১২:০১ এম
মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবিরের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতুন তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ, সংগঠনগত যোগাযোগ এবং উদ্ধার হওয়া ভিডিওর সঙ্গে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী গঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না।
২৩ বছর বয়সী *ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম*-এর প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবির এবং তার সহযোগী ২০ বছর বয়সী হোসাইন তানিমকে নতুন করে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম। তদন্ত কর্মকর্তারা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকা থেকে তাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া আরও চারজনকে পুলিশের আবেদনের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য
রিমান্ড শুনানির সময় বিচারক বলেন, এ পর্যায়ে আসামিদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। বিচারক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা না মিললে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন।
আবেদন অনুযায়ী, আদালত তদন্ত কর্মকর্তাদের আগামী *১২ জুলাইয়ের মধ্যে* তদন্ত অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আতাউল্লাহ শাহও রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর গত ৭ জুলাই দলীয় নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দলের সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে এনসিপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, শাহ আমানত সাবিরের মোবাইল ফোনে পাওয়া *২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের* একটি ভিডিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ভিডিওতে রাতের আঁধারে একটি গ্রামীণ সড়কে বিস্ফোরণের দৃশ্য, উগ্রবাদী ধাঁচের স্লোগান এবং ধারালো অস্ত্র হাতে সাবিরকে হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওটির পটভূমিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সংশ্লিষ্ট প্রচারণায় ব্যবহৃত একটি আরবি গান সংযুক্ত ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নীত করবে: জহির উদ্দিন স্বপন
তবে ভিডিওটি কোথায় এবং কবে ধারণ করা হয়েছিল কিংবা পরে কাকে পাঠানো হয়েছিল—এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তদন্ত কর্মকর্তারা।
জিজ্ঞাসাবাদে সাবির দাবি করেছেন যে, ভিডিওটি তার সহযোগীরাই ধারণ করেছিলেন এবং পরে একটি আরবি গান সংযোজন করে বিদেশে অবস্থানরত একজন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানিয়েছেন যে শাহ আমানত সাবির *‘এসবিজে’ (SBJ—Sabir Bhaiyer Jama)* নামে ১৩ থেকে ১৫ সদস্যের একটি ছোট দল গঠন করেছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে *‘আমির-ই-মুজাহিদ’* হিসেবে পরিচয় দিতেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, ‘জামা’ শব্দটি এখানে ‘জামাত’ বা একটি সংঘবদ্ধ দলের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে এ পর্যন্ত দলটির সঙ্গে কোনো পরিচিত বা প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নেবে স্বপ্নবুনন
তদন্তে আরো উঠে এসেছে যে, সাবির নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলাম ও হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামি বাংলাদেশ (হুজি-বি)**-এর কিছু নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে আদর্শ ও কৌশলগত মতপার্থক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজস্ব একটি ছোট গোষ্ঠী গঠন করেছেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন