শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৭ পি.এম
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে সরকার দ্বিতীয় দফার বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার আওতায় আনা হবে। এই কর্মসূচির নাম ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’। আজ শনিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে, যারা টিকা পায়নি বা তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এবার স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করা হবে, শুধু নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নয়। আগের তালিকা বা কোনো ক্যাম্পেইনের তথ্যে নেই—এমন শিশুকেও শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত বিরতিতে এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে হয়নি। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বাইরে থেকে গেছে। এর পরিণতিতে চলতি বছর হামের প্রাদুর্ভাবের সময় অনেক পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শিশুদের মৃত্যু ও মায়েদের কষ্টের কথা তুলে ধরে এ পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারি এবং আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য জাতীয় পর্যায়ে ‘মিজলস-রুবেলা ক্লিনিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট’ নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে পরিচালিত এমআর টিকাদান কর্মসূচিতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ শিশু টিকা পেয়েছে। এর আগে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করা হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের দ্রুত পর্যবেক্ষণ এবং হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়েছে।
টিকা থেকে বাদ পড়া শিশু শনাক্তের ক্ষেত্রে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের তথ্যও ব্যবহার করা হচ্ছে। একই বয়সী শিশুদের নিয়ে ২৮ জুনের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেয়। অন্যদিকে এমআর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। দুই কর্মসূচির তথ্যের পার্থক্য থেকেই টিকাদান তালিকায় বাদ পড়া শিশুদের একটি বড় অংশের বিষয়টি সামনে আসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচিতে আগের এমআর টিকাদান তালিকা, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের তথ্য, স্থানীয় টিকাদান পরিকল্পনা, আগের কর্মসূচির হিসাব এবং মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ—সবকিছু মিলিয়ে শিশুদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো শিশু বর্তমানে ৬ মাস বয়সে পৌঁছালে তাকেও কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ফলে কর্মসূচি চলাকালে নতুন করে যোগ্য হওয়া শিশুরাও টিকা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গণসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হামসহ মহামারি মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হামের জটিলতার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। অপুষ্ট শিশুর হাম হলে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং এতে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। তাই টিকার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘ইউনাইটিং ফর কনসেনসাস’ ১২টি দেশ, যার মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ সৃষ্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা নির্বাচিত সদস্যপদ বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ঘূর্ণায়মান আসন চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তা পরিষদকে আরো প্রতিনিধিত্বশীল, গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য নির্বাচিত সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধিই সবচেয়ে ন্যায়সংগত ও গণতান্ত্রিক পন্থা। বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জোটটি নতুন স্থায়ী আসন সৃষ্টির বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে এবং নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আলোচনায় আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়াকে বৈধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সমর্থন করে।
ভেটো ক্ষমতা বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধাপরাধ ও ব্যাপক নৃশংসতার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এর ব্যবহার সীমিত করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় দেশগুলো।
আর্জেন্টিনা, কানাডা, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইতালি, মাল্টা, মেক্সিকো, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, সান মারিনো, স্পেন ও তুরস্ক—এই ১২টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে সই করেছে।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : টিকটক যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে অন্তত ১০ কোটি ডলার প্রদান করতে সম্মত হয়েছে, যা কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার বিচার এড়ানোর জন্য। প্রতিষ্ঠানটি কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপ ব্যবহারে নতুন কিছু সীমাবদ্ধতা চালু করার কথাও জানিয়েছে।
এএফপি’র খবর অনুযায়ী, শুক্রবার টিকটক ও আলাবামা কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ সমঝোতা সম্পন্ন হয়। এর ফলে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া মামলাটির বিচার আর অনুষ্ঠিত হবে না।
আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেল স্টিভ মার্শালের দপ্তর জানিয়েছে, সমঝোতা অনুযায়ী টিকটক আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে অঙ্গরাজ্যকে কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার প্রদান করবে। তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এই অর্থের পরিমাণ ৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
মামলাটির বিচার সোমবার শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং এদিন জুরি বা বিচারকমণ্ডলী নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু হওয়ার কথা ছিল।
মার্শালের দপ্তর জানায়, টিকটক কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা চালু করতে সম্মত হয়েছে।
এছাড়া, রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শিশুদের টিকটক ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশ কিছু সুবিধা চালু করবে।
আলাবামার মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তরুণ ব্যবহারকারীদের ওপর প্ল্যাটফর্মগুলোর কথিত ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার সর্বশেষ ঘটনা।
বিচারে যাওয়ার আগে, টিকটক ইতোমধ্যে আরও কয়েকটি মামলার নিষ্পত্তি করেছে, যার মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে এক তরুণীর করা মামলা এবং কেনটাকির একটি স্কুল জেলার করা মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, মেটা আদালতে মামলা লড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
চলতি বছরের মার্চে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে নির্দেশ দেয়।
শিশুদের জন্য তাদের প্ল্যাটফর্ম কতটা নিরাপদ— এ বিষয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে মেটাকে দায়ী করা হয়।
একই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের আরেকটি জুরি ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর মামলায় মেটা ও গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউবকে অবহেলার জন্য দায়ী করে।
ওই তরুণী বলেছিলেন, ছোটবেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রতি তিনি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। মামলায় তাকে ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আগস্টে শিশুদের আসক্ত করার উদ্দেশ্যে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক নকশা করা হয়েছিল— এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা একটি বড় মামলার নিষ্পত্তিতে ১৮০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয় মেটা।
আলাবামার মামলাটি আদালতে গড়ালে টিকটককে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে নজিরবিহীন জনসমালোচনা ও যাচাইয়ের মুখে পড়তে হতো।
কারণ আদালতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা ছিল।
আলাবামা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে টিকটক ও এর চীনা মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করে।
অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে আটকে রাখার জন্য টিকটককে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ‘একটি অত্যাধুনিক জুয়া খেলার মেশিনের মতো’ কাজ করে।
পরে অঙ্গরাজ্যটি মামলাটি আলাবামার ‘ডিসেপটিভ ট্রেড প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’-এর আওতাধীন অভিযোগে সীমিত করে। এতে মূলত খতিয়ে দেখা হয়, টিকটক ‘রেস্ট্রিক্টেড মোড’ ও ‘কিডস মোড’-এর মতো নিরাপত্তা সুবিধাগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল কি না।
মামলার নথি অনুযায়ী, আলাবামার তদন্তকারীরা ১৩, ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর পরিচয়ে টিকটক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। এরপর এসব অ্যাকাউন্টে ‘রেস্ট্রিক্টেড মোড’ চালু করা হয়।
টিকটকের বক্তব্য ছিল, এই মোড চালু থাকলে ব্যবহারকারীরা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বা অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দেখতে পাবেন না।
কিন্তু আলাবামার মামলার নথিতে বলা হয়, ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে অল্প সময়ের মধ্যেই আত্মহত্যা, আত্মক্ষতি, খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক সমস্যা, অ্যালকোহল ও যৌনতা নিয়ে ভিডিও দেখানো হয়।
অঙ্গরাজ্যটির আরও অভিযোগ, অ্যাপ স্টোরগুলোকে টিকটক ভুলভাবে জানিয়েছিল যে প্ল্যাটফর্মটি ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য উপযোগী এবং এতে কেবল সামান্য বা খুব কম পরিমাণে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি রাজশাহীর ‘সিল্ক সিটি’ হিসেবে পরিচিতিকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে আজ ‘রান ফর সিল্ক সিটি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথন ‘রান ফর সিল্ক সিটি ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
এই ম্যারাথনের আয়োজন করেছে সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটি।
অনুষ্ঠানের সূচনা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে হয়। এরপর ফিতা কেটে ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। ম্যারাথনটি বাংলাদেশ রেশম শিল্প উন্নয়ন বোর্ডের সামনে থেকে শুরু হয়ে ভদ্রা মোড়, তালাইমারি, সাহেব বাজার হয়ে হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ম্যারাথনের পদক বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেশম শিল্প উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদ, সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির প্রধান উপদেষ্টা মো. মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, এনসিসি ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ওমর শরীফ, রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল নাঈম আব্দুল্লাহ, সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটি, রাজশাহীর প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম সানি।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির উপদেষ্টা মোছা. রিক্তা পারভিন।
তিনি বলেন, "রাজশাহী শুধু শিক্ষানগরী নয়, এটি ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পের জন্যও পরিচিত। 'সিল্ক সিটি' হিসেবে রাজশাহীর ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন, "রাজশাহীর উন্নয়নে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। খেলাধুলা ও শরীরচর্চার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজশাহীর ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"
এ সময় রাসিক প্রশাসক ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। আয়োজকরা জানান, রাজশাহীতে এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হলো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ২শ’ জন রানার এতে অংশগ্রহণ করেন। নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প ও ‘সিল্ক সিটি’ পরিচিতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা, নিয়মিত শরীরচর্চা ও দৌড়ের মাধ্যমে সুস্থ জীবন যাপনে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪টি ট্রাককে জরিমানা করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে যান চালানোর। সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় ৪টি পরিবহনকে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের সময় গোয়ালন্দ উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ এর ওজন স্কেলে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান খান।
উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের কারণে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক রক্ষায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গভীর রাতে ওজন স্কেলে সন্দেহভাজন পণ্যবাহী ট্রাকগুলোতে পরীক্ষা চালিয়ে নির্ধারিত পণ্যের চেয়ে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর ৪৯ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ৯২ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ৪টি ট্রাক থেকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জরিমানার অর্থ অনাদায়ে চালকদের ৭ থেকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে চালকরা জরিমানার টাকা পরিশোধ করায় তাদের মুক্ত করা হয়।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান জানান, "অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের ফলে একদিকে যেমন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। সড়ক নিরাপদ রাখতে এবং সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরণের কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ