মোঃ নাজির খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা,
০৬:২৫ পি.এম
জনসাধারণের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যা ও সেবাসংক্রান্ত বিষয় সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি বুধবার আয়োজিত এ গণশুনানিতে আগত সেবাপ্রার্থীদের বক্তব্যগুলো মনোযোগসহকারে শুনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উক্ত গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির। এ সময় জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সেবাপ্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ, নারায়ণগঞ্জ || ১৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ৫০ জন অসহায় বেকার নারীকে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে সেলাই মেশিন এবং প্রয়োজনীয় কাপড়, সুতা, টেবিল-টুলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার বিকেল ৪টায় বালিয়াডাঙ্গী-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পাশে আলী ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দাওয়াহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই সেলাই মেশিন ও সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ওয়েলবিং বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে এবং গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্টের অর্থায়নে।
বিতরণ অনুষ্ঠানে আলহাজ্ব বাবর আলীর সভাপতিত্বের পাশাপাশি ওয়েলবিং বাংলাদেশ সোসাইটির ইমপ্লিমেন্টর মুফতি শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও অঞ্জন কুমার দাস তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, "ওয়েলবিং বাংলাদেশ সোসাইটি ও গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট নারীদের প্রশিক্ষিত করে দক্ষ জনবল তৈরি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে এটি একটি প্রশংসনীয় কার্যক্রম। একই সাথে তিনি প্রশিক্ষণ নেওয়া মায়েদের তাদের সন্তানকে নিয়মিত স্কুলে পাঠানো এবং মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ প্রদান করেন।
এই বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এন এন নুরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী ফইজুল ইসলাম, সাংবাদিক হাসান আলীসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার পারিবারিক, সামাজিক ও প্রশাসনিকসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন কর্তৃক এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান। গণশুনানির সময় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সেবাপ্রার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সমস্যা এবং সহায়তার আবেদন উপস্থাপন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আবেদনকারীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য টানা তৃতীয় বছর গাজা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান হিসেবে রয়ে গেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দফতর (ওসিএইচএ) ২০২৫ সালে সেখানে ১৮৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ওসিএইচএ জানায়, ২০২৫ সালে ত্রাণকর্মী নিহতের দিক থেকে সুদান দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। দেশটিতে ওই বছর ৭১ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন।
মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান আউটকামসের এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ৯০৭ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত, আহত কিংবা অপহৃত হয়েছেন। এটি ত্রাণকর্মীদের ওপর সহিংসতার জন্য নতুন রেকর্ড।
ওসিএইচএ জানায়, গত বছর বিশ্বজুড়ে ৩৫০ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। যদিও এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম, তবুও মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর সহিংসতার সামগ্রিক মাত্রা হ্রাস পায়নি। এ ছাড়া ৩২২ জন আহত হয়েছেন এবং ২৩৫ জন অপহৃত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার বলেন, ‘মাত্র তিন বছরে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি তুলে ধরলেই পরবর্তী ত্রাণকর্মীকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসরণ করতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা এসব আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দফতর আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও ত্রাণকর্মীদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অন্তত ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহৃত হয়েছেন।
ড্রোনে বাড়ছে ঝুঁকি। কম খরচে তৈরি করা যায় এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য সশস্ত্র ড্রোনের বিস্তার বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে বলে সচেতন করা হয়েছে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে সুদানে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ৮০ শতাংশ ঘটে সশস্ত্র ড্রোন হামলায়। এসব হামলায় বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়।
ইউক্রেনে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই ড্রোন হামলায় ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। রাশিয়াতেও ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটছে এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ায় অস্ত্রবাহী ড্রোনের হামলা ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চার গুণ বেড়ে গেছে।
ত্রাণকর্মীরাও এসব হামলার শিকার হচ্ছেন। মার্চে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হন। মে মাসে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনে চারটি মানবিক সহায়তাবাহী বহরে হামলা করা হয়েছে।
টম ফ্লেচার বলেছেন, অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত ড্রোন পুরোনো এক বিপদের নতুন রূপ হয়ে উঠেছে—বেসামরিক জীবনকে ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়াভাবে ধ্বংস করা। প্রযুক্তি পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু যুদ্ধের আইন পরিবর্তন হয় না। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আগামী ২৬ আগস্ট উদযাপিত হবে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. আয়াতুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. ইমতিয়াজ হোসেন এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। এই দিন দেশের সমস্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন এবং সশস্ত্র বাহিনীর স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এই উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, বিভিন্ন স্থান ও সড়ককে জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। একসাথে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ ক্ষেত্রের অধীনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো আয়োজনের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, ছাত্র-ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন যুবকদের জন্য করবে। এছাড়া স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলা আয়োজন করা হবে।
এই দিনটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করতে প্রস্তুত হবে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিস এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম এবং ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে।
এই উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং প্রবীণ নিবাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করবে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোর মাধ্যমে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।
এছাড়া, দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ