ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়তেই সিলেটে দেখা দিয়েছে সংকট


এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়তেই সিলেটে দেখা দিয়েছে সংকট

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়তেই সিলেটে দেখা দিয়েছে সংকট দেখা দিয়েছে। সিলেট শহর কিংবা গ্রাম পর্যায়ে এলপিজির চাহিদা থাকাতে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে দিয়েছে ওই ধরণের গ্যাস সিলিন্ডারের। সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর না হওয়ায় সিলেটে ১২ কেজির একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। ফলে প্রতিটি সিলিন্ডারে গ্রাহককে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩৬৩  থেকে ৬৬৩ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। দাম বাড়ানোর পরও বাজারে সরবরাহ সংকট না কাটায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
জানা গেছে, সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবার গুলোকে বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ। সিলেট নগরীর কিছু দোকানে ২০০০ টাকায় সিলিন্ডার মিললেও গ্রামে ২৫০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার মিলছেনা।
এদিকে রান্নার কাজে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল বহু পরিবারের মাসিক ব্যয় এতে বেড়ে যাচ্ছে। একদিকে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, অন্য দিকে চাহিদামতো সরবরাহ না থাকায় বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতিও ফিরছে না। ফলে সরকার দাম নির্ধারণ করলেও তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকেরা।
এলপিজি পরিবেশকদের দাবি, কোম্পানি থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে সিলেটে আনতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে। এর সঙ্গে সিলিন্ডার ওঠানো-নামানো, গুদামভাড়া, কর্মচারীদের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় যুক্ত হয়। এসব খরচ বিবেচনায় নিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করলে তাঁদের লোকসান গুনতে হয়। একারণে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের। তবে পরিবহন ও পরিচালন ব্যয়ের এই যুক্তির মধ্যেও বাড়তি দাম দিয়ে এলপিজি কিনতে হচ্ছে  ভোক্তাদের।
সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের খুচরা বিক্রেতা জানান, সরকারী মূল্যে পাইকারী কিনে সেই দামে বিক্রি করলে আমাদের মুনাফা থাকে না। এর উপর আবার বাসায় ডেলিভারী দিতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত নিতে হচ্ছে।
এক মাসে দাম বাড়ল ২৫২ টাকা:
গত ৪ অক্টোবর অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। এতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে এই সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা। তবে নতুন দাম ঘোষণার পরও সিলেটে বাজার মূল্য নির্ধারিত দামের ধারেকাছে আসেনি।
বর্তমানে সিলেটে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের তুলনায় গ্রাহককে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। দাম সমন্বয়ের উদ্দেশ্য থাকলেও সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানের কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমছে না।
কমিশন বাড়ানোর দাবি পরিবেশকদের:
এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি পরিবেশক পর্যায়ের কমিশন ও পরিচালন ব্যয় সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২১ সালে পরিবেশকদের জন্য সিলিন্ডার প্রতি ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছরে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। বর্তমান কমিশনে এসব খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানি থেকে পরিবেশকের গুদাম পর্যন্ত সিলিন্ডার পরিবহনে খরচ হয় ৫০ টাকা। ট্রাকে ওঠানো-নামানো এবং খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ব্যয় হয় আরও ৩৫ টাকা। এ ছাড়া কর্মচারীদের মজুরি, গুদাম ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খাতে খরচ হয় ২৫ টাকা। সব মিলিয়ে এসব খাতে ব্যয় ১১০ টাকা। এর সঙ্গে সিলিন্ডার প্রতি ৪০ টাকা মুনাফা যোগ করলে পরিবেশক পর্যায়ে মোট ১৫০ টাকা প্রয়োজন বলে দাবি সংগঠনটির। অথচ কমিশন নির্ধারিত রয়েছে ৫০ টাকা। ফলে তাঁদের হিসাবে সিলিন্ডার প্রতি ১০০ টাকা ঘাটতি থাকছে।
গত ৬ অক্টোবর এ বিষয়ে বিইআরসিকে চিঠি দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। চিঠিতে ব্যবসায়ীদের ব্যয় ও কমিশন সমন্বয়ের পাশাপাশি বাজারে মূল্যসংক্রান্ত অস্থিতিশীলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সংগঠনটির দাবি, বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যতালিকায় পার্থক্য থাকায় বাজারে একই পণ্যের দামে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এতে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা যেমন সমস্যায় পড়ছেন, তেমনি ভোক্তাদেরও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
এদিকে সিলেটেও এলপিজির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় ভোক্তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পরিবেশকদের পরিবহন ব্যয় ও কমিশন সংক্রান্ত দাবি, কোম্পানিগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের ব্যয় সমন্বয়ের দাবি ও ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে গ্যাস পাওয়ার অধিকার দুই দিক বিবেচনায় কার্যকর উদ্যোগ না এলে সিলিন্ডারের বাড়তি দাম ও সরবরাহ সংকটের চাপ সাধারণ মানুষের ওপরই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজউকের আবাসন প্রকল্প মাদকের আখড়া ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ এম


রাজউকের আবাসন প্রকল্প মাদকের আখড়া ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে (রুয়াপ) বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে অবৈধ দখল, মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। তারা জানাচ্ছেন, রাজউক প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই সমাপ্তির নোটিশ জারি করেছে, ফলে আবাসিক এলাকা কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় একটি চক্র আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে, রুয়াপের ৬ নম্বর প্রবেশপথের বিপরীতে মানববন্ধন আয়োজন করেন বাসিন্দারা। সেখানে শতাধিক বাসিন্দা অংশ নিয়ে দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

তারা জানান, সন্ধ্যার পর আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও বহিরাগত তরুণদের আড্ডা বসে। এসব স্থানে মধ্যরাত পর্যন্ত মাদক সেবন চলে। তারা অভিযোগ করেন, ‘একটি চক্রের’ সহায়তায় সেখানে মাদক ব্যবসা বিস্তৃত হচ্ছে।

এ সময়, মো. জাহাঙ্গীর আলম, যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, বলেন, ‘তারা আমাদের হাঁটার জায়গা দখল করতে চায়, এখানকার ময়লা পরিশোধনাগার দখল করে বাজার বসাতে চায়। আমরা এটি হতে দিতে পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে রুয়াপের ভেতরের এবং বাইরের কয়েকজন মিলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করতে চায়, আমরা এগুলো চাই না। কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা ও দখল আমরা এখানে চাই না।’

মানববন্ধন থেকে বাসিন্দারা এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ, সবুজায়নের স্থান, সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ দখল বন্ধ করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি উচ্ছেদের দাবি জানান।

এদিকে, এক বিজ্ঞপ্তিতে বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাজউক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া এই প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০ বছর অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেও শেষ হয়নি। আবাসিক এলাকার বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, কমিউনিটি সেন্টার, পার্কিং ভবন, সুইমিং পুল ও ব্যায়ামাগার কমপ্লেক্সের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। তারা দাবি করেছেন, বিভিন্ন ভবনে এখনো বরাদ্দ না দেওয়া ফ্ল্যাট রয়েছে।

মানববন্ধনে রুয়াপের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সংগঠন ‘নিসর্গ নীলিমা’র উদ্যোক্তা নিলোফার জাহান ববি বলেন, ‘আমরা একটি সরকারি আবাসিক এলাকায় থাকি। এখানে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। আমরা এসব চাই না। আমরা বসবাসের উপযোগী একটি রুয়াপ চাই।’

রুয়াপের বাসিন্দা কৃষিবিদ শাহীন আনোয়ার মানববন্ধনে বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা কোনো অন্যায় মেনে নেব না।’

রুয়াপের আরেক বাসিন্দা মানিক মানবিক বলেন, ‘এখানে কতিপয় লোক, যারা রুয়াপে বাসিন্দা, তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রুয়াপের বিভিন্ন জায়গা ও রাস্তা দখল করতে চায়। সকালে বাজার বসে, বিকেলে বাজার বসে। জনসমাগমের আশপাশে মাদকের আড্ডা বসে। এসব চলতে দেওয়া যাবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোটের কারণে ভারত সিরিজ থেকে বাদ পড়লেন নিউজিল্যান্ডের পেসার ওরুকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ এম


চোটের কারণে ভারত সিরিজ থেকে বাদ পড়লেন নিউজিল্যান্ডের পেসার ওরুকি

সিরিজের শুরুতে শেষ হয়ে গেল উইলিয়াম ও রুকির। চোটের কারণে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ থেকে বাদ পড়লেন নিউজিল্যান্ডের পেসার। বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিং ও কাফের চোট থেকে তিনি এখনও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।

ঝুঁকি না নিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ওরুকিকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে খেলার কথা ছিল তার। ডিসেম্বরের অস্ট্রেলিয়া সফরের চার টেস্টের সিরিজে তাকে পাওয়ার আশা করছে নিউজিল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রথম টেস্ট আগামী ৯ ডিসেম্বর পার্থে শুরু হবে।

ওরুকির চোট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার মন্তব্য করেছেন, ‘ঘরের মাঠে ভারতের মতো দলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে ওরুকিকে না পাওয়া হতাশার। তবে আলোচনা শেষে আমরা একমত হয়েছি, দুই চোট থেকে সেরে উঠতে তার আরো সময় প্রয়োজন।’

২০২৫ সালের এপ্রিলে পিঠের চোটে পড়েছিলেন ওরুকি। স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে গত গ্রীষ্মে ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিতে পারেননি তিনি। সাত মাস পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে মাঠে ফিরেছিলেন ২৫ বছর বয়সী পেসার। এরপর জুনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টেও খেলেছেন। তবে নটিংহ্যামে শেষ টেস্টের শেষ দিনে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। আগস্টের শেষ দিকে অনুশীলনে আবারও কাফের চোটে আক্রান্ত হন।

ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ শুরু করবে নিউজিল্যান্ড। তবে ২২ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ওরুকি ছিলেন না। অন্যদিকে ১ নভেম্বর শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এবং দুই টেস্টের সিরিজ শুরু হবে ১৯ নভেম্বর থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহ্‌দী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ এম


সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহ্‌দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন মন্তব্য করেছেন, "আমরা এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর কোনো বিভাজন থাকবে না, বরং সকলের মূল পরিচয় হবে 'বাংলাদেশি'।" তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩' উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাহ্দী আমিন।

সকাল ৬টার দিকে বনানী মাঠে পৌঁছালে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এরপর এক বিশেষ প্রীতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এই শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়েই মূলত শুরু হলো শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা।

মাহ্দী আমিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির চিরন্তন বিজয়।" তিনি উল্লেখ করেন, "সব অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের প্রধান বার্তা।" এ সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এক আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আজ আমরা এমন একটি অঞ্চলে সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা।" তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ ও বিশ্বাসের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয়-আমরা সবাই বাংলাদেশি।" মাহ্দী আমিন বলেন, "আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ইস্পাতকঠিন ঐক্য।"

উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক পদক্ষেপ তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, "জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।" তিনি বলেন, "একই সঙ্গে দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে সরকারি ছুটিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।"

মুখপাত্র মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ।" তিনি বলেন, "জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও একতাবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই সরকারের মূল চালিকাশক্তি।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, "দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সার্বিক জনকল্যাণই সর্বগ্রাহ্য অগ্রাধিকার।" সে কারণেই তাদের মূল নীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, "দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।"

অনুষ্ঠানে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়ের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদারসহ সনাতন সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো তাজমিন হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো তাজমিন হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের হত্যা মামলার তদন্তে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এই ঘটনায় সুমন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর তাজমিন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার কথা থাকলেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানক্ষেতে। সেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার উদ্দেশ্য অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে যায়। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরের পর বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় কিশোরীটি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে সে। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে ওই এলাকায় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়।

এরপর বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, চালক সুমন শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে গাড়ি চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে বাবাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠায় তাজমিন এবং নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করে। রাত ২টা ৫৮ মিনিটে পাঠানো ওই বার্তায় তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবাকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পাননি তার বাবা আবদুল আলীম।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি বিজরা হয়ে রসুলপুর ও শিকারীপাড়া দিয়ে জগতপুরের ধানক্ষেতের দিকে যায়। সেখানে তাজমিনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, তাজমিনের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণ বাঁচাতে সে পালানোর চেষ্টা করেছিল। একপর্যায়ে গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। শুরুতে চালক সুমন একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হলেও পরে মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে জগতপুরের ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। গাড়িটির নিবন্ধন ও মালিকের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে গাড়ির মালিক জানান, সুমন সেটি ভাড়ায় চালাতেন। পরে তার অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ার আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত সে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যাচ্ছিল না।

এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েছেন তাজমিনের মা কেয়া খাতুন। শুক্রবার যশোরের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ায় তাদের বাড়িতে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।

কেয়া খাতুন অভিযোগ করেন, মেয়ের এক বান্ধবী তাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত। মেয়েকে নিরাপদে রাখতে অনেক চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। তার অভিযোগ, ওই বান্ধবীই তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে মেয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল। সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মেয়ের পাঠানো বার্তা ও লাইভ লোকেশন দেখতে পান তিনি। পরে লোকেশন অনুসরণ করে মেয়ের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

তাজমিনের হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%