে বাস্তব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
ওয়েলশ বলেন, আসিয়ান ও মিয়ানমার—উভয়ের জন্যই এটি এক ধাপ পেছনে যাওয়ার মতো। এতে মিয়ানমারের সংকট সমাধানের কোনো বাস্তব পথ তৈরি হচ্ছে না। বরং সামরিক বাহিনীকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়ার মাধ্যমে সংকট আরো বাড়তে পারে। দেশের ভেতরে যে বৈধতা সামরিক বাহিনীর নেই, বিদেশি সফরের মাধ্যমে তারা সেই স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেষ্টা
মিন অং হ্লাইংয়ের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পাওয়ার প্রচেষ্টা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। গত এপ্রিল থেকে তিনি ভারত, চীন, রাশিয়া ও বেলারুশ সফর করেছেন। প্রতিটি সফরে তার সরকারকে স্থিতিশীল ও গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি বাণিজ্য ও অবকাঠামো খাতে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও তার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স গত সপ্তাহে জানিয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তার সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে। আলোচনার অন্যতম বিষয় মিয়ানমারে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্রগুলো বন্ধ করা। এসব কেন্দ্র থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে কয়েক শ কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক দমন-পীড়নের ঘটনায় মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযানের পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছিল।
ইয়াঙ্গুনের তাম্পাদিপা ইনস্টিটিউটের পরিচালক খিন জাও উইন বলেন, চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডের সমন্বিত উদ্যোগ মিন অং হ্লাইংয়ের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিচ্ছে। তিনটি দেশের সঙ্গেই মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। গৃহযুদ্ধের প্রভাবও তাদের ওপর পড়েছে। সীমান্তের কাছে সংঘর্ষ, বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া এবং শরণার্থীদের প্রবেশ—এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।
খিন জাও উইনের মতে, মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি স্বার্থ রয়েছে এই তিন প্রতিবেশী দেশের। তাই তারা সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারকে স্বীকৃতি দিতে আগ্রহী।
তার ভাষায়, এ ক্ষেত্রে সবারই নিজস্ব সুবিধা ও স্বার্থ কাজ করছে।
সংঘাত থামেনি, বাড়ছে হামলা
কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও মিয়ানমারের সংঘাত থামেনি। মিন অং হ্লাইং সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় লড়াই চলছে। বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী ও জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর কাছ থেকে হারানো এলাকা পুনর্দখলে অভিযান চালাচ্ছে সামরিক বাহিনী। রাখাইন, চিন, কাচিন ও কারেন রাজ্য এবং সাগাইং অঞ্চলে এসব অভিযান চলছে।
বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি সেনা নিয়োগও বাড়িয়েছে জান্তা সরকার। এতে তাদের বাহিনীতে আরো কয়েক দশ হাজার সদস্য যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, চীনও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা করেছে।
তবে সাবেক ডাচ কূটনীতিক লেটিশিয়া ভ্যান ডেন আসুম মনে করেন, সামরিক বাহিনীর পক্ষে পুরো মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া কঠিন।
তার মতে, এর জন্য শুধু নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সেনাঘাঁটি রেখে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখলে চলবে না; পুরো দেশ দখলে রাখতে বিপুলসংখ্যক সেনার প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, এ কারণেই মিন অং হ্লাইং দেশের কিছু এলাকায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির ওপর নির্ভর করছেন। এতে অন্য এলাকায় লড়াই চালানোর জন্য সেনা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আসিয়ান দেশগুলোর উদ্যোগকে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেন ভ্যান ডেন আসুম। তার মতে, যার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে, তার কাছেই তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আসছে। ফলে তাদের নাগরিক হিসেবে দেশে ফিরিয়ে নিতে দেশটি আদৌ রাজি হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি। রোহিঙ্গাদের আদি নিবাস এই রাজ্যের বড় অংশ এখন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে প্রত্যাবাসন করা হলেও রোহিঙ্গাদের কোথায় রাখা হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভ্যান ডেন আসুম এ পরিস্থিতিকে ‘অন্ধের সঙ্গে অন্ধের কথা বলা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রতীকী পদক্ষেপে কি বদল আসবে?
মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আরো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত আগস্টে থাইল্যান্ড সফরের আগে তিনি আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে (আইসিআরসি) ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেন। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে ৮১ বছর বয়সি নোবেলজয়ী এই নেত্রীকে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছিল। ৩ আগস্ট আইসিআরসির প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে দেখা করেন। এতে বহু বছর পর সু চির প্রথম ছবি প্রকাশ্যে আসে।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সাই কিয়ি জিন সো এই পদক্ষেপকে প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তনের বদলে কম খরচে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ওই সাক্ষাৎ থেকে শুধু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে অং সান সু চি বেঁচে আছেন। এর বেশি কিছু নয়।
তিনি বলেন, আসিয়ান নেতারা মিন অং হ্লাইংকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিলেও সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ২৮ সেপ্টেম্বর রাখাইন রাজ্যের একটি বাজারে হামলার কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলায় আনুমানিক ৫০ জন নিহত হন।
সাই কিয়ি জিন সো বলেন, হামলা অব্যাহত থাকাই প্রমাণ করে যে নমনীয় কূটনীতি সামরিক বাহিনীকে সহিংসতা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
বিদেশি সফরের মাধ্যমে পাওয়া স্বীকৃতি সামরিক বাহিনীকে আরো বেপরোয়া করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তার মতে, কার্যকর প্রতিরোধের অভাব, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দুর্বলতা, আসিয়ানের পুনরায় সম্পৃক্ত হওয়ার উদ্যোগ এবং চীন ও রাশিয়ার মাধ্যমে অস্ত্র ও জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ—সব মিলিয়ে সামরিক বাহিনীর সামনে সংঘাত বাড়িয়ে যাওয়ার প্রণোদনা রয়েছে। বিশেষ করে সাগাইং ও রাখাইনের মতো বিতর্কিত এলাকায়, যেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল, সেখানে হামলা আরো বাড়তে পারে।
আসিয়ানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মিয়ানমার সংকট মোকাবিলায় আসিয়ানের বর্তমান সভাপতি ফিলিপাইন ও পরবর্তী সভাপতি সিঙ্গাপুরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এশিয়া হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবার অ্যাডভোকেটসের পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে পুরোপুরি আসিয়ানের বলয়ে ফিরিয়ে আনার যে চাপ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে এই দুই দেশকে। একই সঙ্গে জোটের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
রবার্টসন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বিমান চলাচলের জ্বালানি সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। মিয়ানমার সংকটের পুরো দায় আঞ্চলিক জোটের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। এ জন্য বিভিন্ন দেশের আদালতে সর্বজনীন এখতিয়ারের আওতায় মামলা বাড়ানো যেতে পারে। অথবা মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা শহরের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদের পর, স্বল্প আয়ের মানুষ, শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীরা চিন্তায় পড়েছেন। কারণ, কম দামে জামা, প্যান্ট, টি-শার্ট কিংবা শিশুদের পোশাক কেনার জন্য ফুটপাত ছিল অনেকের প্রথম পছন্দ। যেখানে শপিং মলে একটি পোশাকের দাম কয়েক হাজার টাকা, সেখানে ফুটপাত থেকে কখনো কয়েক শ টাকাতেই পছন্দের পোশাক পাওয়া যেত।
তবে সাশ্রয়ী দামে পোশাক কেনার জন্য এখন হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হকার্স মার্কেট, অস্থায়ী দোকান এবং স্বল্পমূল্যের পোশাকের বাজার রয়েছে। এসব স্থানে তুলনামূলক কম দামে দেশি পোশাক, আমদানি করা পোশাক, স্টক লট এবং কখনো বিদেশি ব্র্যান্ডের উদ্বৃত্ত পণ্যও পাওয়া যায়। তবে সব পণ্য আসল ব্র্যান্ডের হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
চলুন, ঢাকার কয়েকটি পরিচিত সাশ্রয়ী পোশাকের বাজারের ঠিকানা, কেনাকাটার ধরন এবং যাওয়ার আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি তা জেনে নেওয়া যাক।
ঢাকার সাশ্রয়ী পোশাকের ৭টি বাজার
১. গাউছিয়া মার্কেট
ঠিকানা: ৩, গাউছিয়া মার্কেট, মিরপুর রোড, নিউমার্কেট এলাকা, ঢাকা-১২০৫।
বিশেষত্ব: নারীদের থ্রি-পিস, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কাপড় এবং ফ্যাশন সামগ্রী কেনার জন্য পরিচিত। আশপাশের দোকানগুলোতেও দরদাম করে সাশ্রয়ী পোশাক খুঁজে পাওয়া যায়।
সাপ্তাহিক বন্ধ: সাধারণত মঙ্গলবার। বুধবার কিছু সময়সূচির ভিন্নতা থাকতে পারে। যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন।
২. চাঁদনী চক মার্কেট
ঠিকানা: মিরপুর রোড, নিউমার্কেটের বিপরীতে, ঢাকা-১২০৫।
বিশেষত্ব: পার্টি ড্রেস, থ্রি-পিস, শাড়ি, কাপড় এবং নারীদের ফ্যাশন সামগ্রীর জন্য জনপ্রিয়। বাজেটের মধ্যে পছন্দের পোশাক খুঁজতে একাধিক দোকান ঘুরে দেখা ভালো।
সাপ্তাহিক বন্ধ: সাধারণত মঙ্গলবার।
৩. নিউমার্কেট
ঠিকানা: মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৫।
বিশেষত্ব: পুরুষ, নারী এবং শিশুদের পোশাক, টি-শার্ট, প্যান্ট, শার্ট এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জামাকাপড়ের জন্য ভালো বিকল্প। মার্কেটের ভেতরের দোকানের পাশাপাশি আশপাশের সাশ্রয়ী পোশাকের দোকানও দেখতে পারেন।
সাপ্তাহিক বন্ধ: সাধারণত মঙ্গলবার।
৪. নূরজাহান সুপার মার্কেট
ঠিকানা: ঢাকা কলেজের বিপরীতে, মিরপুর রোড, নিউমার্কেট এলাকা, ঢাকা-১২০৫।
বিশেষত্ব: পুরুষদের শার্ট, প্যান্ট, পোলো টি-শার্ট এবং তুলনামূলক কম দামের রেডিমেড পোশাক খুঁজতে পারেন এখানে। পছন্দের মাপ ও কাপড়ের মান যাচাই করে কেনা উচিত।
খোলার দিন: মঙ্গলবার ছাড়া সাধারণত সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে খোলা থাকে।
৫. বঙ্গবাজার
ঠিকানা: ফুলবাড়িয়া, গুলিস্তান, ঢাকা।
বিশেষত্ব: রেডিমেড পোশাক এবং তুলনামূলক কম দামের জামাকাপড়ের জন্য পরিচিত এই বাজার। পাইকারি ও খুচরা কেনাকাটার সুযোগ দোকানভেদে আলাদা। বাজারের বিভিন্ন অংশের কার্যক্রম এবং দোকানের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।
খোলার দিন: দোকানভেদে সময়সূচি ভিন্ন হতে পারে; যাওয়ার আগে বর্তমান অবস্থা জেনে নিন।
৬. ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট
ঠিকানা: মিরপুর রোড, নিউমার্কেট-ধানমন্ডি সংলগ্ন এলাকা, ঢাকা-১২০৫।
বিশেষত্ব: শাড়ি, থ্রি-পিস, কাপড় এবং বিভিন্ন ধরনের পোশাকের জন্য পরিচিত। ফুটপাতের মতো কম বাজেটে কেনাকাটার বিকল্প খুঁজতে চাইলে বাজারটি ঘুরে দেখতে পারেন।
খোলার দিন: নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ সাপ্তাহিক বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে জেনে নিন।
৭. মৌচাক মার্কেট
ঠিকানা: মৌচাক মোড়, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭।
বিশেষত্ব: শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক এবং অন্যান্য রেডিমেড জামাকাপড়ের জন্য দেখতে পারেন। নিউমার্কেট এলাকায় যেতে অসুবিধা হলে এটি একটি বিকল্প।
খোলার দিন: সাধারণত শুক্রবারসহ সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন খোলা থাকে; সাপ্তাহিক বন্ধ এবং দোকানের সময়সূচি আগে যাচাই করুন।
ফুটপাতের দামে পোশাক কেনার জন্য যে কৌশলগুলো কাজে দেবে:
দরদাম ও তুলনা করুন: একই পোশাকের দাম অন্তত তিনটি দোকানে জেনে নিন। প্রথম দোকানেই কেনাকাটা চূড়ান্ত করবেন না। বিশেষ করে টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট এবং শিশুদের পোশাকের ক্ষেত্রে একই নকশার পণ্যের দাম ও মানে পার্থক্য থাকতে পারে।
মান যাচাই করুন: কম দাম মানেই ভালো সাশ্রয় নয়। কাপড়ের সেলাই, বোতাম, চেইন, দাগ, রং এবং সাইজ পরীক্ষা করুন। শিশুদের পোশাক কিনলে আরামদায়ক কাপড় ও সঠিক মাপকে গুরুত্ব দিন।
পাইকারি সুবিধা নিন: বেশি পোশাক কিনলে দরদাম করুন। একসঙ্গে একাধিক পণ্য কিনলে কিছু দোকানে দাম কমানোর সুযোগ থাকে। তবে পাইকারি দাম পেতে ন্যূনতম কতটি পোশাক নিতে হবে, তা আগে জেনে নিন।
সময়সূচি জেনে নিন: মার্কেটে যাওয়ার আগে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন যাচাই করুন। ঢাকার অনেক মার্কেটের প্রচলিত বন্ধের দিন মঙ্গলবার হলেও সব বাজার ও দোকানের সময়সূচি এক নয়। উৎসব, সরকারি নির্দেশনা কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে সময় পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৬ সালে ঢাকায় হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসন ও বাজার পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তাই ফুটপাতের দোকানের পরিবর্তে নির্দিষ্ট বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করাই বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।
ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ হওয়ার পর কম আয়ের ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী পোশাক কেনার বিকল্প খোঁজা স্বাভাবিক। তবে ঢাকার গাউছিয়া, চাঁদনী চক, নিউমার্কেট, নূরজাহান সুপার মার্কেট, বঙ্গবাজার, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট এবং মৌচাকের মতো বাজারে খোঁজ করলে বাজেটের মধ্যে পছন্দের পোশাক পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সঠিক বাজার নির্বাচন, দরদাম এবং মান যাচাই—এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখলেই কেনাকাটায় খরচ কমানো সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ