ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

সরকার ১৭ বছর জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রে ছিল: এস এম জিলানী


সরকার ১৭ বছর জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রে ছিল: এস এম জিলানী

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী মন্তব্য করেছেন, “১৭ বছর একটি সরকার ও রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র ছিল বাংলাদেশ জাতিকে মেধাশূন্য করে দেওয়ার জন্য।”

তিনি অতীতের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় লিখুক বা না লিখুক, তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। একই সঙ্গে তিনি কোটালীপাড়ার প্রাথমিক শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষকদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) হলরুমে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কোটালীপাড়া উপজেলা থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৬০ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে স্কুলব্যাগ ও ফুল তুলে দেন এস এম জিলানী।

আরও পড়ুন: আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ওপর গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান হাওলাদারসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা।

শিক্ষকদের উদ্দেশে এস এম জিলানী বলেন, “১৭ বছর একটি সরকার এবং একটি রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র ছিল বাংলাদেশ জাতিকে মেধাশূন্য করে দেওয়ার জন্য। এই সময়ে লেখাপড়ার মান উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার খাতায় লিখুক বা না লিখুক, তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। তিনি মন্তব্য করেন, তখন জিপিএ ও গোল্ডেন জিপিএ পাওয়ার হিড়িক দেখা গেলেও অনেক শিক্ষার্থী এসএসসিতে ভালো ফল করার পরও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। “আমরা এই শিক্ষা পদ্ধতি চাই না,” বলেন এস এম জিলানী।

কোটালীপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে এস এম জিলানী বলেন, “আমাকে আপনারা পরামর্শ দেন, কীভাবে কোটালীপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নত করা যায়।” শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এস এম জিলানী বলেন, “তোমাদের উদ্দীপ্ত করার জন্য আজকের এই আয়োজনটি আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস। লেখাপড়ায় আরও মনোনিবেশ করতে হবে। বইয়ের পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: বিরোধীদল ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ দায়িত্বহীন আচরণ করছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন উল্লেখ করে এস এম জিলানী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটের তিস্তারপাড়ে সরকারের দুটি মূল্যবান মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট নষ্টের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ পি.এম


লালমনিরহাটের তিস্তারপাড়ে সরকারের দুটি মূল্যবান মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট নষ্টের শঙ্কা

লালমনিরহাটে, বন্যা এবং নদীভাঙনের কারণে তিস্তাপারের বিপন্ন মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার উদ্দেশ্যে কেনা হয়েছিল প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দুটি আধুনিক ‘মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট’। কিন্তু দুর্যোগকবলিত চরাঞ্চলের মানুষের ভরসা হওয়ার পরিবর্তে, বর্তমানে নৌযান দুটি নিজেই তিস্তার কাদাজলে বিলীন হতে বসেছে। এর মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, রেসকিউ বোট দুটি হস্তান্তরের দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও, দুর্গত মানুষের জন্য একটিও উদ্ধারকাজে এগুলো ব্যবহার করা হয়নি। বরং, চরম তদারকির অভাব এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, ২০২২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে লালমনিরহাটের চরাঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য ‘লালমনিরহাট বুড়িমারী-১’ ও ‘লালমনিরহাট বুড়িমারী-২’ নামের বিশেষায়িত দুটি বোট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর, সদর উপজেলার ৭ নম্বর রাজপুর ইউনিয়নের জগৎবেড় এলাকার ৫ নম্বর স্পার বাঁধের পাশে বোট দুটি নোঙর করে রাখা হয়। কিন্তু চার বছর ধরে কোনো উদ্ধার অভিযানে নামানো হয়নি এগুলোকে। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকতে থাকতে বোটগুলোর ভেতরে পানি এবং পলি বালু ঢুকে বর্তমানে তলিয়ে যেতে বসেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত এই জনপদে প্রতি বছর বন্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হলেও, এই বোট দুটি মানুষের কোনো কাজে আসেনি। মাঝে মাঝে লোকদেখানোভাবে ইঞ্জিন ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে সামান্য সময়ের জন্য চালু করা হতো, এরপর আবারও ফেলে রাখা হতো সেই বাঁধের কিনারায়।

জগৎবেড় এলাকার বাসিন্দা ইসলাম আরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বোট দুটো এনে ফেলে রাখা হয়েছে, সরকার এগুলো নিয়ে যাচ্ছে না। এবারের বন্যায় এগুলো তো পানিতে তলিয়ে গেছে, কাদামাটি জমে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। কোনোমতে দড়ি দিয়ে বাঁধা আছে, বাঁধন ছিঁড়লেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে। আমরা চাই দ্রæত এগুলো উদ্ধার করা হোক।"

আরেক বাসিন্দা লোকমান আলী বলেন, "বাড়িঘর ভাঙলে মানুষ উদ্ধার হবে, বন্যার সময় উপকারে আসবে, এই আশায় বোট দুটো আনা হয়েছিল। অথচ এতগুলো বন্যা গেল, মানুষ পানিতে ভাসল, কিন্তু বোট আর নামল না। মাঝেমধ্যে এসে একটু ইঞ্জিন চালিয়ে চেক করত, ব্যাস ওই পর্যন্তই। এখন তো ইঞ্জিনসহ পুরোটাই ডুবে যাচ্ছে। সরকারের এই মূল্যবান সম্পদ কাজে না লাগলে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়ে দেওয়া হোক।"

মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট পরিচালনা নীতিমালা এবং কার্যকর উদ্যোগের অভাবে, জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো টেকসই পদক্ষেপ নিতে পারছে না, এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র।

বোট দুটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে, লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, "এবারের বন্যায় বোট দুটি আংশিক তলিয়ে যায়। এগুলো পাহারা ও দেখভালের দায়িত্বে থাকা দুজন কর্মচারীর বেতন-ভাতা সময়সীমা শেষ। বর্তমানে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং শিগ্‌গিরই বোট দুটোর ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার তিনজনের বাড়িতে আগুন দিল জনতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


রাজবাড়ীতে রোহান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার তিনজনের বাড়িতে আগুন দিল জনতা

রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই ঘটনায়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত হয়েছে।

এদিকে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিহত রোহানের গ্রামের বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতকদের বাড়ী ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জনতাকে শাস্তি দেয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি বিশেষ দল দাদসী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং একই ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)।

পুলিশের প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) নিজ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর তার পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে, ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পেট কাটা ছিল।

নিহতের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ৯ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রোহানের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা ও পরিকল্পনার জেরে রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে দেওয়া হয়। এরপর আলামত নষ্ট করা ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেখানো মতে, ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা উদ্ধার করা হয়। মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে শ্বাসরোধের কাজে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে নিহতের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে এসব আলামত বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান : আইএসপিআর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান : আইএসপিআর

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনী প্রধানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচারিত হচ্ছে বলে জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর উল্লেখ করে, 'সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মূলত, এসব তথ্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।'

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য সকলকে বিনীতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং সুদৃঢ় চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে দেশ ও জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এছাড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কে যেকোনো তথ্যের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গবেষণায়: ৫৯ শতাংশ মানুষ জানেন না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


গবেষণায়: ৫৯ শতাংশ মানুষ জানেন না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে

উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ, অনেকের শরীরে এই সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও তারা তা বুঝতে পারছেন না। ইংল্যান্ডে প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে প্রায় ৫৯ শতাংশই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা রয়েছে। এর ফলে তারা চিকিৎসা গ্রহণ করছেন না। খবর ইউরোনিউজ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের গবেষকরা ‘আওয়ার ফিউচার হেলথ’ কর্মসূচির আওতায় ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পেয়েছেন। এটি যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম স্বাস্থ্য গবেষণা উদ্যোগগুলোর একটি।

গবেষকেরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড ব্যবহার করে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করেছেন। এই মানদণ্ড অনুযায়ী, সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৪০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি অথবা ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি হলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। যারা রক্তচাপ কমানোর জন্য ওষুধ সেবন করেন, তাদেরও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বয়সের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশের এই সমস্যা রয়েছে। ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ হার ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বয়সের পার্থক্য হিসাবের মধ্যে রেখেও দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার বেশি। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৪২ শতাংশ, আর নারীদের ক্ষেত্রে ২৯ শতাংশ।

চিকিৎসা নিয়েও নিয়ন্ত্রণে নেই

গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণকারীদের অর্ধেকের রক্তচাপও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নেই। এক বা একাধিক ওষুধ সেবন করেও তাদের রক্তচাপ ১৪০/৯০ বা তার বেশি রয়েছে।

গবেষকদের মতে, ইংল্যান্ডে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি বিদ্যমান। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নির্দেশিকা চালু থাকলেও সমস্যাটির সমাধান হয়নি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও চিকিৎসা পরিসংখ্যানবিদ ওয়েনইউ লিউ উল্লেখ করেন, উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত ও চিকিৎসার বর্তমান পদ্ধতি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি জানান, শুধু বয়স্কদের মধ্যে নয়, তরুণদের মধ্যেও এ সমস্যা উদ্বেগজনক। ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের ১৫ শতাংশের বেশি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়মিত সুযোগ ৪০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়। ফলে এর চেয়ে কম বয়সীদের অনেকের উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত না হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে কম বয়স থেকেই রোগটি শনাক্ত করার ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

‘আওয়ার ফিউচার হেলথ’ কর্মসূচির উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ও চিকিৎসক ইয়ান টার্নবুল বলেন, সাধারণ চিকিৎসাসেবায়ও এমন অনেক রোগী দেখা যায়, যাদের উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হয়নি কিংবা চিকিৎসার পরও তা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

তার মতে, রক্তচাপের মাত্রার ওপর নির্ভর না করে হৃদ্‌রোগ ও রক্তনালির রোগের ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা উচিত।

আগাম শনাক্তকরণে জোর

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক ব্রায়ান উইলিয়ামস গবেষণার ফলকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্‌রোগের অন্যতম প্রধান পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি। যুক্তরাজ্যে প্রায় অর্ধেক হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সঙ্গে এই সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।

উইলিয়ামস বলেন, অনেক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হলেও তা জানেন না। ফলে সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরুর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং চিকিৎসার পরও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। এসব ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে বহু মানুষের প্রতিরোধযোগ্য হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এড়ানো সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%