ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর ডিএসসিসি প্রশাসকের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান


চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর ডিএসসিসি প্রশাসকের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিতের আহ্বান

ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মার্কেট ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি একইসঙ্গে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আজ সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার ছোট কাটারায় অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ফের অশান্ত ভারতের মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিহতদের লাশ রেখে বিক্ষোভ

প্রশাসক বলেন, "ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্যও জরুরি।" তিনি আরও বলেন, "আজকের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আশপাশের মার্কেট ও ভবনগুলোতে যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমানো সম্ভব হতো।"

তিনি উল্লেখ করেন, "চকবাজারের রাস্তাঘাট দখলমুক্ত থাকলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারত।" অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান না বসানোর পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, "আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।" তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত একটি ব্যাগ তৈরির কারখানা থেকে ঘটে। এর আশপাশে তৈরি পোশাকের একাধিক দোকান ও কারখানা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, "দুর্ঘটনাস্থলে অযথা ভিড় না করে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।"

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, মেয়রদের হাতে কারফিউ জারির ক্ষমতা

পুরান ঢাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ড এবং অগ্নিনির্বাপণে পানির স্বল্পতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "এলাকার বর্তমান অবকাঠামোগত সংকট একদিনে তৈরি হয়নি।" তিনি জানান, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, পুরান ঢাকার পুকুরগুলো সংরক্ষণ ও সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারকাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।

চকবাজারে কেমিক্যালজনিত অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি উল্লেখ করেন, "সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কেমিক্যালের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।" এর ফলে কেমিক্যাল-সংশ্লিষ্ট বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, "আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।" তবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: আমন্ত্রণ পেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা আসেননি, জুলাইকে ধারণ করেন না

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে চকবাজারের ছোট কাটারায় এসি মসজিদের পাশে অবস্থিত ‘মনজুর খান প্লাজা’র ছয়তলায় একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে আগুন পাশের আরেকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১০টি ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
মুশফিক ফজলের পোস্ট

জাইমা রহমানের অর্জনগুলোকে পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া ন্যায্য নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ এম


জাইমা রহমানের অর্জনগুলোকে পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া ন্যায্য নয়

দাদা বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট, দাদি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী, বাবা বর্তমানে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক। এমন একটি পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং গণমাধ্যমের মধ্যে আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে এ মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মুশফিকুল ফজল আনসারী তার ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন।

জাইমা রহমানকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশ স্বাভাবিক উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, তার কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত একজন মানুষের ক্ষেত্রে এসব আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে সেই আলোচনায় তার ব্যক্তিগত অর্জনের জায়গাটিও যথাযথভাবে থাকা প্রয়োজন।

তিনি লিখেছেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব একটি পরিচয় আছে। পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং স্ট্রাগল তার জীবনের এক নিজস্ব অধ্যায়।

জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়।

মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন—এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রত্যাশা নয়। পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ বানালে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার হয় না।

এখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের কাঠামোটিও জানা প্রয়োজন উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ৪০ জন স্টাফের মধ্যে ৮ জনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত, ৪ জন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে, ২০ জন সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে কর্মরত এবং ৮ জন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মরত।

তিনি লিখেছেন, জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়া পদটি পি-৩ গ্রেডের এবং জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থায়নে রয়েছে। অর্থাৎ, এটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ে প্রেষণে দেওয়া পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। জাতিসংঘের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত এই রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, আমি নিজেও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা ছাড়াও মাঝে একটি অধিভুক্ত সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়েছি। কানেকশন থাকাটা অযোগ্যতা নয় বরং যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবেই ধরা হয়।

বেতন-ভাতার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, জাতিসংঘের পেশাগত পদের বেতন গ্রেড ও ধাপ জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। মূল বেতনের সঙ্গে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক সমন্বয় যুক্ত হয়। তাই বেতনের কোনো অঙ্ক আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য সুবিধার নিয়মও বিবেচনায় নিতে হয়।

তিনি আরও লিখেছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির নিজের বেতন, আবাসন, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধাদি জাতিসংঘের তহবিল থেকে বহন করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকেই তা বহন করতে হবে। তবে জাতিসংঘ দায়িত্বসংক্রান্ত সফর ও কার্যক্রমে দপ্তরের বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়।

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে আগ্রহ, প্রশ্ন ও তার কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত উল্লেখ করে এই রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, সেই মূল্যায়নে তার নিজের প্রস্তুতি, পরিশ্রম, মেধা ও পেশাগত পরিচয় যেন যথাযথ স্থান পায়। পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য তার প্রতি মানুষের আগ্রহের যেমন যৌক্তিক কারণ, তেমনি তার নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সুযোগ যেন অযৌক্তিক বিতর্ক ও একপেশে মূল্যায়নের শিকার না হয়—এই প্রত্যাশাসহ জায়মা রহমানের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিআইডিএসের গবেষণা

কিস্তি পরিশোধে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করছে গ্রামীণ ঋণগ্রহীতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ এম


কিস্তি পরিশোধে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করছে গ্রামীণ ঋণগ্রহীতারা

গ্রামীণ ঋণগ্রহীতাদের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করেন এমন ঋণগ্রহীতার সংখ্যা এক বছরে ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। সবচেয়ে দরিদ্র এক-পঞ্চমাংশ ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে এই হার ৭৯ শতাংশ। জরুরি খরচ মেটাতে অনেক পরিবার আবার মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলোর ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, কিন্তু কৃষিতে অর্থায়নের অংশ কমে যাচ্ছে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এবং আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়ন : প্রমাণ ও নীতিসংলাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এ কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. একে এনামুল হক, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান প্রমুখ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ঋণ নেওয়া গ্রামীণ পরিবারের হার ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে। অথচ মোট গ্রামীণ ঋণে কৃষির অংশ ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ গ্রামীণ পরিবারে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও কৃষি খাতে ঋণের অংশ কমছে। গ্রামীণ ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে আসছে।

ঋণ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি এক ঋণ শোধ করতে আরেক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে একই সঙ্গে মহাজনের কাছ থেকেও ঋণ নেওয়ার হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশ হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধের দায় মেটাতে গিয়ে পরিবারগুলো আরও ব্যয়বহুল ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়নকে শুধুমাত্র ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কৃষি উপকরণ সরবরাহ, উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ— এই পুরো ব্যবস্থায় অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের আয় ও উৎপাদন মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঋণের কিস্তি নির্ধারণ করা জরুরি।

পিকেএসএফের এমডি ফজলুল কাদের বলেন, খাদ্যব্যবস্থায় অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র উৎপাদন পর্যায়ে ঋণ দেওয়া যথেষ্ট নয়; সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপেও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমাতে এবং মূল্য সংযোজন বাড়াতে পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি ও কার্যকর অর্থায়ন অপরিহার্য। বিআইডিএসের মহাপরিচালক এনামুল হক বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি না হলে কৃষকের ঋণের বোঝা বাড়তে পারে এবং অনেকে কৃষি ছেড়ে দিতে পারেন।

এমআরএ’র নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতের অর্থায়ন ও সেবামূল্যের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তার উপস্থাপনায় বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ খাতের সঞ্চিত উদ্বৃত্ত ২০০৬ সালের ৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ সেবামূল্য ২৪ শতাংশ। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বেশি সঞ্চয় সংগ্রহ করতে পারলে অর্থায়নের খরচ ও সেবামূল্য কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও গবেষণা প্রয়োজন।

কৃষি সচিব সেলিম খান কৃষির যান্ত্রিকীকরণে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই শতাংশেরও কম কৃষক পরিবারের নিজস্ব ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার রয়েছে। কৃষিযন্ত্র কেনার অর্থের মাত্র ২ থেকে ৭ শতাংশ ব্যাংক থেকে আসে। ফলে অনেক উদ্যোক্তাকে যন্ত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিস্তিতে যন্ত্র কিনতে হয়।

কৃষিযন্ত্রের আয় মৌসুমনির্ভর। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে এপ্রিল ও মে মাসে আয়ের বড় অংশ আসে। কিন্তু মাসিক কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় বছরের অন্য সময়ে অর্থসংকট তৈরি হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গবাদিপশু খাতেও অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। দেশের কৃষি জিডিপির ৭ দশমিক ৬ শতাংশ আসে এই খাত থেকে এবং ৯০ শতাংশ গবাদিপশুর মালিক ক্ষুদ্র কৃষক। অথচ কৃষিঋণের ৫ শতাংশেরও কম এ খাতে যায়। গবেষণায় গরু মোটাতাজাকরণে ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মুনাফার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ খাতে ঝুঁকি ভাগাভাগিভিত্তিক অর্থায়ন কৃষকের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারে কি না, তা নিয়েও গবেষণা করা হয়েছে।

কর্মশালায় আলোচকরা মনে করেন, কৃষকের আয় ও উৎপাদন মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিস্তি, কৃষিযন্ত্র কেনায় সহজ অর্থায়ন এবং ঝুঁকি ভাগাভাগির কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। ঋণ পরিশোধে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হলে পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো এবং উৎপাদনে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হয়। তাই শুধুমাত্র ঋণের প্রবাহ বাড়ানো নয়, ঋণের শর্ত ও অর্থায়নের কাঠামোও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিন নারী কর্মকর্তার পদোন্নতি, পেয়েছেন সচিব পদমর্যাদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ এম


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিন নারী কর্মকর্তার পদোন্নতি, পেয়েছেন সচিব পদমর্যাদা

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে নেতৃত্ব দিয়ে আসা তিন নারী হাই কমিশনার ও রাষ্ট্রদূত সচিব হিসেবে একযোগে পদোন্নতি পেয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (১২ অক্টোবর) তাদেরকে সচিব পদমর্যাদায় পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশের হাই কমিশনার নওরীন আহসান, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সামিনা নাজ এবং গ্রিসে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।

সামিনা ও নওরীন বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা, অন্যদিকে সুমনা ১৭তম ব্যাচের সদস্য।

নিউ জিল্যান্ডের ওয়েলিংটন মিশনে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে সামিনা ভিয়েতনাম ও মিশরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়েলিংটনে তিনি প্রথম বাংলাদেশি আবাসিক হাই কমিশনার হিসেবে কাজ করছেন।

২০১৩ সালে ভারতের মুম্বাইতে প্রথম ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময়, কোনো নারী কূটনীতিকের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো একটি বাংলাদেশ মিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সামিনা হেগ, দিল্লি ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, গ্রিসের এথেন্সে যাওয়ার আগে সুমনা চার বছর ব্রুনাই দারুস সালামে বাংলাদেশ হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের অংশ হিসেবে তিনি ব্রাসিলিয়া, অটোয়া, কলকাতা ও ক্যানবেরার বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।

নওরীন ১৯৯৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন এবং কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রিটোরিয়া, হেগ ও অটোয়া মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পদোন্নতির অব্যবহিত পূর্বে দায়িত্ব পালন করা নিজ নিজ কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করবেন।

এ প্রজ্ঞাপন জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে পুলিশের অভিযান, ৬০ বোতল দেশীয় মদসহ নারী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ এম


দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে পুলিশের অভিযান, ৬০ বোতল দেশীয় মদসহ নারী আটক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অভিযান পরিচালনা করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ৬০ বোতল দেশীয় মদ এবং পাঁচ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে। এ অভিযানের সময় নার্গিস আক্তার (৫৫) নামের একজন নারীকে আটক করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নার্গিস আক্তারের (৫৫) বাড়ি এবং লালমিয়া বাড়িয়ালার (৬০) বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।

আটক নার্গিস আক্তার উত্তর দৌলতদিয়ার মৃত রব মোল্লার স্ত্রী। তবে লালমিয়া এবং অন্যান্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে নার্গিস বাড়ীয়ালীর বাড়ি থেকে ৬০ বোতল কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদ এবং লালমিয়ার বাড়ি থেকে পাঁচ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করে। এ সময় নার্গিস বাড়ীয়ালীকে আটক করা হয়। লালমিয়াসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যায় এবং তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%