মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৫ পি.এম
বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের মধ্যে খুন, সন্ত্রাস এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
মঙ্গলবার বিকালে শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসলামী যুব আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রেজাউল করীম বলেন, "চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী সুন্দর বাংলাদেশ পাওয়ার আশা করেছিল; কিন্তু বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবে তা হয়নি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের আমলের ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "যদি সরকার কোন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।"
এছাড়া, তিনি জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা তুলে ধরে সরকারকে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
শহীদ জাহিদ আল আমিন বুলবুলের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানান এবং অবিলম্বে সিফাত বাহিনীর জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীল বুলবুলের হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, "আমার ভাইয়ের বিচার আদায় না করে আমরা কেউ রাজপথ ত্যাগ করবো না।"
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, "শহীদ বুলবুলের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং যতদিন পর্যন্ত হত্যাকারীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত না হবে, ততদিন আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।" তিনি বলেন, "সরকার যদি অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে কালক্ষেপণ বা টালবাহানা করে, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায়ভার নিতে হবে। তিনি সংবিধান এবং আইন সংসদে কেবল চর্চা না করে, তা রাষ্ট্র যথাযথভাবে প্রয়োগ করার জন্য তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ দ্বীন ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার লচনা এলাকায় সাতগাঁও হাইওয়ে থানার সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারসংলগ্ন মাজদিহি এলাকার অমৃত সিংয়ের ছেলে জয় সিং (২৩)। তবে নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে মিরপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ‘আলম এশিয়া পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস লচনা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, রাত ৯টার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু ঘটেছিল। দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরিচালিত এক অভিযানে দুইটি ফিলিং স্টেশনে পরিমাপে ত্রুটি ধরা পড়েছে, যার জন্য ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এই অভিযানটি সম্পন্ন হয়।
এই অভিযানে বিএসটিআই, রংপুর-এর সহযোগিতায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহকারী প্রতিটি ইউনিটের পরিমাপ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার সময় মেসার্স শিহাব ফিলিং স্টেশন-এর একটি ইউনিট এবং মেসার্স মামুনুর রশীদ পেট্রোলিয়াম-এর তিনটি ইউনিটে পরিমাপে ত্রুটি দেখা যায়।
এ কারণে, ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ২৯ ও ৪৬ ধারা অনুযায়ী, মেসার্স শিহাব ফিলিং স্টেশনকে ১৫ হাজার টাকা এবং মেসার্স মামুনুর রশীদ পেট্রোলিয়ামকে ৪৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ফলে, দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা (ষাট হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, উভয় ফিলিং স্টেশনকে গ্রাহকদের কাছে সঠিক পরিমাপে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. হামিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে জ্বালানি বিক্রয়ে সঠিক পরিমাপ ও মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুমোদন ছাড়া ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমির টপসয়েল ও মাটি উত্তোলনের জন্য ড্রেজারের মালিক পক্ষকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে তিনটি ড্রেজার অকেজো করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করেন শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।
আদালত সূত্র জানায়, কৃষিজমির টপসয়েল কেটে মাটি উত্তোলনের অপরাধে ড্রেজার মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মো. রাজু (২২), সাং-রায়শ্রী উত্তরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানে মনোহরপুর এলাকায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার অকেজো করা হয়। এছাড়া নরিংপুর এলাকা থেকে মাটি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার সদস্য ও গ্রামপুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ঘুষ প্রদান করেছেন এক ব্যক্তি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে মামলা ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিহত নারীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। পুলিশ দাবি করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি (বাংলাদেশি) সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রমাণ রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
ঘটনাটি শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (কিউপিস) এএফপির কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠায়, যেখানে উল্লেখ করা হয়, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এক নারী বাংলাদেশে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন।
রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় খোঁজ শুরু হয়। তবে পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, মৃত্যুটি স্বাভাবিক ছিল না এবং এটি একটি ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বিদেশে হত্যাকাণ্ড, অপমৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার ঘটনায় বিচারিক এখতিয়ার রয়েছে এএফপির, যা অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্রিমিনাল কোড’ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর ভিত্তিতে এএফপির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সংস্থাটি আলাদা তদন্ত শুরু করে, যা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান তদন্তের পাশাপাশি চলে।
দুই বছরের পরিকল্পনা ও ৯০ হাজার ডলার লেনদেনের বিষয়টি এএফপির গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে অর্থ লেনদেনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মোট ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ) বাংলাদেশে পাঠান। এই অর্থের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনার তদন্তকে নিজের অনুকূলে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড থেকে নিজের নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া।
তদন্ত জোরদার করতে এএফপির কর্মকর্তারা সিডনি ও ব্রিসবেনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালান। সে সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের গোপন রেকর্ড, ডিজিটাল ট্রানজেকশন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত করা হয়।
দীর্ঘ দুই বছরের নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর, গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকায় একযোগে অভিযান চালায় এএফপির বিশেষ দল।
অভিযানকালে ওই ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর ঘর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
এএফপি জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তাদের ইতিহাসে এ ধরনের মামলা প্রথম হলেও, অপরাধটির ভয়াবহতার বিচারে এটি একটি ঐতিহাসিক আইনি দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এই তদন্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে এএফপির বৈদেশিক ঘুষ ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘টাস্কফোর্স সোলারিস’। এটি বহু বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি দল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কাজ করে।
এএফপি ‘ব্রাইবারি প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি সংস্থার একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে।
ঘটনাটি নিয়ে এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জয় এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা বিদেশে—যেকোনো জায়গাতেই বিচারিক বা তদন্তপ্রক্রিয়াকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এএফপি এ জাতীয় কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র সহ্য করবে না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই—বিশেষ করে যখন কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফল পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যারা অর্থ দিয়ে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা প্রভাব খাটাতে চাইবে, তাদের আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে।’
কমান্ডার জয় জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এএফপি নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলীয় পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নাম কাটাতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটির বিপরীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বাংলাদেশি নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর মূল তদন্তটি এখনো শেষ হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ